শরিফুল রাজ ও সাবিলা নূর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায় প্রথমবার বড় পর্দায় একসঙ্গে কাজ করেন। আবারও এই জুটি প্রেক্ষাগৃহে ফিরছে। প্রথম সিনেমায় দুজন অপরিচিত মানুষের চরিত্রে অভিনয় করেছে। এবার দম্পতির চরিত্রে তাঁরা হাজির হচ্ছেন। ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’ নামের সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে ‘উৎসব’ ও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার নির্মাতা তানিম নূরের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বুড়িগঙ্গা টকিজের ব্যানারে। আয়মান হাসিব স্বাধীন ও সুস্ময় সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। কানাভুলা প্যারাডক্স দিয়ে বড় পর্দায় নির্মাতা হিসেবে অভিষেক হচ্ছে তাঁদের।
উৎসব ও বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার প্রযোজনা ও পরিচালনা করেছেন তানিম নূর। এবার কেবল প্রযোজক হিসেবে থাকছেন। এবারও তিনি সিনেমা নির্মাণের জন্য বেছে নিয়েছেন উপন্যাস। কানাভুলা প্যারাডক্স নির্মিত হবে মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর লেখা ‘কানাভুলো প্যারাডক্স’ অবলম্বনে।
উপন্যাসে গল্পটি এক নবদম্পতির। তারা হানিমুনে যাবে, কক্সবাজারে। দেশব্যাপী তখন মহামারির প্রকোপ, ঘোষণা করা হয়েছে লকডাউন। এর মাঝেই হানিমুনে যায় তারা। হোটেল বন্ধ, তাই ভাড়া নিল এক প্রবাসী ভদ্রলোকের বানানো বিশাল বাংলো। সঙ্গেই লাগোয়া সৈকত। জায়গাটা যেমন নির্জন, তেমন রহস্যময়। চাঁদনি রাতে জনশূন্য সৈকতে হাত ধরাধরি করে জোছনার আলোয় ভিজতে ভিজতে যখন কপোত-কপোতী দুজন নিজেদের ভেতর ভীষণ ডুবেছিল, ঘুণাক্ষরেও টের পায় না যে তারা একা নয় ওখানে। তাদের সঙ্গে আছে একটি অসংজ্ঞায়িত অস্তিত্ব কানাভুলা। এরপর ঘটতে থাকে নানা ঘটনা। সেই গল্পই পর্দায় তুলে ধরবেন নির্মাতা, তবে সিনেমার প্রয়োজনে থাকবে কিছু সংযোজন-পরিমার্জন।
নতুন এই সিনেমা নিয়ে প্রযোজক তানিম নূর বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলের প্রচলিত এক ভূতের নাম কানাভুলা। শোনা যায় এই ভূতে ধরলে মানুষ পথ হারিয়ে ফেলে। কী করছে, কোথায় যাচ্ছে কিছু বলতে পারে না। প্রচলিত সেই গল্প নিয়ে এই সিনেমা। এখানে অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার পাশাপাশি ভীষণ রোমান্টিক গল্পও দেখা যাবে।’
পরিচালক সুস্ময় সরকার বলেন, ‘আমি আর স্বাধীন ভাই দীর্ঘদিন ধরে বুড়িগঙ্গা টকিজের স্ক্রিপ্ট ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করছি। পাশাপাশি নিজেদের নির্মাণ নিয়ে ভাবছিলাম। কানাভুলো উপন্যাসটি পড়ে মনে হলো এটি হতে পারে আমাদের প্রথম সিনেমা। এখানে অতিপ্রাকৃতিক বিষয় আছে, রোমান্টিক গল্প আছে আর টাইম ট্রাভেলের ঘটনাও আছে—যা আমাদের দুজনের খুব পছন্দ।’
অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা দুই নির্মাতাকে নিয়ে তানিম নূর বলেন, ‘স্বাধীন ও সুস্ময় দুজনই খুব মেধাবী। ছয় বছরের বেশি সময় ধরে আমার সঙ্গে কাজ করছে। তারা যখন এই গল্প নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করল, আমি রাজি হয়ে গেলাম। কারণ আমাদের সিনেমায় প্রচলিত গল্পের বাইরের একটি গল্প এটি। আমার বিশ্বাস, দর্শকের খুব ভালো লাগবে। এ ছাড়া উপন্যাসটি যিনি লিখেছেন, তিনিও মেধাবী তরুণ। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দেশের এই মেধাবী তরুণদের সুযোগ দিলে তারা ভালো কিছু করবে।’
নির্মাতারা জানালেন, এখন চলছে সিনেমার প্রি-প্রোডাকশনের কাজ। আগামী বছরের জানুয়ারিতে শুরু হবে শুটিং। ২০২৭ সালের কোরবানির ঈদে প্রেক্ষাগৃহে কানাভুলা প্যারাডক্স মুক্তির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
মতামত