ঢালিউডের শীর্ষ তারকা শাকিব খান দুই মাসের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন। তিনি গত মঙ্গলবার ঢাকা পৌঁছান। দীর্ঘ সফর শেষে এই অভিনেতা দেশে ফিরলেও বিশ্রামের সুযোগ খুব একটা পাচ্ছেন না। ব্যস্ততা শাকিবের ক্যারিয়ারে যেন নিত্যসঙ্গী। একদিকে একের পর এক সিনেমার প্রস্তাব, অন্যদিকে নিজের পছন্দের গল্প ও চরিত্র বেছে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে প্রতিনিয়ত আলোচনায় থাকেন তিনি।
দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও নিজের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছেন এ অভিনেতা। নতুন কোনো সিনেমায় যুক্ত হওয়ার খবর এলে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় বাড়তি আগ্রহ। গত ২ জুলাই রাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন শাকিব। প্রায় দুই মাসের সফরে ব্যক্তিগত কাজের পাশাপাশি ব্যবসায়িক কিছু দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। নির্ধারিত কাজগুলো শেষ করে দেশে ফেরেন। তবে দেশে ফেরার পর তাঁর সামনে অপেক্ষা করছে চলচ্চিত্রের ব্যস্ত সময়। নিজের কাজ প্রসঙ্গে শাকিবের ভাবনাও বরাবরের মতো পরিষ্কার। তিনি মনে করেন, দর্শকের প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজের মান ধরে রাখাটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তাঁর ভাষায়, ‘আমি সব সময় চেষ্টা করি দর্শককে ভালো কিছু দেওয়ার। একটি সিনেমায় অভিনয়ের আগে গল্প, চরিত্র ও নির্মাণ–সবকিছু নিয়ে ভাবি। সামনে যে কাজগুলো করছি, সেগুলো নিয়েও আমার অনেক প্রত্যাশা আছে। আশা করছি, দর্শক নতুন কাজগুলোও পছন্দ করবেন।’
যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে নতুন একটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার খবর দিয়েছিলেন শাকিব। মেহেদী হাসান হৃদয়ের পরিচালনায় নির্মিতব্য সিনেমাটিতে অভিনয় করবেন তিনি। শিগগির সিনেমাটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে দেশে ফিরে নতুন চরিত্র ও গল্প নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করতে হচ্ছে তাঁকে। তবে নতুন সিনেমায় ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আগে শেষ করতে হবে পুরোনো একটি কাজ।
আগামী সপ্তাহে ‘সোলজার’ সিনেমার বাকি থাকা কয়েকটি দৃশ্যের শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে শাকিবের। এই কাজ শেষ করে নতুন সিনেমার শুটিংয়ে যোগ দেবেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তাঁর ভাবনায়ও রয়েছে কাজের ধারাবাহিকতার বিষয়টি। শাকিব বলেন, ‘দেশে ফিরেছি, এখন মূল মনোযোগ সিনেমার কাজে। সামনে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। একটার পর একটা কাজ শেষ করতে চাই। তবে কাজের মানের সঙ্গে কোনো আপস করতে চাই না।’
সাম্প্রতিক সময়ে শাকিব খানের ক্যারিয়ারে এসেছে নতুন গতি। ‘প্রিয়তমা’, ‘তুফান’সহ একাধিক সিনেমা তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। ফলে নতুন সিনেমা বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এখন আগের চেয়ে বেশি সতর্ক এই তারকা।
দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা শাকিবের জন্য অবশ্য নতুন কিছু নয়। সিনেমার শুটিং, পারিবারিক প্রয়োজন ও ব্যক্তিগত নানা কাজে একাধিকবার সেখানে অবস্থান করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারী হওয়ায় বছরের নির্দিষ্ট একটি সময় তাঁকে দেশটিতে অবস্থান করতে হয়।
এবারের সফরেও সে বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। তবে সফর শেষে দেশে ফেরার পর এখন তাঁর সামনে শুধু কাজের ব্যস্ততা। নতুন গল্প, নতুন চরিত্র আর নতুন নির্মাতাদের সঙ্গে কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে কতটা নতুনভাবে উপস্থাপন করতে পারেন–এখন সেটিই দেখার বিষয়।
মতামত