অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেন, কোনো ধরনের অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে পারস্পরিক সৌহার্দ ও সম্প্রীতির মাধ্যমে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার দুপুরে মানিকগঞ্জ শহরের শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, জন্মাষ্টমীর দিনে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং একে অপরের পাশে থাকা। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমেই সমাজে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ধর্ম ও বর্ণের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে একসঙ্গে থাকার প্রতিজ্ঞা করতে হবে। অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে সৌন্দর্য, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক জন্মাষ্টমীর প্রত্যয়।
আফরোজা খানম বলেন, দেশের সব নাগরিকের প্রতি সরকার সমান দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—ভিন্ন ধর্ম হলেও সবার জাতীয় পরিচয় এক, আমরা বাংলাদেশি।
নিজ জেলা মানিকগঞ্জের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এখানকার মানুষ পরস্পরের বন্ধু ও ভাই হিসেবে একে অন্যের পাশে থাকবে। ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে মানিকগঞ্জের মানুষ ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। জেলার মানুষের প্রধান পরিচয় তারা মানিকগঞ্জবাসী।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মন্ত্রী কালীবাড়ি পূজা উদযাপন কমিটিকে এক লাখ টাকা অনুদান দেন। পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রণব কুমার সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সুনীল কুমার, কালীপদ ঘোষ, অনিল কুমার ও রঞ্জিত কুমার দে।
পরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বেউথা মসজিদ প্রাঙ্গণ ও বেউথা-আন্ধারমানিক সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন খাদ্যমন্ত্রী। এ সময় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে দলীয় নেতাকর্মীসহ সবাইকে বেশি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
মতামত