বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
ফিরে আসার গল্পে ফিরছেন না সুমাইয়া শিমু

ফিরে আসার গল্পে ফিরছেন না সুমাইয়া শিমু

মোস্তফা কামাল রাজের ‘ফিরে আসার গল্প’ দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর ধারাবাহিক নাটকে ফেরার কথা ছিল অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমুর। উচ্ছ্বসিত ছিলেন তিনি নাটকটি নিয়ে। জানিয়েছিলেন, অভিনয়কে মিস করছিলেন, ক্যামেরার সামনে আবার ফিরতে পেরে অনেক খুশি। তবে হঠাৎ জানা গেল, ধারাবাহিকটিতে সুমাইয়া শিমু থাকছেন না। ফিরে আসার গল্পে রুকাইয়া চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল শিমুর। চরিত্রটি নিয়ে শিমু বলেছিলেন, ‘বিরতির পর ফেরার মতো গল্প ও চরিত্র।’ তবে পর্দায় আর রুকাইয়া হয়ে ওঠা হলো না তাঁর। সুমাইয়া শিমুর পরিবর্তে এই চরিত্রে অভিনয় করছেন দীপা খন্দকার। আগে থেকেই এই নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দীপা। তাঁর অভিনয় করার কথা ছিল মরিয়ম চরিত্রে। সেই চরিত্রে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছেন রোজী সিদ্দিকী। ফিরে আসার গল্প ধারাবাহিকের অভিনয়শিল্পী পরিবর্তনের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিনেমাওয়ালা। তবে প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে সুমাইয়া শিমুর ফটোশুটের সব ছবি। নতুন করে মরিয়ম চরিত্রে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে রোজী সিদ্দিকীকে। ফিরে আসার গল্প ধারাবাহিক থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ জানতে সুমাইয়া শিমুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। নির্মাতার সঙ্গে যোগাযোগ করেও মেলেনি উত্তর। জানা গেছে, অসুস্থতার কারণে ধারাবাহিকটি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিমু। চোখের সমস্যার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে আছেন তিনি। সুমাইয়া শিমু অভিনয় করতে না পারলেও ফিরে আসার গল্প দিয়ে দীর্ঘদিন পর ধারাবাহিক নাটকে ফিরেছেন জাহিদ হাসান ও তানজিম সাইয়ারা তটিনী। এতে আরও অভিনয় করছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, খায়রুল বাসার, মনিরা মিঠু, ফয়জুল ইয়ামিন, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, মুকিত জাকারিয়া, এজাজুল ইসলাম, রাজু প্রমুখ। আগামী ৭ অক্টোবর থেকে সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার শুরু হবে ফিরে আসার গল্প ধারাবাহিকের। দেখা যাবে প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায়। এখন পুরোদমে চলছে শুটিং।

সকালের নাশতায় ৩টি উপাদান থাকা জরুরি

সকালে পেট পুরে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরও বেলা ১১টার মধ্যে দ্রুত খিদে পাওয়া বা ক্লান্ত বোধ করার প্রধান কারণ খাবারের ধরন নয়, বরং পুষ্টি উপাদানের সঠিক ভারসাম্যের অভাব। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও পরবর্তী খাবার পর্যন্ত শরীরে দীর্ঘমেয়াদি শক্তি বজায় রাখতে সকালের নাশতায় মূলত তিনটি প্রধান উপাদান নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।ডিম, পনির, দই, বাদাম বা ডালজাতীয় খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তের শর্করা হঠাৎ বাড়তে দেয় না।লাল আটার রুটি, ওটস, শাকসবজি ও খোসাসহ ফল ফাইবার সমৃদ্ধ। এগুলো খাবার হজম প্রক্রিয়া ধীর করে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে।কাঠবাদাম, চিয়া সিডস, অলিভ অয়েল বা ডিমের কুসুম শরীরে টেকসই শক্তি জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।সাদা পাউরুটি, মিষ্টি বা চিনিযুক্ত জুস খেলে রক্তে ইন্সুলিনের মাত্রা দ্রুত বেড়ে আবার হঠাৎ নেমে যায়, ফলে ক্ষুধা পায়।খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, কায়িক শ্রমের পরিমাণ এবং শরীরের মেটাবলিজমের (হজমক্ষমতা) ওপরও ক্ষুধা লাগার বিষয়টি নির্ভর করে।অতএব, সকালে শুধু পেট ভরানো নয়, বরং প্রোটিন, ফাইবার ও উপকারী চর্বির সঠিক ভারসাম্যের মাধ্যমে শরীরকে পরবর্তী সময়ের জন্য পুষ্টি ও শক্তি জোগানোই হওয়া উচিত সকালের নাস্তার মূল লক্ষ্য।(সূত্র: হেলথ লাইন)

সকালের নাশতায় ৩টি উপাদান থাকা জরুরি

আজও হৃদয়ে সালমান শাহ, জন্মদিনে বিশেষ ট্রিবিউট

৫৫তম জন্মবার্ষিকী আজ চিত্রনায়ক সালমান শাহর। আজ বেঁচে থাকলে ৫৬ বছরে পা দিতেন তিনি। এই অভিনেতা ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর প্রয়াত হন ক্ষণজন্মা। মৃত্যুর ৩০ বছর পর, তাঁর জনপ্রিয়তা আজও অমলিন। সালমান শাহর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে ট্রিবিউট করে নির্মিত হয়েছে ‘ব্যাকডেটেড’ নামের স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা। ব্যাকডেটেড বানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ জিসান আহমেদ। যিনি এর আগে ‘থ্রি ইডিয়টস’, ‘মনপুরা’সহ বিশ্বসেরা কিছু সিনেমার গল্প পুনর্নির্মাণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন তৈরি করেছেন। এ ছাড়া আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড অবলম্বনে বানিয়েছে ‘রুম নম্বর ২০১১’ নামের স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা। সালমান শাহকে ট্রিবিউট করে নির্মিত ব্যাকডেটেড নিয়ে জিসান আহমেদ বলেন, ‘চলচ্চিত্রে সালমান শাহর ক্যারিয়ার, ওই সময়ে তাঁর জনপ্রিয়তার গল্প উঠে আসবে এই সিনেমায়। তাঁর সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যাবে এতে। স্বল্প সময় হলেও এখানে একটি বার্তাও থাকবে। আশা করছি সবার ভালো লাগবে।’ নির্মাতা জানান, সালমান শাহর পরিবারের অনুমতি নিয়েই স্বল্পদৈর্ঘ্যটি বানিয়েছেন তিনি। এতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারুক আহমেদ। আরও আছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আজ সন্ধ্যা ৭টায় জিসু এন্টারটেইনমেন্ট ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে স্বল্পদৈর্ঘ্যটি।

