রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
মমতাপন্থীদের সমর্থনের পরই মিলন প্রধান গ্রেপ্তার

মমতাপন্থীদের সমর্থনের পরই মিলন প্রধান গ্রেপ্তার

পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন আগামী ৬ অক্টোবর। এর আগে এক পুরোনো হত্যা মামলায় কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী গোষ্ঠী মিলন প্রধানকে সমর্থনের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই—এর খবরে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের ঘটনায় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, উপনির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁরা নির্বাচনে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এবং জয়ের প্রত্যয় জানিয়েছেন। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী বলেছেন, মিলন প্রধানের গ্রেপ্তার ‘কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়’, বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেপ্তার কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়—এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, গণতন্ত্রের হত্যা।’ তিনি বলেন, ‘বিজেপির অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে কোনো বিশ্বাস নেই। এ কারণেই তারা কখনো ভোট চুরি করে, কখনো সরকার চুরি করে এবং কখনো দল চুরি করে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চায়। তারা নির্বাচনে লড়তে চায় না; তারা পুরো নির্বাচনী লড়াইটাই শেষ করে দিতে চায়। কংগ্রেস ভয় পাবে না, মাথা নত করবে না। আমরা লড়ব এবং জিতব।’ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তিনি গ্রেপ্তারকে ‘ভোট চুরি’ এবং ‘চুনাব (নির্বাচন) চুরি’র নির্লজ্জ চেষ্টা বলে মন্তব্য করেন। খাড়গে বলেন, ‘বিজেপি এতটাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে যে একটি উপনির্বাচনেও তারা তদন্তকারী সংস্থাগুলোর অপব্যবহার করে বিরোধী দলের একজন প্রার্থীকে নিশানা করে গ্রেপ্তার করছে। প্রধানমন্ত্রী ভারতকে ‘গণতন্ত্রের মা’ বলে গর্ব করেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি যা করছে, তা গণতন্ত্রের হত্যা। কংগ্রেসকে ভয় দেখানো বা চুপ করানো যাবে না। ঐক্যবদ্ধ ইন্ডিয়া জোট এর বিরুদ্ধে লড়াই করবে।’ কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরীও গ্রেপ্তারের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আজ হঠাৎ করে, কোনো প্ররোচনা ছাড়াই, কোনো কারণ ছাড়াই স্থানীয় পুলিশ কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছে।’ তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে প্রার্থিতা জমা দিয়েছেন এবং জেলার জেলা কালেক্টর তথা রিটার্নিং অফিসারের সামনে শপথ নিয়েছেন, তখন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সে সময় তিনি কোনো বাধা ছাড়াই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। যখন অন্য রাজনৈতিক দলগুলো তাকে সমর্থন করছে, তখন বিজেপি ভয় পেয়ে গেছে এবং হতাশা থেকে আমাদের সম্ভাবনা নষ্ট করতে তাকে গ্রেপ্তার করেছে।’ ভারতের নির্বাচন কমিশনের এক অন্তর্বর্তী আদেশের পরপরই মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই আদেশে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীকেই তাদের মূল নাম ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ঐতিহ্যবাহী ‘ফুল ও ঘাস’ বা ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দেওয়া হয়। অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে দেওয়া হয় ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক। দলীয় সাংগঠনিক বিরোধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন উপনির্বাচনগুলোর জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। এই আদেশের এক দিন পর মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রেপ্তারের সঙ্গে তাঁর দলের সমর্থন ঘোষণার সময়ের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। এক্সে তিনি বলেন, ‘নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীকে আমরা সমর্থন করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হলো। এই সময় নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। এটি বিজেপির চেনা ফর্মুলা—পুরোনো মামলা খুঁজে বের করা। কিন্তু এখন কেন? ঠিক তখনই কেন, যখন আমরা কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা করলাম?’ তবে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেস গোষ্ঠীর নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় মিলন প্রধানের গ্রেপ্তারকে সমর্থন করেছেন। রাহুল গান্ধীর পোস্টের জবাবে তিনি এক্সে বলেন, ‘আমরা, ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি। তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। নির্বাচনের সময় পরোয়ানা কার্যকর করা বাধ্যতামূলক। রাজ্য কংগ্রেসের নেতৃত্ব সম্ভবত বিষয়টির প্রকৃত বিবরণ রাহুল গান্ধীকে জানায়নি।’ তৃণমূলের দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী গোষ্ঠীর নন্দীগ্রাম প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। এর আগে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন বলে জানা গেছে। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করেন। তিনি কংগ্রেসকে ‘সিস্টার পার্টি’ বা বোনের মতো দল বলে উল্লেখ করেন। এদিকে, বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক স্মৃতি ইরানি রাহুল গান্ধীর নির্বাচন কমিশনের সমালোচনার জবাব দেন। তিনি কংগ্রেসের শাসনামলের কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বিজেপিকে কটাক্ষ করতে গিয়ে রাহুল গান্ধী আজ তাঁর নিজের দলের অন্ধকার ইতিহাসই তুলে ধরেছেন। এটা কি সত্য নয় যে ১৯৮০ সালে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে দেশের ৯টি রাজ্য সরকারকে বরখাস্ত করেছিল? এটা কি সত্য নয় যে ২০০৫ সালে ইউপিএ সরকারের সময় কংগ্রেস সরকার বিহার বিধানসভা ভেঙে দিয়েছিল? এই কাজকে সুপ্রিম কোর্ট অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছিল। কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধী কেন বারবার নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করছেন? রাহুল গান্ধী কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন?’ বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্রও নির্বাচন কমিশনের আদেশ নিয়ে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের জবাবে বলেন, ‘প্রথমত, রাহুল গান্ধী ভারতের বিচারব্যবস্থার প্রতি কোনো সম্মানই দেখান না। এখানে একটি বিচারিক প্রক্রিয়া রয়েছে এবং তার ভিত্তিতে একটি রায় দেওয়া হয়েছে।’ প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে ভবানীপুর আসন ধরে রাখেন। ফলে নন্দীগ্রাম আসনটি শূন্য হয়। নন্দীগ্রাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী উভয়ের জন্যই দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আসন। ২০০৭ সালের জমি অধিগ্রহণবিরোধী আন্দোলন নন্দীগ্রামকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত করে। উপনির্বাচনে বিজেপি হাসিরানি রথকে প্রার্থী করেছে। কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান। সিপিআই প্রার্থী করেছে শান্তি গোপাল গিরিকে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচন এবং আসামের নগাঁও লোকসভা আসনের উপনির্বাচন ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা হবে ৯ অক্টোবর। ৬ অক্টোবরের ভোট যত এগিয়ে আসছে, নন্দীগ্রামের লড়াই ততই সাধারণ উপনির্বাচনের সীমা ছাড়িয়ে বড় রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত হচ্ছে। দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধ, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘাত, বিরোধী দলগুলোর ঐক্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কংগ্রেসের অপ্রত্যাশিত সমঝোতা এবং নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞায় ১০০% শুল্কের মুখে ভারত-চীন

রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন নিষেধাজ্ঞা আইনে স্বাক্ষর করেছেন। এর ফলে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখা দেশগুলোর পণ্যে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এর ফলে ভারত ও চীনের মতো দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের পথ তৈরি হয়েছে।  ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট ২০২৬’ নামের আইনটি রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক, জ্বালানি খাত এবং মস্কোর সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে তৈরি। রুশ পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ এবং রুশ জ্বালানি কেনা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিধান রয়েছে। তবে ভারতের ওপর এখনই ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়নি। আইনটি ট্রাম্পকে এমন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিয়েছে; তিনি তা প্রয়োগ করলে তবেই ভারতীয় পণ্যে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত বৈচিত্র্যময় উৎস থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। এর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত মার্কিন শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হয় এবং পারস্পরিক শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। মার্কিন কংগ্রেসে আইনটি পাস হলেও কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত শুল্ক শেষ পর্যন্ত মার্কিন ভোক্তাদের জন্য পণ্যের দাম বাড়াতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি

ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞায় ১০০% শুল্কের মুখে ভারত-চীন

বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে ভারতের বিপক্ষে হারের রেকর্ড আফগানিস্তানের

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে টানা হারের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড থেকে সরে গেছে বাংলাদেশ।রেকর্ডটি আফগানিস্তানের টানা দশম পরাজয়ে এখন তাদের দখলে। ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে সর্বশেষ জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা ৯ ম্যাচে ভারতের কাছে হেরেছে টাইগাররা। এতদিন এটিই ছিল ভারতের বিপক্ষে কোনো দলের সর্বোচ্চ টানা পরাজয়ের রেকর্ড। মঙ্গলবার দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। এতে ভারতের বিপক্ষে আফগানদের টানা পরাজয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ ম্যাচে। ২০১০ সালে টি-টোয়েন্টি অভিষেকের পর থেকে ভারতের বিপক্ষে এখনো জয়ের দেখা পায়নি আফগানিস্তান। ২০২৪ সালে একটি ম্যাচ টাই হলেও সুপার ওভারে হেরেছিল তারা। ভারতের বিপক্ষে টানা হারের তালিকায় জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের নামও রয়েছে। দুই দলই একসময় টানা ৮ ম্যাচ হেরেছিল। তবে জিম্বাবুয়ে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এবং আয়ারল্যান্ড ২০২৬ সালের জুনে ভারতকে হারিয়ে সেই ধারা ভেঙেছে। বাংলাদেশ অবশ্য এর আগেও ভারতের বিপক্ষে টানা ৮ ম্যাচ হেরেছিল, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে। 

বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে ভারতের বিপক্ষে হারের রেকর্ড আফগানিস্তানের

বিয়ের আশায় মন্দিরে মেহেদি নিতে মানুষের ঢল

মন্দিরের মেহেদি পরলে এক বছরের মধ্যেই বিয়ে হয়ে যাবে। আর এই বিশ্বাস থেকে মানুষের ঢল নামল ভারতের জয়পুরের বিখ্যাত মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে মেহেদি নিতে। প্রায় তিন হাজার ৫০০ কেজি মেহেদি মাত্র তিন ঘণ্টাতেই শেষ হয়ে যায়। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিঞ্জারা উৎসব উপলক্ষে এই মন্দিরে ভক্তদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। আর এ সময় মন্দিরে বিশেষ মেহেদি দেওয়া হবে জানতে পেরে জড়ো হন হাজারো ভক্ত। এ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই মেহেদি বিতরণ শুরু করতে হয় মন্দির কর্তৃপক্ষকে। প্রতিবেদনে জানা যায়, মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে আসা ভক্তদের কাছে সিঞ্জারা মেহেদির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, বিয়েতে বাধার মুখে থাকা ব্যক্তিরা মন্দিরে মেহেদি দেন। পরে সেই মেহেদি হাতে লাগান তাঁরা। তাঁদের আশা, এক বছরের মধ্যে উপযুক্ত জীবনসঙ্গী পাওয়া যাবে। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্ট থেকে জানা যায়, মাত্র তিন ঘণ্টায় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কেজি মেহেদি বিতরণ করা হয়েছে। দিল্লি ও চণ্ডীগড়সহ বিভিন্ন শহর থেকে ভক্তরা মেহেদি সংগ্রহ করতে মন্দিরে আসেন বলে জানা গেছে। তাঁদের কেউ কেউ আগের রাতেই মন্দিরে পৌঁছেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, মন্দিরের বাইরে দীর্ঘ সারি ও বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড়। এই ভিড়ের কারণে আশপাশের এলাকাতেও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। মন্দির প্রাঙ্গণে ধাক্কাধাক্কি ও ঠেলাঠেলির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। ভিড়ের মধ্যে মহারাষ্ট্রের এক নারী ভক্ত অচেতন হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ দিকে ভিডিওটি এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। এটি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। এক ব্যবহারকারী রসিকতা করে লিখেছেন, ‘সালমান খান কোথায়?’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘এত অবিবাহিত মানুষ থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশের জনসংখ্যা হু হু করে বাড়ছে।’ তৃতীয় একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আগে নিজেকে রেডি করো তারপর জীবনসঙ্গীর খোঁজ করো।’ আরেকজন বলেন, ‘এ দিকে কাজ খুঁজে পাচ্ছি না, আর এদের মাথার কেবল বিয়ের চিন্তা।’ গণেশ চতুর্থীকে ঘিরে এই সিঞ্জারা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সারা বছরই এই মন্দিরে প্রচুর ভক্ত ও পর্যটকের সমাগম ঘটে। তবে গণেশ চতুর্থীর সময় বেশি ভিড় হয়। বিবাহ নিয়ে একাধিক লোকবিশ্বাসের সঙ্গে এই মন্দিরটি জড়িয়ে আছে।

বিয়ের আশায় মন্দিরে মেহেদি নিতে মানুষের ঢল

বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই পশ্চিমবঙ্গে বাজারে গরুর মাংসের সংকট

ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে কঠোর কড়াকড়ি ও সরবরাহ সংকটের কারণে বাজার থেকে গোরুর মাংস প্রায় দেখায় যাচ্ছে না। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জানানো হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি রাজ্য সরকার গঠন করার পরই এই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১৯৫০ সালের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে মেনে চলার আদেশ জারি করে। এই নীতি অনুযায়ী ১৪ বছরের বেশি বয়সী, প্রজনন বা কাজের অনুপযোগী অথবা গুরুতরভাবে পঙ্গু পশু ছাড়া গোরু বা মহিষ জবাইয়ের জন্য ফিটনেস সনদ প্রদান নিষিদ্ধ করা হয় এবং কেবল নির্ধারিত কসাইখানায় জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া হয়। কলকাতার ট্যাংরায় অবস্থিত শহরের একমাত্র পৌর কসাইখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং কসাইদের ব্যবসার লাইসেন্স নবায়ন স্থগিত থাকায় সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। মেয়র ফরহাদ হাকিমের পদত্যাগের পর পৌরসভা ভেঙে দেওয়া এবং আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচনের দিন ধার্য থাকায় লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া পুরোপুরি থমকে গেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় কলকাতায় গোরুর মাংসের দাম কেজিতে ২০০-২৫০ রুপি থেকে বেড়ে ৩৫০-৫০০ রুপিতে পৌঁছেছে, অন্যদিকে এক প্লেট ভুনা মাংসের দাম ১০০ থেকে বেড়ে ১২০ রুপি হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ব্যবসা ৫০ শতাংশের বেশি কমে গেছে এবং নিরাপত্তার ভয়ে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে এই মাংস খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। আইনের কঠোর প্রয়োগের কারণে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁ অলি পাব ও জাম জামসহ বহু প্রতিষ্ঠান তাদের খাদ্য তালিকা থেকে গোরুর মাংসের পদ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। এমনকি অনেক মাংস ব্যবসায়ী ও খামারি লোকসান সামলাতে কম দামে গবাদিপশু বিক্রি করে ছাগলের ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর কিংবা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালদার মতো জেলাগুলোতে কড়াকড়ির কারণে এখন রাতে গোপনে ও গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গোরুর মাংস সরবরাহ করা হচ্ছে।  সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের ১০ দশমিক ৪ শতাংশ গ্রামীণ এবং ৭ দশমিক ৯ শতাংশ শহুরে পরিবার গোরুর মাংস গ্রহণ করত, যার মধ্যে মুসলিমদের দুই-তৃতীয়াংশের পাশাপাশি খ্রিস্টান, দলিত ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত ছিল। ট্যাংরা কসাইখানা ও লাইসেন্স নবায়নের বিষয়ে কলকাতা পৌরসংস্থার কমিশনার স্মিতা পান্ডে জানান, বিষয়টি প্রাণী সম্পদ বিকাশ বিভাগের আওতাধীন। তবে প্রাণী সম্পদ বিভাগের পরিচালক নিখিল কুমার শেঠ কসাইখানা পরিচালনা ও ফিটনেস সনদ প্রদানের যাবতীয় দায়িত্ব পৌরসংস্থার ওপর ন্যস্ত করেছেন। সূত্র: আল জাজিরা

বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই পশ্চিমবঙ্গে বাজারে গরুর মাংসের সংকট

নাকভির হাত থেকে ট্রফি নেবে না ভারত

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান ও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও মহসিন নাকভি। এছাড়া তিনি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলেরও (এসিসি) সভাপতি। ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল নাকভি ট্রফি তুলে দিলে এশিয়া কাপের ট্রফি বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না। এমনটা আগেই এসিসিকে জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)।  গত রোববার (১৩ সেপ্টম্বর) নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে রেকর্ড অষ্টমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসিসি সভাপতি মহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নেয়নি ভারতের মেয়েরা।  এ বিষয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে বিসিসিআই সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া বলেন, ‘আমরা এসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে এসিসি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি, পুরুষ ক্রিকেট দলের ক্ষেত্রে যেটা করা হয়েছিল, একইভাবে ট্রফি দেওয়া হলে আমরা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেব না। তারা নিজেদের অবস্থান থেকে সরেনি, তাই আমাদের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না।’ ভারতের আরেক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসেও একই সুরে কথা বলেন সাইকিয়া। তিনি বলেন, ‘সবদিক বিবেচনায় আমরা সচেতন সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারতীয় দল ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না—সে কথা আমরা আগেই এসিসিকে জানিয়ে দিয়েছিলাম।’ এর আগে গত বছর ভারতের পুরুষ দল নাকভির কাছ থেকে ট্রফি ও মেডেল নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এখনও তারা ট্রফি হাতে পায়নি। এসিসির দপ্তরে রাখা আছে সেটি। সূর্যকুমার যাদবের দল সেদিন ট্রফি ছাড়াই মঞ্চে দাঁড়িয়ে উদযাপন করেছিল। আগে থেকেই ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উত্তেজনাময়, যা আরও অবনতির দিকে যায় ২০২৫ সালের এপ্রিলে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর। এরপর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করলে দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে।  নাকভির কাছে থেকে ট্রফি না নেওয়া প্রসঙ্গে বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে সাইকিয়া বলেছিলেন, ‘পেহেলগামের ঘটনার পর আমাদের পুরো পরিস্থিতি বদলে যায়। এরপর আমাদের নাগরিকদের কাছ থেকে চাপ ছিল প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক রাখা উচিত নয়, তাদের সঙ্গে ক্রিকেটও খেলা উচিত নয়। কিন্তু আমাদের সরকারের নীতি হলো, বহুজাতিক টুর্নামেন্টে আমাদের প্রতিটি দেশের বিপক্ষেই খেলতে হবে। আমরা সেই নীতি অনুসরণ করছি। সে কারণেই বিসিসিআই প্রতিটি দলের বিপক্ষে খেলার জন্য দল পাঠায়।’ তবে বহুজাতিক টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা মানেই সবকিছু মেনে নেওয়া নয় বলে উল্লেখ করে সাইকিয়া। তিনি বলেন, ‘এর মানে এই নয় যে আমরা খেলব এবং আমাদের সামনে রাখা প্রতিটি শর্ত মেনে নেব। যে দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আগে থেকেই খারাপ ছিল এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর তা আরও খারাপ হয়েছে, আমাদের অভিযান এখনো চলছে। তাদের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা (নাকভি) আমাদের দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। আমরা তার কাছ থেকে ট্রফি নিতে পারি না।’

নাকভির হাত থেকে ট্রফি নেবে না ভারত

চেনা চিত্র বদলে ভারত থেকে আসছে ইলিশ

এবার উল্টে গেছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ইলিশ বাণিজ্যের চেনা চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে ভারত বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের সবচেয়ে বড় বিদেশি বাজার ছিল। বিশেষ করে দুর্গাপূজার মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে ভারতে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা হতো। কিন্তু এবার বাংলাদেশে ইলিশ পাঠানো হচ্ছে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে উল্টো ভারত থেকেই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে—দেশটির মৎস্য ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে। বাংলাদেশে চলতি বছর ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বর্তমানে ১ কেজি বা তার বেশি ওজনের পদ্মার ইলিশ বাংলাদেশে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই সংকটের কারণে কিছু বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রচলিত বাণিজ্যপথের বাইরে গিয়ে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছেন। ভারত থেকে আসা ইলিশের বড় অংশ গুজরাট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ভরুচ বন্দর দিয়ে পাঠানো হয়েছে। কিছু চালান পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া পাইকারি মাছবাজার হয়েও গেছে। হাওড়া হোলসেল ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, বাংলাদেশ এবার প্রথমবারের মতো ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছে। সাধারণত পশ্চিমবঙ্গ থেকে বোয়াল, রুই, পারসে ও ট্যাংরা মাছ বাংলাদেশে পাঠানো হয়। গুজরাটের ইলিশে প্রচুর ডিম বা রো থাকায় ভারতের বাজারে এর চাহিদা তুলনামূলক কম। কিন্তু বাংলাদেশে বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেটে ডিমভরা ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে গুজরাটের ইলিশ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। মাকসুদ বলেন, এসব ইলিশের ডিম আলাদাভাবেও বিক্রি করা হচ্ছে। পরে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে অন্য দেশেও পুনরায় রপ্তানি করা হচ্ছে। তবে শুধু গুজরাট নয়, পশ্চিমবঙ্গের ডায়মন্ড হারবার ও কোলাঘাট থেকেও মাঝারি আকারের ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। কিছু চালান এসেছে গুজরাট ও মুম্বাই থেকে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত দুই মাসে অন্তত ৪৫০ টন ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। রোববারও প্রায় ১০ টন ইলিশ নিয়ে দুটি চালান এই স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা শুরুতে এসব চালানের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করতে অনিচ্ছুক ছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ পাঠানোর খবর প্রকাশ হলে বাংলাদেশে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিছু রপ্তানিকারক প্রথমে দাবি করেছিলেন, ইলিশ রপ্তানির কোডের অধীনে পাঠানো চালানে সামুদ্রিক মাছ থাকতে পারে। পরে পেট্রাপোলের ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কাস্টমসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে সত্যিই ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। মৎস্য আমদানিকারক সমিতির সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মৎস্য ব্যবসায়ীদের মতে, সীমান্তের দুই পাশেই ইলিশের সংকট এই অস্বাভাবিক বাণিজ্যের অন্যতম কারণ। অনিয়মিত বাতাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে মাছ ধরায় ব্যাঘাত ঘটেছে। এতে ইলিশের আহরণ কমার পাশাপাশি জেলেদের লোকসানও হয়েছে। এক ভারতীয় রপ্তানিকারক বলেন, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা আরব সাগর ও নর্মদা নদীর মোহনা থেকে পাওয়া ইলিশ সংগ্রহ করছেন। এসব মাছ দেখতে ভালো হলেও মিঠাপানির ইলিশের মতো সুস্বাদু নয়। তবে পদ্মার ইলিশের তুলনায় দাম কম হওয়ায় এবং বাজারে ব্যাপক সংকট থাকায় ব্যবসায়ীরা এগুলো আমদানি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ রপ্তানির এই পরিবর্তন এবার দুর্গাপূজাকে ঘিরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হবে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। গত বছর বাংলাদেশ ভারতকে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতে পৌঁছায় মাত্র ১৪৩ দশমিক ৮০ টন। এর আগের দুই বছরেও ভারতে ইলিশ আমদানি ৬০০ টনের নিচে ছিল। মূলত বেশি দামের কারণে আমদানিকারকেরা অনেক চালান নিতে অনিচ্ছুক ছিলেন। এবার কলকাতার মাছ আমদানিকারকেরা বাংলাদেশকে আবার ইলিশ রপ্তানি শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। শহরভিত্তিক একটি সংগঠন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছে। বাংলাদেশি মাছ ব্যবসায়ীরাও একই ধরনের অনুরোধ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে তারেক রহমানের সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইলিশ উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ। সেই দেশের বাজারে ইলিশের ঘাটতি মেটাতে এবার প্রতিবেশী ভারত থেকেই ইলিশ আসছে। বিষয়টিকে তাই শুধু বাণিজ্যের উল্টো স্রোত নয়, দুই দেশের দীর্ঘদিনের ইলিশ-সম্পর্কেরও এক অস্বাভাবিক অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, ‘ভারত এখন বাংলাদেশে ইলিশ রপ্তানি করছে, এটি অবশ্যই গর্বের বিষয়। তবে আমার ইচ্ছা, ইলিশ যেন চিরকাল দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের প্রতীক হয়ে থাকে।’

চেনা চিত্র বদলে ভারত থেকে আসছে ইলিশ

ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে গড়তে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বহুপক্ষীয় কোনো জোট বা ফোরামের পরিবর্তে বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ আলোচনার মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে নতুন করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়তে চায়। আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে একটি নতুন সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যেতে চাই, যা বহুপক্ষীয় ফোরামের মাধ্যমে নয়, বরং দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।’ ভারতের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগী থাকার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ভারত-কেন্দ্রিক ভীতি বা অতি-আকর্ষণ থেকে বের হতে হবে। অন্য আট-দশটি দেশের মতো ভারতও আমাদের জন্য একটি স্বাধীন প্রতিবেশী রাষ্ট্র। বাংলাদেশ নয়াদিল্লির সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে একটি সুদৃঢ় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে চায়।’ বিগত ১৫ বছরের বিগত সরকারের সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একনায়কতান্ত্রিক ও শোষণমূলক ব্যবস্থার কারণে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের যে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, ঢাকা এখন তা পেছনে ফেলে পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে নতুন কূটনৈতিক যাত্রা শুরু করতে ইচ্ছুক।’ বহুপক্ষীয় সম্মেলনে অন্যান্য রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়ে নিজের আগের একটি মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমার বক্তব্যটি মূলত ভারতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ছিল। আমি কখনো বলিনি যে, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গেলে আমরা কারও সঙ্গেই কথা বলব না। অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক ফোরামের পাশাপাশি সুবিধাজনক সময়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত থাকবে।’ সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ঘটে যাওয়া কিছু অপ্রীতিকর ঘটনাগুলোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমেই এসব সমস্যার সমাধান চায়। আন্তর্জাতিক আইন, বিদ্যমান সীমান্ত প্রটোকল এবং দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা মেনে উপযুক্ত সব প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ তার উদ্বেগ ভারতের কাছে তুলে ধরবে। ভারতের সঙ্গে বিগত সরকারের সময়ে স্বাক্ষরিত ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পুনর্বিবেচনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এসব স্মারক ও চুক্তি জাতীয় সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’

ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে গড়তে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

চীনের সামরিক তৎপরতা বাড়ছে অরুণাচলে

চীনের সামরিক তৎপরতা ও অবকাঠামো নির্মাণ ভারত-চীন সীমান্তের বিতর্কিত অরুণাচল প্রদেশ এলাকায় দ্রুত বেড়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট। ঠিক এই সময়েই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লি সফরে গেছেন। ভান্টর স্যাটেলাইট সংস্থার সরবরাহ করা ছবি বিশ্লেষণ করে দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, অরুণাচলের আপার সুবনসিরি উপত্যকা সংলগ্ন একাধিক স্থানে নতুন ভবন, পাকা সড়ক ও একাধিক হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে। তিব্বতের লুনজে কাউন্টির উত্তরে ঝারি শহরের কাছাকাছি দুটি এলাকায় সবচেয়ে বেশি নির্মাণকাজ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে ওপেন সোর্স গোয়েন্দা সংস্থা জেনস। তারা আরও জানায়, দুই দেশের দাবি করা সীমান্তরেখা মিলিয়ে দেখলে এসব স্থাপনার একাংশ বিতর্কিত এলাকার ভেতরেই পড়ে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝারি শহরের দক্ষিণে ২০১৯ সালে শুরু হওয়া একটি নির্মাণকাজ এখনও চলছে, যেখানে জমি সমতলীকরণ, প্রকৌশল যন্ত্রপাতি ও কংক্রিট মিশ্রণ প্ল্যান্ট দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এটির সামরিক ব্যবহারও হতে পারে। এছাড়া লুনজের দক্ষিণে দুটি ছোট হেলিপ্যাডের জায়গায় একটি বড় হেলিপ্যাড এবং আরও দক্ষিণে নতুন আরেকটি হেলিপ্যাড তৈরি হয়েছে। আগস্ট ২০২৬-এর সর্বশেষ ছবিতে অন্তত একটি ভবনের ছাদ নির্মাণ সম্পন্ন দেখা গেছে, যা থেকে বোঝা যায় নির্মাণকাজ পূর্ণ গতিতে এগোচ্ছে। সীমান্ত থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের গ্রাম গেলেমোর একজন বাসিন্দা দ্য ইনডিপেনডেন্টকে জানান, চীনা বাহিনী তাদের পূর্বপুরুষের জমি দখল করে নিচ্ছে এবং কত দূর পর্যন্ত তারা ঢুকে পড়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়, তবে অনেকটা এলাকা তাদের দখলে চলে গেছে। অল তাগিন স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সভাপতি তাদক পাকবার নেতৃত্বে আটজনের একটি প্রতিনিধিদল গত ১১-১৩ আগস্ট গেলেমো ও তাকসিং এলাকায় সরেজমিন তদন্ত চালায়। পাকবা জানান, চীনা অনুপ্রবেশের বর্তমান গতি "নজিরবিহীন", আর ভারতীয় বাহিনী পিছু হটছে অথচ চীনা বাহিনী এগিয়ে যাচ্ছে। তার দলের প্রতিবেদনে বলা হয়, জুন মাস থেকে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়েছে এবং গ্রামবাসীদের চিরাচরিত শিকার ও পশুচারণ এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের সংগঠন নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি অভিযোগ করে, যে চীনা সেনাবাহিনী চারণভূমি ও বনভূমিতে সড়ক, সেতু ও সেনাশিবির তৈরি করেছে। ক্ষমতাসীন বিজেপির জোটসঙ্গী পিপলস পার্টি অব অরুণাচলের একটি পৃথক প্রতিনিধিদলও তাকসিং, গেলেমো ও মাজা এলাকা ঘুরে দেখে। দলের সদস্য ও সাবেক রাজ্য মন্ত্রী কাপা বেংগিয়া জানান, চীনা সেনারা ইতিমধ্যে এগিয়ে এসেছে এবং ভারতীয় টহল দলকে নিজেদের এলাকাতেও যেতে দেওয়া হচ্ছে না। ভারতীয় সেনাবাহিনী এসব অনুপ্রবেশের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে এগুলোকে "ভুল ও ভিত্তিহীন" বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, সীমান্ত পরিস্থিতির ওপরই দুই দেশের সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও চিয়াকুন জানিয়েছেন, চীন-ভারত সীমান্ত পরিস্থিতি সার্বিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর জানান, সিংহ বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সহায়তা দেওয়া হবে। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের চীন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শ্রীকান্ত কোন্ডাপল্লির মতে, এটি চীনের পরিচিত "সালামি স্লাইসিং" কৌশলের অংশ — ধীরে ধীরে ছোট ছোট এলাকা দখল করে সংহত করা, একবারে বড় আক্রমণের বদলে। তিনি বলেন, প্রথমে কিছু ইয়াক সীমান্ত পার করে ছেড়ে দিয়ে ভারতীয় বাহিনীর প্রতিক্রিয়া যাচাই করা হয়; মাসের পর মাস বাধা না পেলে একটি ছোট কুঁড়েঘর তৈরি হয়, পরে তা স্থায়ী কাঠামোয় রূপ নেয়, শেষে পুরোদস্তুর সেনাশিবির গড়ে ওঠে। ভারতের নিয়ন্ত্রণরেখা পর্যন্ত নিয়মিত পৌঁছাতে না পারার কারণেই চীন এই সুযোগ পাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকা সংঘর্ষের পর এটিই শি জিনপিংয়ের প্রথম দিল্লি সফর, যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছিলেন। প্রায় ৪০০ কর্মকর্তার বিশাল প্রতিনিধিদল নিয়ে তিনি দিল্লি পৌঁছান, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সবচেয়ে বড় প্রতিনিধিদল। দুই দেশই সীমান্তে কোনো সক্রিয় উত্তেজনা নেই বলে বিষয়টি খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছে।

চীনের সামরিক তৎপরতা বাড়ছে অরুণাচলে

মোদির নৈশভোজে যে কারণে ছিলেন না সি চিন পিং

গতকাল শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আয়োজিত রাতের নৈশভোজে ব্রিকস জোটের কয়েকজন নেতা অংশ নেননি। তাঁদের মধ্যে ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নয়াদিল্লিতে পৌঁছান। এরপর তিনি ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেন। নেতাদের জন্য দিনটি ছিল দীর্ঘ। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডেও দিনটি ছিল বেশ ব্যস্ত। বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত ব্যক্তিরা বলেছেন, সময়ের পার্থক্যের কারণে ক্লান্ত ও অবসন্ন থাকায় সি নৈশভোজে অংশ নেননি। দীর্ঘ বিমানযাত্রার পরও চীনের প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন বলে তারা জানান। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ ব্রিকস জোটের অন্য নেতারা নৈশভোজে অংশ নেন। নৈশভোজে কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী এবং কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন—অমিত শাহ, নির্মলা সীতারামন, পীযূষ গোয়েল, অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং শিবরাজ সিং চৌহান। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও নৈশভোজে অংশ নেন। কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীরা সংসদ ভবন থেকে দুটি বাসে করে নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকার ভারত মণ্ডপমে নৈশভোজের জন্য যান। দুই দিনের ব্রিকস সম্মেলন আজ শেষ হবে। সম্মেলনে ১১ সদস্য দেশের নেতা এবং ১০টি অংশীদার দেশের নেতা ছাড়াও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। আজ নরেন্দ্র মোদির সাতটি দেশের নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী মোদি ও সি চিনপিং ভারত-চীন সম্পর্কের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় করেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই নেতা জোর দিয়ে বলেছেন, ‘পার্থক্য যেন বিরোধে পরিণত না হয়।’ একই সঙ্গে তারা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা উচিত। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘২০২৫ সালের আগস্টে তিয়ানজিনে তাঁদের সর্বশেষ বৈঠকের পর ভারত-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে ধারাবাহিক অগ্রগতি হয়েছে, দুই নেতা তা স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, উভয় দেশের উচিত নিজেদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা। পার্থক্য যেন বিরোধে পরিণত না হয়। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, উভয় পক্ষকে তিনটি পারস্পরিক বিষয় দিয়ে পরিচালিত হতে হবে। এগুলো হলো পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক সংবেদনশীলতা এবং পারস্পরিক স্বার্থ।’

মোদির নৈশভোজে যে কারণে ছিলেন না সি চিন পিং

পুতিনের বর্জ্য নিয়ে অদ্ভুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যবহৃত বর্জ্য বা মল-মূত্র ভারত সফর শেষে সিলগালা করা ব্রিফকেসে সংগ্রহ করে মস্কোতে নিয়ে যাওয়া হবে। কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা যাতে তার শারীরিক অবস্থা বা স্বাস্থ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করতে না পারে, সেজন্যই এমন অদ্ভুত ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পুতিনের বডিগার্ডরা এই বর্জ্য সংগ্রহ করে সিলগালা ব্রিফকেসে করে বিমানে তুলে দেন। ২০১৭ সালে ফ্রান্স, ২০১৯ সালে সৌদি আরব এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আলাস্কা সফরের সময়ও পুতিনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল। বিসিবি-র প্রাক্তন সাংবাদিক ফরিদা রুস্তমোভা জানান, ১৯৯৯ সালে নেতৃত্ব শুরুর পর থেকেই পুতিন এই নিয়ম মেনে চলছেন এবং বিদেশ সফরে বহনযোগ্য বিশেষ টয়লেট ব্যবহার করেন। রাশিয়ার ফেডারেটর প্রোটেক্টিভ সার্ভিস (এফএসও) পুতিনের বিদেশ সফরের এই চরম গোপনীয় ও সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করে। তার দৃশ্যমান নিরাপত্তারক্ষীদের পেছনে রয়েছে এক অদৃশ্য নিরাপত্তার জাল, যার মধ্যে এলিট প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এসবিপি) বিশেষ প্রশিক্ষিত সদস্যরা কাজ করেন। এই রক্ষীদের বয়স ৩৫ বছরের কম, উচ্চতা ১৮০ সেন্টিমিটারের বেশি এবং তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হয়। পুতিনের খাবারে বিষপ্রয়োগ এড়াতে তার প্রতিটি খাবার তৈরির আগে উপাদান ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এরপর রাঁধুনিদের তৈরি সেই খাবার পুতিনকে পরিবেশনের আগে নিরাপত্তারক্ষীরা নিজেরা খেয়ে পরীক্ষা করেন। পুতিন সাধারণত ফাস্টফুড এবং রাতে অতিরিক্ত মাংস এড়িয়ে চলেন এবং সরকারি অনুষ্ঠানে আদা বা গোলাপের চা পান করেন।  বিদেশ সফরে পুতিন গ্রেনেড-প্রতিরোধী ও জরুরি অক্সিজেন সমৃদ্ধ ‘রাসায়নিক বুলেটপ্রুফ’ আউরাস সেনাট লিমুজিন গাড়ি ও ‘ডুমসডে প্লেনে’ ভ্রমণ করেন। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত ‘ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ’ বিমানে সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, জিম, মেডিকেল সেন্টার এবং পারমাণবিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার মতো আধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

পুতিনের বর্জ্য নিয়ে অদ্ভুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা

‘নিজ দেশে ফিরুন’—যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টার ঘিরে তীব্র বিতর্ক

‘নিজেদের দেশে ফিরে যান নতুবা পরিণতির জন্য তৈরি থাকুন’ যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন প্রচারণামূলক পোস্টারে অভিবাসীদের শীর্ষক বার্তা দেওয়া নিয়ে অনলাইনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জনপ্রিয় চলচ্চিত্র সিরিজ ‘ট্রান্সফর্মার্স’-এর শৈলী অনুসরণে তৈরি এই পোস্টারে ‘মি. সিং’ নামটি ব্যবহার করে ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয়দের নিশানা করার অভিযোগ উঠেছে। পোস্টারটিতে সরাসরি বলা হয়েছে, ‘আমাদের রাস্তা থেকে সরে যান। মি. সিং, আপনি কীভাবে গাড়ি চালাতে হয় তা জানেন না।’ ঘটনাটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন দমন নীতির সময়ে সামনে এসেছে, যা নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজস্ব অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে বিতর্কিত পোস্টারটির সমর্থনে বার্তা দিয়ে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ স্পষ্ট করেছে, দেশে শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব নিয়ে প্রবেশকারীদের প্রতিহত করা হবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞাপনে অবৈধ অভিবাসীদের তথ্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত একটি হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন বিষয়টিকে অন্যায্য জাতিগত প্রোফাইলিং হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং এফবিআই কর্তৃক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা ফ্রাঞ্চাইজিটির পরিবেশক প্যারামাউন্ট পিকচার্সকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে। বিষয়টির নিন্দা জানিয়ে ফক্স সেভেন নিউজের সংবাদ পাঠাক অ্যালেক নোলাও এটিকে সিং পদবিধারী মানুষদের জন্য অপমানজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি তার দাদা ও প্রপিতামহের যুক্তরাষ্ট্রের কর্মজীবনের ঐতিহাসিক কথা উল্লেখ করে সরকারের এ ধরনের পোস্টারকে বর্ণবাদী ও নিচু মানসিকতার পরিচয় বলে অভিহিত করেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এই উদ্যোগটি মূলত তাদের ‘সিবিপি হোম’ কর্মসূচির প্রচারণার অংশ, যার অধীনে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে ইচ্ছুক অবৈধ অভিবাসীদের যাত্রা খরচ এবং অতিরিক্ত দুই হাজার ছয়শত ডলার দেওয়া হচ্ছে। সূত্র: টাইমস নাউ

‘নিজ দেশে ফিরুন’—যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টার ঘিরে তীব্র বিতর্ক

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক টেকসই করতে আলোচনায় জোর রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরো জোরদার ও টেকসই করতে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতির সাথে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো: সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ন্যায়সঙ্গত ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান করা গেলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস আরো বৃদ্ধি পাবে। অভিন্ন নদ-নদীর পানি ব্যবস্থাপনা দুই দেশের জনগণের জীবন ও জীবিকার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানান। হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এ ব্যাপারে তার সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে রাষ্ট্রপতিকে জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সাথে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়।’ তিনি বলেন, ‘সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা এবং জনগণের কল্যাণকে সমুন্নত রেখে ভারতের সাথে সম্মানজনক, ভবিষ্যতমুখী ও পারস্পরিকভাবে শ্রদ্ধাপূর্ণ ও লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী বাংলাদেশ।’ সাক্ষাৎকালে ভারতের হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন, শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানান। বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ককে ভারত অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে হাইকমিশনার ত্রিবেদী দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণে তার দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তার দেশ পারস্পরিক মর্যাদা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো দৃঢ়, উন্নত ও শক্তিশালী করতে প্রবল আগ্রহী। রাষ্ট্রপতি তাকে অভিনন্দন জানানোর জন্য হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জানান এবং ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানানোর অনুরোধ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাণিজ্য, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং দু’দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের জনগণের সামর্থ্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অভিন্ন শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে ভারত ও বাংলাদেশ আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে।’ ভারতের হাইকমিশনার দুই দেশ একসাথে কাজ করে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন এবং তার দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি এ সময় তার সফল কর্মকাল কামনা করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ককে আরো ফলপ্রসূ, ইতিবাচক ও জনকল্যাণমুখী করার আশা প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক টেকসই করতে আলোচনায় জোর রাষ্ট্রপতির

ভারতে বিষাক্ত মদ পানে মৃত্যু, অসুস্থ আরও ১০ জন

বিষাক্ত মদ পানে ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের সাগর জেলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও দশজনেরও বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাজ্য প্রশাসন ঘটনার পর দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গ্রামে জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে এবং আগাম সতর্কতা হিসেবে স্থানীয় ছয়টি মদের দোকান সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, নিহতদের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও ফরেনসিক পরীক্ষার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে চিকিৎসকেরা ধারণা করছেন, এটি মিথাইল অ্যালকোহলের বিষক্রিয়া হতে পারে। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, এ ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গণমাধ্যমকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের অবিলম্বে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছি। আমরা বিষয়টি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করব এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেব। আমাদের সরকার এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।’ ইতিমধ্যে প্রশাসনিক দল ও চিকিৎসকদের প্রতিনিধিদল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। অসুস্থদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রোগীদের শরীরে কিছু বিশেষ উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে সায়ানোসিস বা ত্বক নীল হয়ে যাওয়া এবং মাংসপেশি শক্ত হয়ে যাওয়া। এ ছাড়া বমি, তীব্র মাথাব্যথা ও জ্বরের মতো লক্ষণও দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক দল ও চিকিৎসকেরা সাগর জেলার নৌরা ও ঘুগরুসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালাচ্ছেন। সাগরের মুখ্য চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (সিএমএইচও) ডা. দেবেশ পাতেরিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসক ও নার্সদের একাধিক দল উপদ্রুত গ্রামগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। রোগীদের যেসব লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তা মিথাইল অ্যালকোহলের বিষক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়। তবে ফরেনসিক রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এটি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।’ ডা. দেবেশ আরও জানান, আশঙ্কাজনক রোগীদের প্রাথমিক স্থিতিশীল করে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হচ্ছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে, গত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যারা মদ পান করেছেন বা যাদের মধ্যে শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিয়েছে, তাঁরা যেন অবিলম্বে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করেন। এ ট্র্যাজেডির পর এলাকায় অবৈধ ও ভেজাল মদ বিক্রি বন্ধে স্থানীয় আবগারি বিভাগের নজরদারি ও ভূমিকা নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগেই একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদ ব্যবসায়ী ‘বোম্বে হুইস্কি’ নামে একটি কৃত্রিম ও ভেজাল মদের ব্র্যান্ড বিক্রির বিষয়ে আবগারি বিভাগে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। এ ছাড়া মাত্র চার দিন আগে লাইসেন্সধারীদের সঙ্গে আবগারি কর্মকর্তাদের এক বৈঠকেও অবৈধ মদ বিক্রির বিষয়টি জোরালোভাবে তোলা হয়েছিল। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমানে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন মদের উৎস, সরবরাহকারী এবং পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল খতিয়ে দেখতে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে।

ভারতে বিষাক্ত মদ পানে মৃত্যু, অসুস্থ আরও ১০ জন

সরকারি সার্কিট হাউসে নামাজ, আইনি ঝামেলায় এসপি নেতা

ভারতের উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদে সমাজবাদী পার্টির (এসপি) নেতা হাজী মোহাম্মদ উসমানের বিরুদ্ধে সরকারি সার্কিট হাউসে নামাজ পড়ার অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে জনসাধারণের চলাচলের পথে বাধা ও অসুবিধা সৃষ্টির অভিযোগে এফআইআর করা হয়েছে। হাজী মোহাম্মদ উসমান মোরাদাবাদ জেলা সমাজবাদী পার্টির সহসভাপতি। তিনি বিলারি আসনের বিধায়ক মোহাম্মদ ফাহিম ইরফানের চাচা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ মামলাটি ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৮৫ ধারা, জনসাধারণের চলাচলের পথ বা নৌপথে বিপদ বা বাধা সৃষ্টি এবং ২৯২ ধারা, জনসাধারণের জন্য বিরক্তি বা অসুবিধা সৃষ্টির ফলে করা হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উসমানকে একটি পার্ক করা গাড়ির সামনে নামাজ পড়তে দেখা গেলেও, তার নামাজের কারণে যানবাহন বা মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ার স্পষ্ট কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি। ভিডিওতে থাকা অন্যান্য গাড়িগুলোকেও পার্ক করা অবস্থায় দেখা যায়। উত্তর প্রদেশ বিধান পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা লাল বিহারি যাদবের সঙ্গে এসপি নেতাদের একটি বৈঠকে যোগ দিতে উসমান সার্কিট হাউসে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাকে নামাজ পড়তে দেখা যায়। মোরাদাবাদে গণপূর্ত বিভাগের প্রাদেশিক শাখার দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী অনিত কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআরটি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উসমান সার্কিট হাউসে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে তার গাড়ি পার্ক করে সেটির পেছনে নামাজ পড়ছেন। এর ফলে যানবাহন ও মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। এর এক দিন আগে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দৈনিক ভাস্কর জানায়, উসমানের নামাজ পড়ার ভিডিওকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। সরকারি স্থাপনায় কীভাবে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাষ্ট্রীয় বজরং দলের রাজ্য সভাপতি রোহান সাক্সেনা। প্রসঙ্গত, উত্তর প্রদেশ সরকার সড়কে নামাজ পড়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করলেও সরকারি স্থাপনায় নামাজ পড়া বেআইনি এমন কোনো বিধানের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এদিকে, মুসলিম এই নেতার বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কানওয়ার যাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে কানওয়ার যাত্রায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সড়ক অবরোধ, যানবাহন ও বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা গেছে।  

সরকারি সার্কিট হাউসে নামাজ, আইনি ঝামেলায় এসপি নেতা

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে সংসদে নতুন তথ্য

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি আগের বছরের তুলনায় আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এখন প্রায় পৌনে ১৩ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যের পরিমাণ। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতে ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। বাকি অংশ ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে। জামায়াতের সংসদ সদস্য আবদুল বাতেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভারতের পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। তবে সরকার কোনো একটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি আলাদাভাবে না দেখে সামগ্রিক বাণিজ্য পরিস্থিতির দিকে নজর দিতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের যেদিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করার দরকার, সেটি হচ্ছে আমাদের ওভারঅল এক্সপোর্টের অ্যাবিলিটি বাড়ানো দরকার।’ রপ্তানি বাড়াতে সরকার চামড়া, পাট, জাহাজ নির্মাণ, হালকা প্রকৌশল ও সেমিকন্ডাক্টরসহ কয়েকটি খাত চিহ্নিত করেছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। এসব খাতের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে নীতি সহায়তা দেওয়া এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। যেসব খাত এখনও রপ্তানির উপযোগী পর্যায়ে পৌঁছায়নি, সেগুলোকেও সেই পর্যায়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারতের দিক থেকে কিছু বাধা থাকার পাশাপাশি গত দুই বছরে বাংলাদেশের দিক থেকেও কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান। সম্প্রতি ভারতের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের কথাও সংসদে তুলে ধরেন মুক্তাদির। তিনি বলেন, ওই প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিলে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। সরকার এ প্রস্তাবে আগ্রহ দেখিয়েছে। তিনি বলেন, এভাবে সমন্বিতভাবে আমরা বিভিন্ন চেষ্টা করছি, যাতে আগামী দিনে আমাদের রপ্তানি অধিকতর বৃদ্ধি করা যায় ভারতের ক্ষেত্রে। ভারত থেকে বেশি আমদানির কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, আমদানির বড় অংশ সরকার নয়, বেসরকারি খাত করে। ব্যবসায়ীরা যে উৎস থেকে প্রতিযোগিতামূলক কম দামে পণ্য পান, সেখান থেকেই আমদানি করেন। তিনি বলেন, সুতরাং উৎস হিসেবে যদিও এখানে ভারত একটি দেশের ক্ষেত্রেই ব্যবধানটা এত বেশি, কিন্তু যারা আমদানি করেন, তারা তাদের সুবিধা বিবেচনায় নিয়েই সেখান থেকে আমদানি করেন। বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফর রহমানের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির তথ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭ হাজার ৩১৩ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার ৬৯৮ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭ হাজার ৭১৬ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৪৩০ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনবিশিষ্ট থ্রি-হুইলার যানবাহন (টেম্পু, অটোরিকশা ইত্যাদি) (এইচএস হেডিং ৮৭.০৩-এর সংশ্লিষ্ট সব এইচএস কোড) আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯ অনুযায়ী আমদানিনিষিদ্ধ। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার উৎপাদন শিল্পকে সহায়তার জন্য যন্ত্রাংশ আমদানি করা হচ্ছে। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান মোল্যার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এআরটি চুক্তি করার ফলে বাংলাদেশ তার প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় দেশটির বাজারে রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে সংসদে নতুন তথ্য
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream