শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

শিশুদের প্রতিদিন কতক্ষন ঘুমানো উচিত


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

শিশুদের প্রতিদিন কতক্ষন ঘুমানো উচিত
শিশুদের প্রতিদিন কতক্ষন ঘুমানো উচিত

বর্তমান সময়ে প্রাত্যহিক জীবনে কেবল বয়স্কদেরই নয়, ছোট শিশুদের মধ্যেও ঘুমের সমস্যা মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের ঘুমের সময়টি এখন বহু পরিবারের জন্যই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যে শিশুরা আগে সহজেই ঘুমিয়ে পড়ত, বর্তমানে তাদের অতিরিক্ত সময় জেগে থাকা, রাতে বারবার জেগে ওঠা কিংবা সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট হওয়ার মতো প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

এ ধরনের সমস্যার পেছনে সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন টাইম (মোবাইল বা টিভির ব্যবহার) কে দায়ী করা হলেও, শিশু বিশেষজ্ঞ ড. মনীশ মান্নানের মতে, শিশুদের সন্ধ্যার রুটিনে যুক্ত থাকা আপাতদৃষ্টিতে ছোট কিছু অভ্যাসও এর জন্য অনেকাংশে দায়ী।

৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু: প্রতিদিন ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

কিশোর-কিশোরী (১৩ থেকে ১৮ বছর): প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

পর্যাপ্ত ঘুম শিশুদের স্মৃতিশক্তি, শেখার ক্ষমতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শারীরিক বৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। নিয়মিত সঠিক ঘুম না হলে শিশুদের মনোযোগ, আচরণ ও মেজাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

চিকিৎসকদের মতে, মা-বাবার অন্যতম ভুল হলো ঘুমের সময়সীমাকে শিথিল বা পরিবর্তনযোগ্য করে তোলা। হোমওয়ার্কের বাড়তি চাপ, দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া এবং শোবার সময় মোবাইল বা টিভির ব্যবহার বাড়িয়ে দেওয়া এর মূল কারণ। এ ছাড়া কর্মদিবসে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমালেও ছুটির দিনে শিশুদের অনেক দেরি করে ঘুমাতে দেওয়া হয়, যা শরীরের স্বাভাবিক ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ বা ঘুমের ছন্দ নষ্ট করে দেয়।

১. ঘুমানোর ঠিক আগে স্ক্রিন ব্যবহার: মোবাইল, গেম বা সোশাল মিডিয়া মস্তিষ্কে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। তাই ঘুমানোর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে সব স্ক্রিন বন্ধ করে ফোন শোবার ঘরের বাইরে রাখা উচিত।

২. ছুটির দিনে অনিয়মিত রুটিন: ছুটির দিনগুলোতেও ঘুম ও জাগার সময় স্বাভাবিক দিনগুলোর কাছাকাছি রাখা প্রয়োজন।

৩. বিছানায় অন্য কাজ করা: বিছানায় পড়াশোনা, গেম খেলা বা ভিডিও দেখা ঘুমের স্বাভাবিক আমেজ কমিয়ে দেয়। বিছানা কেবল ঘুমের জন্যই নির্দিষ্ট রাখা উচিত।

৪. শিশুকে অতিরিক্ত ব্যস্ত রাখা: খেলাধুলা, টিউশন ও স্ক্রিন মিলিয়ে ব্যস্ত সন্ধ্যা শিশুকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করলেও শান্ত ঘুমে বাধা সৃষ্টি করে। ঘুমানোর আগে বই পড়া বা শান্ত পরিবেশে কথা বলার রুটিন গড়ে তোলা উচিত।

৫. রাতে ক্যাফেইন ও ভারী খাবার: কোলা জাতীয় পানীয়, চা, ক্যাফেইন এবং রাতে অসময়ে খাওয়ার অভ্যাস ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। সব ঘুমের সমস্যা শুধুই আচরণগত নয়। শিশু যদি নিয়মিত নাক ডাকে, ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা অস্থিরতা অনুভব করে, সকালে মাথাব্যথা নিয়ে ওঠে কিংবা সারাদিন অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব থাকে—তবে বিলম্ব না করে শিশু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি অনুমানযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট রুটিন, সন্ধ্যার হৈচৈ কমানো এবং স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণে আনার মাধ্যমেই শিশুদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও পর্যাপ্ত ঘুমের পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬


শিশুদের প্রতিদিন কতক্ষন ঘুমানো উচিত

প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বর্তমান সময়ে প্রাত্যহিক জীবনে কেবল বয়স্কদেরই নয়, ছোট শিশুদের মধ্যেও ঘুমের সমস্যা মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের ঘুমের সময়টি এখন বহু পরিবারের জন্যই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যে শিশুরা আগে সহজেই ঘুমিয়ে পড়ত, বর্তমানে তাদের অতিরিক্ত সময় জেগে থাকা, রাতে বারবার জেগে ওঠা কিংবা সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট হওয়ার মতো প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

এ ধরনের সমস্যার পেছনে সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন টাইম (মোবাইল বা টিভির ব্যবহার) কে দায়ী করা হলেও, শিশু বিশেষজ্ঞ ড. মনীশ মান্নানের মতে, শিশুদের সন্ধ্যার রুটিনে যুক্ত থাকা আপাতদৃষ্টিতে ছোট কিছু অভ্যাসও এর জন্য অনেকাংশে দায়ী।

৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু: প্রতিদিন ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

কিশোর-কিশোরী (১৩ থেকে ১৮ বছর): প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

পর্যাপ্ত ঘুম শিশুদের স্মৃতিশক্তি, শেখার ক্ষমতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শারীরিক বৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। নিয়মিত সঠিক ঘুম না হলে শিশুদের মনোযোগ, আচরণ ও মেজাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

চিকিৎসকদের মতে, মা-বাবার অন্যতম ভুল হলো ঘুমের সময়সীমাকে শিথিল বা পরিবর্তনযোগ্য করে তোলা। হোমওয়ার্কের বাড়তি চাপ, দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া এবং শোবার সময় মোবাইল বা টিভির ব্যবহার বাড়িয়ে দেওয়া এর মূল কারণ। এ ছাড়া কর্মদিবসে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমালেও ছুটির দিনে শিশুদের অনেক দেরি করে ঘুমাতে দেওয়া হয়, যা শরীরের স্বাভাবিক ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ বা ঘুমের ছন্দ নষ্ট করে দেয়।

১. ঘুমানোর ঠিক আগে স্ক্রিন ব্যবহার: মোবাইল, গেম বা সোশাল মিডিয়া মস্তিষ্কে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। তাই ঘুমানোর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে সব স্ক্রিন বন্ধ করে ফোন শোবার ঘরের বাইরে রাখা উচিত।

২. ছুটির দিনে অনিয়মিত রুটিন: ছুটির দিনগুলোতেও ঘুম ও জাগার সময় স্বাভাবিক দিনগুলোর কাছাকাছি রাখা প্রয়োজন।

৩. বিছানায় অন্য কাজ করা: বিছানায় পড়াশোনা, গেম খেলা বা ভিডিও দেখা ঘুমের স্বাভাবিক আমেজ কমিয়ে দেয়। বিছানা কেবল ঘুমের জন্যই নির্দিষ্ট রাখা উচিত।

৪. শিশুকে অতিরিক্ত ব্যস্ত রাখা: খেলাধুলা, টিউশন ও স্ক্রিন মিলিয়ে ব্যস্ত সন্ধ্যা শিশুকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করলেও শান্ত ঘুমে বাধা সৃষ্টি করে। ঘুমানোর আগে বই পড়া বা শান্ত পরিবেশে কথা বলার রুটিন গড়ে তোলা উচিত।

৫. রাতে ক্যাফেইন ও ভারী খাবার: কোলা জাতীয় পানীয়, চা, ক্যাফেইন এবং রাতে অসময়ে খাওয়ার অভ্যাস ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। সব ঘুমের সমস্যা শুধুই আচরণগত নয়। শিশু যদি নিয়মিত নাক ডাকে, ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা অস্থিরতা অনুভব করে, সকালে মাথাব্যথা নিয়ে ওঠে কিংবা সারাদিন অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব থাকে—তবে বিলম্ব না করে শিশু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি অনুমানযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট রুটিন, সন্ধ্যার হৈচৈ কমানো এবং স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণে আনার মাধ্যমেই শিশুদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও পর্যাপ্ত ঘুমের পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream