বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

ধ্বংসস্তূপের মাঝে একা কুকুর, অপেক্ষা পরিচিত মুখের


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| ফটো কার্ড

ধ্বংসস্তূপের মাঝে একা কুকুর, অপেক্ষা পরিচিত মুখের
ধ্বংসস্তূপের মাঝে একা কুকুর, অপেক্ষা পরিচিত মুখের

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় অসংখ্য ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। কাদামাটি আর ভেসে যাওয়া ঘরবাড়ির ধ্বংসাবশেষ চারপাশে শুধু ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। একটি কুকুর এমনই একটি বাড়ির ধ্বংসাবশেষের মধ্যে সারাক্ষণ বসে থাকছে। মাথা উঁচু করে আশপাশ দিয়ে কেউ গেলেই এটি তাকে দেখছে। সামান্য এগিয়ে গিয়ে আবার ফিরে যাচ্ছে আগের জায়গাতেই। যেন মণিব বা পরিচিত মানুষের আসার অপেক্ষায় সাদা-কালো রঙা কুকুরটি। 

কুকুরটি যেখানে বসে আছে, চারটি বাড়ি ছিল সেখানে ও এর আশপাশে। বন্যায় সবগুলো বাড়িই ভেসে গেছে। কুকুরটি ওই জায়গা ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চাচ্ছে না। উদ্ধারকর্মীরা বারবার চেষ্টা করেও কুকুরটিকে সেখান থেকে সরাতে পারেননি। বন্যায় বাসস্থান হারানো এই কুকুরের কোনো নাম ওই মুহূর্তে জানা সম্ভব হয়নি।  

ইন্ডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, কুকুরটি নুওয়াকোট জেলার ত্রিশুলি বাজারে ভেসে যাওয়া ওই চারটি বাড়ির ধ্বংসাবশেষের মধ্যেই বসে থাকছে। চারপাশে উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে কাদা, কাঠ ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করলেও কুকুরটি ওই জায়গা ছাড়ছে না।

উদ্ধারকর্মীদের ভাষ্য, এখনো কুকুরটির গলায় কলার রয়েছে। কুকুরটির আশপাশে যেসব মানুষ কাজ করছেন, তাদের দিকে কোনো নজরই দিচ্ছে না প্রাণীটি। কুকুরটি লেজও নাড়ছে না। বারবার শুধু সেই জায়গাতেই যাচ্ছে, যেখানে সম্ভবত একসময় বাড়িটির গেট বা প্রবেশপথ ছিল।

বিক্রম থাপা নামের এক স্বেচ্ছাসেবক জানান, উদ্ধারকর্মীরা প্রথমে খাবার ও পরিচিত ডাক দিয়ে কুকুরটিকে সেখান থেকে সরানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনোভাবেই তারা সেটি করতে পারেননি।  

এ বিষয়ে তিনি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, "আমরা বিস্কুট দিয়ে কুকুরটিকে কাছে টানার চেষ্টা করেছি, নানা আদুরে নামে নামে ডেকেছি। কিন্তু এটি মাথাটাও ঘোরায় না। এর গলার কলারটিও অক্ষত আছে। কুকুরটি এই জায়গা ছেড়ে যাবে না।" 

ধ্বংসাবশেষ অপসারণের কাজে যুক্ত সুনীল তামাং বলেন, খননযন্ত্র ও অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতির প্রচণ্ড শব্দও কুকুরটিকে সেখান থেকে সরাতে পারেনি।

ধ্বংসাবশেষ অপসারণে কাজে নিয়োজিত সুনীল তামাং টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, "চারপাশে এক্সকাভেটরের মতো ভারী ভারী সব যন্ত্রের ইঞ্জিনের শব্দ, ধ্বংসাবশেষ অপসারণের কাজ, এসবের মধ্যেও কুকুরটি ওই কাদামাখা জায়গাতেই বসে আছে।"

"কুকুরটি একবারও লেজ নাড়েনি। প্রাণীটি যেই বাড়িতে থাকত, সেই বাড়ির সীমানা পার হতে এটি রাজি নয়", যোগ করেন সুনীল। 

তিনি এও জানান, খননযন্ত্রগুলো যখন প্রাণীটির কাছাকাছি চলে আসে, তখনও এটিকে খুব একটা ভয় পেতে দেখা যায়নি।

উদ্ধারকর্মীরা জানান, কখনো কখনো কোনো গাড়ি বা মানুষ ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কুকুরটি মাথা তোলে, কিছুটা এগিয়ে আসে। কিন্তু তারা চলে গেলে কুকুরটি আবার একই জায়গায় ফিরে যায়।

কুকুরটি যেই জায়গায় বসে থাকছে, সেই জায়গার আশপাশে যে চারটি বাড়ি ছিল, বন্যায় সেগুলো সম্পূর্ণ ভেসে গেছে। এখন জায়গাটিতে আছে শুধু কাদা আর বাড়িগুলোর ধ্বংসাবশেষ। কুকুরটি কার ছিল বা চারটি বাড়ির মধ্যে কোন বাড়িতে কুকুরটি থাকত, সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

তবে কুকুরটির আচরণ দেখে সেখানে থাকা লোকজনের ধারণা, কুকুরটি এর পরিচিত পুরোনো এলাকা বা নিজের সীমানার মধ্যেই থাকতে চাইছে। এটি বারবার সেই বাড়ির জায়গায় ফিরে যাচ্ছে, যেটি একসময় বাড়িটির উঠান ছিল। 

প্রাণী উদ্ধারকাজে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবক রিতা গুরুং জানান, এখন মানুষজন কুকুরটিকে জোর করে সরানোর চেষ্টা বন্ধ করে দিয়েছেন। বরং তারা তার জন্য খাবার ও পানি রেখে যাচ্ছেন। 

রিতা গুরুং বলেন, "আমরা কয়েক ঘণ্টা পরপর তার কাছে শুকনো খাবার রেখে আসি। রাস্তা যখন শান্ত থাকে, তখন সে শুধু একটু খাবার খায়।"

বন্যায় ঘর হারানো বাসিন্দা মায়া অধিকারী বলেন, বন্যা শুরু হওয়ার সময় এলাকার বেশিরভাগ কুকুরই উঁচু জায়গায় চলে গিয়েছিল। কিন্তু এই কুকুর ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িগুলোর কাছেই থেকে যায়।

উল্লেখ্য, নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা মঙ্গলবার জানিয়েছে, দেশটিতে বন্যায় এখন পর্যন্ত ৯৮৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন, যাদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি। 

বিষয় : নেপাল বন্যা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ধ্বংসস্তূপের মাঝে একা কুকুর, অপেক্ষা পরিচিত মুখের

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় অসংখ্য ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। কাদামাটি আর ভেসে যাওয়া ঘরবাড়ির ধ্বংসাবশেষ চারপাশে শুধু ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। একটি কুকুর এমনই একটি বাড়ির ধ্বংসাবশেষের মধ্যে সারাক্ষণ বসে থাকছে। মাথা উঁচু করে আশপাশ দিয়ে কেউ গেলেই এটি তাকে দেখছে। সামান্য এগিয়ে গিয়ে আবার ফিরে যাচ্ছে আগের জায়গাতেই। যেন মণিব বা পরিচিত মানুষের আসার অপেক্ষায় সাদা-কালো রঙা কুকুরটি। 

কুকুরটি যেখানে বসে আছে, চারটি বাড়ি ছিল সেখানে ও এর আশপাশে। বন্যায় সবগুলো বাড়িই ভেসে গেছে। কুকুরটি ওই জায়গা ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চাচ্ছে না। উদ্ধারকর্মীরা বারবার চেষ্টা করেও কুকুরটিকে সেখান থেকে সরাতে পারেননি। বন্যায় বাসস্থান হারানো এই কুকুরের কোনো নাম ওই মুহূর্তে জানা সম্ভব হয়নি।  

ইন্ডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, কুকুরটি নুওয়াকোট জেলার ত্রিশুলি বাজারে ভেসে যাওয়া ওই চারটি বাড়ির ধ্বংসাবশেষের মধ্যেই বসে থাকছে। চারপাশে উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে কাদা, কাঠ ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করলেও কুকুরটি ওই জায়গা ছাড়ছে না।

উদ্ধারকর্মীদের ভাষ্য, এখনো কুকুরটির গলায় কলার রয়েছে। কুকুরটির আশপাশে যেসব মানুষ কাজ করছেন, তাদের দিকে কোনো নজরই দিচ্ছে না প্রাণীটি। কুকুরটি লেজও নাড়ছে না। বারবার শুধু সেই জায়গাতেই যাচ্ছে, যেখানে সম্ভবত একসময় বাড়িটির গেট বা প্রবেশপথ ছিল।

বিক্রম থাপা নামের এক স্বেচ্ছাসেবক জানান, উদ্ধারকর্মীরা প্রথমে খাবার ও পরিচিত ডাক দিয়ে কুকুরটিকে সেখান থেকে সরানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনোভাবেই তারা সেটি করতে পারেননি।  

এ বিষয়ে তিনি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, "আমরা বিস্কুট দিয়ে কুকুরটিকে কাছে টানার চেষ্টা করেছি, নানা আদুরে নামে নামে ডেকেছি। কিন্তু এটি মাথাটাও ঘোরায় না। এর গলার কলারটিও অক্ষত আছে। কুকুরটি এই জায়গা ছেড়ে যাবে না।" 

ধ্বংসাবশেষ অপসারণের কাজে যুক্ত সুনীল তামাং বলেন, খননযন্ত্র ও অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতির প্রচণ্ড শব্দও কুকুরটিকে সেখান থেকে সরাতে পারেনি।

ধ্বংসাবশেষ অপসারণে কাজে নিয়োজিত সুনীল তামাং টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, "চারপাশে এক্সকাভেটরের মতো ভারী ভারী সব যন্ত্রের ইঞ্জিনের শব্দ, ধ্বংসাবশেষ অপসারণের কাজ, এসবের মধ্যেও কুকুরটি ওই কাদামাখা জায়গাতেই বসে আছে।"

"কুকুরটি একবারও লেজ নাড়েনি। প্রাণীটি যেই বাড়িতে থাকত, সেই বাড়ির সীমানা পার হতে এটি রাজি নয়", যোগ করেন সুনীল। 

তিনি এও জানান, খননযন্ত্রগুলো যখন প্রাণীটির কাছাকাছি চলে আসে, তখনও এটিকে খুব একটা ভয় পেতে দেখা যায়নি।

উদ্ধারকর্মীরা জানান, কখনো কখনো কোনো গাড়ি বা মানুষ ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কুকুরটি মাথা তোলে, কিছুটা এগিয়ে আসে। কিন্তু তারা চলে গেলে কুকুরটি আবার একই জায়গায় ফিরে যায়।

কুকুরটি যেই জায়গায় বসে থাকছে, সেই জায়গার আশপাশে যে চারটি বাড়ি ছিল, বন্যায় সেগুলো সম্পূর্ণ ভেসে গেছে। এখন জায়গাটিতে আছে শুধু কাদা আর বাড়িগুলোর ধ্বংসাবশেষ। কুকুরটি কার ছিল বা চারটি বাড়ির মধ্যে কোন বাড়িতে কুকুরটি থাকত, সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

তবে কুকুরটির আচরণ দেখে সেখানে থাকা লোকজনের ধারণা, কুকুরটি এর পরিচিত পুরোনো এলাকা বা নিজের সীমানার মধ্যেই থাকতে চাইছে। এটি বারবার সেই বাড়ির জায়গায় ফিরে যাচ্ছে, যেটি একসময় বাড়িটির উঠান ছিল। 

প্রাণী উদ্ধারকাজে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবক রিতা গুরুং জানান, এখন মানুষজন কুকুরটিকে জোর করে সরানোর চেষ্টা বন্ধ করে দিয়েছেন। বরং তারা তার জন্য খাবার ও পানি রেখে যাচ্ছেন। 

রিতা গুরুং বলেন, "আমরা কয়েক ঘণ্টা পরপর তার কাছে শুকনো খাবার রেখে আসি। রাস্তা যখন শান্ত থাকে, তখন সে শুধু একটু খাবার খায়।"

বন্যায় ঘর হারানো বাসিন্দা মায়া অধিকারী বলেন, বন্যা শুরু হওয়ার সময় এলাকার বেশিরভাগ কুকুরই উঁচু জায়গায় চলে গিয়েছিল। কিন্তু এই কুকুর ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িগুলোর কাছেই থেকে যায়।

উল্লেখ্য, নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা মঙ্গলবার জানিয়েছে, দেশটিতে বন্যায় এখন পর্যন্ত ৯৮৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন, যাদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি। 


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream