দুর্গাপূজা আসছে। পূজা মানেই অনেক অনেক কেনাকাটা। নিজের জন্য, বাড়ির সব নারীরই যেন শাড়ি কেনার ধুম পড়ে। ডিজাইনাররাও এ উপলক্ষে নতুন নতুন থিমভিত্তিক শাড়ির নকশা করতে বসেন। সেই শাড়িগুলো কিন্তু আসতে শুরু করেছে বাজার এবং অনলাইন পেজগুলোতে। সামনে আরও আসবে।
ষষ্ঠী থেকে দশমী, বিশেষ করে তুলতে পূজার প্রতিটি দিন বেছে নেওয়া চাই জুতসই উৎসবের শাড়ি। অনলাইন ও অফলাইনভিত্তিক ফ্যাশন উদ্যোগ সরলা দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিয়ে এসেছে শাড়ির বিশেষ সংগ্রহ। সরলার স্বত্বাধিকারী মানসুরা ইয়াসমিন স্পৃহা বলেন, ‘উৎসভিত্তিক কাজের নকশা করার সময় একটি বা দুটি পরিধেয় থাকে, যা একেবারে থিমভিত্তিক। এবার পূজা উপলক্ষে এমন অনেক কাজ করা হয়েছে। আমি সব সময় চেষ্টা করি স্টোরিটেলিং ধরনের কাজ করার। মোটকথা, শাড়িতে একটা গল্প থাকবে। শাড়িটা একটা গল্প বলবে!’
এর আগে তিনি শাড়িতে ঢাকার গল্প এঁকেছেন। বাংলাদেশের গল্পচিত্র তুলে ধরেছেন। সরলায় ঢাকার গল্প ১ ও ২ এমন সিরিজ আকারে শাড়ি তৈরি হয়েছে। কোনোটা উত্তরা থেকে মতিঝিলের, কোনোটা আবার মতিঝিল থেকে সদরঘাট পর্যন্ত গল্প বলেছে। স্পৃহা এই প্রথম হাজির হয়েছেন শাড়িতে দুর্গাপূজার গল্প নিয়ে। মূলত ঢাকা শহরের পূজার গল্প সাজিয়ে তুলেছেন উজ্জ্বল রঙের শাড়িতে।
স্পৃহা জানান, শাড়িতে সরাসরি দেবী প্রতিমা রাখা না হলেও পূজামণ্ডপ, মণ্ডপের গেট, জনসমাগম, পূজার মেলা ও পূজার আনন্দ তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। কমলা, লাল ও অন্যান্য উজ্জ্বল রঙের এই শাড়ি দুর্গাপূজায় আনা সরলার মূল থিমেটিক শাড়ি। এ ছাড়া পূজার জন্য বিশেষভাবে লাল-সাদা থিমে দুটি শাড়ির নকশা করেছেন তিনি।
যাঁরা শৈল্পিক শাড়ি ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য ফোক আর্ট ও মডার্ন আর্ট—এ দুটি ধরন মিলিয়ে কাজ করতে ভালোবাসেন স্পৃহা। পূজার জন্য কেউ চাইলে ওয়ার্লি আর্টের শাড়ি নিতে পারেন, আবার যাঁরা অবয়ব বা প্রাণীর মোটিফ পছন্দ করেন না, তাঁরা ফ্লোরাল মোটিফ ও প্যাটার্নওয়ার্কের শাড়িও নিতে পারবেন। এখন কলমকারি খুব পছন্দ করেন নারীরা। সরলায় রয়েছে কলমকারি ইন্সপায়ার শাড়িও।
পূজার বিশেষ শাড়ি সম্পর্কে স্পৃহা বলেন, ‘দেবী ও নারীকে আমি রানির মতোই অপরূপ ও শক্তিশালী হিসেবে উপলব্ধি করি। পূজায় তাই একটা রানির থিমে শাড়ির নকশা করেছি, যেখানে তাসের রানি ও দেবী মিলেমিশে একটা চমৎকার অবয়ব তৈরির প্রয়াস ছিল। পপ কালার ব্যবহার করে নকশা করা শাড়িটি যে কেউ চাইলে অষ্টমীতে পরতে পারবেন।’
এ ছাড়া ধূসর ও লাল রঙের কনট্রাস্ট করে এবং কালো-লালের কম্বিনেশনেও শাড়ি এসেছে সরলায়; যেগুলো অঞ্জলি ও রাতের দাওয়াতে পরে যাওয়ার জন্য একেবারেই আদর্শ। এসব শাড়ির দাম ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু। তবে দুর্গাপূজা উপলক্ষে রয়েছে ২০ শতাংশ ছাড়।
সরলায় বেশির ভাগ কাজ যেহেতু ডিজিটাল মাধ্য়মে হয়, তাই শাড়ির জন্য মিক্সড ফ্যাব্রিকস বেছে নেন স্পৃহা। বেশির ভাগ সুতি ও সিল্কের মিশ্রণে নিজেদের তাঁতিকে দিয়ে তৈরি করা এই কাপড়ের নাম দিয়েছেন মুন সিল্ক। এসব কাপড় আরামদায়ক। বাড়িতে এবং বাইরেও অনায়াসে পরে থাকা যায় বলে জানান তিনি।
সরলাকে নারীরা চিনতে শুরু করেছে মূলত সুন্দর ফিটিংয়ের ব্লাউজের কারণে। স্পৃহা বলেন, ‘আমাদের ব্লাউজের চাহিদা থাকে সারা বছর। পূজার জন্য সরলা থেকেও ব্লাউজ নেওয়া যাবে। আবার চাইলে নিজের পছন্দের কাপড় দিয়ে এখান থেকে কাস্টমাইজ করে ব্লাউজ তৈরি করা যায়।’ কাপড়, নকশা ও ধরনভেদে এসব ব্লাউজের দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে পূজার জন্য ব্লাউজের ওপরও ছাড় থাকছে।
সরলা ছাড়া হরিতকী, জায়া, খাঁচা, রঙ বাংলাদেশ, বিশ্বরঙ, নহলী, আরাত্রিকাসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ও ফেসবুক অনলাইন পেজে দুর্গাপূজার জন্য বিশেষ আয়োজন রয়েছে।
মতামত