প্রশাসনিক কাজের গতি বৃদ্ধি ও কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বর্তমান বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার কলেবর সম্প্রসারণ ও ব্যাপক রদবদলের জোর প্রস্তুতি চলছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বরের শেষভাগে অথবা আগামী অক্টোবরের শুরুতেই এই পরিবর্তন আসতে পারে। মূলত দফতরগুলোর কাজের পরিধি বিবেচনা, পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন, “রদবদলের আলোচনা সত্য, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সময় নির্ধারণ সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে।”
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভার ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে গত ১৬ আগস্ট। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ৫১ জন (২৬ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী)। পাশাপাশি ১১ জন উপদেষ্টা (৬ জন মন্ত্রী ও ৫ জন প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার) দায়িত্ব পালন করছেন। সরকার গঠনের ৬ মাসের মাথায় দফতর পুনর্বণ্টন হলেও দক্ষতা ও বিতর্কহীনতা বজায় রাখতে নতুন করে কিছু স্পর্শকাতর মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া দুর্যোগকালীন পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও বিভিন্ন বক্তব্যে সরকারপ্রধান বিব্রত। তাঁকে সরিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে তরুণ ও সুশিক্ষিত উপদেষ্টা মাহাদী আমিন অথবা শিক্ষক নেতা সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়াকে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের ‘অতি কথন’ ও বিগত সরকারের আলোচিত দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের ‘মিঠু’ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সরকার ক্ষুব্ধ। অন্যদিকে, পরিমিতভাষী বর্তমান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাজ আশানুরূপ না হওয়ায় বর্তমান মন্ত্রী হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াসিনের দপ্তর পরিবর্তন বা রদবদল হতে পারে। এ ছাড়া, সার্কিট হাউস সড়কে উল্টো পথে গাড়ি চালিয়ে ট্রাফিক মামলার শিকার হওয়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ওপর প্রধানমন্ত্রী মারাত্মক ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।
বর্তমানে ৩টি করে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলানো মন্ত্রীদের বোঝা কমিয়ে এক মন্ত্রীর দায়িত্বের কিছু অংশ সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে দেওয়া হতে পারে।
রাজপথের ত্যাগী, অভিজ্ঞ ও নির্যাতিত নেতাদের মূল্যায়ন করতে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও শীর্ষ নেতাদের মধ্য থেকে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। স্বরাষ্ট্র, কৃষি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ বাড়ায় নতুন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এ বিষয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গেলেও দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন জানান, রদবদলের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারভুক্ত এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থেই তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।
মতামত