বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহত বেড়ে ৫৫, ৩৮৪ পর্যটক নিখোঁজ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| ফটো কার্ড

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহত বেড়ে ৫৫, ৩৮৪ পর্যটক নিখোঁজ
ছবি: সংগৃহীত

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে সংঘটিত ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আরও ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) নেমে আসা এ বন্যায় নেপালের রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন এলাকা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে। পানির প্রবল স্রোতে রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বহু স্থাপনা ভেসে গেছে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটকের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৯৩ জন নেপালি। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় এবং ১২ জন যুক্তরাজ্যের নাগরিক বলে চিহ্নিত করা গেছে।

ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভোতেকোশি নদীর পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়। সীমান্তঘেঁষা তিব্বত অঞ্চল থেকে প্রবল বেগে নেমে আসা পানির ঢল এ বন্যার তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া রসুয়া জেলায় নেপাল পুলিশের অন্তত ২৬ সদস্য এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ৭ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার তৎপরতায় নেমেছে নেপাল সেনাবাহিনী। দুর্গত এলাকাগুলোতে হেলিকপ্টার ও বিশেষ উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন একই সাথে উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিজন ভক্ত কায়স্থকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়, প্রাথমিক তদন্তের ধারণা অনুযায়ী একটি বরফধসের ফলে লেন্দে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে সৃষ্ট পানির তীব্র চাপের কারণে লেন্দে নদীর উপনদী ভোতেকোশিতে এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, নেপাল সীমান্তবর্তী তিব্বত অঞ্চলেও বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে জিরং বন্দর ও শিগাতসে এলাকায় সড়ক যোগাযোগ, টেলিযোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল দেশের পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, একটি ভূকম্পনের কারণে পাহাড় বা তুষারধসের সূচনা হতে পারে, যা পরবর্তীতে এই আকস্মিক বন্যার রূপ নেয়। নেপাল ও চীন—উভয় দেশের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, দুর্গম এলাকায় উদ্ধার কাজ অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

বিষয় : ভারত নিহত নেপাল বন্যা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬


নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহত বেড়ে ৫৫, ৩৮৪ পর্যটক নিখোঁজ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে সংঘটিত ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আরও ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) নেমে আসা এ বন্যায় নেপালের রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন এলাকা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে। পানির প্রবল স্রোতে রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বহু স্থাপনা ভেসে গেছে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটকের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৯৩ জন নেপালি। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় এবং ১২ জন যুক্তরাজ্যের নাগরিক বলে চিহ্নিত করা গেছে।

ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভোতেকোশি নদীর পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়। সীমান্তঘেঁষা তিব্বত অঞ্চল থেকে প্রবল বেগে নেমে আসা পানির ঢল এ বন্যার তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া রসুয়া জেলায় নেপাল পুলিশের অন্তত ২৬ সদস্য এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ৭ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার তৎপরতায় নেমেছে নেপাল সেনাবাহিনী। দুর্গত এলাকাগুলোতে হেলিকপ্টার ও বিশেষ উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন একই সাথে উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিজন ভক্ত কায়স্থকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়, প্রাথমিক তদন্তের ধারণা অনুযায়ী একটি বরফধসের ফলে লেন্দে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে সৃষ্ট পানির তীব্র চাপের কারণে লেন্দে নদীর উপনদী ভোতেকোশিতে এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, নেপাল সীমান্তবর্তী তিব্বত অঞ্চলেও বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে জিরং বন্দর ও শিগাতসে এলাকায় সড়ক যোগাযোগ, টেলিযোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল দেশের পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, একটি ভূকম্পনের কারণে পাহাড় বা তুষারধসের সূচনা হতে পারে, যা পরবর্তীতে এই আকস্মিক বন্যার রূপ নেয়। নেপাল ও চীন—উভয় দেশের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, দুর্গম এলাকায় উদ্ধার কাজ অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream