শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
নেপালের পর্যটন এলাকা থেকে ১০ বাংলাদেশি আটক

নেপালের পর্যটন এলাকা থেকে ১০ বাংলাদেশি আটক

সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড ও ভিসা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর পর্যটন এলাকা থামেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম। থামেল এলাকার একাধিক হোটেল থেকে গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর)  তাঁদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে আটককৃতদের আইনি পদক্ষেপ ও অনুসন্ধানের জন্য নেপালের অভিবাসন দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশের উপত্যকা অপরাধ তদন্ত কার্যালয়ের বরাত দিয়ে নেপালি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে থামেল ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হোটেলগুলোতে এই অভিযান চালানো হয়। অভিবাসন বিভাগ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। অভিযানের স্থান ও গ্রেপ্তারকৃতদের বিষয়ে পুলিশের উপত্যকা অপরাধ তদন্ত কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) শরদ কুমার থাপা ছেত্রী জানান, থামেল এলাকায় বেশ কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের বিশৃঙ্খলা ও সন্দেহজনক তৎপরতার খবর পেয়ে পুলিশ ব্যবস্থা নেয়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, থামেল এলাকার ‘হোটেল ঢাকা এক্সপ্রেস’, ‘হোটেল দি ভেদা’ এবং ‘হোটেল আল-রহমান’ নামের তিনটি বাণিজ্যিক আবাসিক হোটেল থেকে এই ১০ জনকে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন: ফাহিমা আক্তার হাসান (৪৬), মাহমুদ (৪৮), মাহবুব হাসান (৪৫), রিপন মাহমুদ (৪৯), মো. কারামত আলী খান (৩০), সাইদুর রহমান (৩০), মো. খলিলুর রহমান (৫০), আরিফুর রহমান (২৮), মো. মারুফ মৃধা (৪২), মোহাম্মদ হানিফ মিয়া (৬৪)। পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযানের সময় এই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ‘খাতুনে জান্নাত’ নামের এক নারী পালিয়ে যান। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের বিষয়ে নেপাল অভিবাসন দপ্তরের পরিচালক তিকারাম ঢাকাল জানান, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আটককৃতদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত একজন নিজ ভিসার মেয়াদের চেয়ে অতিরিক্ত সময় ধরে (ওভারস্টে) অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন। অন্য আসামিরা কী উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন এবং কী কাজে জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আটক ব্যক্তিরা থামেলের ‘মুসলিমা টোল’ এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সময় স্থানীয়দের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়তেন। পাশাপাশি তাঁরা যে ভিসায় নেপালে প্রবেশ করেছিলেন, তার শর্ত লঙ্ঘন করে অর্থ উপার্জনমূলক এবং অন্যান্য অননুমোদিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন বলে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। কাঠমান্ডুকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশিদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা করার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও নেপাল পুলিশ একাধিক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছিল, যারা ইউরোপ বা উন্নত দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি তরুণদের কাঠমান্ডুতে এনে জিম্মি করত এবং মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত। পুলিশের তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া এই ১০ জনও একই ধরনের কোনো মানব পাচার, চাকরির ভুয়া প্রলোভন বা অবৈধ অর্থ লেনদেনকারী সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত কি না। নেপালের অভিবাসন দপ্তরের তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জরিমানা, কারাদণ্ড বা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) মতো আইনানুগ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

নেপালে ধ্বংসস্তূপের নিচে ৯ দিন, জীবিত উদ্ধার ২ জন

উদ্ধারকারীরা শুক্রবার দুইজন জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে নেপালের ত্রিশূলী নদীর একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংযুক্ত একটি সুড়ঙ্গ থেকে । এর নয় দিন আগে বরফ, পাথর ও কাদার একটি বিশাল প্রাচীর নদীটির উপত্যকা দিয়ে ধেয়ে গেলে ১ হাজার তিনশ’র বেশি মানুষ মারা যায় ও ৫ হাজার ৬০০-এরও বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়। কর্মকর্তা এবং উদ্বারকারীরা বলছে, ২৬ আগস্টে নদীটির উজান অঞ্চলে হিমবাহের ধ্বসে পড়ার ঘটনায় সুড়ঙ্গটির সাথে যুক্ত ৬টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অন্তত ৯০০ জন আটকা পড়েছে বলে তাদের ধারনা। ত্রিশূলী নদীর উজানে অবস্থিত আপার ত্রিশূলী থ্রিএ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই কর্মীই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে উদ্ধার হওয়া প্রথম দুইব্যক্তি, যাদের রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি সেনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে অন্যান্য জীবিত ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসার মধ্যেও অনুসন্ধানকারী দলগুলো সামান্য আশার আলো দেখতে পাচ্ছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ওই স্থান থেকে আরও একটি লাশ উদ্ধার করেছে।

নেপালে ধ্বংসস্তূপের নিচে ৯ দিন, জীবিত উদ্ধার ২ জন

বন্যার এক সপ্তাহ পরও নিখোঁজ, প্রিয়জনের সন্ধানে স্বজনেরা

এক সপ্তাহ পরও নিখোঁজ বিদেশীদের স্বজনেরা আশা ছাড়ছেন না ভয়াবহ বন্যায় নেপালের হিমালয়সংলগ্ন সীমান্ত অঞ্চল বিপর্যস্ত হওয়ায়। হাসপাতাল ও মর্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা নিখোঁজদের কোনো সন্ধান পাওয়ার আশায়। কাঠমান্ডুর পর্যটন পুলিশ সদর দফতরের বাইরে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন সঞ্জীব রাই।রাই বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমি যেদিন এখানে পৌঁছাই, সেদিনই বলেছিলাম, চলুন একটি হেলিকপ্টার খুঁজে বের করি। আমি তাকে খুঁজতে যাব।’৫৩ বছর বয়সী এই আমেরিকান নাগরিক তার স্ত্রী জীবন জ্যোতির নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে নেপালে ছুটে আসেন। পবিত্র কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রা শেষে ফেরার পথে তার স্ত্রী নিখোঁজ হন। হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে কৈলাস একটি পবিত্র পর্বত। তবে দুর্যোগের সময় জ্যোতি রাসুয়া জেলার তিমুরে গ্রামে ছিলেন। গ্রামটি এখনো দুর্গম ও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি খুবই হতাশ। এতগুলো দিন পার হয়ে গেছে।’ ইন্টেলে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত জ্যোতি আধ্যাত্মিক সাধনা ও অভিযানের অংশ হিসেবে এই যাত্রায় গিয়েছিলেন। তার ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে তিনি এই ভ্রমণে বের হয়েছিলেন। এখন রাই জীবিত অবস্থায় স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আর জীবিতদের ফিরে পাওয়ার আশা করছি না। শুধু আশা করছি, ডিএনএ নমুনা মিলে যাবে। আমি যেন তার জন্য শোক করতে পারি, সেটাই চাই।’ ২৬ আগস্টের বন্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিমালয়ের এই দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্যোগগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। প্রচণ্ড স্রোতে ভেসে আসা বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষের আঘাতে নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে এক হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন চার হাজার ৭৫০ জনের বেশি। এতে শহর, সড়ক, সেতু এবং একাধিক পানিবিদ্যুৎ বাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে। নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৯৪ জন বিদেশীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বেশিভাগই চীন ও ভারতের নাগরিক। তবে ৫৮৩ জন বিদেশীর এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের অনেকেই কৈলাস পর্বতের চারপাশে কঠিন তীর্থযাত্রার জন্য কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। নিখোঁজদের মধ্যে আধ্যাত্মিক গুরু সদগুরুর ইশা ফাউন্ডেশনের ৭৭ জন তীর্থযাত্রী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকও রয়েছেন। তাদের কয়েকজন স্বজন কাঠমান্ডুতে এসেছেন। ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকেরাও তাদের সহায়তা করছেন। ‘কেউ সরে যেতে পারেনি’অরুণ মেহতা বলেন, ‘যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে তথ্য পেতে আমরা প্রতিদিন নেপাল পুলিশের কাছে যাই। পুলিশ প্রকাশিত ছবিগুলোও আমরা পরীক্ষা করি।’ অন্যরা দিনের বেশিভাগ সময় হাসপাতালে গিয়ে কাটাচ্ছেন। তবে তিন নেপালি গাইডসহ দলটির সবাই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে মেহতা জানান। তিনি বলেন, ‘তারা কৈলাস পর্বতের চারপাশে তীর্থযাত্রা শেষ করেছিলেন। এরপর চীনের সাথে সীমান্তের গিয়িরং সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রে অভিবাসনসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছিলেন। তখনই দুর্যোগ আঘাত হানে।’ ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ নিখোঁজদের শনাক্ত করার বিভিন্ন তথ্য কর্তৃপক্ষকে দিয়েছে। এর মধ্যে অনেক তীর্থযাত্রীর পরা সাপের আকৃতির বিশেষ আংটি ও লকেটের তথ্যও রয়েছে। নেপাল পুলিশ চলতি সপ্তাহে নিখোঁজদের স্বজনদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছে। লাশ শনাক্ত করতে এসব নমুনা দিয়ে একটি তথ্যভান্ডার তৈরি করা হবে। বিদেশে থাকা স্বজনেরা নিজ নিজ দেশ থেকেও নমুনা জমা দিতে পারবেন। নেপাল থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলেও কয়েকজন স্বজন নেপালে গিয়ে অনুসন্ধানে যোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইয়াকুতস্ক থেকে নিখোঁজ সংগীতশিল্পী কিরিল ত্রেতিয়াকভের ভাই জানিয়েছেন, তিনি কয়েক দিনের মধ্যেই নেপালে যাবেন। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে কিরিলের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমরা আশা করছি, তার দলটি বেঁচে আছে। তবে তাদের সাথে যোগাযোগের কোনো ব্যবস্থা নেই।’ ত্রেতিয়াকভ তাশি দেলেক নামের একটি ভ্রমণ সংস্থার আয়োজনে রাশিয়া ও ইউক্রেনের তীর্থযাত্রীদের একটি দলের সাথে ভ্রমণ করছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা হাসপাতালগুলো থেকে খোঁজ শুরু করব। যত সময়ই লাগুক, আমরা তাকে খুঁজতে থাকব।’ ট্রেকিং আয়োজক প্রতিষ্ঠান ফিশটেইল জানিয়েছে, তারা ২০ জন তীর্থযাত্রীর একটি দলের সাথে যোগাযোগ হারিয়েছে। তাদের বেশিভাগই মালয়েশিয়ার নাগরিক। তাদের সাথে গাইড ও গাড়িচালকরাও ছিলেন। বিক্রয় প্রতিনিধি নিমসাং গুরুং বলেন, ‘ঘটনাটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে কেউ সড়ে যেতে পারেনি।’ অব্যাহত থাকলেও কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এই দুর্যোগে দেশটির পর্যটন খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। পর্যটন নেপালের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। নেপালের ন্যাশনাল ট্যুরিজম অ্যাজেন্সির সুনীল শর্মা বলেন, ‘এই দুর্যোগে পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘মাত্র চারটি জেলা’ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র : বাসস

বন্যার এক সপ্তাহ পরও নিখোঁজ, প্রিয়জনের সন্ধানে স্বজনেরা

বাংলাদেশে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ

সাধারণত বর্ষা মৌসুমই নেপালের জন্য প্রাচুর্যপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়। দেশটির নদীগুলো ভারী বৃষ্টিতে ফুলেফেঁপে ওঠে। এসব নদীর পানিতে পরিচালিত ‘রান অব দ্য রিভার’ অর্থাৎ নদীর পানি দিয়ে চালিত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে তখন উৎপাদন বাড়ে। ফলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেপাল তার প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে বিক্রি করতে পারে। কিন্তু এ বছর সেই নদীগুলোই হয়ে উঠেছে বিপর্যয়ের উৎস। ভোতে কোশি নদীতে গত ২৬ আগস্ট আকস্মিক বন্যায় বন্ধ হয়ে গেছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো। যার ফলে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে সম্প্রতি নেপাল থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া শুরু করা বাংলাদেশ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটিতে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে নেপাল গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করত। এখন তা কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। শুষ্ক শীত মৌসুমে, বিশেষ করে বছরের পর বছর বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভরশীল থাকার পর নেপাল যখন নিজেকে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, তখন এই বিঘ্ন দেখা দিল। ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ হতো। গত সপ্তাহ থেকে দুটি প্রকল্পের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। চিলিমে প্রকল্প থেকে ভারতে ২১ দশমিক ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমোদন ছিল। অন্যদিকে ত্রিশূলী প্রকল্পের অনুমোদন ছিল ১৮ দশমিক ৬ মেগাওয়াট। ভারত হয়ে বাংলাদেশেও বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন পেয়েছিল প্রকল্প দুটি। বাংলাদেশে বিক্রি করা বিদ্যুতের মূল্য নেপাল মার্কিন ডলারে পায়। নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ বলেন, ‘বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা দুটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো প্রকল্পের বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমতি দিতে আমরা ভারতকে অনুরোধ করেছি। বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্য।’ ক্ষয়ক্ষতি শুধু এই দুটি প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ নেই। বন্যার পর থেকে ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সানজেন, আপার সানজেন ও সালাসুঙ্গি প্রকল্পকে ‘আইসোলেটেড মোডে’ রেখেছে নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এর অর্থ, প্রকল্পগুলো জাতীয় গ্রিডের বাইরে থেকে পরিচালিত হচ্ছে এবং শুধু আশপাশের এলাকার চাহিদা মেটাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। তবে বিদ্যুৎ রপ্তানিতে বিঘ্ন শুধু বন্যার কারণে হয়নি। যে সময়ে নেপাল সাধারণত ভারতে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বিদ্যুৎ রপ্তানি করে, সেই সময়েও ভারত তিনটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের রপ্তানি অনুমোদন নবায়ন না করায় দেশটি ওই প্রকল্পগুলো থেকে ৭৩ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে পারছে না। ৩৮ দশমিক ৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার আপার চামেলিয়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের রপ্তানি অনুমোদনের মেয়াদ ৩১ জুন শেষ হয়েছে। তবে তা এখনো নবায়ন করা হয়নি। ২৪ দশমিক ২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সেতি রিভার এবং ১০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আপার তাদি খোলা প্রকল্পের অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩১ জুলাই। অনুমোদনগুলো নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ প্রকল্প তিনটির সম্মিলিত ৭৩ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারতে বিক্রি করতে পারবে না। এসব অনুমোদন প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ আমদানি ও রপ্তানির অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানি করার আগে নেপালকে ওই সংস্থার অনুমোদন নিতে বা বিদ্যমান অনুমোদন নবায়ন করতে হয়। নেপাল বিদ্যুৎ বাণিজ্য সম্প্রসারণের চেষ্টা করলেও এই সমস্যাটি দেশটির সামনে থাকা সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরে। এ পর্যন্ত নেপাল ৩৭টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য ভারতের অনুমোদন পেয়েছে। এসব প্রকল্পের সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। চিলিমে ও ত্রিশূলীও এসব প্রকল্পের মধ্যে ছিল। নেপাল ইন্ডিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জের ডে-অ্যাহেড ও রিয়েল-টাইম বাজারের মাধ্যমে ভারতে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে। এ ছাড়া ভারতের হরিয়ানা ও বিহার রাজ্যের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় মধ্যমেয়াদি বিদ্যুৎ বিক্রয় চুক্তির আওতায়ও বিদ্যুৎ বিক্রি করে দেশটি। ৪০০ কিলোভোল্ট ক্ষমতার ঢালকেবর–মুজাফফরপুর সঞ্চালন লাইন এবং ১৩২ কিলোভোল্ট ক্ষমতার তানকপুর–মহেন্দ্রনগর, কাটাইয়া–কুশাহা, রাকসৌল–পরওয়ানীপুর, গান্ধক–রামনগর ও মাইনাহিয়া–সম্পতিয়া সঞ্চালন লাইনসহ বেশ কয়েকটি সংযোগের মাধ্যমে দুই দেশ বিদ্যুৎ বাণিজ্য করে। বাংলাদেশের বাজার এই ব্যবস্থায় আরও একটি জটিলতার মাত্রা যোগ করেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকায় নেপাল ও বাংলাদেশের জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি আরও ২০ মেগাওয়াট বাড়াতে দুই দেশ সম্মত হয়েছিল। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করতেও তারা সম্মত হয়। তবে পরে ভারত জানায়, সঞ্চালন সক্ষমতার ঘাটতির কারণে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করা সম্ভব নয়। জুনে নেপাল-ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে নেপাল আবারও অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন দিতে ভারতের কাছে অনুরোধ জানায়। ৪৫৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার আপার তামাকোশী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ অন্যান্য প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদনও চেয়েছে নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। তবে চীনা বিনিয়োগ, চীনা ঠিকাদার অথবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে চীনা সরঞ্জাম যুক্ত প্রকল্পগুলোর জন্য ভারতের অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে না। আপার তামা কোশি এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। প্রকল্পটির হাইড্রোমেকানিক্যাল, ইলেকট্রোমেকানিক্যাল ও সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজের চুক্তি ভারতীয় কোম্পানিগুলো পেলেও বেসামরিক নির্মাণকাজ করেছে একটি চীনা কোম্পানি। এ প্রকল্পের বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন এখনো দেয়নি ভারত। দ্বিপক্ষীয় জ্বালানি বৈঠকগুলোতে নেপাল বারবার বিষয়টি উত্থাপন করেছে। আনুষ্ঠানিক বিধিনিষেধটি এমন প্রকল্পের বিদ্যুতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত রয়েছে কিন্তু ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ খাত সহযোগিতাবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নেই—এমন তৃতীয় কোনো দেশের বিনিয়োগ রয়েছে। তবে নেপালি কর্মকর্তা ও জ্বালানি খাতের অংশীজনেরা বলছেন, চীনা ঠিকাদার বা চীনা সরঞ্জাম যুক্ত প্রকল্প থেকেও বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন দিতে ভারত অনিচ্ছুক। এমনকি প্রকল্পগুলোতে চীনা বিনিয়োগ না থাকলেও এমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তাঁদের যুক্তি, নেপাল যদি বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়াতে চায়, তাহলে কূটনৈতিক তৎপরতা প্রয়োজন হবে। সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী কুলমান ঘিসিং বলেন, ‘বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন নবায়ন বা নতুন অনুমোদন পেতে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করতে হয়। কখনো কর্মকর্তাদের সঙ্গে, কখনো নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে, আবার কখনো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের মাধ্যমে আলোচনা করতে হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাদের আলোচনা করতে হবে এবং বিদ্যুৎ বাণিজ্যের অনুমোদন পাওয়া ও নবায়নের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে হবে।’ ঘিসিং বলেন, তিনি প্রতি ইউনিট ৫ দশমিক ৪৫ ভারতীয় রুপিতে ভারতে ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু এরপর থেকে নেপাল ওই পরিমাণ বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়াতে পারেনি। ২০২১ সালে নেপাল বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করার পর এই নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। এর মাধ্যমে এমন একটি দেশের জন্য বড় পরিবর্তন এসেছিল, যে দেশটি আগে ব্যাপকভাবে বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নেপাল ভারত ও বাংলাদেশে ২ হাজার ৯৩২ কোটি রুপি মূল্যের বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে। একই সময়ে শুষ্ক মৌসুমে ভারত থেকে ১ হাজার ২৩ কোটি রুপি মূল্যের বিদ্যুৎ আমদানি করেছে দেশটি। ফলে বিদ্যুৎ বাণিজ্যে নেপালের নিট উদ্বৃত্ত ছিল ১ হাজার ৯০৯ কোটি রুপি। এই মডেলটি নেপালের মৌসুমি নদীগুলোর ওপর নির্ভরশীল। বর্ষা মৌসুমে পানির প্রাচুর্যে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, যা রপ্তানি করা হয়। শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ কমে গেলে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেশি থাকলে নেপাল ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে। ভোটেকোশীর বন্যা এমন এক সময়ে এই মডেলকে ব্যাহত করেছে, যখন নেপালের সাধারণত বিদ্যুৎ রপ্তানি থেকে সর্বোচ্চ আয় করার কথা। এখন নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে চালু থাকা অন্য প্রকল্পগুলো থেকে বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমোদন পেতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করছে।

বাংলাদেশে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ

ক্ষুধা-ক্লান্তি পেরিয়ে ছেলের খোঁজে ৫০ পেরোনো বাবা

পঞ্চাশোর্ধ্ব তালকা সদা নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ একমাত্র ছেলেকে খুঁজতে ২০০০ নেপালি রুপি (১৬০০ টাকার সমপরিমাণ) ধার করে দিনের পর দিন দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিচ্ছেন। ক্ষুধা, ক্লান্তি, পায়ের ব্যথা আর হতাশা তাঁকে ঘিরে ধরলেও ছেলেকে খুঁজে পাওয়ার আশায় এখনো হাল ছাড়েননি তিনি। তালকা সদা নেপালের তেরাই অঞ্চলের সপ্তরি জেলার বাসিন্দা। ভোতেকোশি নদীর ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় গত ২৬ আগস্ট উত্তর নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ধসে পড়ে ঘরবাড়ি, সেতু, স্কুল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র। সদার একমাত্র ছেলে ১৯ বছর বয়সী বিনোদ ওই বন্যার পর থেকেই নিখোঁজ। আল-জাজিরা বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জানায়, শেষবার বন্যার এক দিন আগে ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছিল সদার। এর প্রায় এক মাস আগে কাজের সন্ধানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া জেলায় গিয়েছিলেন বিনোদ। সেখানে একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। সিমেন্ট মেশানোসহ বিভিন্ন ধরনের শ্রমিকের কাজ করতেন বিনোদ। সেখানে তাঁর সঙ্গে কাজ করা আরও চার তরুণ বন্যার পর থেকে নিখোঁজ। চোখ মুছতে মুছতে সদা বলেন, ‘আমার স্ত্রী কীভাবে কাঁদছে, তা বলে বোঝাতে পারব না। আমিও গভীর কষ্টে আছি। কী করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।’ ছেলেকে খুঁজতে ভাইকে সঙ্গে নিয়ে বের হয়েছেন সদা। বিবর্ণ সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট আর বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে শরীরে জড়ানো কমলা রঙের পলিথিন—এই নিয়েই চলছে তাঁর দীর্ঘ যাত্রা। কাঁধে একটি ধূসর ব্যাগ। পকেটে থাকা নোংরা রুমালে গুঁজে রাখা ২ হাজার নেপালি রুপিরও কম অর্থই এখন তাঁদের সম্বল। এই সামান্য অর্থও ধার করা। প্রতি ১০০ রুপি ধার নেওয়ার বিপরীতে ২০ রুপি সুদ দিতে হবে সদাকে। সেই অর্থের কিছুটা খরচ হয়েছে সপ্তরি থেকে কাঠমান্ডু যাওয়ার বাসভাড়ায়। প্রায় ২৯২ কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে সময় লাগে প্রায় ৯ ঘণ্টা। কাঠমান্ডু পৌঁছে তাঁরা একের পর এক হাসপাতালে ছেলেকে খুঁজেছেন। বন্যাকবলিত উত্তরাঞ্চল থেকে উদ্ধার করা আহত ও মৃতদের অনেককেই রাজধানীতে নেওয়া হয়েছিল। মর্গের বাইরে থাকা মৃতদের ছবিগুলোও দেখেছেন তাঁরা। কিন্তু বিনোদের কোনো সন্ধান মেলেনি। এরপর কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের নুয়াকোটের দিকে হাঁটা শুরু করেন দুই ভাই। ছেলের কর্মস্থলের কাছাকাছি পৌঁছানোর আশায় ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে তারা ত্রিশুলি শহরে পৌঁছান। বন্যার ধ্বংসাবশেষ, কাদা ও পলিতে শহরের বাজারও প্রায় ঢেকে গেছে। সদা জানান, আগের রাতে একটি লজে থাকার জন্য ১ হাজার ৫০০ নেপালি রুপি দিতে হয়েছে। বিনিময়ে পেয়েছেন সামান্য ভাত, যা তাদের ক্ষুধাও মেটাতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘আর এক রাত থাকতে হলে আমার বাকি সব টাকা শেষ হয়ে যাবে। তখন বাড়ি ফেরার মতোও কিছু থাকবে না।’ সদার অভিযোগ, মরদেহ রাখা মর্গ কিংবা উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে যেতে চাইলেও তাঁদের বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, তেরাই অঞ্চলের মাধেশি এবং প্রান্তিক মুসাহার সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়ায় তাঁরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। সদা বলেন, ‘আমরা গরিব। তারা আমাদের মাধেশি ও বিহারি হিসেবে দেখে। আমরা নেপালি ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারি না। তাই আমাদের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পাঠিয়ে দিচ্ছে।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে আরও বলেন, ‘ছেলের যদি মৃতও হয়, তবু তাকে দেখার অধিকার আমাদের আছে।’ নেপালি কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, ভয়াবহ এই দুর্যোগের ব্যাপকতার মধ্যেও উদ্ধার ও সহায়তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। বন্যায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। এদিকে কিছুক্ষণ পরপরই নিখোঁজ ছেলের ফোন নম্বরে কল করছেন সদা। কিন্তু এটি বারবার বন্ধই শোনাচ্ছে। কখনো অলৌকিক আশার কথা ভাবছেন তিনি—তরুণ ছেলে হয়তো কোথাও হেঁটে বা দৌড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছে। আবার পরক্ষণেই ভেঙে পড়ছেন। তিনি বলেন, ‘সে যদি বেঁচে থাকত, কোথাও থেকে হলেও ফোন করত।’ তবু থামছেন না সদা। ছেলের কর্মস্থল জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে আবারও যাত্রা শুরু করেছেন তিনি ও তাঁর ভাই। শেষ পর্যন্ত সাহায্য না পেলে ক্ষোভে পুলিশ স্টেশন পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।

ক্ষুধা-ক্লান্তি পেরিয়ে ছেলের খোঁজে ৫০ পেরোনো বাবা

চীন-ভারত-যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলল নেপাল

নেপাল ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পর জলবায়ু ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। গত সপ্তাহের ভয়াবহ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নিখোঁজ  বহু মানুষ। এই পরিস্থিতিতে কাঠমান্ডু আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন দাবি সামনে আনছে। দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশগুলোর মধ্যে চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করে বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দায়িত্ব বড় নির্গমনকারী দেশগুলোর রয়েছে।  বাগমতী প্রদেশের কয়েকটি জেলায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি করা ভোতেকোশি নদীর বন্যায় অন্তত ১ হাজার ১২৭ জন নিহত এবং প্রায় ৩ হাজার ৯০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে বিশাল পাথর ও বরফ ধসের কারণে এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিপূরণের দাবি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালোভাবে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র ‘বালেন’ শাহকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে নেপাল। দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাহের নিউইয়র্ক সফরের প্রস্তাবটি বর্তমানে আলোচনা করা হচ্ছে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, এই দুর্যোগের জন্য নেপাল দায়ী নয়। অথচ বিশ্ব উষ্ণায়নের ভয়াবহ প্রভাব সবচেয়ে বেশি ভোগ করতে হচ্ছে তাদের মতো দেশকেই। তার অভিযোগ, নেপাল থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন অত্যন্ত কম। তবুও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দ্রুত হিমবাহ গলছে। বাড়ছে পাহাড়ি বিপর্যয়ের ঝুঁকি। তাই বড় নির্গমনকারী দেশগুলোর দায়িত্ব তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া।  কান্তিপুর টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের কূটনৈতিক কাঠামোকে সহায়তা থেকে ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দিকে পরিবর্তন করছি।’ খানাল বলেন, রাসুয়ার এই দুর্যোগকে শুধু মানবিক সংকট হিসেবে দেখলে হবে না, যার জন্য দান বা সহায়তা প্রয়োজন। বড় শিল্পোন্নত অর্থনীতিগুলোর গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের কারণে যে ক্ষতি হচ্ছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়াকে তিনি দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। কান্তিপুর টিভিকে তিনি বলেন, ‘এটি দাতব্যের বিষয় নয়; এটি আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়।’ খানাল চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতকে বর্তমানে বিশ্বের তিন বৃহত্তম গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং নেপালের মতো দেশকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দায়িত্ব তাদের রয়েছে বলে দাবি করেন। ইন্ডিয়া ‍টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়,মোট নির্গমনের পরিমাণে ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় নির্গমনকারী হলেও দেশটির মাথাপিছু ও ঐতিহাসিক কার্বন নির্গমন উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। ইউরোপীয় কমিশনের ২০২৪ সালের EDGAR হিসাব অনুযায়ী, মোট নির্গমনের হিসাবে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত বিশ্বের তিন বৃহত্তম গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ। মাথাপিছু হিসাবে ভারত প্রায় ৩ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)-সমতুল্য নির্গমন করে। চীনের ক্ষেত্রে তা প্রায় ১১ টন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ টনের বেশি।ভারত দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, জলবায়ু সংক্রান্ত দায়িত্ব নির্ধারণের সময় ঐতিহাসিক নির্গমন, মাথাপিছু নির্গমন, উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা এবং আগে শিল্পায়িত হয়ে এর সুবিধা পাওয়া দেশগুলোর বেশি দায়িত্ব বিবেচনা করা উচিত। ২৬ আগস্ট ভোতেকোশি নদীর অববাহিকায় ভয়াবহ বন্যা আঘাত হানে। এতে নেপালের রাসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত রয়েছেন। নেপাল এই দুর্যোগকে ‘হিমালয়ান সুনামি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। নেপাল পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নেপাল-চীন সীমান্তের কাছের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল থেকে বন্যার সূত্রপাত হয়েছে। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এর সম্পর্ক কতটা, তা নিশ্চিত করতে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন। প্রাথমিক মূল্যায়নে পাথর ও বরফের ধস, অস্থিতিশীল হিমবাহ এবং হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তনকে বন্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ভূমিকম্পপ্রবণ উচ্চ ঝুঁকির এই এলাকায় বন্যার ঘটনা ভঙ্গুর হিমালয় অঞ্চলে চীনের নির্মিত অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে গত সপ্তাহে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, বন্যায় ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে নেপালের ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এই অর্থ দেশটির অর্থনীতির প্রায় ১০ শতাংশের সমান। জরুরি আর্থিক সহায়তার জন্য নেপাল জাতিসংঘ-সমর্থিত ‘ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজ’-এর কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে। সূত্র: ইন্ডিয়া‍ টুডে, হিন্দুস্থান টাইমস

চীন-ভারত-যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলল নেপাল

ধ্বংসস্তূপের মাঝে একা কুকুর, অপেক্ষা পরিচিত মুখের

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় অসংখ্য ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। কাদামাটি আর ভেসে যাওয়া ঘরবাড়ির ধ্বংসাবশেষ চারপাশে শুধু ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। একটি কুকুর এমনই একটি বাড়ির ধ্বংসাবশেষের মধ্যে সারাক্ষণ বসে থাকছে। মাথা উঁচু করে আশপাশ দিয়ে কেউ গেলেই এটি তাকে দেখছে। সামান্য এগিয়ে গিয়ে আবার ফিরে যাচ্ছে আগের জায়গাতেই। যেন মণিব বা পরিচিত মানুষের আসার অপেক্ষায় সাদা-কালো রঙা কুকুরটি। কুকুরটি যেখানে বসে আছে, চারটি বাড়ি ছিল সেখানে ও এর আশপাশে। বন্যায় সবগুলো বাড়িই ভেসে গেছে। কুকুরটি ওই জায়গা ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চাচ্ছে না। উদ্ধারকর্মীরা বারবার চেষ্টা করেও কুকুরটিকে সেখান থেকে সরাতে পারেননি। বন্যায় বাসস্থান হারানো এই কুকুরের কোনো নাম ওই মুহূর্তে জানা সম্ভব হয়নি।  ইন্ডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, কুকুরটি নুওয়াকোট জেলার ত্রিশুলি বাজারে ভেসে যাওয়া ওই চারটি বাড়ির ধ্বংসাবশেষের মধ্যেই বসে থাকছে। চারপাশে উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে কাদা, কাঠ ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করলেও কুকুরটি ওই জায়গা ছাড়ছে না।উদ্ধারকর্মীদের ভাষ্য, এখনো কুকুরটির গলায় কলার রয়েছে। কুকুরটির আশপাশে যেসব মানুষ কাজ করছেন, তাদের দিকে কোনো নজরই দিচ্ছে না প্রাণীটি। কুকুরটি লেজও নাড়ছে না। বারবার শুধু সেই জায়গাতেই যাচ্ছে, যেখানে সম্ভবত একসময় বাড়িটির গেট বা প্রবেশপথ ছিল।বিক্রম থাপা নামের এক স্বেচ্ছাসেবক জানান, উদ্ধারকর্মীরা প্রথমে খাবার ও পরিচিত ডাক দিয়ে কুকুরটিকে সেখান থেকে সরানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনোভাবেই তারা সেটি করতে পারেননি।  এ বিষয়ে তিনি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, "আমরা বিস্কুট দিয়ে কুকুরটিকে কাছে টানার চেষ্টা করেছি, নানা আদুরে নামে নামে ডেকেছি। কিন্তু এটি মাথাটাও ঘোরায় না। এর গলার কলারটিও অক্ষত আছে। কুকুরটি এই জায়গা ছেড়ে যাবে না।" ধ্বংসাবশেষ অপসারণের কাজে যুক্ত সুনীল তামাং বলেন, খননযন্ত্র ও অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতির প্রচণ্ড শব্দও কুকুরটিকে সেখান থেকে সরাতে পারেনি।ধ্বংসাবশেষ অপসারণে কাজে নিয়োজিত সুনীল তামাং টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, "চারপাশে এক্সকাভেটরের মতো ভারী ভারী সব যন্ত্রের ইঞ্জিনের শব্দ, ধ্বংসাবশেষ অপসারণের কাজ, এসবের মধ্যেও কুকুরটি ওই কাদামাখা জায়গাতেই বসে আছে।""কুকুরটি একবারও লেজ নাড়েনি। প্রাণীটি যেই বাড়িতে থাকত, সেই বাড়ির সীমানা পার হতে এটি রাজি নয়", যোগ করেন সুনীল। তিনি এও জানান, খননযন্ত্রগুলো যখন প্রাণীটির কাছাকাছি চলে আসে, তখনও এটিকে খুব একটা ভয় পেতে দেখা যায়নি।উদ্ধারকর্মীরা জানান, কখনো কখনো কোনো গাড়ি বা মানুষ ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কুকুরটি মাথা তোলে, কিছুটা এগিয়ে আসে। কিন্তু তারা চলে গেলে কুকুরটি আবার একই জায়গায় ফিরে যায়।কুকুরটি যেই জায়গায় বসে থাকছে, সেই জায়গার আশপাশে যে চারটি বাড়ি ছিল, বন্যায় সেগুলো সম্পূর্ণ ভেসে গেছে। এখন জায়গাটিতে আছে শুধু কাদা আর বাড়িগুলোর ধ্বংসাবশেষ। কুকুরটি কার ছিল বা চারটি বাড়ির মধ্যে কোন বাড়িতে কুকুরটি থাকত, সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কুকুরটির আচরণ দেখে সেখানে থাকা লোকজনের ধারণা, কুকুরটি এর পরিচিত পুরোনো এলাকা বা নিজের সীমানার মধ্যেই থাকতে চাইছে। এটি বারবার সেই বাড়ির জায়গায় ফিরে যাচ্ছে, যেটি একসময় বাড়িটির উঠান ছিল। প্রাণী উদ্ধারকাজে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবক রিতা গুরুং জানান, এখন মানুষজন কুকুরটিকে জোর করে সরানোর চেষ্টা বন্ধ করে দিয়েছেন। বরং তারা তার জন্য খাবার ও পানি রেখে যাচ্ছেন। রিতা গুরুং বলেন, "আমরা কয়েক ঘণ্টা পরপর তার কাছে শুকনো খাবার রেখে আসি। রাস্তা যখন শান্ত থাকে, তখন সে শুধু একটু খাবার খায়।"বন্যায় ঘর হারানো বাসিন্দা মায়া অধিকারী বলেন, বন্যা শুরু হওয়ার সময় এলাকার বেশিরভাগ কুকুরই উঁচু জায়গায় চলে গিয়েছিল। কিন্তু এই কুকুর ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িগুলোর কাছেই থেকে যায়।উল্লেখ্য, নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা মঙ্গলবার জানিয়েছে, দেশটিতে বন্যায় এখন পর্যন্ত ৯৮৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন, যাদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি। 

ধ্বংসস্তূপের মাঝে একা কুকুর, অপেক্ষা পরিচিত মুখের

বন্যার এক সপ্তাহ পরও টানেলে আটকা শত শত শ্রমিক

বুধবারও উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলগুলোতে। কিন্তু নির্দিষ্ট দূরত্বের পর উদ্ধারকর্মীরা ভেতরে আর সামনে এগোতে পারছেন না। ফলে জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা ফিকে হয়ে গেছে। ভয়াবহ বন্যার এক সপ্তাহ পার হয়েছে। শুরুতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, একাধিক টানেলের ভেতর ১০০ জনের বেশি শ্রমিক জীবিত থাকতে পারেন। জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) তথ্য অনুযায়ী, জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ৬৩৯ জন কর্মী নিখোঁজের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এনডিআরআরএমএ-এর মুখপাত্র শান্তি মাহাত বলেন, তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। টানেলগুলোতে বিদেশি দলগুলোও কাজে সহায়তা করছে। বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মধ্যেও তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে প্রচুর পরিমাণে কাদা, ধ্বংসাবশেষ ও পলি জমে আছে। এএফপিকে শান্তি মাহাত আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে টানেলে প্রবেশের পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। আবার প্রবেশপথ খুঁজে পেলেও উদ্ধারকারীরা ভেতরে টানেল বন্ধ অবস্থায় পেয়েছেন। তবে চেষ্টা অব্যাহত আছে। সোমবার উদ্ধারকারীরা দুটি টানেল থেকে অন্তত তিনটি মরদেহ উদ্ধার করেন। কয়েকটি টানেলের ভেতরে তারা কয়েক’শ মিটার পর্যন্ত প্রবেশ করতেও সক্ষম হন। কিন্তু কাদার কারণে আর সামনে এগোতে পারেননি। মঙ্গলবার জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ সাংবাদিকদের বলেন, সব টানেলেই আমাদের প্রবেশাধিকার আছে। তবে ভেতরে ঢোকা কঠিন হয়ে গেছে। কারণ সেখানে পাথর ও পলি জমে আছে। নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মোট ৪৩১ দশমিক ১ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার ১১টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। যা মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ। এছাড়া, নির্মাণাধীন আরও ১৫টি বিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পের সম্ভাব্য মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৪৭০ মেগাওয়াট।

বন্যার এক সপ্তাহ পরও টানেলে আটকা শত শত শ্রমিক

নেপালে ভয়াবহ বন্যা, সুড়ঙ্গে আটকা শত শত শ্রমিক

নেপালের ত্রিশূলী নদীর তীরে কাদায় ভরা বিশাল টানেল বা সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কের ভেতরে শত শত কর্মী আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের পরিবারের সদস্যরা এখনও আশা করে আছেন যে, তাদের প্রিয়জনদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হবে।বিবিসি নেপালি জানাচ্ছে, ভোটেকোশী-ত্রিশুলি নদীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৯০০ জনেরও বেশি কর্মী গত বুধবারের বন্যার পর থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন বলে কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন।তবে সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে পড়াদের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজরাম বসনেত বিবিসি নেপালিকে জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাসুওয়াগাধি, লাংটাং, চিলিমে, আপার ত্রিশুলি ৩এ এবং আপার ত্রিশুলি ৩বি এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছিল।ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্প এলাকায় পাহাড়ের ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পথ তৈরি করা হচ্ছে এবং সুড়ঙ্গের ভেতরে বাতাস পাঠানো হচ্ছে। উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, জীবিতদের কাছে পৌঁছানোর গুরুত্বপূর্ণ সময় দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।৩৩ বছর বয়সী প্রকৌশলী অরুস ভান্ডারি প্রকল্প এলাকায় নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্ত্রী অনুশিলা ভান্ডারি বিবিসি নেপালিকে বলেছেন, "তাকে যদি খুঁজে পেতাম। আমি চাই সে বাড়ি ফিরে আসুক।"এদিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যা বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৩৯-এ দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।সংস্থাটি নিখোঁজ মানুষের সংখ্যার হিসাবও সংশোধন করে ৩ হাজার ৯২৫ করেছে। তাদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক।নিখোঁজদের মধ্যে আনুমানিক প্রতি সাতজনের একজন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সোমবার জানিয়েছেন, প্রকল্প এলাকাগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।চীনা ও নেপালি সামরিক সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক দল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও এতে সহায়তা করছেন।জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজ করছিলেন এমন একজনের স্ত্রী সিতা পাণ্ডে নেপালের দৈনিক কান্তিপুর-কে বলেছেন, "আমার এখনও ৫০ শতাংশ আশা আছে যে সে বেঁচে আছে, কারণ ভেতরে অক্সিজেনের ব্যবস্থা রয়েছে।"নেপাল তার বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে জলবিদ্যুতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশটি বহু বছর ধরে পাহাড়ি নদীগুলোর পাশে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি করে আসছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় অন্তত ১১টি নির্মাণাধীন বা নির্মাণ শেষ হওয়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।উদ্ধারকারীরা সপ্তাহের শেষ নাগাদ একটি সুড়ঙ্গে বাতাস পাম্প করা শুরু করেছেন। তবে আটকে থাকা কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, এটি আরও আগেই করা উচিত ছিল।সোমবার সকালে একটি দল একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে যাওয়া একটি সুড়ঙ্গে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু সেখানে কাউকে না পেয়ে তারা ফিরে আসে।আটকে থাকা এক ব্যক্তির স্বজন জীবন খড়কা কান্তিপুর-কে বলেন, "যত বেশি সময় যাচ্ছে, আমাদের আশা ততই কমে যাচ্ছে। এই অভিযান আরও দ্রুত করতে হবে, কারণ আমাদের কাছে প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ"।খড়কা আরও বলেন, "উদ্ধার অভিযানে ধীরগতির বিষয়টি হতাশাজনক"।নেপালের নেতা শাহ জানান, উদ্ধার অভিযান 'আরও জোরদার করা হয়েছে'। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ৩৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।আরেকজন পরিবারের সদস্য, প্রিয়া খারেল, তার ভাই মিলানের খবরের জন্য উদ্বিগ্নভাবে অপেক্ষা করছেন। বন্যার সময় মিলান ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছিলেন।প্রিয়া বিবিসি নিউজ নেপালিকে বলেন, "জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে যারা ফিরে এসেছেন, তারা বলেছেন সুড়ঙ্গের ভেতরে মানুষ ছিল। তাই আশা আছে—সেনাবাহিনী যদি দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছাতে পারে, তাহলে তাদের বাঁচানো সম্ভব।"নেপালি কর্তৃপক্ষকে ভূগর্ভস্থ অনুসন্ধান অভিযানে অস্ট্রেলিয়ান প্রকৌশলী আর্নল্ড ডিক্স দূর থেকে সহায়তা করছেন। তিনি বলেছেন, সুড়ঙ্গগুলোর অবস্থান শনাক্ত করতে উদ্ধারকারীরা সমস্যায় পড়ছেন।বিবিসি রেডিও ৪-এর ওয়ার্ল্ড অ্যাট ওয়ান অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, "জায়গাটি দেখতে যেন চাঁদের পৃষ্ঠের মতো। ওগুলোর প্রকৃত চিহ্নই হারিয়ে গেছে- সবকিছু যেন উধাও।"ডিক্স বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অবস্থান শনাক্ত করা গেলে সেগুলোতে পৌঁছানোর সবচেয়ে কার্যকর পথ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। সাধারণত এর জন্য খনন এবং 'বড় বড় পাথরে বিস্ফোরণ ঘটাতে' হয়।তিনি বলেন, "এখানে এমন পাথর রয়েছে যেগুলো বাড়ির চেয়েও বড়- আমি জীবনে আগে কখনও এমন কিছু দেখিনি। এটি সত্যিই এক অসাধারণ অভিযান।"তবুও ভূগর্ভে আটকে থাকা মানুষদের নিয়ে তিনি কিছুটা আশাবাদী। কারণ ওপরের প্রবল বন্যার ধাক্কা থেকে ভূগর্ভস্থ পরিবেশ তাদের কিছুটা সুরক্ষা দিয়ে থাকতে পারে।এদিকে বন্যার মূল আঘাতের স্থান থেকে অনেক দূরে, ভাটির দিকে অবস্থিত চিতওয়ান জেলায় অস্থায়ীভাবে মৃতদেহ দাফন করা হচ্ছে। হিমালয় অঞ্চলের নদীগুলো দিয়ে প্রায় তিনশ মৃতদেহ ভেসে এসে ওই এলাকার তীরে জমা হয়েছে।পচনের গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। সাদা ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ও মাস্কও পরা কর্মীরা শনাক্ত করা যায়নি এমন মৃতদেহগুলো ট্রাকে তুলে দিচ্ছিলেন।শহরের বাইরে একটি জঙ্গলের বড় অংশ খুঁড়ে ফেলা হয়েছে। চিকিৎসাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা শনাক্ত না হওয়া মৃতদেহগুলোর কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ করেন।জেলা প্রধান কর্মকর্তা গণেশ আরিয়াল বিবিসি নেপালিকে বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মৃতদেহ শনাক্ত হওয়ার পর স্বজনরা তাদের প্রিয়জনের মরদেহ ফেরত নিতে পারবেন।তিনি বলেন, "আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ফ্রিজার নেই.... তাই অস্থায়ীভাবে দাফন করাই ছিল শেষ বিকল্প। আমরা পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সত্যিই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি।"তিব্বতে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১৬ এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৫৪৬ বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।চীনে বন্যার ভিডিও ব্যাপকভাবে সেন্সর করা হয়েছে। অনলাইনে কেউ সরকারি হিসাবে দেওয়া সংখ্যার চেয়ে মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি বলে অনুমান করলে চীনা কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে 'প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা' নিচ্ছে।এসব শাস্তির মধ্যে সতর্কবার্তা, জরিমানা এবং অল্প সময়ের জন্য আটক রাখার মতো ব্যবস্থা থাকতে পারে।নেপালেও কর্তৃপক্ষ বন্যা সম্পর্কে যেসব অনলাইন কনটেন্টকে ভুল তথ্য বা গুজব হিসেবে মনে করছে, সেগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে।

নেপালে ভয়াবহ বন্যা, সুড়ঙ্গে আটকা শত শত শ্রমিক

নেপালে বন্যার ৩ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৬ বছরের শিশু জীবিত উদ্ধার

নেপালের বন্যায় কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে তিন দিন আটকে থাকার পর ছয় বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় রসুয়া জেলার তিমুরে গ্রাম থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, ভোতে কোশি নদীর পানি উপচে তিমুরেসহ রসুয়া জেলার বিভিন্ন এলাকা ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়। এতে বহু মানুষ নিখোঁজ হন এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যার পর নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালানোর সময় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (এপিএফ) সদস্যরা মাটির নিচ থেকে ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনতে পান। শব্দের উৎস শনাক্ত করে দ্রুত সেখানে খননকাজ শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধারের পর প্রথমে তিমুরে অবস্থিত এপিএফের সীমান্ত চৌকিতে শিশুটির প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কাঠমান্ডুতে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় হেলিকপ্টারে করে তাকে কাঠমান্ডুতে নেওয়ার কথা থাকলেও খারাপ আবহাওয়া ও কম দৃশ্যমানতার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। পরে শনিবার দুপুরে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলে হেলিকপ্টারে করে তাকে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শিশুটিকে উদ্ধারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উদ্ধারকর্মীদের প্রশংসায় সরব হয়েছেন অনেকে। কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী শিশুটির পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষও তার পরিবার বা স্বজনদের সন্ধান করছে। সূত্র: এনডিটিভি 

নেপালে বন্যার ৩ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৬ বছরের শিশু জীবিত উদ্ধার

আমরা যে রাস্তা দিয়ে ফিরব, সেটি পুরো ধসে গেছে: তাসরিফ খান

 নেপালে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান। বন্যা ও পাহাড়ধসে ফেরার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুই দিন ধরে দেশটির পর্যটন এলাকা ঘান্দ্রুকে আটকা রয়েছেন তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা। ২০ আগস্ট অবসর কাটাতে নেপালে যান তাসরিফ। মঙ্গলবার ঘান্দ্রুকে পৌঁছান তারা। পরদিন ফিরে আসার পরিকল্পনা থাকলেও মোদি খোলার বন্যা ও পাহাড়ধসে বিরেঠাঁটি–ঘান্দ্রুক সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। তাসরিফ জানান, তাদের অবস্থান নেপালের গণ্ডকী প্রদেশের কাস্কি জেলার ঘান্দ্রুক গ্রামে। অন্নপূর্ণ অঞ্চলের প্রায় দুই হাজার মিটার উচ্চতার এই পর্যটন এলাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি বা ধ্বংসযজ্ঞ তারা দেখেননি। তবে বন্যা ও ভূমিধসে ফেরার সড়কের একাধিক অংশ ধসে গেছে। কোথাও কোথাও সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রশাসন ওই পথে চলাচল বন্ধ রেখেছে। তার ভাষ্য, বুধবারই তাদের ঘান্দ্রুক থেকে বের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কিছুটা দেরি হওয়ায় গাইড তাদের সতর্ক করে বলেন, ওই দিন আর যাওয়া নিরাপদ নয়। পরে তারা জানতে পারেন, যে পথ দিয়ে ফেরার কথা ছিল, তার বেশ কিছু অংশ ধসে গেছে। তাসরিফ বলেন, ‘আমরা যে রাস্তা দিয়ে ফিরব, সেটি পুরো ধসে গেছে। সময়মতো বের হলে হয়তো আমরাও বিপদের মধ্যে পড়তাম। দেরি হওয়াটাই আমাদের রক্ষা করেছে।’ jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6a9122b88631e" ) ); বর্তমানে তাদের গাইড বিকল্প পথের সন্ধান করছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। গাইড ফিরে আসার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান এই সংগীতশিল্পী। পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও দুই থেকে তিন দিন ঘান্দ্রুকে অবস্থান করতে হতে পারে বলেও জানান তিনি। দেশে ফেরার পথ নিয়ে দুশ্চিন্তার পাশাপাশি অর্থসংকটের কথাও জানিয়েছেন তাসরিফ। তার কাছে অল্প কিছু নেপালি রুপি ও প্রায় ১০০ মার্কিন ডলার রয়েছে। কার্ড বা ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগ সীমিত হওয়ায় নগদ অর্থ দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। এদিকে নতুন করে দেশে ফেরার টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না। সড়কপথ পুরোপুরি ব্যবহার করা সম্ভব না হলে নদীর পাশ দিয়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা হেঁটে যাওয়ার বিকল্প রয়েছে। তবে বন্যা ও ভূমিধসের মধ্যে পাহাড়ি পথে এমন যাত্রাকেও ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন তিনি। পরিস্থিতি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত কোনো ঝুঁকি নিতে চান না তাসরিফ। তাসরিফ জানান, টানা কাজের পর কয়েক দিনের অবসর কাটাতেই নেপালে গিয়েছিলেন। সম্প্রতি তার রোমান্টিক ঘরানার গান ‘বৃষ্টি’ প্রকাশ পেয়েছে। দেশে ফিরে রক ঘরানার নতুন গান ‘জীবনের চাকা’র মিউজিক ভিডিও ধারণের পরিকল্পনাও ছিল। গানটিতে জীবন, প্রেম ও রাজনৈতিক অস্থিরতার বিষয় তুলে ধরার কথা রয়েছে। তবে নেপালে আটকে পড়ার পর আপাতত এসব পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছেন না তিনি। তার একমাত্র চাওয়া নিরাপদে দেশে ফেরা। তাসরিফ বলেন, ‘শুধু নিরাপদে দেশে ফিরতে চাই। সবার কাছে দোয়া চাই, আমরা যেন সুস্থভাবে প্রিয়জনদের কাছে ফিরতে পারি।’

আমরা যে রাস্তা দিয়ে ফিরব, সেটি পুরো ধসে গেছে: তাসরিফ খান

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধস: মৃত বেড়ে ৪৭২

নেপাল-তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে এক ভয়াবহ হিমবাহ ধ্বসের ফলে সৃষ্ট প্রলয়ঙ্করি আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও উদ্ধার তৎপরতায় নতুন করে আতঙ্ক যোগ করেছে পাহাড়ের উঁচুতে জমা হওয়া একটি কৃত্রিম হ্রদ। যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে দ্বিতীয় দফায় বন্যার আশঙ্কায় তিব্বত সীমান্তে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, একটি বিশাল হিমবাহ ধসে পড়ার পর তৈরি হওয়া প্রকাণ্ড পানির তোড় মুহূর্তের মধ্যে লোকালয়, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ভাসিয়ে নিয়ে যায়। একই সাথে তিব্বত ও নেপালের মধ্যকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পারাপারটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।দুর্যোগের তীব্রতায় দুই দেশেই হতাহতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। নেপালে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে তিব্বতে ৩ জনের মৃত্যু এবং ৫৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে উভয় দেশের পরিসংখ্যানের মধ্যে কোনো পুনরাবৃত্তি (Overlap) রয়েছে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।রেড ক্রসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসি-কে জানিয়েছেন, আবারও বন্যা আঘাত হানতে পারে—এমন খবরের পর থেকে দুর্ঘটনাস্থলে বেঁচে যাওয়া মানুষদের সন্ধানে নিয়োজিত উদ্ধারকর্মীরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন।প্রতিবছর এই মনোরম পাহাড়ি অঞ্চলে হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণে যান। আকস্মিক এই বিপদে স্বজনদের হারিয়ে ও নিখোঁজের খবরে দূর-দূরান্তে থাকা পরিবারগুলোর মাঝে নেমে এসেছে চরম উৎকণ্ঠা। নিখোঁজ মা-বাবার অপেক্ষায় থাকা দুই বোন বিবিসি-কে আকুতি জানিয়ে বলেন, "আমরা শুধু তাদের খুব ভালোবাসি এবং চাই তারা নিরাপদে ঘরে ফিরে আসুক।"ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখন ধ্বংসস্তূপের চিত্র। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এবং নতুন করে প্লাবনের ঝুঁকিতে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধস: মৃত বেড়ে ৪৭২

নেপালে হিমবাহ ধসের পর আজকালের মধ্যেই ‘দ্বিতীয়-তৃতীয় ঢেউ’র আশঙ্কা

কাঠমান্ডু থেকে সরাসরি উত্তরে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় ২৪ হাজার ফুট (২৩ হাজার ৭৭০ ফুট)  বা ৭ হাজার ২৪৫ মিটার উঁচু লাংটাং লিরুং পর্বতের রয়েছে এক ভয়াবহ ইতিহাস। গতকাল বুধবার এখানেই হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটে। আর এতে এখন পর্যন্ত ২৭০ জনের প্রাণ হারানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে, বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন আজকালের মধ্যেই এমন ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার বা পানি ও কাদার স্রোতে ‘দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউ’ আসার আশঙ্কা আছে। ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে নেপালে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে লাংটাং লিরুংয়ের দক্ষিণ ঢালে একটি বিশাল তুষারধস বা অ্যাভালাঞ্চ সৃষ্টি হয়। সেই তুষারধস নিচের হিমবাহে গিয়ে পড়ে এবং লাংটাং গ্রামকে বরফ ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা দেয়। ওই ঘটনায় অন্তত ৩০০ মানুষ নিহত হন। এবার বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে চীনের সীমান্তের কাছে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। ঠিক একই সময়ে লাংটাং লিরুংয়ের উত্তর ঢালে ঘটে যায় বিশাল একটি তুষারধস। লাংটাং লিরুং পর্বতটি পুরোপুরি নেপালের ভূখণ্ডে অবস্থিত। তুষারধসের কারণে নেমে আসা বিপুল ধ্বংসস্তূপ চীনের সঙ্গে নেপালের সীমান্ত চিহ্নিতকারী এবং বর্ষার পানিতে ফুলে ওঠা লেন্দে খোলার গতিপথ আটকে দেয়। এর ফলে সেখানে একটি হ্রদের মতো জলাধার তৈরি হয়। কিছুক্ষণ পর সেই জমে থাকা পানি হঠাৎ বেরিয়ে গিয়ে কাদা ও বিশাল পাথরের দেয়ালের মতো স্রোত তৈরি করে। সেই স্রোত ত্রিশূলী নদী দিয়ে নেপালের ভেতরে দ্রুত নেমে যায়। স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করা বিশেষজ্ঞদের অন্তত প্রাথমিক ধারণা এমনই। প্ল্যানেট ল্যাবসের তোলা স্যাটেলাইট ছবি দেখে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তবে এই বিপর্যয়ের মূল কারণ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো মতভেদ রয়েছে। ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি উত্তর ঢালের ধস ঘটিয়েছে কি না, নাকি ধসটি এতটাই বিশাল ছিল যে সেটিই ভূকম্পনের মতো একটি কম্পন সৃষ্টি করেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। যদি ভূমিকম্পই তুষারধসের কারণ হয়ে থাকে, তাহলে এটি এমন একটি পর্বতকে নড়িয়ে দিয়েছে যার বরফ ও তুষার আগে থেকেই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছিল। এর সঙ্গে আরও কয়েকটি বিষয় পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক করে তুলেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বর্ষা মৌসুমের শেষ দিকে। ফলে পাহাড়ের ঢালে প্রচুর তুষার ও পানি ছিল। একই সঙ্গে হিমবাহ পিছিয়ে যাওয়ার ফলে পড়ে থাকা পাথর, মাটি ও অন্যান্য উপাদানে তৈরি মোরেইনগুলো আগে পারমাফ্রস্ট বা স্থায়ীভাবে জমে থাকা মাটির বরফের কারণে শক্তভাবে বাঁধা থাকত। কিন্তু এখন সেগুলো গলে যাওয়া বরফ ও পানিতে অনেক বেশি ভেজা ও দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই নির্দিষ্ট বিপর্যয় নেপালের ভেতরের একটি হিমবাহ থেকেই শুরু হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু এর প্রভাব আরও বড় একটি দীর্ঘমেয়াদি বিপদের দিকে ইঙ্গিত করছে। তিব্বত মালভূমি থেকে উৎপত্তি হওয়া হিমবাহের হ্রদ ভেঙে আকস্মিক বন্যা, পারমাফ্রস্ট গলে যাওয়া এবং মোরেইন ধসে পড়ার মতো ঘটনা ভবিষ্যতে সীমান্ত পেরিয়ে বড় ধরনের দুর্যোগ সৃষ্টি করতে পারে। ভূমিকম্পকে কারণ হিসেবে না ধরলেও হিমালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের কয়েকটি ভয়াবহ ‘হিমালয়ান সুনামি’ দেখা গেছে। এসব ঘটনায় হিমবাহ, বরফ, পানি, ভূমিধস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব একসঙ্গে কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২১ সালের চামোলি, ২০২১ সালের মেলামচি, ২০২৩ সালের সিকিম, ২০২৪ সালের থামে, ২০২৫ সালের ভোতে কোসি এবং এখন ২০২৬ সালের এই ঘটনা। এসব ঘটনার প্রায় সবকটিই বর্ষা মৌসুমে ঘটেছে। গত বছর ৮ জুলাইয়ের বন্যাতেও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। নিচের মানচিত্রে ওই বন্যার অবস্থান দেখানো হয়েছে। ওই ঘটনায় ১৮ জন নিহত হন। নেপাল-চীন সীমান্তে বাণিজ্য ও পর্যটনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত চেকপয়েন্টটি পানির তোড়ে ভেসে যায়। নেপালের বেশ কয়েকটি মহাসড়ক, জলবিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনও ধ্বংস হয়ে যায়। এসব অবকাঠামোর মেরামতের কাজ তখন মাত্র শুরু হয়েছিল। এদিকে, নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক বসন্ত রাজ অধিকারী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন, আজ বৃহহস্পতিবার অথবা আগামীকাল শুক্রবার ওই এলাকায় ‘দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউ’ আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। চীনে থাকা সহকর্মীদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ করছেন এবং তারাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। অধিকারীর ভাষায়, সেখানে এখন খুব বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। তবে নতুন করে ভূমিধস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও জানান, তারা হিমালয়ের বিভিন্ন ধরনের পাহাড়ি দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁর মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এখানে বাস্তবেই ঘটছে এবং তার প্রভাব সরাসরি দেখা যাচ্ছে। তবে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেও ঠিক কোন দিনে এমন একটি বিপর্যয় ঘটবে, তা আগে থেকে জানা সম্ভব হয়নি। অধিকারীর কথায়, ‘আমরা পর্যবেক্ষণ করছি, কিন্তু আমরা জানতাম না যে নির্দিষ্ট কোনো একটি দিনেই এমন ঘটনা ঘটবে।’ তথ্যসূত্র: নেপালি টাইমস ও বিবিসি

নেপালে হিমবাহ ধসের পর আজকালের মধ্যেই ‘দ্বিতীয়-তৃতীয় ঢেউ’র আশঙ্কা

নেপালে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার মাঝে অপু বিশ্বাসের স্বস্তির বার্তা

নেপালে অবস্থানরত  ‘শিকার’ সিনেমার পুরো টিম ও ঢালিউড নায়িকা অপু বিশ্বাসের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় ভক্ত ও স্বজনদের মধ্যে। অপু বিশ্বাস সেই উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় নিজের অবস্থার কথা জানিয়েছেন।  অপু বিশ্বাস বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় বলেন, ‘নেপালে আকস্মিক ভূমিকম্প ও বন্যায় শত শত বিদেশি পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর মাঝেই আমরা ‘শিকার’ সিনেমার টিম বর্তমানে নেপালে অবস্থান করছি। অপু বিশ্বাস চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে নেপাল গিয়েছেন। সিনেমাটিতে অপুর বিপরীতে মুর্তজা পলাশ অভিনয় করছেন। এতে আরো অভিনয় করছেন কলকাতার অভিনেতা রজতাভ দত্ত, শ্যাম ভট্টাচার্য প্রমুখ।

নেপালে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার মাঝে অপু বিশ্বাসের স্বস্তির বার্তা

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় আটকে পড়েছেন সঙ্গীতশিল্পী তাসরিফ খান

নেপালে ভয়াবহ বন্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সংগীতশিল্পী তাসরিফ খানের ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। দেশটির উত্তরাঞ্চলে তিব্বত-চীন সীমান্তসংলগ্ন রাসুয়া জেলায় ফ্ল্যাশ ফ্লাডের মধ্যে তাসরিফ ও তার দলের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের নিরাপদ থাকার খবর জানিয়েছেন তিনি। তাসরিফ জানান, তারা এখনও নেপালেই আছেন এবং আল্লাহর রহমতে এখন পর্যন্ত নিরাপদ। এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য দোয়াও করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, আমরা নেপালেই আছি এবং আল্লাহর অশেষ রহমতে এখন পর্যন্ত নিরাপদ আছি। নেপালের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই দুর্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, উত্তরাঞ্চলের রাসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যায় বহু পর্যটক নিখোঁজ ও হতাহত হয়েছেন। তাসরিফ বলেন, এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপদগ্রস্ত সকল মানুষের জন্য মন থেকে দোয়া করছি। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন, বিপদগ্রস্ত মানুষদের দ্রুত নিরাপদে ফিরিয়ে আনুন। সবশেষে নিজের ও দলের জন্যও ভক্তদের কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন। সংগীত ও মানবসেবা দিয়ে নজর কাড়া তাসরিফ খান আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিরাপদে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। তাদের সুরক্ষার বিষয়ে নিশ্চিত খবর পেয়ে অবশেষে আশ্বস্ত হয়েছেন চিন্তিত শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় আটকে পড়েছেন সঙ্গীতশিল্পী তাসরিফ খান

বাংলাদেশি ছবির শুটিংয়ে নেপালে গিয়ে দুর্যোগে খরাজ-রজতাভ

বাংলাদেশের একটি সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে টালিউডের দুই প্রখ্যাত অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় এবং রজতাভ দত্ত নেপালে প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়েছেন।   হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনযায়ী, টালিউডডের এই দুই শিল্পী বাংলাদেশের একটি ছবির শ্যুটিংয়ের কাজে নেপালে গিয়েছেন। অভিনেতা খরাজের সঙ্গে তার স্ত্রী এবং শুটিং দলের অন্যান্য সদস্যরাও সেখানে রয়েছেন।  নেপালের চীন সীমান্ত লাগোয়া রাসুয়া জেলায় হড়পা বানের দাপটে ধূলিসাৎ বিস্তীর্ণ এলাকা। স্বাভাবিকভাবেই যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। অভিনেতার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি। খরাজের চিন্তায় উদ্বিগ্ন পরিবার থেকে শুরু করে অনুরাগীর। অভিনেতাদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খরাজ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, যে তারা বর্তমানে হোটেলেই অবস্থান করছেন এবং নিরাপদে আছেন। তিনি জানান গত ২০ তারিখ তারা নেপালে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু পৌঁছানোর পর থেকেই প্রবল বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বারবার শুটিং ব্যাহত হয়। অত্যন্ত কষ্ট করে বৃষ্টির মধ্যেই শুটিং শেষ করতে হয়েছে তাদের। খরাজ আরও জানান, দুর্যোগের কারণে কাঠমান্ডু যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সকালের বিমানটি তারা ধরতে পারেননি। ফলে সড়কপথে ভারত সীমানার কাছে গোরক্ষপুর পৌঁছে সেখান থেকে ২৮ তারিখে সরাসরি কলকাতার বিমান ধরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন তারা। তিব্বত থেকে নেমে আসা ভোতে কোশি নদীতে আচমকা জলস্তর মারাত্মক বৃদ্ধি পাওয়ায় তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি-সহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাজার, রাস্তা ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বহু পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে শতাধিক ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন। আপাতত নেপাল সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী উদ্ধারে নেমেছে এবং দুর্যোগের কবলে থাকা ভারতীয়রা নিরাপদে ফিরে আসার পথ খুঁজছেন। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রসুয়া জেলায় হড়পা বানের ঘটনায় ইতিমধ্যেই অন্তত আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

বাংলাদেশি ছবির শুটিংয়ে নেপালে গিয়ে দুর্যোগে খরাজ-রজতাভ
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream