২০০৪ সালে ঢাকার রাস্তায় একটি খোলা ম্যানহোলে পড়ে কোমরের তিনটি হাড় ভেঙে যায় মো. সিরাজুল ইসলামের। সেই দুর্ঘটনার পর কোমরের নিচের অংশ অকেজো হয়ে যায় তার। দেখতে দেখতে কেটে গেছে ২২ বছর। কর্মক্ষমতা হারিয়ে এখন জরাজীর্ণ একটি ঘরে মানবেতর জীবন কাটছে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হস্তিশুন্ড গ্রামের এই যুবকের।
পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে জীবিকার সন্ধানে ২০০৩ সালে ঢাকায় যান সিরাজুল। প্রায় এক বছর পর স্বাভাবিক জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ ছন্দপতন। খোলা ম্যানহোলে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর আর নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেননি তিনি। দুই হাতের ওপর ভর করে কোনোভাবে ঘরের ভেতর চলাফেরা করেন। আয়-রোজগারের সামর্থ্য না থাকায় অন্যের সহায়তায় চলে তার খাবারের ব্যবস্থা।
সিরাজুলের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে পরিবারের সদস্যদের অসুস্থতা ও প্রতিবন্ধকতায়। কয়েক বছর আগে তার মা ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার সক্ষমতা হারিয়েছেন। ছোট এক ভাইও মানসিক প্রতিবন্ধী। ফলে পরিবারটির আর্থিক সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে।
সম্প্রতি সিরাজুলের অসহায়ত্বের খবর পেয়ে তার বাড়িতে সরেজমিনে যান উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলী সুজা। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তিনি সিরাজুলের পরিবারের জন্য খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে অসহায় পরিবারটিতে।
তবে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কাটাতে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি সিরাজুলের জন্য একটি হুইলচেয়ার, নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ, পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা এবং একটি নিরাপদ বাসস্থানের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
২২ বছর আগে একটি খোলা ম্যানহোল থামিয়ে দিয়েছিল সিরাজুলের স্বাভাবিক জীবন। এখন সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের সহযোগিতাই পারে তার জীবনে কিছুটা স্বস্তি ও মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে।
মতামত