রংপুরের আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটি বহুল আলোচিত হত্যা মামলায় আটক দুই অভিযুক্তের মাদক সেবনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রোববার মধ্যদুপুরের দিকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরেই প্যাথলজিক্যাল স্যাম্পল কালেকশনের এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, জোড়া বা একাধিক খুনসহ একই পরিবারের চারজনকে পৃথিবী থেকে বিদায় করার ওই স্পর্শকাতর মামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকা সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ইউরিন বা প্রস্রাবের নমুনা নেওয়া হয়। অভিযুক্তদের জেলখানা থেকে বাইরে আনা হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরেই স্বাস্থ্য পরীক্ষার এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের তরফ থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কাছে সুনির্দিষ্ট আবেদন পাঠানো হয়েছিল যাতে কারা অভ্যন্তরেই একটি মেডিকেল টিম পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। যথাযথ অনুমতি মেলার পর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন টেকনোলজিস্ট ও তাঁর সহকারী ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দলের সঙ্গে সরাসরি কারাগারে প্রবেশ করেন এবং প্রয়োজনীয় স্যাম্পল সংগ্রহ করেন।
মেডিকেল সূত্র জানিয়েছে, আদালতের বৈধ আদেশের আলোকেই এই ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সংগৃহীত উপাদানগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরীক্ষাগারে স্থানান্তরিত হবে।
তদন্তের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ বা মাদকের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই মেডিকেল টেস্ট অত্যন্ত জরুরি ছিল। পরীক্ষার অফিশিয়াল রিপোর্ট হাতে আসার পরই মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মতামত