বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
পাটগ্রাম সীমান্তে বাতি নিভিয়ে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা বিএসএফের, ফেসবুকে ছড়িয়েছে ভিডিও

পাটগ্রাম সীমান্তে বাতি নিভিয়ে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা বিএসএফের, ফেসবুকে ছড়িয়েছে ভিডিও

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তে বাতি নিভিয়ে কয়েকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাঙেরবাড়ি এলাকায় ৮৩২ নম্বর সীমান্ত পিলারের ২–এস উপপিলার–সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আজ বুধবার সকালে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৬১ বিজিবির (তিস্তা ব্যাটালিয়ন) সহকারী পরিচালক (এডি) কারিমুল ইসলাম। তিনি বলেন, গতকাল রাতে বিএসএফের পুশ ইন চেষ্টার একটি ভিডিও পাওয়া গেছে। এটি লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বুড়িমারীর ব্যাঙেরবাড়ি সীমান্ত এলাকার। তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি) জানিয়েছে, বিএসএফের এ ধরনের অপচেষ্টা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক ও কঠোর অবস্থানে আছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও সতর্ক রয়েছেন। ঠেলে পাঠানোর বিষয়টি বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে কারিমুল ইসলাম বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে নজরদারি ও টহল দলের তৎপরতা অব্যাহত আছে। বিএসএফ লালমনিরহাটের বিভিন্ন সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা করে থাকে। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তাদের চেষ্টা সব সময় প্রতিহত করা হয়েছে।

ভারতের মণিপুরে আবারও জাতিগত সহিংসতা, নিহত ৫

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে আবারও জাতিগত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। নতুন করে ছড়িয়ে পড়া এ সহিংসতায় পৃথক দুটি ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রোববার (১ নভেম্বর) পুলিশের দেওয়া বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।পুলিশের প্রথম বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার নোনে জেলায় অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে কুকি সম্প্রদায়ের তিনজন পুরুষ নিহত হন।অন্যদিকে, দ্বিতীয় বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া একই সম্প্রদায়ের আরও দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সকালে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযানের সময় কাংপোকপি জেলা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এদিকে, একটি শীর্ষ কুকি উপজাতীয় সংগঠন এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোকে দায়ী করেছে। ঘটনাটিকে নিজেদের জন্মভূমিতে কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই চালানো সরাসরি হামলা বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ভারত সরকারের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজ্য রাজধানী ইম্ফল ও অন্যান্য এলাকায় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে গণবিক্ষোভের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। সুদূর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যে জাতিগত মাতৃভূমির স্বাধিকার দাবিকে কেন্দ্র করে প্রধানত খ্রিস্টান কুকি এবং নাগা উপজাতিদের মধ্যে বিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুকি সম্প্রদায়ের কয়েকজন পুরুষ এক নাগা ব্যক্তিকে নির্যাতন করার পর নতুন করে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। পরবর্তীতে মে মাসে নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে তিন কুকি যাজক নিহত হওয়ার জেরে উভয় পক্ষ থেকেই প্রতিশোধমূলক অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের সূচনা হয়। এই নতুন কুকি-নাগা সংঘাত মণিপুরের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করেছে, যেখানে কুকিরা ২০২৩ সালের মে মাস থেকে প্রধানত হিন্দু মেইতেই সম্প্রদায়ের সঙ্গেও অর্থনৈতিক সুবিধা ও চাকরির কোটা নিয়ে রক্তাক্ত সংঘাতের মুখোমুখি হচ্ছে। তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটানো এই সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনও অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছেন। সূত্র: রয়টার্স

ভারতের মণিপুরে আবারও জাতিগত সহিংসতা, নিহত ৫

সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চাকরি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত যোগী সরকারের

সরকারি চাকরির নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারতের উত্তরপ্রদেশ সরকার। সরকার পরিবর্তনের দাবিতে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সরকারি চাকরি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন সরকার।ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের চরিত্র যাচাইয়ের নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে।সম্প্রতি সরকার পরিবর্তনের দাবিতে একটি বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। এর পরই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।তবে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে সরকারি চাকরির অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না। একইভাবে, কারও বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হলেই কিংবা তদন্ত চলমান থাকলেই তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ থাকতে হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি ও চরিত্র যাচাইয়ের নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে, সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে সহিংস কর্মকাণ্ডে প্রার্থীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এর অর্থ, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কিংবা তিনি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করেন—শুধু এ কারণে তার চাকরির আবেদন বাতিল করা যাবে না। বরং প্রার্থীর কর্মকাণ্ড ও সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রাজ্য সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে উত্তরপ্রদেশে সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের চরিত্র যাচাইয়ে সহিংস কর্মকাণ্ডের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চাকরি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত যোগী সরকারের

সরকারের সমালোচনা করলেই দেশবিরোধী নয়: নাসিরুদ্দিন শাহ

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করলেই বিরোধীদের দেশবিরোধী আখ্যা দেওয়ার প্রবণতার সমালোচনা করেছেন অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নাসিরুদ্দিন শাহ। একই সঙ্গে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।ভিডিওতে ব্যঙ্গ করে নিজেকে ‘দিমাগি নকশাল’ বলে পরিচয় দেন এই অভিনেতা। তার অভিযোগ, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করলেই বিরোধীদের কখনো ‘দেশবিরোধী’, আবার কখনো ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়।এ ধরনের প্রবণতার প্রতিবাদ জানিয়ে নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন, তিনি গর্বের সঙ্গে নিজেকে ‘দিমাগি নকশাল’ বলে পরিচয় দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তরুণদের মনোবল ভেঙে দেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুর্বল করা এবং গণতন্ত্রকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। নাসিরুদ্দিনের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তার মতে, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ দমনের চেষ্টা এবং সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে প্রচার গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। ভিডিও বার্তায় নাসিরুদ্দিন শাহ তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, এরপর সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং এখন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীরা চাপ ও অত্যাচারের মুখে পড়ছেন। এসব ঘটনা ভবিষ্যতেও মনে রাখা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সম্প্রতি কলকাতার সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ক্যাম্পাসে সহিংসতার অভিযোগের পর শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। গত সপ্তাহেও তাদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ। এবার জামিয়ার শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংসদ নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।  ২০০৬ সালের পর থেকে নির্বাচন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ছাত্র সংসদের সংবিধান অনুমোদনের সময়সীমা স্পষ্ট করার দাবিও জানিয়েছেন তারা। শিক্ষার্থীদের এই দাবির প্রসঙ্গ টেনে নাসিরুদ্দিন শাহ বৃহত্তরভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক অধিকার ও প্রতিবাদের পরিবেশ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। এদিকে নিজের বক্তব্যে সংবাদমাধ্যমের একাংশ এবং বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি শাখার বিরুদ্ধেও সরব হন অভিনেতা। তার অভিযোগ, সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে প্রচার চালাতে সংবাদমাধ্যমের কিছু অংশ এবং স্যোশাল মিডিয়ায় সক্রিয় রাজনৈতিক প্রচারযন্ত্র ভূমিকা রাখছে। সংবাদমাধ্যমের ওই অংশকে ‘গোদি মিডিয়া’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি শাখার কর্মীদেরও সমালোচনা করেন নাসিরুদ্দিন। তবে তার বক্তব্যে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর পক্ষে আলাদা কোনো তথ্যপ্রমাণ দেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ভিডিও বার্তার শেষ দিকে প্রতিবাদী কবিতার আশ্রয় নেন নাসিরুদ্দিন শাহ। বিসমিল আজিমাবাদির বিখ্যাত ‘সরফরোশি কি তমন্না’ কবিতার একটি পঙ্ক্তি আবৃত্তি করেন তিনি।  এরপর প্রতিবাদীদের উদ্দেশে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে যা কিছু প্রয়োগ করার আছে, সবই প্রয়োগ করা হোক। কিন্তু তাতে দেশের যুবসমাজের মনোবল ভাঙা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা কিংবা গণতন্ত্রকে বিপন্ন করা সম্ভব হবে না।

সরকারের সমালোচনা করলেই দেশবিরোধী নয়: নাসিরুদ্দিন শাহ

সেভেন সিস্টার্সে পৌঁছাতে বাংলাদেশের বন্দর ঘিরে জাপান-ভারতের বড় পরিকল্পনা

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য বা ‘সেভেন সিস্টার্সের’ সঙ্গে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সহযোগিতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। অন্যদিকে, বাংলাদেশের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে গড়ে ওঠা শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা করছে জাপান। গত বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানান।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে সম্মত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ভারতের পক্ষ থেকে এ বক্তব্য আসে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান টোকিও সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব চুক্তির ফলে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের উন্নয়নে বাংলাদেশকে আরও জাপানি সহায়তা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বন্দরটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।রণধীর জয়সওয়াল বলেন, জাপানের সঙ্গে ভারতের শক্তিশালী অংশীদারত্ব রয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও জাপানকে যুক্ত করে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ চলমান আছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দুই পক্ষের যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বাড়াতে চায় নয়াদিল্লি।তিনি আরও জানান, এসব উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কর্মজীবী মানুষকে জাপানি ভাষা শেখানো হচ্ছে। এর ফলে ভারত ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার আওতায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো জাপানের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টোকিও সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একাধিক চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া। সফরকালে তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং দেশটির শীর্ষস্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। জাপানের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মাতারবাড়ী বন্দরের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এর মাধ্যমে শিল্পাঞ্চলটির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দরটির কার্যকর ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে দেশটি। বর্তমানে বড় আকারের জাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বন্দরগুলোর ওপর নির্ভরশীল। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলটির উন্নয়ন এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এ পরিস্থিতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে প্রকাশিত বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ বিবৃতিতে ‘যোগাযোগব্যবস্থা’ অংশে মাতারবাড়ী বন্দরের উন্নয়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বন্দরটির উন্নয়নকাজ আরও জোরদার করার বিষয়ে জাপানের আগ্রহের কথাও তুলে ধরা হয়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে দুই প্রধানমন্ত্রী এই অঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘বিগ-বি (বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট) ’ উদ্যোগের ভিত্তিতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী এলাকাকে সরবরাহ ও পণ্য পরিবহন, জ্বালানি এবং শিল্পের একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে। এই পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে মাতারবাড়ী বন্দরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের শিল্প ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ সম্প্রসারণে জাপানের সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সেভেন সিস্টার্সে পৌঁছাতে বাংলাদেশের বন্দর ঘিরে জাপান-ভারতের বড় পরিকল্পনা

মোদি-আদানির প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে আদালতের কড়া নির্দেশ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শিল্পপতি গৌতম আদানিকে নিয়ে তৈরি একটি বিতর্কিত প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ ও শেয়ার করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।‘দ্য ফ্রেন্ডশিপ ফাইলস: হাউ মোদি অ্যান্ড আদানি স্টোল ইন্ডিয়া’ নামের ৩৬ মিনিটের ভিডিওটি নিয়ে আদানি গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ‘আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড’ ৫০ কোটি রুপির মানহানির মামলা করেছে। গত ৯ অক্টোবর ইন্টারনেট উদ্যোক্তা সাবির ভাটিয়া তাঁর ইউটিউব চ্যানেল ও এক্স অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি প্রকাশ করেন।ভিডিওতে সাবির ভাটিয়া অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিভিন্ন নিয়ম ভেঙে গৌতম আদানিকে ব্যবসায়িক সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। বিমানবন্দর, সড়ক নির্মাণ, কয়লাখনি ও বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে আদানির ব্যবসা সম্প্রসারণের বিষয়গুলোও ভিডিওতে তুলে ধরা হয়েছে।মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি আর্যক দত্ত বলেন, ভিডিওটি সাধারণ কোনো সংবাদ প্রতিবেদন নয়। এতে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর পক্ষে উপযুক্ত প্রমাণ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আদালতের মতে, ভিডিওটি নাটকীয়ভাবে তৈরি করা একটি রূপক হিসেবে উপস্থাপনা করা হয়েছে। প্রামাণ্যচিত্রের শিরোনাম চুরি বা আত্মসাতের ইঙ্গিত দেয়। প্রামাণ্যচিত্রের ভেতরের তথ্য ও দৃশ্যগুলো এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন সেগুলো চূড়ান্ত সত্য। কিন্তু এমন দাবির সপক্ষে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ ওই প্রামাণ্যচিত্রে দেখা যায়নি। তবে পাশাপাশি আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছেন, প্রমাণসহ গঠনমূলক সমালোচনা বা সত্য প্রকাশে কোনো বাধা নেই। আদালত আরও লক্ষ করেছেন, ভিডিওটি একবার মুছে দেওয়ার পরও সাবির ভাটিয়া সেটি আবার আপলোড করেছেন। বিচারপতি দত্তের মতে, এই আচরণ প্রথম দর্শনে সদ্ভাবের অভাব প্রকাশ করেছে। ইন্টারনেটে এ ধরনের কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে যে সুনামহানি হয়, তা কেবল আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে মেটানো সম্ভব নয়। এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি মুছে ফেলা এবং এর সব লিঙ্ক ও শেয়ার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ইউটিউব, এক্স ও ইনস্টাগ্রাম কর্তৃপক্ষকে ওইসব অ্যাকাউন্টের আইপি অ্যাড্রেস এবং সাবস্ক্রাইবার সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। যেসব অ্যাকাউন্টের মালিকদের চিহ্নিত করা যায়নি, তাঁদের প্রাথমিক তথ্য দুই সপ্তাহের মধ্যে সিলমোহরযুক্ত খামে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ৩১ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। অন্যদিকে আদালতের এই আদেশের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবির ভাটিয়া। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, আদানি তাঁর ক্ষতির পরিমাণ ৫০ কোটি রুপি ধার্য করলেও তিনি নিজে এই সুনামের মূল্য শূন্য রুপি বলে মনে করেন। সাবিরের দাবি, অন্যায়ভাবে অর্জিত ধনসম্পদ কখনো সুনাম এনে দেয় না। তাঁর যুক্তি, সুনামহানির মূল্য যদি শূন্য হয়, তবে ক্ষতিপূরণের পরিমাণও শূন্য হওয়াই উচিত।

মোদি-আদানির প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে আদালতের কড়া নির্দেশ

মেট্রোরেল লাইন-১-এর দুটি প্যাকেজের কাজ পেল ভারতীয় কোম্পানি

ঢাকায় তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের কাজ পেয়েছে ভারতের অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)।চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি রেললাইন নির্মাণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, সংকেতব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ এবং প্ল্যাটফর্মে স্ক্রিন ডোর স্থাপনের কাজ করবে। জাপানের অর্থায়নে নির্মাণাধীন বাংলাদেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্পে এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার উদ্যোগের মধ্যে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও গতি আসছে। এরই অংশ হিসেবে ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের বড় কাজ পেয়েছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এলঅ্যান্ডটি।সরকার রাজধানীতে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।এ ছাড়া রাজধানীর পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়নে মেট্রোরেল প্রকল্পসহ মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব প্রকল্পে আনুমানিক ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। এলঅ্যান্ডটির পরিবহণ অবকাঠামো বিভাগ বাংলাদেশের ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের (লাইন-১), অর্থাৎ ঢাকা মেট্রোরেলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের নকশা ও নির্মাণকাজের চুক্তি পেয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি মূল্যের এই কাজকে বড় চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। চুক্তি দুটি হলো—কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি০৯, যার আওতায় রেললাইন স্থাপন ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার কাজ হবে; এবং কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি১০, যার আওতায় সংকেতব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপন করা হবে। এলঅ্যান্ডটি জানিয়েছে, এসব কাজ বাংলাদেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্পের আওতাভুক্ত। এর আগে বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল করিডর ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-৬-এর সমন্বিত রেলব্যবস্থা স্থাপনের কাজ পেয়েছিল এলঅ্যান্ডটি। প্রতিষ্ঠানটি সেই কাজ সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে লাইন-৬ বাণিজ্যিকভাবে চালু রয়েছে। এলঅ্যান্ডটির পরিবহণ অবকাঠামো বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান রামকুমার এস বলেন, ‘ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কাছ থেকে আবারও কাজের চুক্তি পাওয়া বিশ্বজুড়ে বৃহৎ ও সমন্বিত নগর পরিবহণ প্রকল্প বাস্তবায়নে এলঅ্যান্ডটির সক্ষমতার প্রমাণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-৬-এর বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে এবং নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে আমাদের। সম্প্রতি জাকার্তা মেট্রোরেল প্রকল্পেও কাজ চলছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে একাধিক ব্যবস্থা নির্বিঘ্নে একীভূত করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আমরা ভালো অবস্থানে রয়েছি।’ জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রায় ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকায় আধুনিক গণপরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটিতে দুটি রুট রয়েছে। একটি হলো কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিমানবন্দর রুট। অন্যটি নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত পূর্বাচল রুট। এতে থাকবে ১৯টি স্টেশন এবং পিতলগঞ্জে একটি ডিপো। এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকের পর টোকিওতে এক যৌথ বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপে অংশীদার হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। এলঅ্যান্ডটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘এই দুটি প্যাকেজ সম্মিলিতভাবে ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১-এর মূল পরিচালনব্যবস্থা গড়ে তুলবে। এর মাধ্যমে ঢাকাবাসীর জন্য নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বমানের নগর পরিবহণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সিপি০৯ প্যাকেজের আওতায় এলঅ্যান্ডটি তাদের জাপানি অংশীদার সুমিতোমো করপোরেশনের সঙ্গে মিলে পুরো রুটে রেললাইন স্থাপন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা, ট্র্যাকশন সাবস্টেশন, ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক স্থাপনার নকশা, সরঞ্জাম সংগ্রহ, স্থাপন, পরীক্ষা ও চালুর কাজ করবে। অন্যদিকে সিপি১০ প্যাকেজের আওতায় পুরো নেটওয়ার্কে সংকেতব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপন করবে এলঅ্যান্ডটি। লারসেন অ্যান্ড টুব্রোর (এলঅ্যান্ডটি) পরিবহণ অবকাঠামো বিভাগ প্রকৌশল, ক্রয় ও নির্মাণ (ইপিসি) খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। ভারতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রেল অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। এসব কাজে নিরাপত্তা, গুণগত মান ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার কথা জানিয়েছে ভারতীয় এই প্রতিষ্ঠানটি।

মেট্রোরেল লাইন-১-এর দুটি প্যাকেজের কাজ পেল ভারতীয় কোম্পানি

মোদি সরকারের নতুন গোপনীয়তা আইন নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর আপত্তি

ভারতের নতুন গোপনীয়তা আইন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির ২১টি সংবাদমাধ্যম। তাদের আশঙ্কা, এই আইনের কারণে সাংবাদিকদের তথ্যসূত্রের পরিচয় ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মঙ্গলবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আইনটির বিরুদ্ধে শুনানিতে এসব অভিযোগ তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমগুলো। একই সঙ্গে আইনটির বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিলের দাবি জানিয়েছে তারা।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের করা ‘ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্টের’ বিরুদ্ধে এটি এখন পর্যন্ত অন্যতম আলোচিত আইনি চ্যালেঞ্জ। মামলাকারীদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ধনকুবের মুকেশ আম্বানি ও গৌতম আদানির মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যমও।সংবাদমাধ্যমগুলোর সংগঠন ডিজিটাল নিউজ পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএনপিএ) সদস্যদের মধ্যে রয়েছে নেটওয়ার্ক–১৮, এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং টাইমস অব ইন্ডিয়া গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠান টাইমস ইন্টারনেট। শুনানিতে ডিএনপিএর আইনজীবী মাধবী গোরাদিয়া দাভান বলেন, ‘আইনটি সংবাদ কী, সেই ধারণাই বদলে দিচ্ছে। সাংবাদিকদের প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি নিতে বাধ্য করা হলে সংবাদকক্ষ বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং তা কার্যত আগাম সেন্সরশিপের ব্যবস্থা তৈরি করবে।’ দাভান আরও বলেন, আইনের আগের সংস্করণগুলোতে সাংবাদিকদের জন্য ছাড় রাখা হলেও চূড়ান্ত সংস্করণে তা বাদ দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করার আগে তাঁকে জানাতে হবে এবং তাঁর সম্মতি নিতে হবে। গবেষণা, আর্কাইভ সংরক্ষণ ও পরিসংখ্যানগত কাজের ক্ষেত্রে ছাড় থাকলেও সাংবাদিকতাকে এর আওতামুক্ত রাখা হয়নি। ডিএনপিএর আশঙ্কা, কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করার আগে তাঁকে জানাতে হলে তিনি প্রমাণ নষ্ট করতে পারেন, সাক্ষীদের ভয় দেখাতে পারেন কিংবা প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই অনুসন্ধান বাধাগ্রস্ত করতে পারেন। আইনে কোনো ব্যক্তি যেকোনো সময় তাঁর সম্মতি প্রত্যাহার করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে তাঁর ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবহার বন্ধ করে তথ্য মুছে ফেলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যদি অন্য কোনো আইনে তা সংরক্ষণের নির্দেশ না থাকে। প্রকাশকদের দাবি, সাংবাদিকতার জন্য ব্যতিক্রম না থাকায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিরা এই বিধান ব্যবহার করে সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন। এর ফলে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন মুছে ফেলতে বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ দিয়ে প্রকাশ করতে হতে পারে, যা ঐতিহাসিক নথি ও জনস্মৃতির ওপরও প্রভাব ফেলবে। আইন অনুযায়ী, সরকার ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে কাজ করা যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দিতে পারবে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তথ্য চাওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানানোও নিষিদ্ধ করতে পারে সরকার। সংবাদ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য, সাংবাদিকদের জন্য ব্যতিক্রম না থাকায় এই বিধান সংবাদকক্ষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তাদের দাবি, আদালতের অনুমোদন ছাড়াই তথ্য চাওয়ার এই ক্ষমতা সাংবাদিকদের তথ্যসূত্র শনাক্ত ও তাঁদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে ব্যবহৃত হতে পারে। এমনকি সাংবাদিক বা তথ্যদাতার কাছে থাকা গোপনীয় যোগাযোগের তথ্যও এর আওতায় আসতে পারে। আইন লঙ্ঘনের দায়ে সরকারের নিয়োগ দেওয়া কেন্দ্রীয় ডেটা প্রোটেকশন বোর্ড কোনো প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ২৫০ কোটি ভারতীয় রুপি জরিমানা করতে পারবে। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৬২ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। ডিএনপিএ বলেছে, সীমিত আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে কাজ করা আঞ্চলিক, স্বাধীন ও ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের জন্য এত বড় অঙ্কের জরিমানা অস্তিত্বের হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এ ছাড়া, কোনো প্রতিষ্ঠানকে অন্তত দুবার জরিমানা করার পর বোর্ড কনটেন্ট বন্ধের সুপারিশ করলে সরকার ‘সাধারণ জনগণের স্বার্থে’ ওই প্রতিষ্ঠানের সংবাদবিষয়বস্তু বন্ধ করার নির্দেশ দিতে পারবে। প্রকাশকদের মতে, এই বিধান বাক্স্বাধীনতার ওপর আরও বড় হুমকি তৈরি করে, কারণ ‘সাধারণ জনগণের স্বার্থ’কে ভিত্তি করে সংবাদ বন্ধ করার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, গত আগস্টে সরকারের সঙ্গে বৈঠকে তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে আইনটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখবে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্যের মতো সাংবাদিকদের জন্য সুস্পষ্ট লিখিত ব্যতিক্রম না থাকায় তারা উদ্বিগ্ন। প্রকাশকেরা আইনটির অধিকাংশ বিতর্কিত বিধান বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। এসব বিধান ২০২৭ সালের মে মাস থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কমে যাওয়ার অভিযোগ করে আসছেন সমালোচকেরা। তাঁদের দাবি, দেশটির মূলধারার অনেক সংবাদমাধ্যম সরকারের কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে পর্যালোচনা ও সমালোচনা করছে না। তবে ভারত সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সম্মান করে। আইনটির বিরুদ্ধে এর আগে বাক্স্বাধীনতার অধিকারকর্মী ও কয়েকটি ছোট সংবাদমাধ্যম আদালতে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল। মঙ্গলবারের শুনানির পর সুপ্রিম কোর্ট আগামী মাসে মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।

মোদি সরকারের নতুন গোপনীয়তা আইন নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর আপত্তি

জ্ঞানেশ কুমারকে সরালেই বিক্ষোভ বন্ধ: রাহুল গান্ধী

ভারতের দিল্লির ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের জবাব দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, ‘মোদিজিকে বলুন জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত করতে। তাহলে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই বিক্ষোভ ও আন্দোলন বন্ধ হয়ে যাবে।’ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটসহ কয়েকটি সংগঠন। এই আন্দোলন নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন দিল্লির ব্যবসায়ীরা।আগামী ১ নভেম্বর ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ডাকে রামলীলা ময়দানে সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আন্দোলন কয়েক দিন পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে দিল্লির ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘চেম্বার অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (সিটিআই)। এ বিষয়ে রাহুল গান্ধীকে একটি খোলাচিঠিও দিয়েছে সংগঠনটি। চিঠিতে উৎসবের মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সমাবেশ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়।মঙ্গলবার সকালে সেই চিঠির জবাব দেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত করা হলে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই বিক্ষোভ ও আন্দোলন বন্ধ হয়ে যাবে। উত্তর ভারতের উৎসব মৌসুম ১০ নভেম্বর শেষ হচ্ছে। ৬ নভেম্বর ধনতেরাস, ৮ নভেম্বর দীপাবলি, ১০ নভেম্বর ভাইফোঁটা উল্লেখ করে সিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল রাহুলকে ওই চিঠিতে লিখেছিলেন, ১০ তারিখ পর্যন্ত দয়া করে আন্দোলন বন্ধ রাখুন। ১ নভেম্বরের রামলীলা ময়দানে অভিযান স্থগিত না করলে তাঁদের ১০ হাজার কোটি রুপির বাণিজ্য ক্ষতি হবে। তিনি লেখেন, সেপ্টেম্বর মাসে তাঁদের ক্ষতি হয়েছে ৩ হাজার কোটি রুপি। রামলীলা ময়দানের আন্দোলন পিছিয়ে না দিলে তাঁদের পথে বসতে হবে। ওই চিঠির জবাবে রাহুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজ মঙ্গলবার ভোরে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে ওই ‘পোস্ট’ করেন। ১ নভেম্বরের রামলীলা অভিযানের পোস্টারের প্রতিলিপির সঙ্গে সেই ‘পোস্টে’ তিনি ইংরেজি ও হিন্দিতে দিল্লির প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে ‘আমি আপনাদের ভালোবাসি ও আপনাদের কথা শুনি’ লিখে বলেছেন, ‘সরকার মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে, রাস্তা সিল করে দিয়ে রাজধানীতে লকডাউন চালু করেছে। যখন সাধারণ মানুষের ভোট চুরি হয়, তখন কোনো কিছুই আর নিরাপদ থাকে না। আপনাদের দোকান, সঞ্চয়, সন্তানদের ভবিষ্যৎ—কোনো কিছুই নিরাপদ থাকে না। আপনারা মোদিকে বলুন, ৪ নম্বর অভিযুক্ত জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত করতে, ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বিক্ষোভ বন্ধ হয়ে যাবে।’ ভোট চুরির অভিযোগের সময় রাহুল কংগ্রেস সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনের সময় বারবার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তালিকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালদের ছবি রেখেছিলেন। ব্যবসায়ীদের দেওয়া উত্তরে তিনি অবশ্য ১, ২ ও ৩ নম্বর অভিযুক্ত কারা, তা উল্লেখ করেননি। শুধু বলেছেন, ৪ নম্বর অভিযুক্ত জ্ঞানেশ কুমারকে সরালেই যাবতীয় বিক্ষোভ ও আন্দোলন বন্ধ হয়ে যাবে। রাহুলের বার্তার আগে গতকাল সোমবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাগড়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ এনে বলেন, অসংখ্য ভোট চুরির তথ্য ফাঁস হওয়া সত্ত্বেও জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করতে সরকার সব কৌশল অবলম্বন করে চলেছে। খাড়গের এই অভিযোগ করার কারণ তথ্য জানার অধিকার সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের তা দিতে অস্বীকার করা। এসআইআরের সময় ভোটারদের তথ্য যাচাই ও অসংগতি দূর করতে কোন প্রযুক্তি বা ‘সফটওয়্যার’ ব্যবহৃত হয়েছে, তা জানতে আরটিআইয়ের মাধ্যমে প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু কমিশন তা জানাতে অস্বীকার করেছে। কমিশনের পক্ষে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক গোপনীয়তা ও বাণিজ্যিক আস্থা রক্ষা এবং বৌদ্ধিক সম্পত্তি অধিকারের দরুন ওই তথ্য দেওয়া যাবে না। আরটিআই মারফত ওই তথ্য জানতে চেয়ে আবেদন করেছিলেন তেলেঙ্গানার সমাজকর্মী এম এ মুজিব আইয়ুব। তাঁর আরজি ছিল, ভোটার তালিকার ভুল ও অসংগতি চিহ্নিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং বা স্বয়ংক্রিয় প্রেডিক্টিভ অ্যানালিটিকসের ব্যবহার করা হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে কোন প্রযুক্তি বা সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশন তা জানানো হোক। খাড়গে ওই পোস্টে সবাইকে রামলীলা ময়দানে হাজির হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে লিখেছেন, শুধু ভোট নয়, এই লড়াই গণতন্ত্র বাঁচানোর সংগ্রাম। তিনি বলেছেন, উত্তর প্রদেশে ১৬ লাখ ১৮ হাজার ফর্ম ৬–এর আবেদনের বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। ওই রাজ্যেরই বিধানসভা কেন্দ্র পিলিভিটে ১০ হাজার ৪৭০ জন ভোটারের রেকর্ডে অনিয়ম রয়েছে। কমিশন বাধ্য হয়েছে রাজ্যজুড়ে ফর্ম ৬, ৭ ও ৮ নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিতে। নতুন ভোটার নিবন্ধনের তালিকা হলো ফরম ৬। আর ৭ হচ্ছে ভোটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর ফরম। আর ফরম ৮ হচ্ছে ভোটারের নিবন্ধন পরিমার্জনের আবেদনপত্র। ২১ অক্টোবর পিলিভিট বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় বিপুল অসংগতি লক্ষ করার পর রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা ওই তিন ফরম খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। প্রদেশ কংগ্রেসের অভিযোগের ভিত্তিতেই ওই নির্দেশ। কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটারের ফটো, পরিচয়পত্র নম্বর ও ক্রমিক নম্বর অপরিবর্তিত রয়েছে অথচ এমন হাজার হাজার ভোটারের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমারকে সরালেই বিক্ষোভ বন্ধ: রাহুল গান্ধী

রাহুল গান্ধীর কনভয়ে অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কা, আহত বেশ কয়েকজন

ভারতের উত্তর প্রদেশে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কনভয়ের পাঁচটি গাড়ির সঙ্গে একটি অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে রাহুল গান্ধী নিরাপদ আছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর প্রকাশ করেছে।পুলিশ জানায়, রাজ্যের রাজধানী লখনৌ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ের হালিয়াপুর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। কনভয়ের পেছনের দিকে থাকা পাঁচটি গাড়ি সংঘর্ষে জড়ায়।আহতদের মধ্যে কংগ্রেসের দলীয় কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীরা রয়েছেন।দুর্ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্সটি ডান পাশের দ্রুতগতির লেনে চলছিল। অন্য লেনগুলোতেও অনেক গাড়ি কাছাকাছি অবস্থানে ছিল।সংঘর্ষের পর একটি স্করপিও গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। ফুটেজে গাড়িটিকে অ্যাম্বুলেন্সের সামনে থেমে থাকতে দেখা গেছে। রাহুল গান্ধী আজ (সোমবার) লখনৌ বিমানবন্দরে নেমেছিলেন। সেখান থেকে তার কনভয় প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার দূরের সুলতানপুরের দিকে রওনা হয়। গন্তব্য থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে থাকতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সুলতানপুরে একটি বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল রাহুলের। বিজেপির সভাপতি থাকার সময় অমিত শাহর বিরুদ্ধে কথিত আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে করা মানহানি মামলায় তার হাজিরা দেওয়ার কথা। আজই মামলার রায় ঘোষণার সম্ভাবনা থাকায় রায় ঘোষণার সময় এই কংগ্রেস সংসদ সদস্যের সশরীরে উপস্থিত থাকা প্রয়োজন ছিল।

রাহুল গান্ধীর কনভয়ে অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কা, আহত বেশ কয়েকজন

আওয়ামী লীগকে ফেরাতে ভারতের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করছে সরকার: নাহিদ ইসলাম

ভারতের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে আওয়ামী লীগকে ফেরত আনার চেষ্টায় সরকার বলে অভিযোগ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, জ্বালানি-নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে রাজধানীর মিরপুরে লিফলেট বিতরণ এবং গণসংযোগ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন তিনি। এনসিপির আহ্বায়ক বলেন,আওয়ামী লীগ ও ভারতের সাথে আঁতাতের মাধ্যমে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হচ্ছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যারা অবৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছেন তারা কোনোভাবেই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এসময় নিয়োগপ্রাপ্ত সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা সরকারের টাকায় নিজেদের প্রচারণা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগকে ফেরাতে ভারতের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করছে সরকার: নাহিদ ইসলাম

সৌদি আরবে ভারতীয়দের জন্য দূতাবাসের সতর্কবার্তা

সৌদি আরবে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় দেশটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দৃশ্য ধারণ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না দেওয়ার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে সৌদি আরবে বসবাসরত ভারতীয়দের স্থানীয় আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে দেশটিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।রোববার (২৫ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৌদি সিভিল ডিফেন্স ডিরেক্টরেটের একটি সতর্কবার্তা পুনরায় প্রকাশ করে রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। এতে সৌদি আরবে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কার্যক্রমের দৃশ্য ধারণ, সেগুলো কোথায় আঘাত হেনেছে সেই সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করলে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সম্প্রতি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই নির্দেশনা দেওয়া হলো। একই সঙ্গে রিয়াদ ও দাম্মাম থেকে এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ফ্লাইট আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এবং জেদ্দায় ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ভারতীয় মিশন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেদ্দা ও মক্কায় ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করেছে ভারতীয় কনস্যুলেট। ফ্লাইট বাতিলের ফলে সৃষ্ট ভিসা সংক্রান্ত সমস্যা সামলাতে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

সৌদি আরবে ভারতীয়দের জন্য দূতাবাসের সতর্কবার্তা

মোদির ছবি ব্যবহার করে কালো জাদু, তদন্তে পুলিশ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি ব্যবহার করে কালো জাদু করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির পুলিশ। এ ঘটনায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি ভিডিওটির বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেকান হেরাল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওতে উত্তর প্রদেশের মৌ জেলার দোহরিঘাট থানা এলাকার সরযূ নদীর তীরে একটি শ্মশানের কাছে মোদির ছবি রাখা অবস্থায় দেখা যায়। ছবিটির চারপাশে নারকেল, লেবু ও কমলা রঙের গুঁড়ার মতো বিভিন্ন উপকরণ সাজানো ছিল, যা আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়।ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পরপরই অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বর্তমানে সাইবার সেলের সহায়তায় ভিডিওটির উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধান করছে পুলিশ। ঘোষীর সার্কেল অফিসার সত্যেন্দ্র ভূষণ তিওয়ারি জানান, দোহরিঘাট থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী শনিবার অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, অপরাধীকে শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। নদীর তীরে কে বা কারা প্রধানমন্ত্রীর ছবি ও এই সামগ্রীগুলো রেখেছিল এবং এই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল—তা উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মোদির ছবি ব্যবহার করে কালো জাদু, তদন্তে পুলিশ

স্কুল থেকে ছুটি পেতে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে মেইল পাঠাল ছাত্রী, শেষমেশ ধরা

ক্লাস ফাঁকি দিয়ে স্কুল বন্ধ রাখার অদ্ভুত ও ঝুঁকিপূর্ণ এক পরিকল্পনা ফেঁদেছিল এক কিশোরী শিক্ষার্থী। তবে সেই ফন্দি শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তার জন্য। দিল্লির লোধি রোডের ‘এয়ার ফোর্স বাল ভারতী স্কুল’-এ বোমাতঙ্কের ভুয়া ইমেইল পাঠানোর অভিযোগে শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়েছে ওই স্কুলেরই এক নাবালিকা ছাত্রী। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গত ২৩ অক্টোবর স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে একটি উড়ো হুমকি সম্বলিত ইমেইল পাঠানো হয়। ইমেইলটির সাবজেক্ট লাইনে লেখা ছিল—‘আপনার ভবনে বোমা রাখা আছে’ (Bombs Placed in Your Building)। সম্প্রতি ভারতের রাজধানী দিল্লির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে বোমাতঙ্কের হুমকি ইমেইল আসার প্রেক্ষাপটে এই বার্তাকে ঘিরে মুহূর্তেই চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রেরককে শনাক্ত করতে বিস্তারিত কারিগরি ও ডিজিটাল তদন্ত শুরু করে দিল্লি পুলিশ। সাইবার ইউনিটের সহায়তায় ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ, আইপি অ্যাড্রেস এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত লিংক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, হুমকি বার্তাটি বাইরের কোনো সন্ত্রাসী চক্রের নয়; বরং প্রতিষ্ঠানটিরই এক নাবালিকা ছাত্রীর অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, কোনো ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে নয়, কেবল সেদিন যেন স্কুলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয় সেই ইচ্ছাতেই ছুটির লোভে এই বোমাতঙ্কের নাটক সাজিয়েছিল ওই কিশোরী। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ভারতের ‘জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট’-এর প্রযোজ্য ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইন মেনে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

স্কুল থেকে ছুটি পেতে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে মেইল পাঠাল ছাত্রী, শেষমেশ ধরা

৯ নভেম্বর থেকে কমছে ক্যানসারের ওষুধের দাম

ক্যানসারের চিকিৎসা আরও সাশ্রয়ী করতে ভারত ১৩৭টি ওষুধের দাম ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন মূল্যসীমা কার্যকর হবে আগামী ৯ নভেম্বর থেকে। শনিবার দেশটির রাসায়নিক ও সার মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রণালয় জানায়, ওষুধগুলোর সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্যের (এমআরপি) ৩০ শতাংশের বেশি মুনাফা রাখতে পারবেন না বিক্রেতারা। দাম কমানোর তালিকায় রয়েছে ২০টির বেশি ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইমিউনোথেরাপির ওষুধ। এ ছাড়া স্তন, প্রোস্টেট, কোলন, ডিম্বাশয় ও জরায়ুমুখের ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধও এই সিদ্ধান্তের আওতায় আসবে। ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো ৪২টি ক্যানসারের ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে আনে ভারত সরকার। এতে ওষুধগুলোর দাম সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এবার সেই উদ্যোগের আওতা আরও বাড়ানো হলো।

৯ নভেম্বর থেকে কমছে ক্যানসারের ওষুধের দাম

দেশ ছাড়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে বম্বে হাইকোর্টে ইমরান খান

ভারত সরকারের কাছ থেকে অভিনেতা ইমরান খান দেশত্যাগের নির্দেশ পেয়ে বম্বে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হলেন। হাইকোর্টে আবেদন জানিয়ে তাঁর আইনজীবীরা গতকাল শনিবার বলেছেন, এই নির্দেশ একতরফা, অকারণ এবং ভুল ধারণাপ্রসূত। তা ছাড়া ‘ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া’ বা ‘ওসিআই’ কার্ড প্রাপকদের এমন শর্তও দেওয়া নেই যে তাঁরা কোনো বিক্ষোভ দেখাতে পারবেন না। বম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মহেশচন্দ্র ত্রিপাঠির এজলাসে আগামীকাল সোমবার এই আবেদনের শুনানি হতে পারে। ইমরানের আরজি, দ্রুত এই আবেদনের নিষ্পত্তি করা হোক। ইমরানকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল ‘ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস’ (এফআরআরও)। ইমরানের আইনজীবীরা ওই নির্দেশকে ‘অসাংবিধানিক’ বলেছেন। ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিদেশি নাগরিক হয়েও তিনি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন। সে কারণেই তড়িঘড়ি দেশত্যাগের নির্দেশ। তাঁকে জানানো হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তিনি। ওসিআই কার্ডধারীও। যদিও সেই কার্ড প্রাপকেরা দেশে কোনো সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন না। ইমরান ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে গিয়েছেন। তাঁর আরজি, প্রথমত, এমন কোনো শর্ত ওসিআই কার্ডধারীদের জন্য নেই। দ্বিতীয়ত, তিনি কোনো দলের সদস্য নন। কোনো বিক্ষোভের মধ্যে গিয়ে পড়া এবং বিনা বাধায় চলাচলের অধিকার থাকার বিষয়ে মন্তব্য করা অপরাধ হতে পারে না। তৃতীয়ত, বক্তব্য না শুনেই তাঁকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গোটা বিষয়ই অসাংবিধানিক, একতরফা ও ভুল ধারণাপ্রসূত। আবেদনে বলা হয়েছে, এটা ‘সরকারি ঔদ্ধত্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চরমতম নিদর্শন’। ইমরানের আরজি, তাঁর আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দমনমূলক ব্যবস্থা যেন না নেওয়া হয়। তাঁকে যেন জবরদস্তি বিদেশে পাঠানো না হয়। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ‘লুক আউট’ নেটিশও যেন জারি করা না হয়। লক্ষণীয়, ইমরান যেদিন বম্বে হাইকোর্টে আবেদন জানাচ্ছেন, সেদিনই এফআরআরও তাঁকে আরও এক নোটিশ পাঠায়। সেই নোটিশ আদতে একটা শোকজ বা কারণ দর্শানোর চিঠি। তাতে বলা হয়েছে, কেন তাঁর ওসিআই কার্ড বাতিল করা হবে না। ইমরানের আইনজীবীদের কাছে এটা একটা বড় হাতিয়ার। প্রশ্ন উঠছে, তড়িঘড়ি দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পর তাঁকে শোকজ করা হলো কেন। তা হলে কি ধরে নিতে হবে, ইমরানের বক্তব্য না শুনেই তাঁকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়াটা ভুল হয়েছিল। সেই স্বীকারোক্তিরই নিদর্শন ওই দ্বিতীয় নোটিশ। ওই নোটিশের মধ্য দিয়ে এটাও বোঝা যাচ্ছে, এফআরআরও প্রথামাফিক ব্যবস্থা নেয়নি। তাই ত্রুটি সংশোধনের চেষ্টা করছে। ইমরানের আইনজীবী জুলফিকার মেমন দ্বিতীয় নোটিশ সম্পর্কে গণমাধ্যমে বলেন, ‘নতুন নোটিশটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আদালতে শুনানির সময় এই দ্বিতীয় নোটিশের বিষয়টি স্পষ্ট হবে। আমরা জানতে চাইব, কোন নোটিশ প্রণিধানযোগ্য। প্রথমটি, না দ্বিতীয়টি। দ্বিতীয় নোটিশটি গুরুত্বপূর্ণ হলে প্রথমটি অকার্যকর হয়ে যায়। ইমরান তাঁর আবেদনে বলেছেন, তাঁকে বলির পাঁঠা করা হচ্ছে। মনে হচ্ছে, এর মধ্যে অন্য কোনো কারণ আছে। বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদ ওসিআই কার্ডধারীদের সমতার অধিকার দিয়েছে, ২১ অনুচ্ছেদ দিয়েছে জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সুরক্ষার অধিকার। ওই নোটিশ স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে, তা না হলে এটা হবে ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী। তা হবে ভারতীয় সংবিধানকে উপহাসের শামিল। বোঝাই যাচ্ছে, ওই নোটিশ, যেখানে তাঁকে দেশত্যাগ করে চলে যেতে বলা হয়েছে, তা জারি করার আগে একেবারও ভাবনাচিন্তা করা হয়নি। খেয়ালের বশে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে বিপজ্জনক মনে করা হলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ওসিআই কার্ড বাতিল করে দিতে পারে। নাগরিকত্ব আইনের ৭ডি (ই) ধারায় সেই অধিকার দেওয়া হয়েছে। ৪৪ বছর বয়সী অভিনেতা ইমরান খান ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে তাঁর জন্ম। তিনি জনপ্রিয় অভিনেতা আমির খানের ভাগনে।

দেশ ছাড়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে বম্বে হাইকোর্টে ইমরান খান
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream