শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
ফিরে আসার গল্পে ফিরছেন না সুমাইয়া শিমু

ফিরে আসার গল্পে ফিরছেন না সুমাইয়া শিমু

মোস্তফা কামাল রাজের ‘ফিরে আসার গল্প’ দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর ধারাবাহিক নাটকে ফেরার কথা ছিল অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমুর। উচ্ছ্বসিত ছিলেন তিনি নাটকটি নিয়ে। জানিয়েছিলেন, অভিনয়কে মিস করছিলেন, ক্যামেরার সামনে আবার ফিরতে পেরে অনেক খুশি। তবে হঠাৎ জানা গেল, ধারাবাহিকটিতে সুমাইয়া শিমু থাকছেন না। ফিরে আসার গল্পে রুকাইয়া চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল শিমুর। চরিত্রটি নিয়ে শিমু বলেছিলেন, ‘বিরতির পর ফেরার মতো গল্প ও চরিত্র।’ তবে পর্দায় আর রুকাইয়া হয়ে ওঠা হলো না তাঁর। সুমাইয়া শিমুর পরিবর্তে এই চরিত্রে অভিনয় করছেন দীপা খন্দকার। আগে থেকেই এই নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দীপা। তাঁর অভিনয় করার কথা ছিল মরিয়ম চরিত্রে। সেই চরিত্রে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছেন রোজী সিদ্দিকী। ফিরে আসার গল্প ধারাবাহিকের অভিনয়শিল্পী পরিবর্তনের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিনেমাওয়ালা। তবে প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে সুমাইয়া শিমুর ফটোশুটের সব ছবি। নতুন করে মরিয়ম চরিত্রে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে রোজী সিদ্দিকীকে। ফিরে আসার গল্প ধারাবাহিক থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ জানতে সুমাইয়া শিমুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। নির্মাতার সঙ্গে যোগাযোগ করেও মেলেনি উত্তর। জানা গেছে, অসুস্থতার কারণে ধারাবাহিকটি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিমু। চোখের সমস্যার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে আছেন তিনি। সুমাইয়া শিমু অভিনয় করতে না পারলেও ফিরে আসার গল্প দিয়ে দীর্ঘদিন পর ধারাবাহিক নাটকে ফিরেছেন জাহিদ হাসান ও তানজিম সাইয়ারা তটিনী। এতে আরও অভিনয় করছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, খায়রুল বাসার, মনিরা মিঠু, ফয়জুল ইয়ামিন, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, মুকিত জাকারিয়া, এজাজুল ইসলাম, রাজু প্রমুখ। আগামী ৭ অক্টোবর থেকে সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার শুরু হবে ফিরে আসার গল্প ধারাবাহিকের। দেখা যাবে প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায়। এখন পুরোদমে চলছে শুটিং।

আজও হৃদয়ে সালমান শাহ, জন্মদিনে বিশেষ ট্রিবিউট

৫৫তম জন্মবার্ষিকী আজ চিত্রনায়ক সালমান শাহর। আজ বেঁচে থাকলে ৫৬ বছরে পা দিতেন তিনি। এই অভিনেতা ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর প্রয়াত হন ক্ষণজন্মা। মৃত্যুর ৩০ বছর পর, তাঁর জনপ্রিয়তা আজও অমলিন। সালমান শাহর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে ট্রিবিউট করে নির্মিত হয়েছে ‘ব্যাকডেটেড’ নামের স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা। ব্যাকডেটেড বানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ জিসান আহমেদ। যিনি এর আগে ‘থ্রি ইডিয়টস’, ‘মনপুরা’সহ বিশ্বসেরা কিছু সিনেমার গল্প পুনর্নির্মাণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন তৈরি করেছেন। এ ছাড়া আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড অবলম্বনে বানিয়েছে ‘রুম নম্বর ২০১১’ নামের স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা। সালমান শাহকে ট্রিবিউট করে নির্মিত ব্যাকডেটেড নিয়ে জিসান আহমেদ বলেন, ‘চলচ্চিত্রে সালমান শাহর ক্যারিয়ার, ওই সময়ে তাঁর জনপ্রিয়তার গল্প উঠে আসবে এই সিনেমায়। তাঁর সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যাবে এতে। স্বল্প সময় হলেও এখানে একটি বার্তাও থাকবে। আশা করছি সবার ভালো লাগবে।’ নির্মাতা জানান, সালমান শাহর পরিবারের অনুমতি নিয়েই স্বল্পদৈর্ঘ্যটি বানিয়েছেন তিনি। এতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারুক আহমেদ। আরও আছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আজ সন্ধ্যা ৭টায় জিসু এন্টারটেইনমেন্ট ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে স্বল্পদৈর্ঘ্যটি।

আজও হৃদয়ে সালমান শাহ, জন্মদিনে বিশেষ ট্রিবিউট

ফারিয়ার ‘ট্রাইব্যুনাল’ ছাড়ার খবরে যা বললেন নির্মাতা

চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া শিডিউল জটিলতায় রায়হান খানের ‘ট্রাইব্যুনাল’ সিনেমা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিষয়টি গত সোমবার নিশ্চিত করেছেন ফারিয়া। তবে আজকের পত্রিকাকে নির্মাতা রায়হান খান জানালেন, ফারিয়ার সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি তিনি জানেন না তিনি। এ নিয়ে ফারিয়ার সঙ্গে তাঁর কোনো কথা হয়নি। চট্টগ্রামে এক গৃহবধূকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে ট্রাইব্যুনাল। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর ক্যারিয়ারের দুই যুগ পূর্তি উপলক্ষে সিনেমার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন নির্মাতা রায়হান। এ বছরের কোনো এক ঈদে মুক্তির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন সে সময়। এতে আইনজীবীর ভূমিকায় অভিনয়ের কথা ছিল নুসরাত ফারিয়ার। তবে এখনো ফারিয়ার অংশের শুটিংসহ বাকি রয়ে গেছে অনেকাংশের শুটিং। শুটিংয়ের এই অনিশ্চয়তার কারণেই সিনেমায় না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফারিয়া। ট্রাইব্যুনাল সিনেমা থেকে সরে আসার প্রসঙ্গে ফারিয়া বলেন, ‘ক্রিটিক্যাল কোনো কারণ নেই। এই সিনেমার চরিত্রটি আমার খুব পছন্দের ছিল। অভিনয়ের জন্য এক্সাইটেড ছিলাম। কিন্তু শুটিং নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে শিডিউল জটিলতাসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে আমাদের ব্যাটে বলে মিলছিল না। তাই সরে আসা। জটিল কোনো সমস্যা নয়।’ ফারিয়ার সরে আসার বিষয়ে রায়হান খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল সিনেমা না করার বিষয়ে ফারিয়ার সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনোভাবেই আমাকে কিছু জানায়নি। তাই এ নিয়ে কোনো কথা বলতে পারব না।’ অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনাল সিনেমার অন্য দুই অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি ও মৌসুমী হামিদ এখন শুটিংয়ের জন্য প্রস্তুত নন। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত ফেব্রুয়ারি থেকে চিকিৎসাধীন তানিয়া বৃষ্টি, আর প্রথমবার মা হওয়ার অপেক্ষায় আছেন মৌসুমী হামিদ। ট্রাইব্যুনাল সিনেমার সবশেষ পরিস্থিতি জানতে চাইলে রায়হান খান বলেন, ‘তানিয়া বৃষ্টির অসুস্থতা আর মৌসুমী হামিদের মাতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়টি চাইলেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব না। আমরা তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছি। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনাল একটি ইনডিপেনডেন্ট সিনেমা। যেহেতু এ ধরনের সিনেমায় নির্দিষ্ট প্রযোজক থাকেন না, তাই অনেক সময় বাজেট-সংক্রান্ত ইস্যু হয়। আশা করছি সব জটিলতা কাটিয়ে এ বছরের শেষ দিকে শুটিং শুরু করতে পারব।’

ফারিয়ার ‘ট্রাইব্যুনাল’ ছাড়ার খবরে যা বললেন নির্মাতা

২৫ বছরের নির্মাণযাত্রায় চয়নিকার চার বিশেষ নাটক

২০০১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর চয়নিকা চৌধুরী প্রথম নাটকের শুটিং করেন। নাম ছিল ‘শেষ বেলায়’। এরপর একে একে চার শতাধিক নাটক বানিয়েছেন। ‘বিশ্বসুন্দরী’ ও ‘প্রহেলিকা’ নামের দুটি সিনেমা পরিচালনা করেছেন। এ বছর নির্মাণ ক্যারিয়ারের ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে চয়নিকার। এ উপলক্ষে চারটি নাটক বানিয়েছেন তিনি। ১৮ সেপ্টেম্বর নাটকগুলো প্রচারিত হবে চারটি ভিন্ন টিভি চ্যানেলে, পরদিন প্রকাশ করা হবে ইউটিউব চ্যানেলে। চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত হবে ইফফাত আরেফিন তন্বির লেখা ‘সময় একটু থামো’। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফজাল হোসেন, জাকিয়া বারী মম, রোজী সিদ্দিকী, ফারজানা ছবি প্রমুখ। টিভিতে প্রচারের পর নাটকটি দেখা যাবে গানচিল ইউটিউব চ্যানেলে। এটিএন বাংলায় প্রচারিত হবে নাটক ‘বিষণ্ন মেঘ’। চয়নিকা চৌধুরীর দেখা সত্য ঘটনা অবলম্বনে নাটকটি লিখেছেন ইফফাত আরেফিন তন্বি। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ, জাকিয়া বারী মম, সাদিয়া আয়মান, ডলি জহুর প্রমুখ। এটিএনে প্রচারের পর প্রকাশ পাবে লেজার ভিশন ইউটিউব চ্যানেলে। বৈশাখী টিভিতে দেখা যাবে নাটক ‘জোছনায় ফেরা’। এটি লিখেছেন শফিকুর রহমান শান্তনু। অভিনয়ে ইরফান সাজ্জাদ, আইশা খান, দীপা খন্দকার প্রমুখ। এটি দেখা যাবে লেজার ভিশন ইউটিউব চ্যানেলে। আহমেদ তৌকীরের লেখা ‘প্রথম দেখার পর’ দেখা যাবে মাছরাঙা টেলিভিশনে। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ, তানজিন তিশা, আবুল হায়াত ও ডলি জহুর। টিভিতে প্রচারের পর প্রকাশ পাবে জি সিরিজ ইউটিউব চ্যানেলে। ক্যারিয়ারের ২৫ বছর পূর্তির এই আয়োজন নিয়ে চয়নিকা চৌধুরী বলেন, ‘সময় আসলে কত দ্রুত চলে যায়। মনে হচ্ছে, এই তো সেদিন ২০০১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নির্মাতা হিসেবে প্রথম শুটিং করেছিলাম। অনেক ভয়ে ছিলাম। সেদিনের কথা মনে পড়লে আজও ভয় করে। দেখতে দেখতে ২৫ বছর হয়ে গেল। নির্মাণ আমার কাছে প্রার্থনার মতো। রজতজয়ন্তী উপলক্ষে অনেকে বড় ধরনের আয়োজন করে। আমার মনে হয়েছে এখনো সেই সময় হয়নি। মনে হলো নাটক বানাব। যে দর্শকের ভালোবাসায় নাটক বানিয়ে যাচ্ছি, তাদের জন্যই এই চারটি নাটক।’

২৫ বছরের নির্মাণযাত্রায় চয়নিকার চার বিশেষ নাটক

তরুণদের নিয়ে নতুন যাত্রায় মোশাররফ করিম

মোশাররফ করিমের পর্দায় চরিত্র রূপায়ণে জুড়ি নেই। ১৯৯৯ সালে ‘অতিথি’ নাটক দিয়ে ভিজ্যুয়াল মিডিয়ায় কাজ শুরু। তারও এক দশক আগে থেকে মঞ্চনাটকের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা। এবার তরুণ অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেবেন মোশাররফ। ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দিনব্যাপী অভিনয় কর্মশালা। একাডেমি অব ক্রিয়েটিভ প্রফেশনালস আয়োজিত এই কর্মশালায় অভিনয়ের পাঠ দেবেন মোশাররফ করিম। তিনি ছাড়াও থাকবেন নাট্যকার, নির্দেশক ও শিক্ষক ইউসুফ হাসান অর্ক। কর্মশালাটি ভাগ করা হয়েছে দুই ভাগে। প্রথম ভাগে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ‘থিওরি অব অ্যাকটিং’ সেশনে ইউসুফ হাসান অর্ক তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আলোচনা করবেন। অর্কের আলোচনার বিষয়বস্তু—অভিনয় ও পারফরম্যান্সের মানসিক-শারীরিক প্রস্তুতি, ন্যাচারাল ও স্টাইলাইজড অভিনয়পদ্ধতি, চরিত্র নির্মাণ (স্তানিস্লাভস্কি), টেম্পো, রিদম ও শারীরিক অভিব্যক্তি এবং অভিনয়ে মিউজিক্যালিটির ভূমিকা। এরপর সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হবে মোশাররফ করিমের মাস্টারক্লাস। ‘আর্ট অব অ্যাকটিং’ সেশনে নিজের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আলোচনা করবেন তিনি। চরিত্রের জন্য মানসিক প্রস্তুতি, চরিত্র বোঝা ও চরিত্রের মধ্যে প্রবেশ করার পদ্ধতি, চরিত্রের আবেগকে সত্যিকারের অভিনয়ে রূপ দেওয়ার কৌশল, পরিচালকের নির্দেশনা বোঝা ও নিজের সঙ্গে সমন্বয় করার নিয়ম এবং একজন পেশাদার অভিনেতা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলা নিয়ে কথা বলবেন মোশাররফ করিম। নিবন্ধনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫০ জন এই কর্মশালায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আয়োজকেরা মনে করেন, অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত বা আগ্রহ আছে এমন যে কারও জন্য এই ওয়ার্কশপ আজীবনের অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। এর আগে নির্দেশনা, সাউন্ড ডিজাইন, লোকেশন, সিনেমাটোগ্রাফি, প্রযোজনাসহ নানা বিষয়ে কর্মশালার আয়োজন করেছে একাডেমি অব ক্রিয়েটিভ প্রফেশনালস। এই উদ্যোগের প্রশংসা করে মোশাররফ করিম বলেন, ‘বাংলাদেশে এই ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আছে। বিশেষ করে নাটক, সিনেমায় যাঁরা কাজ করতে চান তাঁদের জন্য নানা কার্যক্রম এখানে আছে। মূলত এক দিনের ক্লাস। এই ক্লাসগুলো করলে নানা জটিল বিষয় সরল হয়ে যাবে।’

তরুণদের নিয়ে নতুন যাত্রায় মোশাররফ করিম

জন্মশতবর্ষেও উত্তমকুমার যে কারণে এতটা প্রাসঙ্গিক

আজ ৩ সেপ্টেম্বর বেঁচে থাকলে উত্তমকুমার ১০০ বছর বয়সে পা রাখতেন। জন্মশতবর্ষ পেরিয়েও তাঁর ব্যক্তিত্ব, অভিনয়ক্ষমতা, সংগ্রাম, প্রভাব, সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা—সবই এখনো বাঙালির নিত্যদিনের চর্চার বিষয়। ভবানীপুরের মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে। থিয়েটার দেখে ছোটবেলায় অভিনয়ের প্রতি ভালো লাগা, লুকিয়ে রিহার্সাল দেখা, পরে যুক্ত হয়ে যাওয়া পাড়া আর স্কুলের নাটকের সঙ্গে এবং এভাবে অভিনয়ের প্রেমে বিভোর হয়ে যাওয়া সেই ছিপছিপে গড়নের ছেলেটি নেহাতই ঝোঁকের মাথায় ঢুকে পড়েছিলেন চলচ্চিত্রে। তখন তাঁর বাচনভঙ্গিতে সামান্য জড়তাও ছিল। সেই ত্রুটি কাটিয়ে ওঠার জন্য দিনের পর দিন পরিশ্রম। এক ছিমছাম ধুতি-পাঞ্জাবি পরা ছেলে চোখে কল্পনার রঙিন চশমা লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে স্টুডিও পাড়ায়—এটা ব্যতিক্রম কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু উত্তমকুমারের মধ্যে যেটা স্বতন্ত্র ব্যাপার ছিল, সেটা হলো তাঁর লেগে থাকা, দিনের পর দিন নিজেকে তৈরি করে নেওয়া এবং লক্ষ্যে একলব্যের মতো একাগ্র থাকা। একসময় উত্তমকুমার টালিগঞ্জ স্টুডিও পাড়া চষে বেড়িয়েছেন একটু সুযোগের আশায়। এই অধ্যবসায়ের তাৎক্ষণিক ফল প্রথম দিকের যে সিনেমাগুলো, তার প্রায় সব কটাতেই তিনি ব্যর্থ হন। ব্যর্থতা দিয়েই শুরু হয়েছিল তাঁর পথচলা। সিনেমায় উত্তমের প্রথম আত্মপ্রকাশ ১৯৪৮ সালে—‘দৃষ্টিদান’ সিনেমায়। এতে তিনি নায়ক নন, ছিলেন পার্শ্বচরিত্রে। সিনেমা ফ্লপ হয়। পরের বছর পর্দায় নায়ক হিসেবে দেখা দেন ‘কামনা’ সিনেমা দিয়ে। সেটিও ব্যর্থ। ‘মর্যাদা’ সিনেমায় নাম পাল্টে অরূপ কুমার নামে অভিনয় করেন। কিন্তু নাম বদলালেও ভাগ্য বদলায়নি। ‘সহযাত্রী’, ‘ওরে যাত্রী’, ‘নষ্টনীড়’, ‘সঞ্জীবনী’—টানা ফ্লপের কারণে তাঁকে একটা সময়ে প্রযোজকেরা নিতেই চাইতেন না। তাঁর নামের পাশে বসে গিয়েছিল ‘ফ্লপ মাস্টার জেনারেল’ তকমা। কিন্তু কোনো দিনই ধৈর্য হারাননি। তাঁর মূলধন ছিল ধৈর্য আর বিনয়। পরিচালক সুকুমার দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, উত্তমকুমারের স্বভাবে কোনো দিনই বিরক্তি বা ঔদ্ধত্য দেখা যায়নি। বরং সবার সঙ্গে এমন মধুর ও আন্তরিক ব্যবহার করতেন, দারোয়ান কিংবা প্রোডাকশন বয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিটি পর্যন্ত তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকতেন। অভিনয়ের সময় তিনি ছিলেন ছাত্রের মতো। অভিনয় শেখার প্রতি ছিল অবিচল নিষ্ঠা। ১৯৫২ সালে ‘বসু পরিবার’ দিয়ে আলোর দেখা পান উত্তম। ১৯৫৪ সালে ‘চাঁপাডাঙ্গার বউ’, ‘সদানন্দের মেলা’, ‘ওরা থাকে ওধারে’, ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘কল্যাণী’সহ তাঁর একগুচ্ছ সিনেমা মুক্তি পায়। এ বছর থেকেই উত্তমকুমারের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরতে শুরু করে। পঞ্চাশের দশকে বাংলা সিনেমা গ্ল্যামারের প্রতিযোগিতায় হিন্দির কাছে নিশ্চিতভাবে হেরে যাচ্ছিল। দর্শকদের ভালো লাগাকে মুগ্ধতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা তখনকার বাংলা সিনেমার ছিল না। ঠিক এই পটভূমিতে আসে অগ্রদূতের পরিচালনায় ‘অগ্নিপরীক্ষা’। নায়ক উত্তমকুমার, নায়িকা সুচিত্রা সেন। প্রায় ম্যাজিকের মতো ফল পাওয়া যায় এই সিনেমা থেকে। নায়ক থেকে মহানায়কের শীর্ষ আসনটিতে উত্তরণের সঠিক যাত্রারম্ভ হয় অগ্নিপরীক্ষা থেকে। বাঙালি দর্শক তাঁদের আইডিয়াল একজন রোমান্টিক হিরোকে খুঁজে পান উত্তমকুমারের মধ্যে। পঞ্চাশের দশকের প্রায় মধ্যভাগ থেকে দর্শক, প্রযোজক, পরিবেশক ও পরিচালকদের দৃষ্টি কেড়ে নিতে লাগলেন উত্তমকুমার। বক্স অফিসের নিশ্চিত গ্যারান্টি হয়ে উঠলেন। এই দশকে মুক্তি পায় ‘গৃহপ্রবেশ’, ‘মন্ত্রশক্তি’, ‘মরণের পরে’, ‘রাইকমল’, ‘শাপমোচন’, ‘সবার উপরে’, ‘সাগরিকা’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘চিরকুমার সভা’, ‘একটি রাত’, ‘শ্যামলী’, ‘ত্রিযামা’, ‘শিল্পী’, ‘নবজন্ম’, ‘পৃথিবী আমারে চায়’, ‘তাসের দেশ’, ‘হারানো সুর’, ‘পথে হলো দেরী’, ‘বিচারক’সহ কালজয়ী সব সিনেমা। প্রায় একই রকম অবস্থা ষাটের দশকেও। ভালো-মন্দ-মাঝারি সব মিলিয়ে তিনিই সর্বোচ্চ সিনেমার মুখ্য ভূমিকায়। শুধু রোমান্টিক নায়কের ভূমিকাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, মদ্যপ জমিদার থেকে ছিঁচকে চোর—বহু ভূমিকাতেই নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। এই দশকেই উত্তমকুমারের জীবনে আরও একটি নতুন মাত্রা যোগ হয়। সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ও ‘চিড়িয়াখানা’ সিনেমায় অভিনয় করেন। তাঁর অভিনয়ের ব্যপ্তি ও বিশালতা যে কত দূর যেতে পারে, তা প্রমাণ করে দেয় এই দুটি সিনেমা। ষাটের দশকের সাফল্যের পর সত্তরের দশকেও অবস্থা অপরিবর্তিত থাকে। একটানা সাফল্যের জয়রথটা সাময়িকভাবে কখনো যে একটু থমকে দাঁড়ায়নি, এমন নয়। কিন্তু সেই থামাটা পথের ওপর দাগ না ফেলতেই জয়রথ আবার গতি পেয়েছে। ১৯৮০ সালে আচমকা তাঁর প্রস্থান স্তব্ধ করে দিয়েছিল বাংলা সিনেমাকে। কিন্তু সময় কিংবা মৃত্যু—কোনোটিই বাঙালির হৃদয় থেকে উত্তমকুমারকে দূরে সরাতে পারেনি। জন্মশতবর্ষে দাঁড়িয়েও তাঁর সেই চিরচেনা জাদুকরি হাসি, নিখুঁত বাচনভঙ্গি আর রোমান্টিক রাজকীয় আবেদন বিন্দুমাত্র মলিন হয়নি। সিনেমা হলের রুপালি পর্দা থেকে হালের ওটিটি—আজও মধ্যবিত্ত বাঙালির আবেগ, ভালোবাসা আর নস্টালজিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি। জন্মশতবর্ষ পেরিয়েও মহানায়কের সিংহাসনে উত্তমকুমার একা, অপরাজিত ও চিরভাস্বর।

জন্মশতবর্ষেও উত্তমকুমার যে কারণে এতটা প্রাসঙ্গিক

রাজ-সাবিলার নতুন রসায়ন ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’

শরিফুল রাজ ও সাবিলা নূর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায় প্রথমবার বড় পর্দায় একসঙ্গে কাজ করেন। আবারও এই জুটি প্রেক্ষাগৃহে ফিরছে। প্রথম সিনেমায় দুজন অপরিচিত মানুষের চরিত্রে অভিনয় করেছে। এবার দম্পতির চরিত্রে তাঁরা হাজির হচ্ছেন। ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’ নামের সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে ‘উৎসব’ ও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার নির্মাতা তানিম নূরের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বুড়িগঙ্গা টকিজের ব্যানারে। আয়মান হাসিব স্বাধীন ও সুস্ময় সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। কানাভুলা প্যারাডক্স দিয়ে বড় পর্দায় নির্মাতা হিসেবে অভিষেক হচ্ছে তাঁদের। উৎসব ও বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার প্রযোজনা ও পরিচালনা করেছেন তানিম নূর। এবার কেবল প্রযোজক হিসেবে থাকছেন। এবারও তিনি সিনেমা নির্মাণের জন্য বেছে নিয়েছেন উপন্যাস। কানাভুলা প্যারাডক্স নির্মিত হবে মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর লেখা ‘কানাভুলো প্যারাডক্স’ অবলম্বনে। উপন্যাসে গল্পটি এক নবদম্পতির। তারা হানিমুনে যাবে, কক্সবাজারে। দেশব্যাপী তখন মহামারির প্রকোপ, ঘোষণা করা হয়েছে লকডাউন। এর মাঝেই হানিমুনে যায় তারা। হোটেল বন্ধ, তাই ভাড়া নিল এক প্রবাসী ভদ্রলোকের বানানো বিশাল বাংলো। সঙ্গেই লাগোয়া সৈকত। জায়গাটা যেমন নির্জন, তেমন রহস্যময়। চাঁদনি রাতে জনশূন্য সৈকতে হাত ধরাধরি করে জোছনার আলোয় ভিজতে ভিজতে যখন কপোত-কপোতী দুজন নিজেদের ভেতর ভীষণ ডুবেছিল, ঘুণাক্ষরেও টের পায় না যে তারা একা নয় ওখানে। তাদের সঙ্গে আছে একটি অসংজ্ঞায়িত অস্তিত্ব কানাভুলা। এরপর ঘটতে থাকে নানা ঘটনা। সেই গল্পই পর্দায় তুলে ধরবেন নির্মাতা, তবে সিনেমার প্রয়োজনে থাকবে কিছু সংযোজন-পরিমার্জন। নতুন এই সিনেমা নিয়ে প্রযোজক তানিম নূর বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলের প্রচলিত এক ভূতের নাম কানাভুলা। শোনা যায় এই ভূতে ধরলে মানুষ পথ হারিয়ে ফেলে। কী করছে, কোথায় যাচ্ছে কিছু বলতে পারে না। প্রচলিত সেই গল্প নিয়ে এই সিনেমা। এখানে অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার পাশাপাশি ভীষণ রোমান্টিক গল্পও দেখা যাবে।’ পরিচালক সুস্ময় সরকার বলেন, ‘আমি আর স্বাধীন ভাই দীর্ঘদিন ধরে বুড়িগঙ্গা টকিজের স্ক্রিপ্ট ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করছি। পাশাপাশি নিজেদের নির্মাণ নিয়ে ভাবছিলাম। কানাভুলো উপন্যাসটি পড়ে মনে হলো এটি হতে পারে আমাদের প্রথম সিনেমা। এখানে অতিপ্রাকৃতিক বিষয় আছে, রোমান্টিক গল্প আছে আর টাইম ট্রাভেলের ঘটনাও আছে—যা আমাদের দুজনের খুব পছন্দ।’ অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা দুই নির্মাতাকে নিয়ে তানিম নূর বলেন, ‘স্বাধীন ও সুস্ময় দুজনই খুব মেধাবী। ছয় বছরের বেশি সময় ধরে আমার সঙ্গে কাজ করছে। তারা যখন এই গল্প নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করল, আমি রাজি হয়ে গেলাম। কারণ আমাদের সিনেমায় প্রচলিত গল্পের বাইরের একটি গল্প এটি। আমার বিশ্বাস, দর্শকের খুব ভালো লাগবে। এ ছাড়া উপন্যাসটি যিনি লিখেছেন, তিনিও মেধাবী তরুণ। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দেশের এই মেধাবী তরুণদের সুযোগ দিলে তারা ভালো কিছু করবে।’ নির্মাতারা জানালেন, এখন চলছে সিনেমার প্রি-প্রোডাকশনের কাজ। আগামী বছরের জানুয়ারিতে শুরু হবে শুটিং। ২০২৭ সালের কোরবানির ঈদে প্রেক্ষাগৃহে কানাভুলা প্যারাডক্স মুক্তির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

রাজ-সাবিলার নতুন রসায়ন ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’

ছয় সিনেমা বাতিল, প্রযোজক মেঘকে ব্যাখ্যা দিতে বলল বোর্ড

প্রতারণা ও মানহীনতার অভিযোগে প্রযোজক মনজুরুল ইসলাম মেঘের প্রযোজিত ছয় সিনেমার সার্টিফিকেশন আবেদন বাতিল করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড।সিনেমাগুলো হলো—‘পরিণাম’, ‘রঙ্গশালা’, ‘রক্ত পিপাসা’, ‘রসু খাঁ’, ‘পাহাড়ের আর্তনাদ’ ও ‘বনদস্যু’। গত ৩০ জুলাই সিনেমাগুলো বোর্ডে জমা দেওয়া হয়। এরপর ১২ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যায়ক্রমে সিনেমাগুলো যাচাই-বাছাই করেন বোর্ড সদস্যরা।বোর্ডের অভিযোগ, ‘পাহাড়ের আর্তনাদ’ ২০২২ সালে সার্টিফিকেট পাওয়া ‘যমজ ভূতের গল্প’-এর সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। একইভাবে ‘বনদস্যু’ সিনেমার গল্প, সংলাপ ও দৃশ্য ২০২৩ সালে সার্টিফিকেট পাওয়া ‘আমার অরণ্য’ সিনেমার সঙ্গে মিলে গেছে।এ ছাড়া বাকি চার সিনেমায় অশ্লীল সংলাপ, মদ্যপান-ধূমপানের দৃশ্য, নিম্নমানের নির্মাণ ও কনটেন্টের অভিযোগ এনে এগুলোকে প্রদর্শনের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।প্রতারণার অভিযোগে কেন প্রযোজকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—সাত কার্যদিবসের মধ্যে তার লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে বোর্ড।তবে অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে মনজুরুল ইসলাম মেঘ বলেছেন, আগের দুটি সিনেমার স্বত্ব তিনি কিনেছেন। বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

ছয় সিনেমা বাতিল, প্রযোজক মেঘকে ব্যাখ্যা দিতে বলল বোর্ড
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream