মৌলভীবাজারের বড়লেখায় দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা অবিলম্বে কার্যকরসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন চা শ্রমিকেরা। একই সঙ্গে শ্রম অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ ছাড়া বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন,শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা এবং ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে উপজেলার দক্ষিণগুল চা-বাগানের চা শ্রমিক,ছাত্র ও যুবকদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় শতাধিক শ্রমিক বাগানের কাজ বন্ধ রেখে কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে তাঁরা কাজে ফিরে যান।
সকালে দক্ষিণগুল চা-বাগানের ভৈরবতলী ব্রিজ এলাকা থেকে শ্রমিকেরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বাগানের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফ্যাক্টরির সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ফ্যাক্টরির সামনে পথসভা করেন শ্রমিকেরা।
বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি রমন চন্দ্র ঘোষের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি পার্বতী ফুলমালী,সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম,প্রচার সম্পাদক যোগল ফুলমালী এবং চা শ্রমিক সুমন ঘোষ ও নয়ন মৃদা।
পথসভায় বক্তারা বলেন,দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে চা শ্রমিকদের জীবন কাটছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে বাগানে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নেই। চিকিৎসক না থাকায় অসুস্থ শ্রমিকদের নিজেদের খরচে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
তাঁরা আরও বলেন,বাগানের অনেক শ্রমিকের বসতঘর সংস্কারের প্রয়োজন হলেও মালিকপক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে শ্রমিকেরা নিজেদের অর্থ ও শ্রমে ঘরবাড়ি মেরামত করছেন। পাশাপাশি বাগানের রাস্তাঘাটের অবস্থাও দীর্ঘদিন ধরে বেহাল রয়েছে।
বক্তারা বলেন,দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এ সময়ে বর্তমান মজুরি দিয়ে পরিবার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনের আয় দিয়ে পরিবারের খাবার, চিকিৎসা,সন্তানদের পড়াশোনাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই জাতীয় সংসদে উত্থাপিত দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরির দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তাঁরা।
এ ছাড়া বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলেও পথসভায় উল্লেখ করা হয়। শ্রম অধিদপ্তরের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবি জানান বক্তারা।
একই সঙ্গে চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা এবং ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট প্রত্যাহারের দাবিও জানান তাঁরা।
মতামত