নেপালের উত্তরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। লেন্দে ও ভোটকোশি নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫৪৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছেন ৯৭৭ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি পর্যটক এবং ২৮ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার (২৬ আগস্ট) তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় পাহাড়ধসের পর বিপুল পরিমাণ পানি নেপালের নদীগুলোতে নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যেই নদীগুলোর পানি ভয়ংকর স্রোতে পরিণত হয়ে নদীতীরবর্তী সড়ক, বসতবাড়ি এবং বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী সেতু ধ্বংস করে দেয়।
দুর্যোগের মূল কেন্দ্র রসুয়া জেলা হলেও নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়া মরদেহ আশপাশের পাশাপাশি দূরবর্তী বিভিন্ন জেলা থেকেও উদ্ধার হচ্ছে। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।
নদী থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে মরদেহ সংরক্ষণের জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। চিতবন জেলায় তুলনামূলক বেশি মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় একটি পরিত্যক্ত ভবনকে অস্থায়ী মর্গ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে শুকনো বরফের মাধ্যমে মরদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে বিভিন্ন পরিবার অস্থায়ী মরদেহ শনাক্তকরণ কেন্দ্রে ভিড় করছেন। পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়া মরদেহের ক্ষেত্রে ডিএনএ নমুনা ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে বিশেষ নম্বর দিয়ে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরে দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় চার হাজারের বেশি পুলিশ ও সেনাসদস্য উদ্ধারকাজে যুক্ত হয়েছেন। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া বিদেশি পর্যটকদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে।
ভয়াবহ এই বন্যা ও পাহাড়ধসে নেপালের যোগাযোগব্যবস্থা ও স্থানীয় অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আরও মরদেহ উদ্ধারের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মতামত