আজও হৃদয়ে সালমান শাহ, জন্মদিনে বিশেষ ট্রিবিউট

ফারিয়ার ‘ট্রাইব্যুনাল’ ছাড়ার খবরে যা বললেন নির্মাতা

চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া শিডিউল জটিলতায় রায়হান খানের ‘ট্রাইব্যুনাল’ সিনেমা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিষয়টি গত সোমবার নিশ্চিত করেছেন ফারিয়া। তবে আজকের পত্রিকাকে নির্মাতা রায়হান খান জানালেন, ফারিয়ার সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি তিনি জানেন না তিনি। এ নিয়ে ফারিয়ার সঙ্গে তাঁর কোনো কথা হয়নি। চট্টগ্রামে এক গৃহবধূকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে ট্রাইব্যুনাল। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর ক্যারিয়ারের দুই যুগ পূর্তি উপলক্ষে সিনেমার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন নির্মাতা রায়হান। এ বছরের কোনো এক ঈদে মুক্তির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন সে সময়। এতে আইনজীবীর ভূমিকায় অভিনয়ের কথা ছিল নুসরাত ফারিয়ার। তবে এখনো ফারিয়ার অংশের শুটিংসহ বাকি রয়ে গেছে অনেকাংশের শুটিং। শুটিংয়ের এই অনিশ্চয়তার কারণেই সিনেমায় না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফারিয়া। ট্রাইব্যুনাল সিনেমা থেকে সরে আসার প্রসঙ্গে ফারিয়া বলেন, ‘ক্রিটিক্যাল কোনো কারণ নেই। এই সিনেমার চরিত্রটি আমার খুব পছন্দের ছিল। অভিনয়ের জন্য এক্সাইটেড ছিলাম। কিন্তু শুটিং নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে শিডিউল জটিলতাসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে আমাদের ব্যাটে বলে মিলছিল না। তাই সরে আসা। জটিল কোনো সমস্যা নয়।’ ফারিয়ার সরে আসার বিষয়ে রায়হান খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল সিনেমা না করার বিষয়ে ফারিয়ার সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনোভাবেই আমাকে কিছু জানায়নি। তাই এ নিয়ে কোনো কথা বলতে পারব না।’ অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনাল সিনেমার অন্য দুই অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি ও মৌসুমী হামিদ এখন শুটিংয়ের জন্য প্রস্তুত নন। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত ফেব্রুয়ারি থেকে চিকিৎসাধীন তানিয়া বৃষ্টি, আর প্রথমবার মা হওয়ার অপেক্ষায় আছেন মৌসুমী হামিদ। ট্রাইব্যুনাল সিনেমার সবশেষ পরিস্থিতি জানতে চাইলে রায়হান খান বলেন, ‘তানিয়া বৃষ্টির অসুস্থতা আর মৌসুমী হামিদের মাতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়টি চাইলেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব না। আমরা তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছি। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনাল একটি ইনডিপেনডেন্ট সিনেমা। যেহেতু এ ধরনের সিনেমায় নির্দিষ্ট প্রযোজক থাকেন না, তাই অনেক সময় বাজেট-সংক্রান্ত ইস্যু হয়। আশা করছি সব জটিলতা কাটিয়ে এ বছরের শেষ দিকে শুটিং শুরু করতে পারব।’

ফারিয়ার ‘ট্রাইব্যুনাল’ ছাড়ার খবরে যা বললেন নির্মাতা

২৫ বছরের নির্মাণযাত্রায় চয়নিকার চার বিশেষ নাটক

২০০১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর চয়নিকা চৌধুরী প্রথম নাটকের শুটিং করেন। নাম ছিল ‘শেষ বেলায়’। এরপর একে একে চার শতাধিক নাটক বানিয়েছেন। ‘বিশ্বসুন্দরী’ ও ‘প্রহেলিকা’ নামের দুটি সিনেমা পরিচালনা করেছেন। এ বছর নির্মাণ ক্যারিয়ারের ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে চয়নিকার। এ উপলক্ষে চারটি নাটক বানিয়েছেন তিনি। ১৮ সেপ্টেম্বর নাটকগুলো প্রচারিত হবে চারটি ভিন্ন টিভি চ্যানেলে, পরদিন প্রকাশ করা হবে ইউটিউব চ্যানেলে। চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত হবে ইফফাত আরেফিন তন্বির লেখা ‘সময় একটু থামো’। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফজাল হোসেন, জাকিয়া বারী মম, রোজী সিদ্দিকী, ফারজানা ছবি প্রমুখ। টিভিতে প্রচারের পর নাটকটি দেখা যাবে গানচিল ইউটিউব চ্যানেলে। এটিএন বাংলায় প্রচারিত হবে নাটক ‘বিষণ্ন মেঘ’। চয়নিকা চৌধুরীর দেখা সত্য ঘটনা অবলম্বনে নাটকটি লিখেছেন ইফফাত আরেফিন তন্বি। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ, জাকিয়া বারী মম, সাদিয়া আয়মান, ডলি জহুর প্রমুখ। এটিএনে প্রচারের পর প্রকাশ পাবে লেজার ভিশন ইউটিউব চ্যানেলে। বৈশাখী টিভিতে দেখা যাবে নাটক ‘জোছনায় ফেরা’। এটি লিখেছেন শফিকুর রহমান শান্তনু। অভিনয়ে ইরফান সাজ্জাদ, আইশা খান, দীপা খন্দকার প্রমুখ। এটি দেখা যাবে লেজার ভিশন ইউটিউব চ্যানেলে। আহমেদ তৌকীরের লেখা ‘প্রথম দেখার পর’ দেখা যাবে মাছরাঙা টেলিভিশনে। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ, তানজিন তিশা, আবুল হায়াত ও ডলি জহুর। টিভিতে প্রচারের পর প্রকাশ পাবে জি সিরিজ ইউটিউব চ্যানেলে। ক্যারিয়ারের ২৫ বছর পূর্তির এই আয়োজন নিয়ে চয়নিকা চৌধুরী বলেন, ‘সময় আসলে কত দ্রুত চলে যায়। মনে হচ্ছে, এই তো সেদিন ২০০১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নির্মাতা হিসেবে প্রথম শুটিং করেছিলাম। অনেক ভয়ে ছিলাম। সেদিনের কথা মনে পড়লে আজও ভয় করে। দেখতে দেখতে ২৫ বছর হয়ে গেল। নির্মাণ আমার কাছে প্রার্থনার মতো। রজতজয়ন্তী উপলক্ষে অনেকে বড় ধরনের আয়োজন করে। আমার মনে হয়েছে এখনো সেই সময় হয়নি। মনে হলো নাটক বানাব। যে দর্শকের ভালোবাসায় নাটক বানিয়ে যাচ্ছি, তাদের জন্যই এই চারটি নাটক।’

২৫ বছরের নির্মাণযাত্রায় চয়নিকার চার বিশেষ নাটক

তরুণদের নিয়ে নতুন যাত্রায় মোশাররফ করিম

মোশাররফ করিমের পর্দায় চরিত্র রূপায়ণে জুড়ি নেই। ১৯৯৯ সালে ‘অতিথি’ নাটক দিয়ে ভিজ্যুয়াল মিডিয়ায় কাজ শুরু। তারও এক দশক আগে থেকে মঞ্চনাটকের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা। এবার তরুণ অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেবেন মোশাররফ। ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দিনব্যাপী অভিনয় কর্মশালা। একাডেমি অব ক্রিয়েটিভ প্রফেশনালস আয়োজিত এই কর্মশালায় অভিনয়ের পাঠ দেবেন মোশাররফ করিম। তিনি ছাড়াও থাকবেন নাট্যকার, নির্দেশক ও শিক্ষক ইউসুফ হাসান অর্ক। কর্মশালাটি ভাগ করা হয়েছে দুই ভাগে। প্রথম ভাগে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ‘থিওরি অব অ্যাকটিং’ সেশনে ইউসুফ হাসান অর্ক তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আলোচনা করবেন। অর্কের আলোচনার বিষয়বস্তু—অভিনয় ও পারফরম্যান্সের মানসিক-শারীরিক প্রস্তুতি, ন্যাচারাল ও স্টাইলাইজড অভিনয়পদ্ধতি, চরিত্র নির্মাণ (স্তানিস্লাভস্কি), টেম্পো, রিদম ও শারীরিক অভিব্যক্তি এবং অভিনয়ে মিউজিক্যালিটির ভূমিকা। এরপর সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হবে মোশাররফ করিমের মাস্টারক্লাস। ‘আর্ট অব অ্যাকটিং’ সেশনে নিজের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আলোচনা করবেন তিনি। চরিত্রের জন্য মানসিক প্রস্তুতি, চরিত্র বোঝা ও চরিত্রের মধ্যে প্রবেশ করার পদ্ধতি, চরিত্রের আবেগকে সত্যিকারের অভিনয়ে রূপ দেওয়ার কৌশল, পরিচালকের নির্দেশনা বোঝা ও নিজের সঙ্গে সমন্বয় করার নিয়ম এবং একজন পেশাদার অভিনেতা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলা নিয়ে কথা বলবেন মোশাররফ করিম। নিবন্ধনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫০ জন এই কর্মশালায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আয়োজকেরা মনে করেন, অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত বা আগ্রহ আছে এমন যে কারও জন্য এই ওয়ার্কশপ আজীবনের অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। এর আগে নির্দেশনা, সাউন্ড ডিজাইন, লোকেশন, সিনেমাটোগ্রাফি, প্রযোজনাসহ নানা বিষয়ে কর্মশালার আয়োজন করেছে একাডেমি অব ক্রিয়েটিভ প্রফেশনালস। এই উদ্যোগের প্রশংসা করে মোশাররফ করিম বলেন, ‘বাংলাদেশে এই ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আছে। বিশেষ করে নাটক, সিনেমায় যাঁরা কাজ করতে চান তাঁদের জন্য নানা কার্যক্রম এখানে আছে। মূলত এক দিনের ক্লাস। এই ক্লাসগুলো করলে নানা জটিল বিষয় সরল হয়ে যাবে।’

তরুণদের নিয়ে নতুন যাত্রায় মোশাররফ করিম

মিষ্টি আর অতিরিক্ত ভাতেই কি লিভারে চর্বি জমছে?

আমাদের ​শরীরের ভেতরের বড় ও ব্যস্ততম অঙ্গটি হলো লিভার। পরিপাক, রক্ত পরিশোধন ও শক্তি সঞ্চয়ের মতো অন্তত ৫০০-এর বেশি বৈচিত্র্যময় কাজ একা সামলায় এই অঙ্গ। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় অলসতা ও ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে আমাদের অজান্তেই লিভারে জমছে অতিরিক্ত মেদ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার। প্রাথমিক অবস্থায় দৃশ্যমান কোনো লক্ষণ না থাকলেও দীর্ঘ মেয়াদে এটি লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ​শুধু তেল-চর্বি নয়, মূল অপরাধী অতিরিক্ত শর্করা। ​অনেকের ধারণা, শুধু তেল-চর্বিজাতীয় খাবার খেলে লিভারে মেদ জমে। তবে পুষ্টিবিজ্ঞানের তথ্য কিন্তু ভিন্ন। আমাদের প্রাত্যহিক খাদ্যাভ্যাসে থাকা অতিরিক্ত মিষ্টি, কোল্ড ড্রিংকস, প্যাকেটজাত জুস, সাদা ময়দা এবং পরিমাণের চেয়ে বেশি ভাত-রুটি; যেগুলো রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট হিসেবে পরিচিত, রক্তে দ্রুত গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। শরীর যখন এই অতিরিক্ত চিনি প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না, তখন লিভার সেই শর্করাকে ট্রাইগ্লিসারাইডে রূপান্তর করে নিজের কোষেই চর্বি হিসেবে জমাতে শুরু করে। ​কোনো কঠোর ক্র্যাশ ডায়েট বা না খেয়ে থেকে ফ্যাটি লিভার কমানো যায় না। বরং সঠিক খাদ্য নির্বাচনেই মেলে সমাধান। নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্ত থাকতে যা করতে হবে—  লাল চালের ভাত, ওটস, ইসবগুলের ভুসি ও রঙিন শাকসবজিতে থাকা দ্রবণীয় আঁশ রক্তের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ও শর্করা শুষে নেয়। ফলে লিভারে চর্বি জমার সুযোগ কমে। সবুজ চা বা গ্রিন টি, কাঁচা হলুদ, রসুন এবং লেবু বা আমলকীর মতো সাইট্রাস জাতীয় ফল লিভারের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে এবং লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ​ রান্নায় কেমিক্যালযুক্ত প্রক্রিয়াজাত রিফাইন্ড তেলের বদলে পরিমিত খাঁটি সরিষার তেল এবং খাদ্যতালিকায় সামুদ্রিক মাছ, তিল, তিসি বা বাদাম থেকে পাওয়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রাখুন। শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিতে এবং লিভারের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে দিনে আড়াই থেকে ৩ লিটার পানি পান করুন। প্যাকেটজাত জুস, বেকারির খাবার, কোমল পানীয় এবং কৃত্রিম মিষ্টিজাতীয় খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন। ​ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে নিয়ম মেনে চলা মোটেও কঠিন কিছু নয়। প্রতিদিনের পাতে সচেতন পুষ্টি নির্বাচন, প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ দেওয়া এবং দিনে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাসই পারে আপনার লিভার দীর্ঘ মেয়াদে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে।

মিষ্টি আর অতিরিক্ত ভাতেই কি লিভারে চর্বি জমছে?

পূজার সাজে ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধন

দুর্গাপূজা আসছে। পূজা মানেই অনেক অনেক কেনাকাটা। নিজের জন্য, বাড়ির সব নারীরই যেন শাড়ি কেনার ধুম পড়ে। ডিজাইনাররাও এ উপলক্ষে নতুন নতুন থিমভিত্তিক শাড়ির নকশা করতে বসেন। সেই শাড়িগুলো কিন্তু আসতে শুরু করেছে বাজার এবং অনলাইন পেজগুলোতে। সামনে আরও আসবে। ষষ্ঠী থেকে দশমী, বিশেষ করে তুলতে পূজার প্রতিটি দিন বেছে নেওয়া চাই জুতসই উৎসবের শাড়ি। অনলাইন ও অফলাইনভিত্তিক ফ্যাশন উদ্যোগ সরলা দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিয়ে এসেছে শাড়ির বিশেষ সংগ্রহ। সরলার স্বত্বাধিকারী মানসুরা ইয়াসমিন স্পৃহা বলেন, ‘উৎসভিত্তিক কাজের নকশা করার সময় একটি বা দুটি পরিধেয় থাকে, যা একেবারে থিমভিত্তিক। এবার পূজা উপলক্ষে এমন অনেক কাজ করা হয়েছে। আমি সব সময় চেষ্টা করি স্টোরিটেলিং ধরনের কাজ করার। মোটকথা, শাড়িতে একটা গল্প থাকবে। শাড়িটা একটা গল্প বলবে!’ এর আগে তিনি শাড়িতে ঢাকার গল্প এঁকেছেন। বাংলাদেশের গল্পচিত্র তুলে ধরেছেন। সরলায় ঢাকার গল্প ১ ও ২ এমন সিরিজ আকারে শাড়ি তৈরি হয়েছে। কোনোটা উত্তরা থেকে মতিঝিলের, কোনোটা আবার মতিঝিল থেকে সদরঘাট পর্যন্ত গল্প বলেছে। স্পৃহা এই প্রথম হাজির হয়েছেন শাড়িতে দুর্গাপূজার গল্প নিয়ে। মূলত ঢাকা শহরের পূজার গল্প সাজিয়ে তুলেছেন উজ্জ্বল রঙের শাড়িতে। স্পৃহা জানান, শাড়িতে সরাসরি দেবী প্রতিমা রাখা না হলেও পূজামণ্ডপ, মণ্ডপের গেট, জনসমাগম, পূজার মেলা ও পূজার আনন্দ তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। কমলা, লাল ও অন্যান্য উজ্জ্বল রঙের এই শাড়ি দুর্গাপূজায় আনা সরলার মূল থিমেটিক শাড়ি। এ ছাড়া পূজার জন্য বিশেষভাবে লাল-সাদা থিমে দুটি শাড়ির নকশা করেছেন তিনি। যাঁরা শৈল্পিক শাড়ি ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য ফোক আর্ট ও মডার্ন আর্ট—এ দুটি ধরন মিলিয়ে কাজ করতে ভালোবাসেন স্পৃহা। পূজার জন্য কেউ চাইলে ওয়ার্লি আর্টের শাড়ি নিতে পারেন, আবার যাঁরা অবয়ব বা প্রাণীর মোটিফ পছন্দ করেন না, তাঁরা ফ্লোরাল মোটিফ ও প্যাটার্নওয়ার্কের শাড়িও নিতে পারবেন। এখন কলমকারি খুব পছন্দ করেন নারীরা। সরলায় রয়েছে কলমকারি ইন্সপায়ার শাড়িও। পূজার বিশেষ শাড়ি সম্পর্কে স্পৃহা বলেন, ‘দেবী ও নারীকে আমি রানির মতোই অপরূপ ও শক্তিশালী হিসেবে উপলব্ধি করি। পূজায় তাই একটা রানির থিমে শাড়ির নকশা করেছি, যেখানে তাসের রানি ও দেবী মিলেমিশে একটা চমৎকার অবয়ব তৈরির প্রয়াস ছিল। পপ কালার ব্যবহার করে নকশা করা শাড়িটি যে কেউ চাইলে অষ্টমীতে পরতে পারবেন।’ এ ছাড়া ধূসর ও লাল রঙের কনট্রাস্ট করে এবং কালো-লালের কম্বিনেশনেও শাড়ি এসেছে সরলায়; যেগুলো অঞ্জলি ও রাতের দাওয়াতে পরে যাওয়ার জন্য একেবারেই আদর্শ। এসব শাড়ির দাম ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু। তবে দুর্গাপূজা উপলক্ষে রয়েছে ২০ শতাংশ ছাড়। সরলায় বেশির ভাগ কাজ যেহেতু ডিজিটাল মাধ্য়মে হয়, তাই শাড়ির জন্য মিক্সড ফ্যাব্রিকস বেছে নেন স্পৃহা। বেশির ভাগ সুতি ও সিল্কের মিশ্রণে নিজেদের তাঁতিকে দিয়ে তৈরি করা এই কাপড়ের নাম দিয়েছেন মুন সিল্ক। এসব কাপড় আরামদায়ক। বাড়িতে এবং বাইরেও অনায়াসে পরে থাকা যায় বলে জানান তিনি। সরলাকে নারীরা চিনতে শুরু করেছে মূলত সুন্দর ফিটিংয়ের ব্লাউজের কারণে। স্পৃহা বলেন, ‘আমাদের ব্লাউজের চাহিদা থাকে সারা বছর। পূজার জন্য সরলা থেকেও ব্লাউজ নেওয়া যাবে। আবার চাইলে নিজের পছন্দের কাপড় দিয়ে এখান থেকে কাস্টমাইজ করে ব্লাউজ তৈরি করা যায়।’ কাপড়, নকশা ও ধরনভেদে এসব ব্লাউজের দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে পূজার জন্য ব্লাউজের ওপরও ছাড় থাকছে। সরলা ছাড়া হরিতকী, জায়া, খাঁচা, রঙ বাংলাদেশ, বিশ্বরঙ, নহলী, আরাত্রিকাসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ও ফেসবুক অনলাইন পেজে দুর্গাপূজার জন্য বিশেষ আয়োজন রয়েছে।

পূজার সাজে ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধন

জন্মশতবর্ষেও উত্তমকুমার যে কারণে এতটা প্রাসঙ্গিক

আজ ৩ সেপ্টেম্বর বেঁচে থাকলে উত্তমকুমার ১০০ বছর বয়সে পা রাখতেন। জন্মশতবর্ষ পেরিয়েও তাঁর ব্যক্তিত্ব, অভিনয়ক্ষমতা, সংগ্রাম, প্রভাব, সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা—সবই এখনো বাঙালির নিত্যদিনের চর্চার বিষয়। ভবানীপুরের মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে। থিয়েটার দেখে ছোটবেলায় অভিনয়ের প্রতি ভালো লাগা, লুকিয়ে রিহার্সাল দেখা, পরে যুক্ত হয়ে যাওয়া পাড়া আর স্কুলের নাটকের সঙ্গে এবং এভাবে অভিনয়ের প্রেমে বিভোর হয়ে যাওয়া সেই ছিপছিপে গড়নের ছেলেটি নেহাতই ঝোঁকের মাথায় ঢুকে পড়েছিলেন চলচ্চিত্রে। তখন তাঁর বাচনভঙ্গিতে সামান্য জড়তাও ছিল। সেই ত্রুটি কাটিয়ে ওঠার জন্য দিনের পর দিন পরিশ্রম। এক ছিমছাম ধুতি-পাঞ্জাবি পরা ছেলে চোখে কল্পনার রঙিন চশমা লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে স্টুডিও পাড়ায়—এটা ব্যতিক্রম কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু উত্তমকুমারের মধ্যে যেটা স্বতন্ত্র ব্যাপার ছিল, সেটা হলো তাঁর লেগে থাকা, দিনের পর দিন নিজেকে তৈরি করে নেওয়া এবং লক্ষ্যে একলব্যের মতো একাগ্র থাকা। একসময় উত্তমকুমার টালিগঞ্জ স্টুডিও পাড়া চষে বেড়িয়েছেন একটু সুযোগের আশায়। এই অধ্যবসায়ের তাৎক্ষণিক ফল প্রথম দিকের যে সিনেমাগুলো, তার প্রায় সব কটাতেই তিনি ব্যর্থ হন। ব্যর্থতা দিয়েই শুরু হয়েছিল তাঁর পথচলা। সিনেমায় উত্তমের প্রথম আত্মপ্রকাশ ১৯৪৮ সালে—‘দৃষ্টিদান’ সিনেমায়। এতে তিনি নায়ক নন, ছিলেন পার্শ্বচরিত্রে। সিনেমা ফ্লপ হয়। পরের বছর পর্দায় নায়ক হিসেবে দেখা দেন ‘কামনা’ সিনেমা দিয়ে। সেটিও ব্যর্থ। ‘মর্যাদা’ সিনেমায় নাম পাল্টে অরূপ কুমার নামে অভিনয় করেন। কিন্তু নাম বদলালেও ভাগ্য বদলায়নি। ‘সহযাত্রী’, ‘ওরে যাত্রী’, ‘নষ্টনীড়’, ‘সঞ্জীবনী’—টানা ফ্লপের কারণে তাঁকে একটা সময়ে প্রযোজকেরা নিতেই চাইতেন না। তাঁর নামের পাশে বসে গিয়েছিল ‘ফ্লপ মাস্টার জেনারেল’ তকমা। কিন্তু কোনো দিনই ধৈর্য হারাননি। তাঁর মূলধন ছিল ধৈর্য আর বিনয়। পরিচালক সুকুমার দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, উত্তমকুমারের স্বভাবে কোনো দিনই বিরক্তি বা ঔদ্ধত্য দেখা যায়নি। বরং সবার সঙ্গে এমন মধুর ও আন্তরিক ব্যবহার করতেন, দারোয়ান কিংবা প্রোডাকশন বয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিটি পর্যন্ত তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকতেন। অভিনয়ের সময় তিনি ছিলেন ছাত্রের মতো। অভিনয় শেখার প্রতি ছিল অবিচল নিষ্ঠা। ১৯৫২ সালে ‘বসু পরিবার’ দিয়ে আলোর দেখা পান উত্তম। ১৯৫৪ সালে ‘চাঁপাডাঙ্গার বউ’, ‘সদানন্দের মেলা’, ‘ওরা থাকে ওধারে’, ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘কল্যাণী’সহ তাঁর একগুচ্ছ সিনেমা মুক্তি পায়। এ বছর থেকেই উত্তমকুমারের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরতে শুরু করে। পঞ্চাশের দশকে বাংলা সিনেমা গ্ল্যামারের প্রতিযোগিতায় হিন্দির কাছে নিশ্চিতভাবে হেরে যাচ্ছিল। দর্শকদের ভালো লাগাকে মুগ্ধতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা তখনকার বাংলা সিনেমার ছিল না। ঠিক এই পটভূমিতে আসে অগ্রদূতের পরিচালনায় ‘অগ্নিপরীক্ষা’। নায়ক উত্তমকুমার, নায়িকা সুচিত্রা সেন। প্রায় ম্যাজিকের মতো ফল পাওয়া যায় এই সিনেমা থেকে। নায়ক থেকে মহানায়কের শীর্ষ আসনটিতে উত্তরণের সঠিক যাত্রারম্ভ হয় অগ্নিপরীক্ষা থেকে। বাঙালি দর্শক তাঁদের আইডিয়াল একজন রোমান্টিক হিরোকে খুঁজে পান উত্তমকুমারের মধ্যে। পঞ্চাশের দশকের প্রায় মধ্যভাগ থেকে দর্শক, প্রযোজক, পরিবেশক ও পরিচালকদের দৃষ্টি কেড়ে নিতে লাগলেন উত্তমকুমার। বক্স অফিসের নিশ্চিত গ্যারান্টি হয়ে উঠলেন। এই দশকে মুক্তি পায় ‘গৃহপ্রবেশ’, ‘মন্ত্রশক্তি’, ‘মরণের পরে’, ‘রাইকমল’, ‘শাপমোচন’, ‘সবার উপরে’, ‘সাগরিকা’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘চিরকুমার সভা’, ‘একটি রাত’, ‘শ্যামলী’, ‘ত্রিযামা’, ‘শিল্পী’, ‘নবজন্ম’, ‘পৃথিবী আমারে চায়’, ‘তাসের দেশ’, ‘হারানো সুর’, ‘পথে হলো দেরী’, ‘বিচারক’সহ কালজয়ী সব সিনেমা। প্রায় একই রকম অবস্থা ষাটের দশকেও। ভালো-মন্দ-মাঝারি সব মিলিয়ে তিনিই সর্বোচ্চ সিনেমার মুখ্য ভূমিকায়। শুধু রোমান্টিক নায়কের ভূমিকাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, মদ্যপ জমিদার থেকে ছিঁচকে চোর—বহু ভূমিকাতেই নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। এই দশকেই উত্তমকুমারের জীবনে আরও একটি নতুন মাত্রা যোগ হয়। সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ও ‘চিড়িয়াখানা’ সিনেমায় অভিনয় করেন। তাঁর অভিনয়ের ব্যপ্তি ও বিশালতা যে কত দূর যেতে পারে, তা প্রমাণ করে দেয় এই দুটি সিনেমা। ষাটের দশকের সাফল্যের পর সত্তরের দশকেও অবস্থা অপরিবর্তিত থাকে। একটানা সাফল্যের জয়রথটা সাময়িকভাবে কখনো যে একটু থমকে দাঁড়ায়নি, এমন নয়। কিন্তু সেই থামাটা পথের ওপর দাগ না ফেলতেই জয়রথ আবার গতি পেয়েছে। ১৯৮০ সালে আচমকা তাঁর প্রস্থান স্তব্ধ করে দিয়েছিল বাংলা সিনেমাকে। কিন্তু সময় কিংবা মৃত্যু—কোনোটিই বাঙালির হৃদয় থেকে উত্তমকুমারকে দূরে সরাতে পারেনি। জন্মশতবর্ষে দাঁড়িয়েও তাঁর সেই চিরচেনা জাদুকরি হাসি, নিখুঁত বাচনভঙ্গি আর রোমান্টিক রাজকীয় আবেদন বিন্দুমাত্র মলিন হয়নি। সিনেমা হলের রুপালি পর্দা থেকে হালের ওটিটি—আজও মধ্যবিত্ত বাঙালির আবেগ, ভালোবাসা আর নস্টালজিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি। জন্মশতবর্ষ পেরিয়েও মহানায়কের সিংহাসনে উত্তমকুমার একা, অপরাজিত ও চিরভাস্বর।

জন্মশতবর্ষেও উত্তমকুমার যে কারণে এতটা প্রাসঙ্গিক

রাজ-সাবিলার নতুন রসায়ন ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’

শরিফুল রাজ ও সাবিলা নূর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায় প্রথমবার বড় পর্দায় একসঙ্গে কাজ করেন। আবারও এই জুটি প্রেক্ষাগৃহে ফিরছে। প্রথম সিনেমায় দুজন অপরিচিত মানুষের চরিত্রে অভিনয় করেছে। এবার দম্পতির চরিত্রে তাঁরা হাজির হচ্ছেন। ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’ নামের সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে ‘উৎসব’ ও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার নির্মাতা তানিম নূরের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বুড়িগঙ্গা টকিজের ব্যানারে। আয়মান হাসিব স্বাধীন ও সুস্ময় সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। কানাভুলা প্যারাডক্স দিয়ে বড় পর্দায় নির্মাতা হিসেবে অভিষেক হচ্ছে তাঁদের। উৎসব ও বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার প্রযোজনা ও পরিচালনা করেছেন তানিম নূর। এবার কেবল প্রযোজক হিসেবে থাকছেন। এবারও তিনি সিনেমা নির্মাণের জন্য বেছে নিয়েছেন উপন্যাস। কানাভুলা প্যারাডক্স নির্মিত হবে মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর লেখা ‘কানাভুলো প্যারাডক্স’ অবলম্বনে। উপন্যাসে গল্পটি এক নবদম্পতির। তারা হানিমুনে যাবে, কক্সবাজারে। দেশব্যাপী তখন মহামারির প্রকোপ, ঘোষণা করা হয়েছে লকডাউন। এর মাঝেই হানিমুনে যায় তারা। হোটেল বন্ধ, তাই ভাড়া নিল এক প্রবাসী ভদ্রলোকের বানানো বিশাল বাংলো। সঙ্গেই লাগোয়া সৈকত। জায়গাটা যেমন নির্জন, তেমন রহস্যময়। চাঁদনি রাতে জনশূন্য সৈকতে হাত ধরাধরি করে জোছনার আলোয় ভিজতে ভিজতে যখন কপোত-কপোতী দুজন নিজেদের ভেতর ভীষণ ডুবেছিল, ঘুণাক্ষরেও টের পায় না যে তারা একা নয় ওখানে। তাদের সঙ্গে আছে একটি অসংজ্ঞায়িত অস্তিত্ব কানাভুলা। এরপর ঘটতে থাকে নানা ঘটনা। সেই গল্পই পর্দায় তুলে ধরবেন নির্মাতা, তবে সিনেমার প্রয়োজনে থাকবে কিছু সংযোজন-পরিমার্জন। নতুন এই সিনেমা নিয়ে প্রযোজক তানিম নূর বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলের প্রচলিত এক ভূতের নাম কানাভুলা। শোনা যায় এই ভূতে ধরলে মানুষ পথ হারিয়ে ফেলে। কী করছে, কোথায় যাচ্ছে কিছু বলতে পারে না। প্রচলিত সেই গল্প নিয়ে এই সিনেমা। এখানে অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার পাশাপাশি ভীষণ রোমান্টিক গল্পও দেখা যাবে।’ পরিচালক সুস্ময় সরকার বলেন, ‘আমি আর স্বাধীন ভাই দীর্ঘদিন ধরে বুড়িগঙ্গা টকিজের স্ক্রিপ্ট ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করছি। পাশাপাশি নিজেদের নির্মাণ নিয়ে ভাবছিলাম। কানাভুলো উপন্যাসটি পড়ে মনে হলো এটি হতে পারে আমাদের প্রথম সিনেমা। এখানে অতিপ্রাকৃতিক বিষয় আছে, রোমান্টিক গল্প আছে আর টাইম ট্রাভেলের ঘটনাও আছে—যা আমাদের দুজনের খুব পছন্দ।’ অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা দুই নির্মাতাকে নিয়ে তানিম নূর বলেন, ‘স্বাধীন ও সুস্ময় দুজনই খুব মেধাবী। ছয় বছরের বেশি সময় ধরে আমার সঙ্গে কাজ করছে। তারা যখন এই গল্প নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করল, আমি রাজি হয়ে গেলাম। কারণ আমাদের সিনেমায় প্রচলিত গল্পের বাইরের একটি গল্প এটি। আমার বিশ্বাস, দর্শকের খুব ভালো লাগবে। এ ছাড়া উপন্যাসটি যিনি লিখেছেন, তিনিও মেধাবী তরুণ। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দেশের এই মেধাবী তরুণদের সুযোগ দিলে তারা ভালো কিছু করবে।’ নির্মাতারা জানালেন, এখন চলছে সিনেমার প্রি-প্রোডাকশনের কাজ। আগামী বছরের জানুয়ারিতে শুরু হবে শুটিং। ২০২৭ সালের কোরবানির ঈদে প্রেক্ষাগৃহে কানাভুলা প্যারাডক্স মুক্তির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

রাজ-সাবিলার নতুন রসায়ন ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’

ভেনিসে বসছে তারার হাট, স্বর্ণসিহংয়ের দৌড়ে ২১ ছবি

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব ১৯৩২ সালে শুরু হয়েছিল। ৮৩তম আসর দোরগোড়ায় বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এই উৎসবের। লালগালিচায় তারার হাট বসবে আজ ২ সেপ্টেম্বর থেকে, চলবে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে রবার্ট প্যাটিনসন, রুনি মারা, জর্জ ক্লুনি, পেনেলোপে ক্রুজের মতো তারকাদের। অস্কার ও বাফটাজয়ী নির্মাতা ড্যানি বয়েলের ‘ইনক’ এবারের উৎসবে উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হবে। এতে অভিনয় করেছেন জ্যাক ও’কনেল, গাই পিয়ার্স ও ক্লেয়ার ফয়। মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে সিনেমাটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এবার মোট ২১টি সিনেমা লড়ছে স্বর্ণসিহং পুরস্কারের জন্য। প্রতিযোগিতা বিভাগে স্থান পাওয়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে মার্টিন ম্যাকডোনাগের ‘ওয়াইল্ড হর্স নাইন’, ওয়ার্নার হারজোগের ‘বাকিং ফাস্টার্ড’, ফ্লোরিয়ান জেলারের ‘বাঙ্কার’, হিরোকাজু কোরে-এদার ‘লুক ব্যাক’, লি চ্যাং-ডংয়ের ‘পসিবল লাভ’ ইত্যাদি। মূল প্রতিযোগিতার জুরি বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন অভিনেত্রী ও নির্মাতা ম্যাগি গিলেনহল। জুরি বোর্ডে আরও রয়েছেন তিউনিসিয়ার কাওথার বেন হানিয়া, ব্রিটিশ নির্মাতা ড্যানিয়েল ব্লুমবার্গ, ইতালির চলচ্চিত্র তাত্ত্বিক ফ্রান্সেসকো কাসেটি, ফরাসি চলচ্চিত্রকার জাভিয়ার জিয়ানোলি, ইরানি বংশোদ্ভূত আফগান চলচ্চিত্রকার শহরবানু সাদাত এবং হংকংকের চলচ্চিত্র নির্মাতা জনি টু। উৎসবের সম্মানসূচক ‘গোল্ডেন লায়ন’ বা স্বর্ণসিংহ পাচ্ছেন ‘দ্য এক্সরসিস্ট’ অভিনেত্রী বাসটিন। ভেনিস উৎসবের এবারের আসরটি বাংলাদেশের জন্যও বিশেষ। উৎসবের অরিজোন্তি কমপিটিশন বিভাগে জায়গা পেয়েছে রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। এটি বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা, যা জায়গা পেল ভেনিস উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে। রুবাইয়াত হোসেনের সঙ্গে সিনেমাটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছেন ফ্রান্সের ফ্রাঁসোয়া ডি’আর্টেমারে, জার্মানির আন্না ক্যাচকো, পর্তুগালের পেড্রো বোর্গস ও নরওয়ের ইনগার্ড লিল হটন। ৬ সেপ্টেম্বর ভেনিস উৎসবে দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড সিনেমার প্রিমিয়ার হবে। এ সময় নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন সিনেমার অভিনয়শিল্পী জাইনীন করিম, আজমেরী হক বাঁধন, রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুনেরাহ বিনতে কামাল। অভিনেত্রী বাঁধন জানান, ৩ সেপ্টেম্বর ভেনিসের উদ্দেশে রওনা দেবেন তাঁরা। জানা গেছে, ভেনিস উৎসবের রেড কার্পেটে দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড সিনেমায় ব্যবহৃত ‘ঢাকা লাভ’ গানের মিউজিকের সঙ্গে শাড়িতে বাঙালি ঐতিহ্য তুলে ধরবেন সিনেমার কলাকুশলীরা। নির্মাতা জানিয়েছেন, দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড একটি মনস্তাত্ত্বিক হরর চলচ্চিত্র। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মেফেয়ার বিউটি পারলারকে কেন্দ্র করে গল্প। কথিত আছে, একসময় এই পারলারে একজন কনে রহস্যজনকভাবে মারা গিয়েছিলেন। চলচ্চিত্রে জাইনীন নামের এক তরুণী বিয়ের প্রস্তুতির জন্য পারলারে আসে। সেখানে একের পর এক অদ্ভুত ও অতিপ্রাকৃত ঘটনার মুখোমুখি হয় সে। রহস্য, মনস্তত্ত্ব এবং সুপারন্যাচারাল উপাদানের মধ্য দিয়ে গল্পটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়। ভেনিস উৎসব ছাড়াও সিনেমাটি ইতিমধ্যে নির্বাচিত হয়েছে টরন্টো ও বিএফআই লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে।

ভেনিসে বসছে তারার হাট, স্বর্ণসিহংয়ের দৌড়ে ২১ ছবি

ছয় সিনেমা বাতিল, প্রযোজক মেঘকে ব্যাখ্যা দিতে বলল বোর্ড

প্রতারণা ও মানহীনতার অভিযোগে প্রযোজক মনজুরুল ইসলাম মেঘের প্রযোজিত ছয় সিনেমার সার্টিফিকেশন আবেদন বাতিল করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড।সিনেমাগুলো হলো—‘পরিণাম’, ‘রঙ্গশালা’, ‘রক্ত পিপাসা’, ‘রসু খাঁ’, ‘পাহাড়ের আর্তনাদ’ ও ‘বনদস্যু’। গত ৩০ জুলাই সিনেমাগুলো বোর্ডে জমা দেওয়া হয়। এরপর ১২ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যায়ক্রমে সিনেমাগুলো যাচাই-বাছাই করেন বোর্ড সদস্যরা।বোর্ডের অভিযোগ, ‘পাহাড়ের আর্তনাদ’ ২০২২ সালে সার্টিফিকেট পাওয়া ‘যমজ ভূতের গল্প’-এর সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। একইভাবে ‘বনদস্যু’ সিনেমার গল্প, সংলাপ ও দৃশ্য ২০২৩ সালে সার্টিফিকেট পাওয়া ‘আমার অরণ্য’ সিনেমার সঙ্গে মিলে গেছে।এ ছাড়া বাকি চার সিনেমায় অশ্লীল সংলাপ, মদ্যপান-ধূমপানের দৃশ্য, নিম্নমানের নির্মাণ ও কনটেন্টের অভিযোগ এনে এগুলোকে প্রদর্শনের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।প্রতারণার অভিযোগে কেন প্রযোজকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—সাত কার্যদিবসের মধ্যে তার লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে বোর্ড।তবে অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে মনজুরুল ইসলাম মেঘ বলেছেন, আগের দুটি সিনেমার স্বত্ব তিনি কিনেছেন। বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

ছয় সিনেমা বাতিল, প্রযোজক মেঘকে ব্যাখ্যা দিতে বলল বোর্ড

গরমে প্রাণজুড়ানো তালের দুই রেসিপি

ভাদ্রের তালপাকা গরমে জীবন অতিষ্ঠ। তাই এই গরমে প্রশান্তি দিতে পারে তালের শরবত। তাল দিয়েই তৈরি করে নিন প্রাণজুড়ানো দুই রেসিপি।  তালের রস ১ কাপ, ঘন করে জ্বাল দেওয়া ঠান্ডা তরল দুধ ২ কাপ, মিষ্টি দই বা ভ্যানিলা আইসক্রিম ৪ টেবিল চামচ, পাকা কলা ১টি, চিনি স্বাদমতো, কাজুবাদাম বা কাঠবাদামকুচি করা, আখরোট সাজানোর জন্য, বরফকুচি প্রয়োজনমতো। একটি ব্লেন্ডারে তালের রস, ঠান্ডা দুধ, দই বা আইসক্রিম, কলার টুকরা ও চিনি একসঙ্গে নিয়ে নিন। উপকরণগুলো মসৃণ বা স্মুদ না হওয়া পর্যন্ত ভালো করে ব্লেন্ড করুন। এবার গ্লাসে ঢেলে ওপরে বাদামের কুচি, আখরোট এবং বরফকুচি দিয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন। তালের ঘন রস ১ কাপ, ১ লিটার ঘন দুধ জ্বাল দিয়ে আধা লিটার করে নেওয়া, চিনি আধা কাপ, আইসক্রিম তৈরির হেভি ক্রিম ১ কাপ, এলাচির গুঁড়া ১ চা-চামচের ৪ ভাগের ১ ভাগ, যেকোনো বাদামকুচি সাজানোর জন্য, আধা কাপ গরম পানিতে গুলিয়ে নেওয়া জেলাটিন ১ টেবিল চামচ। এক লিটার তরল দুধ চুলায় দিয়ে ফুটিয়ে অর্ধেক করে নিন। ঘন দুধের সঙ্গে তালের রস এবং চিনি বা কনডেন্সড মিল্ক মিশিয়ে দিন। মিশ্রণটি চুলায় বসিয়ে মাঝারি আঁচে ৫ থেকে ৭ মিনিট অনবরত নাড়ুন, যাতে নিচে লেগে না যায়। মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে নামিয়ে এলাচির গুঁড়া মেশান এবং সম্পূর্ণ ঠান্ডা হতে দিন। এবার একটি পাত্রে আইসক্রিম তৈরির হেভি ক্রিম বিট করে নিয়ে ঠান্ডা তালের মিশ্রণের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এটি কুলফিকে ক্রিমি করবে। এরপর ২ টেবিল চামচ জেলাটিন মেশানো পানি দিন। এবার মিশ্রণটি কুলফি বা আইসক্রিমের মোল্ডে ঢালুন। ওপর থেকে বাদামকুচি ছড়িয়ে দিন। মোল্ডের মুখ বন্ধ করে ডিপ ফ্রিজে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বা সারা রাত রেখে দিন। ফ্রিজ থেকে বের করে পরিবেশন করুন।

গরমে প্রাণজুড়ানো তালের দুই রেসিপি

রাতে আপেল চা কেন পান করবেন?

এক কাপ গরম আপেল চা যদি আপনার রাতের ঘুম শান্ত করে এবং দিনের শুরু বা শেষের মুহূর্তটি আরামদায়ক করে তোলে, তবে বিষয়টি দারুণ হয় না! অনেকে রাতে ঘুমানোর আগে এক কাপ সাধারণ চা বা কফি পান করতে চান। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন রাতের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। যাঁরা একটু ভিন্ন স্বাদ ও স্বাস্থ্যকর পানীয় দিয়ে দিনের ক্লান্তি মেটাতে চান, তাঁদের জন্য হালকা গরম আপেল চা বা সিডার টি হতে পারে চমৎকার একটি বিকল্প। আপেলে থাকা কার্বোহাইড্রেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশ কম এবং এটি আঁশসমৃদ্ধ। কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত খাবার রক্তে শর্করার পরিমাণ হঠাৎ বাড়ায় না। গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে তা ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়তা করে। ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্টের তুলনায় আপেলের মেলাটোনিন খুব নগণ্য। ভিটামিন সি দেহের কোষের ক্ষতি প্রতিরোধ করে এবং প্রদাহ কমায়। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কম থাকলে পরোক্ষভাবে তা ভালো ঘুমে সহায়তা করতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁচা আপেল খাওয়ার চেয়ে হালকা গরম আপেল চা বা সেদ্ধ আপেলের পানি পাকস্থলীর জন্য সহজে হজমযোগ্য। রাতে গরম তরল পান করার ফলে শরীর ও মন শান্ত হয়, যা ঘুমানোর পরিবেশ তৈরি করে। আপেলের সঙ্গে দারুচিনি, আদা বা অন্যান্য ভেষজ উপাদান মিশিয়ে চা তৈরি করলে এর স্বাদ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। দারুচিনি: রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায়। আদা: পেটের অস্বস্তি, বমি ভাব কমায় এবং হজমপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে সাহায্য করে। হলুদ: শরীরের প্রদাহ কমায় এবং জয়েন্টের ব্যথা উপশমে সাহায্য করে। রসুন ও কায়েন মরিচ: রক্তনালি নমনীয় রেখে হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধে ও ব্যথা কমাতে কার্যকর। আপেল-দারুচিনি ভেষজ চা আপেল-দারুচিনি ভেষজ চা তৈরি করতে চাইলে প্রয়োজন ২টি আপেল, পরিমাণমতো পানি, ৪ চা-চামচ লিকার, ২টি দারুচিনি ও সামান্য মধু। প্রথমে একটি পাত্রে খোসা ছাড়িয়ে ছোট টুকরা করা আপেল নিন। এরপর এতে পানি, দারুচিনি এবং চা একসঙ্গে মিশিয়ে মৃদু আঁচে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ফোটান। পানি কমে এলে ছেঁকে কাপে ঢালুন। ইচ্ছে হলে সামান্য মধু মিশিয়ে রাতে হালকা গরম-গরম পরিবেশন করুন। এর জন্য প্রয়োজন টুকরা করে কাটা ৪টি আপেল, ১ ইঞ্চি আদা কুচি করা, ৪টি এলাচি, ২টি দারুচিনি, ৪ চা-চামচ গ্রিন টি ও ৪৫০ মিলি পানি। প্রথমে একটি পাত্রে আপেল, আদা, এলাচি, দারুচিনি ও পানি দিয়ে ১৫ মিনিট হালকা আঁচে সেদ্ধ করুন। চুলা থেকে নামিয়ে ৫ মিনিট ঠান্ডা হতে দিন। এরপর এতে গ্রিন টি দিয়ে ৩ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। ভালো করে ছেঁকে নিন। এটি সকাল বা বিকেলের সতেজতায় পান করতে পারেন। সূত্র: হেলথ লাইন

রাতে আপেল চা কেন পান করবেন?

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পায়ের মাংসপেশিতে কেন টান লাগে

আমাদের অনেকেরই ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পায়ের মাংসপেশিতে তীব্র টান বা খিঁচুনি লাগে। ঘুম থেকে জেগে উঠে অস্বস্তিকর অনুভূতি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। সাধারণত পেশির ক্লান্তি এবং স্নায়ুজনিত নানা অস্বস্তির কারণে এটি ঘটে থাকে বলে মনে করা হয়। রাতের বেলা পায়ের পেশিতে টানের মূল কারণ শরীরে পানিশূন্যতা বা ভিটামিনের অভাবের চেয়ে বেশি যুক্ত পেশির অবস্থান ও দীর্ঘক্ষণ নিষ্ক্রিয়তা। রাতে পায়ের পাতা বা আঙুলগুলো নিচের দিকে রেখে ঘুমালে বা ভারী কম্বলের চাপে থাকলে কাফ মাসল দীর্ঘক্ষণ সংকুচিত অবস্থায় থাকে। এর ফলে রাতে স্পাজম তৈরি হয়। সারা দিন দীর্ঘক্ষণ হাঁটা বা দাঁড়িয়ে থাকার মতো অস্বাভাবিক শারীরিক কর্মকাণ্ডের কারণেও রাতে পেশিতে টান ধরতে পারে। নতুন ওষুধ শুরুর পর এই সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসককে জানানো উচিত। প্রদাহবিরোধী ওষুধ, স্ট্যাটিন, ডাইইউরেটিকস, আয়রন ইনফিউশন এবং অ্যাজমা ইনহেলার পেশিতে টান সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া নিচু পিঠের স্পাইনাল নার্ভের সমস্যা বা পারকিনসনস রোগের মতো স্নায়বিক অবস্থার কারণেও এটি হতে পারে। যদি প্রতি রাতে একই পায়ে টান ধরে এবং পায়ের অংশটি ফুলে যায়, লাল হয়ে যায় বা গরম অনুভূত হয়; তবে তা সাধারণ টান না-ও হতে পারে। 

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পায়ের মাংসপেশিতে কেন টান লাগে

অতিরিক্ত চুল পড়া কি কোন বড় রোগ?

ঘরের মেঝেতে চুল পড়ে থাকতে দেখলে অনেকেই  শ্যাম্পু বদলানোর কথা ভাবেন। হ্যাঁ, এটা ভাবাটা স্বাভাবিক। কিন্তু কখনো কখনো চুল পড়া শুধু চুলের গোড়া কিংবা শ্যাম্পুর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত থাকে না। কখনো কখনো চুল পড়ার কারণ হতে পারে শরীরের দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগ। শরীরে পুষ্টির অভাব, হরমোনের পরিবর্তন, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কিংবা শারীরিক দুর্বলতা থাকলে চুল পড়ে যেতে পারে। তাই চুলের সঠিক যত্ন নেওয়ার পরও অতিরিক্ত চুল ঝরলে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই। থাইরয়েডের সমস্যা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম, রক্তস্বল্পতা, অটোইমিউন রোগ, খুশকি এবং ভিটামিন ডি ও বি-১২ এর অভাবে চুল পড়তে পারে।বিশেষজ্ঞরা বলেন, হঠাৎ অতিরিক্ত চুল পড়া, চুলকানি, মাথার সিঁথি চওড়া হওয়া বা গোল ছোপ হয়ে চুল উঠে যাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্লান্তি, ওজন পরিবর্তন, ব্রণ বা ঘন ঘন তৃষ্ণা পাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে প্রথমে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসক থাইরয়েড, ব্লাড সুগার ও রক্ত পরীক্ষা করে মূল রোগটি শনাক্ত করবেন। মূল রোগ নিয়ন্ত্রণে এনে চুল ও মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখলে এবং খাদ্যে পর্যাপ্ত, ভিটামিন, প্রোটিন ও আয়রন রাখতে পারলে ঝরে যাওয়া চুল আবার স্বাভাবিকভাবে গজাতে পারে বলে জানান ডা. কাকলী হালদার। বেশ কিছু শারীরিক অবস্থার ক্ষেত্রে চুল পড়া উল্লেখযোগ্য প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। সেগুলোর মধ্যে আছে— ‘কম সক্রিয় এবং অতি সক্রিয়—উভয় ধরনের থাইরয়েডই চুল বৃদ্ধির চক্র ব্যাহত করতে পারে। থাইরয়েড বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে যখন এর ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখন চুলের গোড়া স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য সঠিক সংকেত পায় না। পাশাপাশি গোড়া দুর্বল হয়ে অতিরিক্ত চুল ঝরার কারণ হয়।’ ডা. মো. মাজহারুল হক তানিম, হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ, সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দুর্বল রক্ত​​সঞ্চালন এবং রক্তে শর্করার ভারসাম্যহীনতা মাথার ত্বকে রক্ত ​​প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সক্রিয় করে তুলতে পারে। এই অবস্থাগুলোর কোনোটিই শুরুতে খুব জোরালোভাবে প্রকাশ পায় না। চুল পড়া, ক্লান্তি বা ত্বকের সূক্ষ্ম পরিবর্তন প্রায়শই এর প্রাথমিক লক্ষণ হয়ে থাকে বলে জানান ডা. মো. মাজহারুল হক তানিম। নারীদের শরীরে কিছু পরিমাণ অ্যান্ড্রোজেন হরমোন উৎপন্ন হয়। কিন্তু পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমে আক্রান্ত নারীদের ক্ষেত্রে বেড়ে যাওয়ার কারণে মাথার ত্বকে চুল পাতলা হয়ে যায়। আবার কখনো কখনো শরীরের অন্য অংশে লোম বেড়ে যেতে পারে। ‘অ্যালোপেসিয়া বলতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল পড়ে যাওয়া বা চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়া বোঝায়। এর বিভিন্ন ধরন রয়েছে এবং এর কারণও একেক ক্ষেত্রে একেক রকম। তাই অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক চুল পড়লে নিজে থেকে কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট শুরু না করে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।’ নিয়মিত খাবার খাওয়া সত্ত্বেও অনেকের শরীরে চুলের গোড়া বা ফলিকল যে পুষ্টির ওপর নির্ভরশীল, তার ঘাটতি থাকে। এর কারণ হতে পারে খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবারের ঘাটতি, শরীরের পুষ্টি শোষণ করার ক্ষমতা না থাকা বা শরীরের চাহিদা অনুযায়ী খাবারের জোগান দিতে না পারা। ‘ভিটামিন ডি, জিংক, বায়োটিন এবং প্রোটিন হলো চুল পড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত সাধারণ ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম।’ ইতি খন্দকার, ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট অ্যান্ড ডায়েট কনসালট্যান্ট, আর রাহা হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকস লিমিটেড। দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, এই ঘাটতিগুলো খুব কম প্রাথমিক পর্যায়ে বোঝা যায়। রক্ত ​​পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধরা পড়ার আগে পর্যন্ত, চুল পড়া, ভঙ্গুর নখ বা কম শক্তি হতে পারে একমাত্র লক্ষণ। চুল পড়াকে শুধু বংশগত বা মানসিক চাপের ফল বলে ধরে নেওয়ার আগে বিষয়টি মনে রাখা উচিত। তাই সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ দেন ইতি খন্দকার। বৃদ্ধির চক্র দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শুধু মেজাজকেই প্রভাবিত করে না, এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া চুলের গোড়াকে একটি বিশ্রাম পর্বে ঠেলে দিতে পারে। একে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম বলা হয়। এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে কোনো চাপপূর্ণ ঘটনা বা দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপের দুই থেকে তিন মাস পরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চুল ঝরে পড়ে। এই বিলম্বই বেশির ভাগ মানুষকে বিভ্রান্ত করে। চুল পড়া শুরু হতে হতে, মানসিক চাপের সময়টা হয়তো শেষ হয়ে যায়, তাই এর মধ্যকার যোগসূত্রটি স্পষ্ট হয় না। এ ক্ষেত্রে চুল পড়াটা একটি বিলম্বিত প্রতিক্রিয়া। ‘কর্টিসল হরমোন নিঃসরণ বেড়ে গেলে তা চুলের ফলিকলে আঘাত করে। এ ছাড়া চুলের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন তৈরিতে বাধা দেয়। এর কারণে প্রচুর চুল পড়তে পারে।’ চুল পড়ার মূল কারণ যদি থাইরয়েডের সমস্যা হয়, তাহলে কোনো বাহ্যিক চিকিৎসা তা উল্লেখযোগ্যভাবে বন্ধ করতে পারবে না। যদি এটি আয়রনের অভাবে হয়, তাহলে আয়রনের মাত্রা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চুল পুনরুদ্ধার হবে না। একইভাবে চুল পড়ার কারণ যদি হরমোনজনিত, অপুষ্টিজনিত বা মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়, তাহলে প্রথমে সেই সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। এতে চুল ঝরা কমবে।

অতিরিক্ত চুল পড়া কি কোন বড় রোগ?
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream