নেত্রকোণার মদনে পাচারের সময় দুইটি হ্যান্ডট্রলিতে থাকা প্রায় ১০০ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় হ্যান্ডট্রলির দুই চালককে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (8 সেপ্টেম্বর) মদন-তিয়শ্রী সড়কের রুদ্রশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চালগুলো জব্দ করা হয়।
আটকরা হলেন—মদন উপজেলার দেওসহিলা গ্রামের আবু কালামের ছেলে মামুন মিয়া (২৮) এবং একই গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে আকার উল্লাহ (২৪)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে দুস্থদের জন্য সরকারি বরাদ্দের ওএমএসের চাল বিতরণ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব চাল একটি সিন্ডিকেট তাদের নিয়োগকৃত সুবিধাভোগীদে মাধ্যমে সংগ্রহ করে উচ্চ মূল্যে বিভিন্ন চালের আরদে বিক্রি করে ।
শুক্রবার দুটি হ্যান্ডট্রলিতে করে সরকারি চাল জেলা সদরের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে হ্যান্ডট্রলি দুটি আটকে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে যায় এবং দুই চালককে আটক করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থায়ী কয়েক জন জানান, জব্দ করা চাল কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কোথায় নেওয়া হচ্ছিল—এসব বিষয় তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারি সহায়তার চাল সুবিধাভোগীরা কেন বিক্রি করে দিচ্ছেন, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায়দের তালিকাভুক্ত করে তাদের মধ্যে সরকারি চাল বিতরণের দাবি জানান তারা।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দীন করিম বলেন, “ফতেপুর গ্রামের দিক থেকে বস্তায় করে সরকারি চাল বোঝাই দুটি হ্যান্ডট্রলি মদন উপজেলা সদরের দিকে আসছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়। রুদ্রশ্রী এলাকায় হ্যান্ডট্রলি দুটি আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় প্রায় ১০০ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “চাল, হ্যান্ডট্রলি দুটি ও দুই চালককে থানায় আনা হয়েছে। বর্তমানে থানায় থাকা চালের সঠিক পরিমাণ পরিমাপ করে নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।”
মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম বলেন, “পুলিশ সরকারি চাল জব্দ করেছে। এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়েরের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
মতামত