মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
রাতারাতি খ্যাতি, তারপরই আড়ালে মালিনী শর্মা

রাতারাতি খ্যাতি, তারপরই আড়ালে মালিনী শর্মা

রাতারাতি পরিচিতি পেয়েছিলেন ‘রাজ’ সিনেমার মাধ্যমে । বিক্রম ভাট পরিচালিত ২০০২ সালে এই সিনেমায় ডিনো মরিয়ার সঙ্গে তার অভিনয় দর্শকের নজর কাড়েন। এরপর হঠাৎ করেই তিনি বলিউড থেকে। দীর্ঘদিন পর এই অভিনেত্রী জানান, কেন অভিনয় থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। বলছি, অভিনেত্রী মালিনী শর্মার কথা। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে নিজের একটি ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে ভক্তদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মালিনী। সেখানে অভিনয়ে আসা ও সিনেমা থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণ জানান তিনি। মালিনী জানিয়েছেন, অভিনেত্রী হওয়ার কোনো পরিকল্পনাই তার ছিল না। ‘রাজ’-এ অভিনয়ের সুযোগও অনেকটা হঠাৎ করেই এসেছিল। পরে সিনেমাটি তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দিলে সেই জনপ্রিয়তার সঙ্গে কীভাবে এগোবেন, তা নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় পড়ে যান তিনি। এক ভক্তের প্রশ্নের জবাবে মালিনী লেখেন, ‘অভিনেত্রী হওয়ার কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা আমার কখনো ছিল না। ‘রাজ’ হঠাৎ হয়ে গিয়েছিল এবং আমি পরিস্থিতির সঙ্গে এগিয়ে গিয়েছিলাম। সিনেমাটি মুক্তির পর আমার ওপর হঠাৎ করে যে বিপুল আলো এসে পড়ল, তখন ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি নিশ্চিত ছিলাম না। তাই একটু ধীর হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’ তবে মালিনী স্পষ্ট করেছেন, তিনি হঠাৎ করে সবকিছু ছেড়ে দেননি। কিছুদিন সিনেমার আড়ালে কাজ করেছেন। পরে সন্তানদের জন্মের পর তার জীবনের অগ্রাধিকার বদলে যায়। সিনেমা ছেড়ে দেওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, যেভাবে বলা হয় আমি হঠাৎ উধাও হয়ে যাইনি। কিছুদিন ক্যামেরার পেছনে কাজ করেছি। এরপর আমার জীবনে সন্তানরা আসে এবং তাদের দেখাশোনা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়ি।’ অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও মালিনী পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় ছিলেন না। সিনেমার বাইরে নিজের জন্য নতুন একটি জীবন গড়ে তুলেছেন তিনি। ক্যামেরার পেছনে কাজ করার পাশাপাশি ‘দ্য স্লো লোকাল’ নামে একটি ব্র্যান্ডও তৈরি করেছেন। সময়ের সঙ্গে ব্র্যান্ডটির কার্যক্রম ও রূপে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে সাহ্যাদ্রি পাহাড় এলাকায় বসবাস করছেন মালিনী। সেখানে একটি ফার্মস্টে পরিচালনা করছেন তিনি। অর্থাৎ বলিউডের আলোঝলমলে জীবন থেকে অনেকটাই দূরে গিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি একটি জীবন বেছে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তবে ভক্তদের অনেকেই এখনও বড় পর্দায় তাকে দেখতে চান। মালিনী আবার অভিনয়ে ফিরবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। অবশ্য সম্ভাবনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করেননি। এক ভক্ত তাঁকে আবার সিনেমায় ফেরার অনুরোধ করলে মালিনী সংক্ষেপে উত্তর দেন, ‘দেখা যাক। ভাগ্যে থাকলে হবে।’ অভিনেত্রী হিসেবে ‘রাজ’ তার জীবনে হঠাৎ আসা একটি অধ্যায় হলেও সিনেমাটির জনপ্রিয়তা তাঁকে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে দেয়। এরপর বলিউড থেকে সরে গিয়ে সন্তান, প্রকৃতি ও নিজের উদ্যোগকে ঘিরে নতুন জীবন বেছে নিয়েছেন তিনি। আবার কখনো অভিনয়ের জগতে ফিরবেন কি না, সেই উত্তর আপাতত ভবিষ্যতের হাতেই রেখেছেন মালিনী শর্মা। সূত্র: এনডিটিভি

ভেনিসে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর বিশ্ব প্রিমিয়ার

বাংলাদেশের সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছে ইতালির ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে । রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত সিনেমাটি উৎসবের ৮৩তম আসরের সম্মানজনক ‘অরিজোন্তি’ প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রথম কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে ভেনিসের পর্দায় ইতিহাস গড়েছে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। শৈশবের স্মৃতি, একটি বিউটি পার্লার ও বিয়েবাড়ির ভীতিপ্রদ গল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। প্রায় ২০ বছর ধরে সিনেমাটির ভাবনা নিয়ে কাজ করছেন পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন। শৈশবে পার্লারে শোনা একটি গল্প ও সেই সময়ের কিছু স্মৃতি তাকে দীর্ঘদিন ধরে তাড়া করে ফিরেছে। সেই স্মৃতি থেকেই ঢাকার একটি বিউটি পার্লার, একটি বিয়ে এবং ছোটবেলার এক ভয়ের গল্পকে ঘিরে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি।  ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর আরেকটি বিশেষত্ব হলো এর নারীনির্ভর নির্মাণদল। আবহ সংগীত ছাড়া চিত্রগ্রহণ, সম্পাদনা ও প্রোডাকশন ডিজাইনসহ প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের প্রধান ছিলেন নারীরা। এ প্রসঙ্গে পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন বলেন, নারী টেকনিশিয়ানদের দক্ষতা ও কাজের গতি ছিল বিস্ময়কর। নারীরা ভালো সিনেমা বানাতে পারে না এমন ভুল ধারণা ভাঙতে পেরেছে সিনেমাটি।  চলচ্চিত্রটির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন নতুন মুখ জাইনীন চৌধুরী করিম। এ ছাড়া বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুনেরাহ বিনতে কামাল। অতিথি চরিত্রে দেখা গেছে আজমেরী হক বাঁধন ও দামীর খানকে। ফ্রান্স, পর্তুগাল, নরওয়ে, জার্মানি ও বাংলাদেশের খনা টকিজের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। চলতি বছরের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সিনেমাটির প্রদর্শনী হবে। আর আগামী বছর বাংলাদেশের দর্শকেরা প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখতে পারবেন।  

ভেনিসে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর বিশ্ব প্রিমিয়ার

সালমান শাহকে স্মরণে তিন দিনের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনের উন্মুক্ত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করেছে। এ উৎসব চলবে ‘সালমান শাহ স্মরণে’ শিরোনামে আজ রোববার থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। বিএফডিসির ভিআইপি প্রজেকশন হলে প্রতিদিন বিকেল ৪টায় দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে এই আয়োজন। আজ রোববার এ অভিনেতার ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী। আয়োজকরা জানিয়েছেন সালমান অভিনীত ৩ টি সিনেমা দেখানো হবে উৎসবে। প্রথম দিন আজ বিকাল ৪টায় প্রদর্শিত হবে এম এ খালেক পরিচালিত সিনেমা ‘স্বপ্নের ঠিকানা’। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া এ সিনেমায় সালমানের বীপরীতে অভিনয় করেন শাবনূ ও সোনিয়া। দ্বিতীয় দিন আগামীকাল একই সময়ে দেখানো হবে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। ১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া এ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে ঢাকাই চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয়েছিল সালমান শাহ ও মৌসুমী জুটির। সিনেমায় অভিনয় করেছেন রাজীব, আবুল হায়াত প্রমূখ। উৎসবের শেষ আগামী মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় থাকছে মতিন রহমান পরিচালিত ‘তোমাকে চাই’।  ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া এ সিনেমায় সালমান শাহর বিপরীতে অভিনয় করেছেন শাবনূর। চার বছরের অভিনয়জীবনে সালমান সিনেমা করেছেন ২৭টি। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের দারিয়াপাড়ায় নানাবাড়িতে জন্ম সালমান শাহর। শৈশবে সংগীতের পাঠ নিয়েছিলেন ছায়ানটে, গেয়েছেন গানও।

সালমান শাহকে স্মরণে তিন দিনের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী

ফিরেই নতুন ব্যস্ততায় শাকিব খান

ঢালিউডের শীর্ষ তারকা শাকিব খান দুই মাসের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন। তিনি গত মঙ্গলবার ঢাকা পৌঁছান। দীর্ঘ সফর শেষে এই অভিনেতা দেশে ফিরলেও বিশ্রামের সুযোগ খুব একটা পাচ্ছেন না। ব্যস্ততা শাকিবের ক্যারিয়ারে যেন নিত্যসঙ্গী। একদিকে একের পর এক সিনেমার প্রস্তাব, অন্যদিকে নিজের পছন্দের গল্প ও চরিত্র বেছে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে প্রতিনিয়ত আলোচনায় থাকেন তিনি। দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও নিজের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছেন এ অভিনেতা। নতুন কোনো সিনেমায় যুক্ত হওয়ার খবর এলে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় বাড়তি আগ্রহ। গত ২ জুলাই রাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন শাকিব। প্রায় দুই মাসের সফরে ব্যক্তিগত কাজের পাশাপাশি ব্যবসায়িক কিছু দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। নির্ধারিত কাজগুলো শেষ করে দেশে ফেরেন। তবে দেশে ফেরার পর তাঁর সামনে অপেক্ষা করছে চলচ্চিত্রের ব্যস্ত সময়। নিজের কাজ প্রসঙ্গে শাকিবের ভাবনাও বরাবরের মতো পরিষ্কার। তিনি মনে করেন, দর্শকের প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজের মান ধরে রাখাটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।  তাঁর ভাষায়, ‘আমি সব সময় চেষ্টা করি দর্শককে ভালো কিছু দেওয়ার। একটি সিনেমায় অভিনয়ের আগে গল্প, চরিত্র ও নির্মাণ–সবকিছু নিয়ে ভাবি। সামনে যে কাজগুলো করছি, সেগুলো নিয়েও আমার অনেক প্রত্যাশা আছে। আশা করছি, দর্শক নতুন কাজগুলোও পছন্দ করবেন।’ যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে নতুন একটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার খবর দিয়েছিলেন শাকিব। মেহেদী হাসান হৃদয়ের পরিচালনায় নির্মিতব্য সিনেমাটিতে অভিনয় করবেন তিনি। শিগগির সিনেমাটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে দেশে ফিরে নতুন চরিত্র ও গল্প নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করতে হচ্ছে তাঁকে। তবে নতুন সিনেমায় ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আগে শেষ করতে হবে পুরোনো একটি কাজ। আগামী সপ্তাহে ‘সোলজার’ সিনেমার বাকি থাকা কয়েকটি দৃশ্যের শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে শাকিবের। এই কাজ শেষ করে নতুন সিনেমার শুটিংয়ে যোগ দেবেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তাঁর ভাবনায়ও রয়েছে কাজের ধারাবাহিকতার বিষয়টি। শাকিব বলেন, ‘দেশে ফিরেছি, এখন মূল মনোযোগ সিনেমার কাজে। সামনে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। একটার পর একটা কাজ শেষ করতে চাই। তবে কাজের মানের সঙ্গে কোনো আপস করতে চাই না।’ সাম্প্রতিক সময়ে শাকিব খানের ক্যারিয়ারে এসেছে নতুন গতি। ‘প্রিয়তমা’, ‘তুফান’সহ একাধিক সিনেমা তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। ফলে নতুন সিনেমা বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এখন আগের চেয়ে বেশি সতর্ক এই তারকা।  দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা শাকিবের জন্য অবশ্য নতুন কিছু নয়। সিনেমার শুটিং, পারিবারিক প্রয়োজন ও ব্যক্তিগত নানা কাজে একাধিকবার সেখানে অবস্থান করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারী হওয়ায় বছরের নির্দিষ্ট একটি সময় তাঁকে দেশটিতে অবস্থান করতে হয়। এবারের সফরেও সে বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। তবে সফর শেষে দেশে ফেরার পর এখন তাঁর সামনে শুধু কাজের ব্যস্ততা। নতুন গল্প, নতুন চরিত্র আর নতুন নির্মাতাদের সঙ্গে কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে কতটা নতুনভাবে উপস্থাপন করতে পারেন–এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ফিরেই নতুন ব্যস্ততায় শাকিব খান

জন্মশতবর্ষেও উত্তমকুমার যে কারণে এতটা প্রাসঙ্গিক

আজ ৩ সেপ্টেম্বর বেঁচে থাকলে উত্তমকুমার ১০০ বছর বয়সে পা রাখতেন। জন্মশতবর্ষ পেরিয়েও তাঁর ব্যক্তিত্ব, অভিনয়ক্ষমতা, সংগ্রাম, প্রভাব, সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা—সবই এখনো বাঙালির নিত্যদিনের চর্চার বিষয়। ভবানীপুরের মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে। থিয়েটার দেখে ছোটবেলায় অভিনয়ের প্রতি ভালো লাগা, লুকিয়ে রিহার্সাল দেখা, পরে যুক্ত হয়ে যাওয়া পাড়া আর স্কুলের নাটকের সঙ্গে এবং এভাবে অভিনয়ের প্রেমে বিভোর হয়ে যাওয়া সেই ছিপছিপে গড়নের ছেলেটি নেহাতই ঝোঁকের মাথায় ঢুকে পড়েছিলেন চলচ্চিত্রে। তখন তাঁর বাচনভঙ্গিতে সামান্য জড়তাও ছিল। সেই ত্রুটি কাটিয়ে ওঠার জন্য দিনের পর দিন পরিশ্রম। এক ছিমছাম ধুতি-পাঞ্জাবি পরা ছেলে চোখে কল্পনার রঙিন চশমা লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে স্টুডিও পাড়ায়—এটা ব্যতিক্রম কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু উত্তমকুমারের মধ্যে যেটা স্বতন্ত্র ব্যাপার ছিল, সেটা হলো তাঁর লেগে থাকা, দিনের পর দিন নিজেকে তৈরি করে নেওয়া এবং লক্ষ্যে একলব্যের মতো একাগ্র থাকা। একসময় উত্তমকুমার টালিগঞ্জ স্টুডিও পাড়া চষে বেড়িয়েছেন একটু সুযোগের আশায়। এই অধ্যবসায়ের তাৎক্ষণিক ফল প্রথম দিকের যে সিনেমাগুলো, তার প্রায় সব কটাতেই তিনি ব্যর্থ হন। ব্যর্থতা দিয়েই শুরু হয়েছিল তাঁর পথচলা। সিনেমায় উত্তমের প্রথম আত্মপ্রকাশ ১৯৪৮ সালে—‘দৃষ্টিদান’ সিনেমায়। এতে তিনি নায়ক নন, ছিলেন পার্শ্বচরিত্রে। সিনেমা ফ্লপ হয়। পরের বছর পর্দায় নায়ক হিসেবে দেখা দেন ‘কামনা’ সিনেমা দিয়ে। সেটিও ব্যর্থ। ‘মর্যাদা’ সিনেমায় নাম পাল্টে অরূপ কুমার নামে অভিনয় করেন। কিন্তু নাম বদলালেও ভাগ্য বদলায়নি। ‘সহযাত্রী’, ‘ওরে যাত্রী’, ‘নষ্টনীড়’, ‘সঞ্জীবনী’—টানা ফ্লপের কারণে তাঁকে একটা সময়ে প্রযোজকেরা নিতেই চাইতেন না। তাঁর নামের পাশে বসে গিয়েছিল ‘ফ্লপ মাস্টার জেনারেল’ তকমা। কিন্তু কোনো দিনই ধৈর্য হারাননি। তাঁর মূলধন ছিল ধৈর্য আর বিনয়। পরিচালক সুকুমার দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, উত্তমকুমারের স্বভাবে কোনো দিনই বিরক্তি বা ঔদ্ধত্য দেখা যায়নি। বরং সবার সঙ্গে এমন মধুর ও আন্তরিক ব্যবহার করতেন, দারোয়ান কিংবা প্রোডাকশন বয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিটি পর্যন্ত তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকতেন। অভিনয়ের সময় তিনি ছিলেন ছাত্রের মতো। অভিনয় শেখার প্রতি ছিল অবিচল নিষ্ঠা। ১৯৫২ সালে ‘বসু পরিবার’ দিয়ে আলোর দেখা পান উত্তম। ১৯৫৪ সালে ‘চাঁপাডাঙ্গার বউ’, ‘সদানন্দের মেলা’, ‘ওরা থাকে ওধারে’, ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘কল্যাণী’সহ তাঁর একগুচ্ছ সিনেমা মুক্তি পায়। এ বছর থেকেই উত্তমকুমারের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরতে শুরু করে। পঞ্চাশের দশকে বাংলা সিনেমা গ্ল্যামারের প্রতিযোগিতায় হিন্দির কাছে নিশ্চিতভাবে হেরে যাচ্ছিল। দর্শকদের ভালো লাগাকে মুগ্ধতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা তখনকার বাংলা সিনেমার ছিল না। ঠিক এই পটভূমিতে আসে অগ্রদূতের পরিচালনায় ‘অগ্নিপরীক্ষা’। নায়ক উত্তমকুমার, নায়িকা সুচিত্রা সেন। প্রায় ম্যাজিকের মতো ফল পাওয়া যায় এই সিনেমা থেকে। নায়ক থেকে মহানায়কের শীর্ষ আসনটিতে উত্তরণের সঠিক যাত্রারম্ভ হয় অগ্নিপরীক্ষা থেকে। বাঙালি দর্শক তাঁদের আইডিয়াল একজন রোমান্টিক হিরোকে খুঁজে পান উত্তমকুমারের মধ্যে। পঞ্চাশের দশকের প্রায় মধ্যভাগ থেকে দর্শক, প্রযোজক, পরিবেশক ও পরিচালকদের দৃষ্টি কেড়ে নিতে লাগলেন উত্তমকুমার। বক্স অফিসের নিশ্চিত গ্যারান্টি হয়ে উঠলেন। এই দশকে মুক্তি পায় ‘গৃহপ্রবেশ’, ‘মন্ত্রশক্তি’, ‘মরণের পরে’, ‘রাইকমল’, ‘শাপমোচন’, ‘সবার উপরে’, ‘সাগরিকা’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘চিরকুমার সভা’, ‘একটি রাত’, ‘শ্যামলী’, ‘ত্রিযামা’, ‘শিল্পী’, ‘নবজন্ম’, ‘পৃথিবী আমারে চায়’, ‘তাসের দেশ’, ‘হারানো সুর’, ‘পথে হলো দেরী’, ‘বিচারক’সহ কালজয়ী সব সিনেমা। প্রায় একই রকম অবস্থা ষাটের দশকেও। ভালো-মন্দ-মাঝারি সব মিলিয়ে তিনিই সর্বোচ্চ সিনেমার মুখ্য ভূমিকায়। শুধু রোমান্টিক নায়কের ভূমিকাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, মদ্যপ জমিদার থেকে ছিঁচকে চোর—বহু ভূমিকাতেই নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। এই দশকেই উত্তমকুমারের জীবনে আরও একটি নতুন মাত্রা যোগ হয়। সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ও ‘চিড়িয়াখানা’ সিনেমায় অভিনয় করেন। তাঁর অভিনয়ের ব্যপ্তি ও বিশালতা যে কত দূর যেতে পারে, তা প্রমাণ করে দেয় এই দুটি সিনেমা। ষাটের দশকের সাফল্যের পর সত্তরের দশকেও অবস্থা অপরিবর্তিত থাকে। একটানা সাফল্যের জয়রথটা সাময়িকভাবে কখনো যে একটু থমকে দাঁড়ায়নি, এমন নয়। কিন্তু সেই থামাটা পথের ওপর দাগ না ফেলতেই জয়রথ আবার গতি পেয়েছে। ১৯৮০ সালে আচমকা তাঁর প্রস্থান স্তব্ধ করে দিয়েছিল বাংলা সিনেমাকে। কিন্তু সময় কিংবা মৃত্যু—কোনোটিই বাঙালির হৃদয় থেকে উত্তমকুমারকে দূরে সরাতে পারেনি। জন্মশতবর্ষে দাঁড়িয়েও তাঁর সেই চিরচেনা জাদুকরি হাসি, নিখুঁত বাচনভঙ্গি আর রোমান্টিক রাজকীয় আবেদন বিন্দুমাত্র মলিন হয়নি। সিনেমা হলের রুপালি পর্দা থেকে হালের ওটিটি—আজও মধ্যবিত্ত বাঙালির আবেগ, ভালোবাসা আর নস্টালজিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি। জন্মশতবর্ষ পেরিয়েও মহানায়কের সিংহাসনে উত্তমকুমার একা, অপরাজিত ও চিরভাস্বর।

জন্মশতবর্ষেও উত্তমকুমার যে কারণে এতটা প্রাসঙ্গিক

রাজ-সাবিলার নতুন রসায়ন ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’

শরিফুল রাজ ও সাবিলা নূর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায় প্রথমবার বড় পর্দায় একসঙ্গে কাজ করেন। আবারও এই জুটি প্রেক্ষাগৃহে ফিরছে। প্রথম সিনেমায় দুজন অপরিচিত মানুষের চরিত্রে অভিনয় করেছে। এবার দম্পতির চরিত্রে তাঁরা হাজির হচ্ছেন। ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’ নামের সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে ‘উৎসব’ ও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার নির্মাতা তানিম নূরের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বুড়িগঙ্গা টকিজের ব্যানারে। আয়মান হাসিব স্বাধীন ও সুস্ময় সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। কানাভুলা প্যারাডক্স দিয়ে বড় পর্দায় নির্মাতা হিসেবে অভিষেক হচ্ছে তাঁদের। উৎসব ও বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার প্রযোজনা ও পরিচালনা করেছেন তানিম নূর। এবার কেবল প্রযোজক হিসেবে থাকছেন। এবারও তিনি সিনেমা নির্মাণের জন্য বেছে নিয়েছেন উপন্যাস। কানাভুলা প্যারাডক্স নির্মিত হবে মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর লেখা ‘কানাভুলো প্যারাডক্স’ অবলম্বনে। উপন্যাসে গল্পটি এক নবদম্পতির। তারা হানিমুনে যাবে, কক্সবাজারে। দেশব্যাপী তখন মহামারির প্রকোপ, ঘোষণা করা হয়েছে লকডাউন। এর মাঝেই হানিমুনে যায় তারা। হোটেল বন্ধ, তাই ভাড়া নিল এক প্রবাসী ভদ্রলোকের বানানো বিশাল বাংলো। সঙ্গেই লাগোয়া সৈকত। জায়গাটা যেমন নির্জন, তেমন রহস্যময়। চাঁদনি রাতে জনশূন্য সৈকতে হাত ধরাধরি করে জোছনার আলোয় ভিজতে ভিজতে যখন কপোত-কপোতী দুজন নিজেদের ভেতর ভীষণ ডুবেছিল, ঘুণাক্ষরেও টের পায় না যে তারা একা নয় ওখানে। তাদের সঙ্গে আছে একটি অসংজ্ঞায়িত অস্তিত্ব কানাভুলা। এরপর ঘটতে থাকে নানা ঘটনা। সেই গল্পই পর্দায় তুলে ধরবেন নির্মাতা, তবে সিনেমার প্রয়োজনে থাকবে কিছু সংযোজন-পরিমার্জন। নতুন এই সিনেমা নিয়ে প্রযোজক তানিম নূর বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলের প্রচলিত এক ভূতের নাম কানাভুলা। শোনা যায় এই ভূতে ধরলে মানুষ পথ হারিয়ে ফেলে। কী করছে, কোথায় যাচ্ছে কিছু বলতে পারে না। প্রচলিত সেই গল্প নিয়ে এই সিনেমা। এখানে অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার পাশাপাশি ভীষণ রোমান্টিক গল্পও দেখা যাবে।’ পরিচালক সুস্ময় সরকার বলেন, ‘আমি আর স্বাধীন ভাই দীর্ঘদিন ধরে বুড়িগঙ্গা টকিজের স্ক্রিপ্ট ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করছি। পাশাপাশি নিজেদের নির্মাণ নিয়ে ভাবছিলাম। কানাভুলো উপন্যাসটি পড়ে মনে হলো এটি হতে পারে আমাদের প্রথম সিনেমা। এখানে অতিপ্রাকৃতিক বিষয় আছে, রোমান্টিক গল্প আছে আর টাইম ট্রাভেলের ঘটনাও আছে—যা আমাদের দুজনের খুব পছন্দ।’ অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা দুই নির্মাতাকে নিয়ে তানিম নূর বলেন, ‘স্বাধীন ও সুস্ময় দুজনই খুব মেধাবী। ছয় বছরের বেশি সময় ধরে আমার সঙ্গে কাজ করছে। তারা যখন এই গল্প নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করল, আমি রাজি হয়ে গেলাম। কারণ আমাদের সিনেমায় প্রচলিত গল্পের বাইরের একটি গল্প এটি। আমার বিশ্বাস, দর্শকের খুব ভালো লাগবে। এ ছাড়া উপন্যাসটি যিনি লিখেছেন, তিনিও মেধাবী তরুণ। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দেশের এই মেধাবী তরুণদের সুযোগ দিলে তারা ভালো কিছু করবে।’ নির্মাতারা জানালেন, এখন চলছে সিনেমার প্রি-প্রোডাকশনের কাজ। আগামী বছরের জানুয়ারিতে শুরু হবে শুটিং। ২০২৭ সালের কোরবানির ঈদে প্রেক্ষাগৃহে কানাভুলা প্যারাডক্স মুক্তির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

রাজ-সাবিলার নতুন রসায়ন ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’

দেশ পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনেরাহ

সুনেরাহ বিনতে কামাল অভিনেত্রী। তিনি প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাত করেছিলেন ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ পেয়ে। ঢালিউডে অভিনয়দক্ষতা দিয়ে দ্রুতই নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করে নেন এই অভিনেত্রী। তবে এবার আর কেবল দেশের গণ্ডি নয়, তার ক্যারিয়ারে নতুন এক আন্তর্জাতিক মাইলফলক যোগ হতে যাচ্ছে।  তার অভিনীত নতুন সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে অফিশিয়াল সিলেকশন পেয়েছে।  বাংলাদেশের কোনো সিনেমা রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো বিশ্বের প্রাচীনতম এই উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে ।  এই ঐতিহাসিক অর্জনের অংশ হতে এবং সিনেমার অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের সঙ্গে যোগ দিতে খুব শিগগিরই ইতালির ভেনিস শহরের উদ্দেশ্যে উড়াল দেবেন সুনেরাহ। ভেনিসের মতো বিশ্বমানের প্ল্যাটফর্মে আমন্ত্রণ পাওয়াকে কেবল ব্যক্তি ক্যারিয়ারের প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন না সুনেরাহ।  বরং আন্তর্জাতিক এই মঞ্চকে অভিজ্ঞতা অর্জনের এক নতুন ক্ষেত্র মনে করছেন তিনি। বিশ্বচলচ্চিত্রের নামীদামি নির্মাতা, আন্তর্জাতিক তারকা ও সিনেমা বিশেষজ্ঞদের সাথে এক ছাদের নিচে উপস্থিত থাকার এই সফর তার অভিনয় যাত্রায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে আশাবাদী এই অভিনেত্রী।

দেশ পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনেরাহ

বাংলাদেশি ছবির শুটিংয়ে নেপালে গিয়ে দুর্যোগে খরাজ-রজতাভ

বাংলাদেশের একটি সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে টালিউডের দুই প্রখ্যাত অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় এবং রজতাভ দত্ত নেপালে প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়েছেন।   হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনযায়ী, টালিউডডের এই দুই শিল্পী বাংলাদেশের একটি ছবির শ্যুটিংয়ের কাজে নেপালে গিয়েছেন। অভিনেতা খরাজের সঙ্গে তার স্ত্রী এবং শুটিং দলের অন্যান্য সদস্যরাও সেখানে রয়েছেন।  নেপালের চীন সীমান্ত লাগোয়া রাসুয়া জেলায় হড়পা বানের দাপটে ধূলিসাৎ বিস্তীর্ণ এলাকা। স্বাভাবিকভাবেই যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। অভিনেতার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি। খরাজের চিন্তায় উদ্বিগ্ন পরিবার থেকে শুরু করে অনুরাগীর। অভিনেতাদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খরাজ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, যে তারা বর্তমানে হোটেলেই অবস্থান করছেন এবং নিরাপদে আছেন। তিনি জানান গত ২০ তারিখ তারা নেপালে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু পৌঁছানোর পর থেকেই প্রবল বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বারবার শুটিং ব্যাহত হয়। অত্যন্ত কষ্ট করে বৃষ্টির মধ্যেই শুটিং শেষ করতে হয়েছে তাদের। খরাজ আরও জানান, দুর্যোগের কারণে কাঠমান্ডু যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সকালের বিমানটি তারা ধরতে পারেননি। ফলে সড়কপথে ভারত সীমানার কাছে গোরক্ষপুর পৌঁছে সেখান থেকে ২৮ তারিখে সরাসরি কলকাতার বিমান ধরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন তারা। তিব্বত থেকে নেমে আসা ভোতে কোশি নদীতে আচমকা জলস্তর মারাত্মক বৃদ্ধি পাওয়ায় তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি-সহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাজার, রাস্তা ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বহু পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে শতাধিক ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন। আপাতত নেপাল সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী উদ্ধারে নেমেছে এবং দুর্যোগের কবলে থাকা ভারতীয়রা নিরাপদে ফিরে আসার পথ খুঁজছেন। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রসুয়া জেলায় হড়পা বানের ঘটনায় ইতিমধ্যেই অন্তত আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

বাংলাদেশি ছবির শুটিংয়ে নেপালে গিয়ে দুর্যোগে খরাজ-রজতাভ

‘দেশু ৭’ সিনেমায় আবারও এক হচ্ছেন দেব-শুভশ্রী

টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা দেব এবার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রথমবার পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন। ‘দেশু ৭’ সিনেমাটিতে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা ও পরিচালনাও সামলাচ্ছেন তিনি। দীর্ঘদিন পর পর্দায় ফিরছেন দেব-শুভশ্রী। তাদের নতুন এ রসায়ন দেখতে মুখিয়ে আছেন বাংলা সিনেমার দর্শকরা।  ‘দেশু ৭’ সিনেমার শুটিংয়ের পর্ব শেষ করেছেন। সম্প্রতি দৃশ্যধারণ শেষ হয়েছে লাদাখে। এরপর এক ব্যতিক্রমী ভিডিও তৈরি করেন এ তারকা জুটি। মূলত অনেক দিন আগের ব্যবসাসফল সিনেমা ‘রোমিও’-এর সুপারহিট গান ‘কবে আইবে আমার পালা রে’-এর তালে নেচেছেন তারা, যা সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের নিয়ে গেছে সেই পুরোনো দিনে, করেছে নস্টালজিয়ায়। সামাজিক মাধ্যমে সেই ভিডিওটি পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলি। তাতে উল্লেখ করেন এক বার্তা। সেই পোস্টে অভিনেত্রী লিখেছেন— ‘কৃতজ্ঞতা, গর্ব ও কিছুটা আবেগে ভরা হৃদয় নিয়ে আমরা ‘দেশু ৭’ সিনেমার শুটিং শেষের ঘোষণা দিচ্ছি। যারা এ সিনেমায় নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। শুটিং হয়তো শেষ। তবে সিনেমাটি নিয়ে আমাদের মূল যাত্রা কেবল শুরু হলো— এই পূজায় দেখা হচ্ছে প্রেক্ষাগৃহে!’ ভিডিওটিতে দেখা গেছে, একটি খোলা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ‘রোমিও’ সিনেমার সুপারহিট গান ‘কবে আইবে আমার পালা রে’-এর তালে নাচছেন দেব-শুভশ্রীসহ আরও কিছু পার্শ্বশিল্পী। আবহে লাদাখের সৌন্দর্যও দৃশ্যমান। এরপর ড্রোন রাইজ শট দিয়ে শেষ করা হয় ভিডিও, দেওয়া হয় আসন্ন সিনেমা ‘দেশু ৭’-এর ঘোষণা। তবে ভিডিওটি দেখার পর, বিশেষ করে এই জুটির সেই গান ও নাচের স্টেপ দেখে কমেন্ট বক্সে দর্শকরা তাদের শৈশব ও সোনালি স্মৃতির কথা তুলে ধরে আবেগ প্রকাশ করেছেন। আরও পড়ুনআরও পড়ুনআপনভোলা চিকিৎসক প্রসেনজিৎ সামাজিক মাধ্যমে এক নেটিজেন লিখেছেন— ‘এই নস্টালজিক অতীত পুনরুজ্জীবিত।’ আরেক নেটিজেন লিখেছেন— ‘চাইল্ডহুড ইমোশন।’ অন্য আরেক নেটিজেন লিখেছেন— ‘উফ, সেরা সেরা। পুরোনো দিনে ফিরে গেলাম।’

‘দেশু ৭’ সিনেমায় আবারও এক হচ্ছেন দেব-শুভশ্রী
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream