খুলনার পাইকগাছায় মানিকতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাতের আঁধারে তালা ও গ্রিল ভেঙে চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চোরাই ল্যাপটপ কেনার অভিযোগে হৃদয় গাজী (২৮) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি তার ঘর থেকে বিদ্যালয় থেকে চুরি যাওয়া ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১ আগস্ট রাতে মানিকতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চোর চক্র। এ সময় অফিস কক্ষের আলমারি ভেঙে একটি লেনোভো ল্যাপটপ, সিসি ক্যামেরা ও মনিটর, ওয়াইফাই রাউটার, টেবিল ফ্যান, নগদ ৫ হাজার টাকা, ৭টি ভাউচারকৃত তালা এবং মিড ডে মিলের দুধসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় তারা। পরদিন সকালে বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী মফিজুল ইসলাম চুরির বিষয়টি দেখতে পেয়ে প্রধান শিক্ষক খালেদা খাতুনকে অবহিত করেন। পরে প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশি ও স্থানীয় তদন্তের একপর্যায়ে বেরিয়ে আসে যে, গোপালপুর গ্রামের মৃত নুরুজ্জামান গাজীর ছেলে হৃদয় গাজী একই এলাকার আফিল উদ্দিন গাজীর ছেলে রাজু গাজীর নিকট থেকে মাত্র ৩ হাজার টাকায় ল্যাপটপটি কিনেছিলেন। কিন্তু কেনার পর ল্যাপটপটি সচল না থাকায় হৃদয় গাজী সেটি রাজুর কাছে ফেরত দিতে যান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হলে স্থানীয়দের মনে তীব্র সন্দেহ দানা বাঁধে। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পাইকগাছা থানার এসআই (নিঃ) সুকান্ত বিশ্বাস সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হৃদয় গাজীকে তার বাড়ি থেকে আটক করেন। প্রথমে তিনি ল্যাপটপ চুরির বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করার চেষ্টা করলেও পুলিশের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ ও চাপে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের ঘর থেকেই চুরি যাওয়া ল্যাপটপটি বের করে দিতে বাধ্য হন।
এ বিষয়ে পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আওয়াল কবির জানান, স্কুলের চুরির এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে। আসামি মাত্র ৩ হাজার টাকায় ল্যাপটপটি কেনার কথা স্বীকার করেছেন। চুরি হওয়া অন্যান্য মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মতামত