বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

৯/১১ হামলার ‘মাস্টারমাইন্ডের’ বিচার শুরু ২০২৮ সালে


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| ফটো কার্ড

৯/১১ হামলার ‘মাস্টারমাইন্ডের’ বিচার শুরু ২০২৮ সালে
৯/১১ হামলার ‘মাস্টারমাইন্ডের’ বিচার শুরু ২০২৮ সালে

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৮ সালে।  যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার তিন সহযোগীর বিচার ২০২৮ সালের জুনে প্রায় ২৭ বছর পর শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন বিমান বাহিনীর একজন বিচারক। এ তথ্য রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।

মার্কিন বিমান বাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল শ্রামার জারি করা বিচার-সময়সূচি নির্ধারণের আদেশে বুধবার (২৬ আগস্ট) বলা হয়, ২০২৮ সালের ৫ জুন খালিদ শেখ মোহাম্মদ এবং তার তিন সহযোগীর সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হবে।

২০২৭ সালের জানুয়ারিতে এর আগে প্রসিকিউটররা বিচার শুরুর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে আদালতে বিচারপূর্ব আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি এবং কোন কোন তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা যাবে, তা নির্ধারণে আরও সময় প্রয়োজন বলে বিচারক সময়সীমা পিছিয়ে দিয়েছেন।

বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন মামলার প্রধান আসামি খালিদ শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে ওয়ালিদ বিন আত্তাশ, আলী আব্দুল আজিজ আলী ও মুস্তফা আল-হাউসাভিও। তাঁরা কিউবার গুয়ান্তানামো বে-তে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আটক রয়েছেন।

তবে ২০২৮ সালের নির্ধারিত তারিখেই বিচার শুরু হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ এর আগে একাধিকবার বিচার শুরুর সময় নির্ধারণ করা হলেও বিভিন্ন আইনি জটিলতায় তা পিছিয়ে গেছে। ২০২১ সালেও বিচার শুরুর একটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা পরে বাতিল হয়ে যায়।

খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ২০০১ সালের ৯/১১ হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। ওই হামলায় চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করা হয়। এর মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার এবং একটি পেন্টাগনে আঘাত হানে। অপর বিমানটি যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হন।

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আসামিদের ওপর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) জিজ্ঞাসাবাদ পদ্ধতি। গ্রেপ্তারের পর গোপন কারাগারে তাদের ওয়াটারবোর্ডিংসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন করা হয়েছিল। এসব নির্যাতনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য আদালতে গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে আইনি বিতর্ক চলছে।

২০২৪ সালে আসামিদের সঙ্গে একটি সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওই চুক্তি অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদণ্ডের বিনিময়ে তারা দোষ স্বীকার করতে রাজি হয়েছিলেন। তবে রাজনৈতিক বিতর্ক ও নিহতদের স্বজনদের আপত্তির পর সেই চুক্তি বাতিল করা হয়। ফলে মামলাটি আবার পূর্ণাঙ্গ বিচারপ্রক্রিয়ায় ফিরে আসে।

২০০৩ সাল থেকে আটক থাকা খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এখনো চূড়ান্ত রায় হয়নি। বেসামরিক আদালতের পরিবর্তে গুয়ান্তানামো বে-র বিশেষ সামরিক আদালতে বিচার পরিচালনার সিদ্ধান্তও মামলাটিকে আরও জটিল করেছে। আদালতটির এখতিয়ার, কার্যপ্রণালি এবং প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আইনি চ্যালেঞ্জ হয়েছে।

ফলে হামলার প্রায় ২৭ বছর পরও বিচার শুরু না হওয়া নিয়ে ভুক্তভোগীদের পরিবার, মানবাধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে হতাশা রয়েছে। ইতোমধ্যে হামলায় নিহত অনেকের বাবা-মা ও বয়োজ্যেষ্ঠ স্বজন বিচার দেখে যেতে পারেননি।

নতুন সূচি অনুযায়ী, সব বিচারপূর্ব আইনি বিরোধ নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি করা গেলে ২০২৮ সালের ৫ জুন থেকে এই বহুল আলোচিত মামলার বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬


৯/১১ হামলার ‘মাস্টারমাইন্ডের’ বিচার শুরু ২০২৮ সালে

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৮ সালে।  যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার তিন সহযোগীর বিচার ২০২৮ সালের জুনে প্রায় ২৭ বছর পর শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন বিমান বাহিনীর একজন বিচারক। এ তথ্য রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।

মার্কিন বিমান বাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল শ্রামার জারি করা বিচার-সময়সূচি নির্ধারণের আদেশে বুধবার (২৬ আগস্ট) বলা হয়, ২০২৮ সালের ৫ জুন খালিদ শেখ মোহাম্মদ এবং তার তিন সহযোগীর সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হবে।

২০২৭ সালের জানুয়ারিতে এর আগে প্রসিকিউটররা বিচার শুরুর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে আদালতে বিচারপূর্ব আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি এবং কোন কোন তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা যাবে, তা নির্ধারণে আরও সময় প্রয়োজন বলে বিচারক সময়সীমা পিছিয়ে দিয়েছেন।

বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন মামলার প্রধান আসামি খালিদ শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে ওয়ালিদ বিন আত্তাশ, আলী আব্দুল আজিজ আলী ও মুস্তফা আল-হাউসাভিও। তাঁরা কিউবার গুয়ান্তানামো বে-তে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আটক রয়েছেন।

তবে ২০২৮ সালের নির্ধারিত তারিখেই বিচার শুরু হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ এর আগে একাধিকবার বিচার শুরুর সময় নির্ধারণ করা হলেও বিভিন্ন আইনি জটিলতায় তা পিছিয়ে গেছে। ২০২১ সালেও বিচার শুরুর একটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা পরে বাতিল হয়ে যায়।

খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ২০০১ সালের ৯/১১ হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। ওই হামলায় চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করা হয়। এর মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার এবং একটি পেন্টাগনে আঘাত হানে। অপর বিমানটি যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হন।

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আসামিদের ওপর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) জিজ্ঞাসাবাদ পদ্ধতি। গ্রেপ্তারের পর গোপন কারাগারে তাদের ওয়াটারবোর্ডিংসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন করা হয়েছিল। এসব নির্যাতনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য আদালতে গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে আইনি বিতর্ক চলছে।

২০২৪ সালে আসামিদের সঙ্গে একটি সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওই চুক্তি অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদণ্ডের বিনিময়ে তারা দোষ স্বীকার করতে রাজি হয়েছিলেন। তবে রাজনৈতিক বিতর্ক ও নিহতদের স্বজনদের আপত্তির পর সেই চুক্তি বাতিল করা হয়। ফলে মামলাটি আবার পূর্ণাঙ্গ বিচারপ্রক্রিয়ায় ফিরে আসে।

২০০৩ সাল থেকে আটক থাকা খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এখনো চূড়ান্ত রায় হয়নি। বেসামরিক আদালতের পরিবর্তে গুয়ান্তানামো বে-র বিশেষ সামরিক আদালতে বিচার পরিচালনার সিদ্ধান্তও মামলাটিকে আরও জটিল করেছে। আদালতটির এখতিয়ার, কার্যপ্রণালি এবং প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আইনি চ্যালেঞ্জ হয়েছে।

ফলে হামলার প্রায় ২৭ বছর পরও বিচার শুরু না হওয়া নিয়ে ভুক্তভোগীদের পরিবার, মানবাধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে হতাশা রয়েছে। ইতোমধ্যে হামলায় নিহত অনেকের বাবা-মা ও বয়োজ্যেষ্ঠ স্বজন বিচার দেখে যেতে পারেননি।

নতুন সূচি অনুযায়ী, সব বিচারপূর্ব আইনি বিরোধ নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি করা গেলে ২০২৮ সালের ৫ জুন থেকে এই বহুল আলোচিত মামলার বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream