শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

নীলফামারীতে গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা সোনালী ব্যাংকের নৈশ প্রহরী



নীলফামারীতে গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা সোনালী ব্যাংকের নৈশ প্রহরী
নীলফামারীতে গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা সোনালী ব্যাংকের নৈশ প্রহরী

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সোনালী ব্যাংক শাখার নৈশ প্রহরী ফিরোজ মিয়ার গ্রাহকদের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। এ ঘটনায় ব্যাংক পাড়াসহ সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ওই নৈশ প্রহরী লাপাত্তা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক পংকজ কান্তি রায়। 

‎‎গ্রাহকদের অভিযোগ ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ইসমাইল গ্রামের কছির উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ মিয়া গত ১৫ -২০ বছর ধরে সোনালী ব্যাংক শাখার নৈশ প্রহরী হিসাবে কর্মরত। নৈশ প্রহরী পদে থাকলেও ফিরোজ মিয়া অফিস চলাকালে ব্যাংকের গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট খোলা, লোনের ফাইল সাজানো, টাকা জমা ও উত্তোলন করাসহ যাবতীয় কাজে গ্রাহকদের সহযোগিতা করতেন। 

এভাবে দিনের পর দিন কাজ করার ফলে সে গ্রাহকদের বিশ্বস্ত হয়ে উঠে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ব্যাংকের ওই শাখার কর্মকর্তারা ফিরোজকে দিয়ে ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করিয়ে নেন। সেই থেকে নৈশ প্রহরী ফিরোজ হয়ে উঠেন সর্বেসর্বা। গ্রাহকদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছিল ফিরোজ যা করবে তাই হবে। সে কারণেই গ্রাহকরা সময় ব্যয় না করে ফিরোজের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ লেনদেন করতেন।

‎‎ব্যাংকে সেবা নিতে আসা গ্রাহক সাইফুল ইসলাম বলেন, সোনালী ব্যাংকে লোন করতে হলে আগে ফিরোজের সঙ্গে কথা বললে হয়। ফিরোজ যার বিষয়ে ম্যানেজার বা অন্যান্য কর্মকর্তাদের সুপারিশ করতেন তার কাজ আগে হয়। এমনকি ফিরোজ ব্যাংকে লোন করতে আসা শিক্ষক, ব্যাবসায়ী, ঠিকাদার, কৃষকসহ সবার কাছ থেকে ব্যাংকে লোন করে দেওয়ার কথা বলে ফাঁকা চেক বইয়ের পাতা, জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, অলিখিত স্ট্যাম্প ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি নিয়ে রাখতেন।

‎তিনি আরও দাবি করেন, পরবর্তীতে সেসব গ্রাহকের নামে মোটা অংকের লোন পাশ করে নিয়ে তাদেরকে নাম মাত্র টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বিদায় দিতেন। কয়েক বছর পর ব্যাংক থেকে নোটিশ গেলে তারা লোনের পরিমাণ দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন। কিন্তু তাদের আর কিছুই করার থাকে না। বাধ্য হয়ে জমি জায়গা ঘরবাড়ি বিক্রি করে ব্যাংকের লোন পরিশোধ করতে বাধ্য হন গ্রাহকরা। সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। শুধু নৈশ প্রহরী ফিরোজ নয় ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তা এ ঘটনায় জড়িত।

‎‎সোনালী ব্যাংকের গ্রাহক তাহেরা বেগম বলেন, আমি সোনালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ শাখায় একটি এফডিআর করেছিলাম। এফডিআরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর আমি ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়েছিলাম। নৈশ প্রহরী ফিরোজ আমাকে জানায় আপনি চেকবই দিয়ে যান আমি সবকিছু রেডি করে রাখব আপনি কয়েকদিন পরে এসে টাকা নিয়ে যান। দুই তিনদিন পর ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে জানতে পারি আমার অ্যাকাউন্ট শূন্য। পরে বিষয়টি ম্যানেজারকে জানালে তিনি আমার টাকার দায়িত্ব নেন। আরজিনা বেগম নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বেতনের ২৮ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে ফিরোজ। 

‎এ বিষয়ে জানতে চেয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও অভিযুক্ত নৈশ প্রহরী ফিরোজের মুঠোফোন নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া গেছে। ফিরোজের বাবা কছির উদ্দিন বলেন, আমার ছেলে ব্যাংকের অনেক গ্রাহকের টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে। এর মধ্যে গাড়াগ্রামের তহুড়া বেগমকেসহ কয়েকজনের ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংক ম্যানেজার পংকজ কান্তি রায়ের মাধ্যমে ফেরত দিয়েছি। এতগুলো টাকা আমার ছেলে কি করেছে তা আমার জানা নেই। ফিরোজ কতগুলো টাকা নিয়েছে প্রশ্ন করলে কছির উদ্দিন বলেন, শুনেছি সবগুলো মিলে প্রায় কোটি টাকা।

‎‎কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক পংকজ কান্তি বলেন, সোনালী ব্যাংকের নৈশ প্রহরী ফিরোজ মিয়া গত জুলাই মাসের ২০ তারিখ থেকে হঠাৎ করে ব্যাংকে আসা বন্ধ করে দেন। তার বিষয়ে খোঁজ খবর নিলে তার পরিবারের লোকজন জানান, সে জরুরি কাজে ঢাকায় গেছে। তার ব্যাবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তাকে পাওয়া না যাওয়ায় তার বাড়িতে নোটিশ পাঠানো হয়। 

পরবর্তীতে এই সংবাদ জানার পর সোনালী ব্যাংকের ১০ থেকে ১৫ জন আমানতকারী ব্যাংকে এসে তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা না পেয়ে বিষয়টি আমাদের জানান। ইতোমধ্যে কয়েকজন গ্রাহককে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছি। তবে আত্মসাৎ হওয়া টাকার পরিমাণ নিশ্চিত করেননি তিনি। এই ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে (জিডি নম্বর ১৪৯১) বলেও জানান এই ব্যাংক কর্মকর্তা।

‎‎কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল গফুর মিয়া জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংকের নৈশ প্রহরী গত ২০ জুলাই থেকে নিখোঁজ রয়েছে। সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার বাদী হয়ে এ ঘটনায় একটি মিসিং ডায়েরি করেছেন। তবে অনেক বিলম্বে তারা প্রশাসনের দারস্থ হয়েছেন। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি ফিরোজের সন্ধান পাওয়ার। 

‎এই ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে কিশোরগঞ্জ উপজেলার ব্যাংকপাড়াসহ সকল স্থানে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ বিধায় রোববার আসার অপেক্ষায় তারা অস্থির হয়ে পড়েছেন। কারণ ব্যাংক খোলা মাত্রই নিজ নিজ একাউন্ট সম্পর্কে খোঁজ নিতে অধীর আগ্রহে রয়েছেন তারা। সেই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বরাতে বিষয়টি ভাইরাল হওয়ায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে। 

গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের মন্তব্য এতবড় একটা জালিয়াতির ঘটনা এককভাবে শুধু নৈশ প্রহরী ফিরোজ মিয়ার পক্ষে করা সম্ভব নয়। বরং শাখার কর্মকর্তারাসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষেরও সহায়তা আছে। যে কারণে কয়েকজন গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ব্যাংক ম্যানেজার ও ফিরোজের বাবা উদ্যোগ নিয়েছে। আর বিষয়টা গোপন রেখে তলে তলে সব ম্যানেজের চেষ্টা চলছে। আর যদি সহযোগিতা না থাকে তাহলেও তাদের দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির সুযোগেই এই প্রতারণা ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটিয়েছে ফিরোজ। এজন্যও কর্মকর্তারা দায়ী। 

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬


নীলফামারীতে গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা সোনালী ব্যাংকের নৈশ প্রহরী

প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সোনালী ব্যাংক শাখার নৈশ প্রহরী ফিরোজ মিয়ার গ্রাহকদের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। এ ঘটনায় ব্যাংক পাড়াসহ সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ওই নৈশ প্রহরী লাপাত্তা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক পংকজ কান্তি রায়। 

‎‎গ্রাহকদের অভিযোগ ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ইসমাইল গ্রামের কছির উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ মিয়া গত ১৫ -২০ বছর ধরে সোনালী ব্যাংক শাখার নৈশ প্রহরী হিসাবে কর্মরত। নৈশ প্রহরী পদে থাকলেও ফিরোজ মিয়া অফিস চলাকালে ব্যাংকের গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট খোলা, লোনের ফাইল সাজানো, টাকা জমা ও উত্তোলন করাসহ যাবতীয় কাজে গ্রাহকদের সহযোগিতা করতেন। 

এভাবে দিনের পর দিন কাজ করার ফলে সে গ্রাহকদের বিশ্বস্ত হয়ে উঠে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ব্যাংকের ওই শাখার কর্মকর্তারা ফিরোজকে দিয়ে ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করিয়ে নেন। সেই থেকে নৈশ প্রহরী ফিরোজ হয়ে উঠেন সর্বেসর্বা। গ্রাহকদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছিল ফিরোজ যা করবে তাই হবে। সে কারণেই গ্রাহকরা সময় ব্যয় না করে ফিরোজের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ লেনদেন করতেন।

‎‎ব্যাংকে সেবা নিতে আসা গ্রাহক সাইফুল ইসলাম বলেন, সোনালী ব্যাংকে লোন করতে হলে আগে ফিরোজের সঙ্গে কথা বললে হয়। ফিরোজ যার বিষয়ে ম্যানেজার বা অন্যান্য কর্মকর্তাদের সুপারিশ করতেন তার কাজ আগে হয়। এমনকি ফিরোজ ব্যাংকে লোন করতে আসা শিক্ষক, ব্যাবসায়ী, ঠিকাদার, কৃষকসহ সবার কাছ থেকে ব্যাংকে লোন করে দেওয়ার কথা বলে ফাঁকা চেক বইয়ের পাতা, জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, অলিখিত স্ট্যাম্প ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি নিয়ে রাখতেন।

‎তিনি আরও দাবি করেন, পরবর্তীতে সেসব গ্রাহকের নামে মোটা অংকের লোন পাশ করে নিয়ে তাদেরকে নাম মাত্র টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বিদায় দিতেন। কয়েক বছর পর ব্যাংক থেকে নোটিশ গেলে তারা লোনের পরিমাণ দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন। কিন্তু তাদের আর কিছুই করার থাকে না। বাধ্য হয়ে জমি জায়গা ঘরবাড়ি বিক্রি করে ব্যাংকের লোন পরিশোধ করতে বাধ্য হন গ্রাহকরা। সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। শুধু নৈশ প্রহরী ফিরোজ নয় ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তা এ ঘটনায় জড়িত।

‎‎সোনালী ব্যাংকের গ্রাহক তাহেরা বেগম বলেন, আমি সোনালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ শাখায় একটি এফডিআর করেছিলাম। এফডিআরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর আমি ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়েছিলাম। নৈশ প্রহরী ফিরোজ আমাকে জানায় আপনি চেকবই দিয়ে যান আমি সবকিছু রেডি করে রাখব আপনি কয়েকদিন পরে এসে টাকা নিয়ে যান। দুই তিনদিন পর ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে জানতে পারি আমার অ্যাকাউন্ট শূন্য। পরে বিষয়টি ম্যানেজারকে জানালে তিনি আমার টাকার দায়িত্ব নেন। আরজিনা বেগম নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বেতনের ২৮ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে ফিরোজ। 

‎এ বিষয়ে জানতে চেয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও অভিযুক্ত নৈশ প্রহরী ফিরোজের মুঠোফোন নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া গেছে। ফিরোজের বাবা কছির উদ্দিন বলেন, আমার ছেলে ব্যাংকের অনেক গ্রাহকের টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে। এর মধ্যে গাড়াগ্রামের তহুড়া বেগমকেসহ কয়েকজনের ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংক ম্যানেজার পংকজ কান্তি রায়ের মাধ্যমে ফেরত দিয়েছি। এতগুলো টাকা আমার ছেলে কি করেছে তা আমার জানা নেই। ফিরোজ কতগুলো টাকা নিয়েছে প্রশ্ন করলে কছির উদ্দিন বলেন, শুনেছি সবগুলো মিলে প্রায় কোটি টাকা।

‎‎কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক পংকজ কান্তি বলেন, সোনালী ব্যাংকের নৈশ প্রহরী ফিরোজ মিয়া গত জুলাই মাসের ২০ তারিখ থেকে হঠাৎ করে ব্যাংকে আসা বন্ধ করে দেন। তার বিষয়ে খোঁজ খবর নিলে তার পরিবারের লোকজন জানান, সে জরুরি কাজে ঢাকায় গেছে। তার ব্যাবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তাকে পাওয়া না যাওয়ায় তার বাড়িতে নোটিশ পাঠানো হয়। 

পরবর্তীতে এই সংবাদ জানার পর সোনালী ব্যাংকের ১০ থেকে ১৫ জন আমানতকারী ব্যাংকে এসে তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা না পেয়ে বিষয়টি আমাদের জানান। ইতোমধ্যে কয়েকজন গ্রাহককে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছি। তবে আত্মসাৎ হওয়া টাকার পরিমাণ নিশ্চিত করেননি তিনি। এই ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে (জিডি নম্বর ১৪৯১) বলেও জানান এই ব্যাংক কর্মকর্তা।

‎‎কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল গফুর মিয়া জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংকের নৈশ প্রহরী গত ২০ জুলাই থেকে নিখোঁজ রয়েছে। সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার বাদী হয়ে এ ঘটনায় একটি মিসিং ডায়েরি করেছেন। তবে অনেক বিলম্বে তারা প্রশাসনের দারস্থ হয়েছেন। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি ফিরোজের সন্ধান পাওয়ার। 

‎এই ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে কিশোরগঞ্জ উপজেলার ব্যাংকপাড়াসহ সকল স্থানে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ বিধায় রোববার আসার অপেক্ষায় তারা অস্থির হয়ে পড়েছেন। কারণ ব্যাংক খোলা মাত্রই নিজ নিজ একাউন্ট সম্পর্কে খোঁজ নিতে অধীর আগ্রহে রয়েছেন তারা। সেই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বরাতে বিষয়টি ভাইরাল হওয়ায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে। 

গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের মন্তব্য এতবড় একটা জালিয়াতির ঘটনা এককভাবে শুধু নৈশ প্রহরী ফিরোজ মিয়ার পক্ষে করা সম্ভব নয়। বরং শাখার কর্মকর্তারাসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষেরও সহায়তা আছে। যে কারণে কয়েকজন গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ব্যাংক ম্যানেজার ও ফিরোজের বাবা উদ্যোগ নিয়েছে। আর বিষয়টা গোপন রেখে তলে তলে সব ম্যানেজের চেষ্টা চলছে। আর যদি সহযোগিতা না থাকে তাহলেও তাদের দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির সুযোগেই এই প্রতারণা ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটিয়েছে ফিরোজ। এজন্যও কর্মকর্তারা দায়ী। 


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream