কুমিল্লা
সার্কিট হাউসে বরাদ্দকৃত ভিআইপি কক্ষে প্রচুর উইপোকার উপদ্রব দেখতে পেয়ে সেখানে রাত
না কাটিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করে চলে গেছেন
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে
ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ
আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এমপি।
১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচিতে অংশ নিতে শুক্রবার
(০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে কুমিল্লা পৌঁছালে
এ অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হন তিনি।
সংশ্লিষ্ট
সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার
রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে
ঢাকা থেকে কুমিল্লা সার্কিট
হাউসে পৌঁছান ডা. তাহের। সেখানে
তাঁর থাকার জন্য ‘রাধাচূড়া-২০২’ নম্বর কক্ষটি
বরাদ্দ করা ছিল। রাত
১০টার দিকে বিশ্রামের উদ্দেশ্যে
কক্ষে প্রবেশ করে তিনি বিছানাসহ
পুরো কক্ষে বিপুল পরিমাণ উইপোকা দেখতে পান।
বিষয়টি
প্রত্যক্ষ করার পর তিনি
তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বে থাকা কর্মচারীকে কক্ষ
পরিবর্তন করে দেওয়ার অনুরোধ
জানান এবং একটি অতিরিক্ত
কম্বল চান। তবে অভিযোগ
উঠেছে, কর্মচারীরা তাঁর অনুরোধ সত্ত্বেও
বিকল্প কোনো কক্ষের ব্যবস্থা
করেনি। পরবর্তী সময়ে বিরোধীদলীয় উপনেতার
সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) আরিফুর রহমান বিষয়টি কুমিল্লার নেজারত ডেপুটি কালেক্টরকে (এনডিসি) খুদে বার্তার (SMS) মাধ্যমে
অবহিত করলেও কোনো সমাধান আসেনি।
দীর্ঘক্ষণ
অপেক্ষার পরও প্রশাসনের পক্ষ
থেকে বিকল্প থাকার সুব্যবস্থা না করায় রাত
না কাটিয়েই একপর্যায়ে সার্কিট হাউস ত্যাগ করার
সিদ্ধান্ত নেন বিরোধীদলীয় এই
উপনেতা।
ঘটনাটিকে
কেন্দ্র করে কুমিল্লার জেলা
প্রশাসন পরিচালিত সার্কিট হাউসের অতিথি ব্যবস্থাপনা, সাধারণ পরিচ্ছন্নতা ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয়
অতিথিদের প্রোটোকল প্রদান নিয়ে নানা মহলে
তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
কুমিল্লা
মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান
এ বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “কুমিল্লা
সার্কিট হাউসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ
সরকারি রেস্ট হাউসে একজন বিরোধীদলীয় উপনেতার
জন্য এমন চরম অব্যবস্থাপনা
অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।”
অভিযোগের
বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কুমিল্লা
জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার পক্ষ
থেকে তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মতামত