মৌলভীবাজারের রাজনগরে বিয়ের পর এক গৃহবধূকে স্বামীর বন্ধুর মাধ্যমে একাধিকবার ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে স্বামী ও তার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে রাজনগর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত দুজন হলেন—রাজনগর উপজেলার ৩ নম্বর মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা-বাগানের মৃত মতিহাস মুন্ডার ছেলে সাজন মুন্ডা (২৭) এবং লাচানা গোয়ালার ছেলে অজয় গোয়ালা (২২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মোমিনছড়া চা-বাগানের ২১ বছর বয়সী এক তরুণীর সঙ্গে প্রায় এক বছর আগে সাজন মুন্ডার পারিবারিকভাবে বিয়ের আলোচনা শুরু হয়। এই সুবাদে মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত তাদের যোগাযোগ ছিল। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ৯ মার্চ সাজন তাকে ফোন করে জানান যে, বিয়ের পর প্রথম রাত তার বন্ধু অজয় গোয়ালার সঙ্গে কাটাতে হবে। সে সময় বিষয়টি নিছক রসিকতা ভেবে গুরুত্ব দেননি ওই তরুণী।
এর পরদিন গত ১০ মার্চ ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতি মেনে সাজন ও ওই তরুণীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি স্বামীর বাড়ি রাজনগরের করিমপুর চা-বাগানে এসে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু বিয়ের মাত্র দুই দিন পর, অর্থাৎ ১২ মার্চ রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্বামী সাজন তার বন্ধু অজয়কে নিজ ঘরে প্রবেশ করান এবং বাইরে থেকে দরজা আটকে দেন। এ সুযোগে অজয় গোয়ালা জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন। শুধু তাই নয়, স্বামী সাজন এই জঘন্য কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
পরবর্তীতে গত জুলাই মাসে স্বামী সাজন সিলেটে চাকরি নেন এবং স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সিলেটে থাকাকালীন সময়েও বন্ধু অজয় সেখানে গিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে ওই গৃহবধূ অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। অবস্থা বেগতিক দেখে স্বামী ও তার বন্ধু মিলে তাকে না জানিয়ে গোপনে পিতৃগৃহ মোমিনছড়া চা-বাগানে রেখে আসেন এবং একতরফাভাবে ডিভোর্স দেওয়ার পাঁয়তারা শুরু করেন।
সর্বশেষ উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বিষয়টি নিজের পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানান। তবে স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে তিনি বাধ্য হয়ে রাজনগর থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরীর দিকনির্দেশনায় এসআই আলমগীর কবিরসহ পুলিশের একটি চৌকস দল করিমপুর চা-বাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত স্বামী সাজন মুন্ডা ও তার বন্ধু অজয় গোয়ালাকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে রাজনগর থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।
মতামত