রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
পুলিশ জানায়, রোববার দুপুর সোয়া ১টার দিকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের নমুনা নেয়। এ সময় রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারী ডিবি সদস্যদের সঙ্গে ছিলেন।
আসামিদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারাগারেই ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য ডিবির পক্ষ থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কাছে ল্যাবের টেকনোলজিস্ট পাঠানোর অনুরোধ করা হয়। অনুমোদনের পর মেডিকেল কলেজের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা কারাগারে গিয়ে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী জানান, আদালতের অনুমোদনের পর দুই আসামির ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের কারাগার থেকে বাইরে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই কারাগারেই পরীক্ষার নমুনা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এর আগে ২২ আগস্ট রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে চারজনকে শ্বাসরোধ করে হত্যার তথ্য পাওয়া যায়।
ঘটনার পরদিনই মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে স্থানীয় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মুগ্ধ মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে এবং সিদ্ধার্থ বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে।
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। ডোপ টেস্টের ফলাফল তদন্তে নতুন কোনো সূত্র দেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর পুলিশের।
মতামত