শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
মিষ্টি আর অতিরিক্ত ভাতেই কি লিভারে চর্বি জমছে?

মিষ্টি আর অতিরিক্ত ভাতেই কি লিভারে চর্বি জমছে?

আমাদের ​শরীরের ভেতরের বড় ও ব্যস্ততম অঙ্গটি হলো লিভার। পরিপাক, রক্ত পরিশোধন ও শক্তি সঞ্চয়ের মতো অন্তত ৫০০-এর বেশি বৈচিত্র্যময় কাজ একা সামলায় এই অঙ্গ। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় অলসতা ও ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে আমাদের অজান্তেই লিভারে জমছে অতিরিক্ত মেদ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার। প্রাথমিক অবস্থায় দৃশ্যমান কোনো লক্ষণ না থাকলেও দীর্ঘ মেয়াদে এটি লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ​শুধু তেল-চর্বি নয়, মূল অপরাধী অতিরিক্ত শর্করা। ​অনেকের ধারণা, শুধু তেল-চর্বিজাতীয় খাবার খেলে লিভারে মেদ জমে। তবে পুষ্টিবিজ্ঞানের তথ্য কিন্তু ভিন্ন। আমাদের প্রাত্যহিক খাদ্যাভ্যাসে থাকা অতিরিক্ত মিষ্টি, কোল্ড ড্রিংকস, প্যাকেটজাত জুস, সাদা ময়দা এবং পরিমাণের চেয়ে বেশি ভাত-রুটি; যেগুলো রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট হিসেবে পরিচিত, রক্তে দ্রুত গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। শরীর যখন এই অতিরিক্ত চিনি প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না, তখন লিভার সেই শর্করাকে ট্রাইগ্লিসারাইডে রূপান্তর করে নিজের কোষেই চর্বি হিসেবে জমাতে শুরু করে। ​কোনো কঠোর ক্র্যাশ ডায়েট বা না খেয়ে থেকে ফ্যাটি লিভার কমানো যায় না। বরং সঠিক খাদ্য নির্বাচনেই মেলে সমাধান। নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্ত থাকতে যা করতে হবে—  লাল চালের ভাত, ওটস, ইসবগুলের ভুসি ও রঙিন শাকসবজিতে থাকা দ্রবণীয় আঁশ রক্তের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ও শর্করা শুষে নেয়। ফলে লিভারে চর্বি জমার সুযোগ কমে। সবুজ চা বা গ্রিন টি, কাঁচা হলুদ, রসুন এবং লেবু বা আমলকীর মতো সাইট্রাস জাতীয় ফল লিভারের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে এবং লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ​ রান্নায় কেমিক্যালযুক্ত প্রক্রিয়াজাত রিফাইন্ড তেলের বদলে পরিমিত খাঁটি সরিষার তেল এবং খাদ্যতালিকায় সামুদ্রিক মাছ, তিল, তিসি বা বাদাম থেকে পাওয়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রাখুন। শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিতে এবং লিভারের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে দিনে আড়াই থেকে ৩ লিটার পানি পান করুন। প্যাকেটজাত জুস, বেকারির খাবার, কোমল পানীয় এবং কৃত্রিম মিষ্টিজাতীয় খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন। ​ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে নিয়ম মেনে চলা মোটেও কঠিন কিছু নয়। প্রতিদিনের পাতে সচেতন পুষ্টি নির্বাচন, প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ দেওয়া এবং দিনে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাসই পারে আপনার লিভার দীর্ঘ মেয়াদে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে।

পূজার সাজে ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধন

দুর্গাপূজা আসছে। পূজা মানেই অনেক অনেক কেনাকাটা। নিজের জন্য, বাড়ির সব নারীরই যেন শাড়ি কেনার ধুম পড়ে। ডিজাইনাররাও এ উপলক্ষে নতুন নতুন থিমভিত্তিক শাড়ির নকশা করতে বসেন। সেই শাড়িগুলো কিন্তু আসতে শুরু করেছে বাজার এবং অনলাইন পেজগুলোতে। সামনে আরও আসবে। ষষ্ঠী থেকে দশমী, বিশেষ করে তুলতে পূজার প্রতিটি দিন বেছে নেওয়া চাই জুতসই উৎসবের শাড়ি। অনলাইন ও অফলাইনভিত্তিক ফ্যাশন উদ্যোগ সরলা দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিয়ে এসেছে শাড়ির বিশেষ সংগ্রহ। সরলার স্বত্বাধিকারী মানসুরা ইয়াসমিন স্পৃহা বলেন, ‘উৎসভিত্তিক কাজের নকশা করার সময় একটি বা দুটি পরিধেয় থাকে, যা একেবারে থিমভিত্তিক। এবার পূজা উপলক্ষে এমন অনেক কাজ করা হয়েছে। আমি সব সময় চেষ্টা করি স্টোরিটেলিং ধরনের কাজ করার। মোটকথা, শাড়িতে একটা গল্প থাকবে। শাড়িটা একটা গল্প বলবে!’ এর আগে তিনি শাড়িতে ঢাকার গল্প এঁকেছেন। বাংলাদেশের গল্পচিত্র তুলে ধরেছেন। সরলায় ঢাকার গল্প ১ ও ২ এমন সিরিজ আকারে শাড়ি তৈরি হয়েছে। কোনোটা উত্তরা থেকে মতিঝিলের, কোনোটা আবার মতিঝিল থেকে সদরঘাট পর্যন্ত গল্প বলেছে। স্পৃহা এই প্রথম হাজির হয়েছেন শাড়িতে দুর্গাপূজার গল্প নিয়ে। মূলত ঢাকা শহরের পূজার গল্প সাজিয়ে তুলেছেন উজ্জ্বল রঙের শাড়িতে। স্পৃহা জানান, শাড়িতে সরাসরি দেবী প্রতিমা রাখা না হলেও পূজামণ্ডপ, মণ্ডপের গেট, জনসমাগম, পূজার মেলা ও পূজার আনন্দ তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। কমলা, লাল ও অন্যান্য উজ্জ্বল রঙের এই শাড়ি দুর্গাপূজায় আনা সরলার মূল থিমেটিক শাড়ি। এ ছাড়া পূজার জন্য বিশেষভাবে লাল-সাদা থিমে দুটি শাড়ির নকশা করেছেন তিনি। যাঁরা শৈল্পিক শাড়ি ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য ফোক আর্ট ও মডার্ন আর্ট—এ দুটি ধরন মিলিয়ে কাজ করতে ভালোবাসেন স্পৃহা। পূজার জন্য কেউ চাইলে ওয়ার্লি আর্টের শাড়ি নিতে পারেন, আবার যাঁরা অবয়ব বা প্রাণীর মোটিফ পছন্দ করেন না, তাঁরা ফ্লোরাল মোটিফ ও প্যাটার্নওয়ার্কের শাড়িও নিতে পারবেন। এখন কলমকারি খুব পছন্দ করেন নারীরা। সরলায় রয়েছে কলমকারি ইন্সপায়ার শাড়িও। পূজার বিশেষ শাড়ি সম্পর্কে স্পৃহা বলেন, ‘দেবী ও নারীকে আমি রানির মতোই অপরূপ ও শক্তিশালী হিসেবে উপলব্ধি করি। পূজায় তাই একটা রানির থিমে শাড়ির নকশা করেছি, যেখানে তাসের রানি ও দেবী মিলেমিশে একটা চমৎকার অবয়ব তৈরির প্রয়াস ছিল। পপ কালার ব্যবহার করে নকশা করা শাড়িটি যে কেউ চাইলে অষ্টমীতে পরতে পারবেন।’ এ ছাড়া ধূসর ও লাল রঙের কনট্রাস্ট করে এবং কালো-লালের কম্বিনেশনেও শাড়ি এসেছে সরলায়; যেগুলো অঞ্জলি ও রাতের দাওয়াতে পরে যাওয়ার জন্য একেবারেই আদর্শ। এসব শাড়ির দাম ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু। তবে দুর্গাপূজা উপলক্ষে রয়েছে ২০ শতাংশ ছাড়। সরলায় বেশির ভাগ কাজ যেহেতু ডিজিটাল মাধ্য়মে হয়, তাই শাড়ির জন্য মিক্সড ফ্যাব্রিকস বেছে নেন স্পৃহা। বেশির ভাগ সুতি ও সিল্কের মিশ্রণে নিজেদের তাঁতিকে দিয়ে তৈরি করা এই কাপড়ের নাম দিয়েছেন মুন সিল্ক। এসব কাপড় আরামদায়ক। বাড়িতে এবং বাইরেও অনায়াসে পরে থাকা যায় বলে জানান তিনি। সরলাকে নারীরা চিনতে শুরু করেছে মূলত সুন্দর ফিটিংয়ের ব্লাউজের কারণে। স্পৃহা বলেন, ‘আমাদের ব্লাউজের চাহিদা থাকে সারা বছর। পূজার জন্য সরলা থেকেও ব্লাউজ নেওয়া যাবে। আবার চাইলে নিজের পছন্দের কাপড় দিয়ে এখান থেকে কাস্টমাইজ করে ব্লাউজ তৈরি করা যায়।’ কাপড়, নকশা ও ধরনভেদে এসব ব্লাউজের দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে পূজার জন্য ব্লাউজের ওপরও ছাড় থাকছে। সরলা ছাড়া হরিতকী, জায়া, খাঁচা, রঙ বাংলাদেশ, বিশ্বরঙ, নহলী, আরাত্রিকাসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ও ফেসবুক অনলাইন পেজে দুর্গাপূজার জন্য বিশেষ আয়োজন রয়েছে।

পূজার সাজে ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধন

গরমে প্রাণজুড়ানো তালের দুই রেসিপি

ভাদ্রের তালপাকা গরমে জীবন অতিষ্ঠ। তাই এই গরমে প্রশান্তি দিতে পারে তালের শরবত। তাল দিয়েই তৈরি করে নিন প্রাণজুড়ানো দুই রেসিপি।  তালের রস ১ কাপ, ঘন করে জ্বাল দেওয়া ঠান্ডা তরল দুধ ২ কাপ, মিষ্টি দই বা ভ্যানিলা আইসক্রিম ৪ টেবিল চামচ, পাকা কলা ১টি, চিনি স্বাদমতো, কাজুবাদাম বা কাঠবাদামকুচি করা, আখরোট সাজানোর জন্য, বরফকুচি প্রয়োজনমতো। একটি ব্লেন্ডারে তালের রস, ঠান্ডা দুধ, দই বা আইসক্রিম, কলার টুকরা ও চিনি একসঙ্গে নিয়ে নিন। উপকরণগুলো মসৃণ বা স্মুদ না হওয়া পর্যন্ত ভালো করে ব্লেন্ড করুন। এবার গ্লাসে ঢেলে ওপরে বাদামের কুচি, আখরোট এবং বরফকুচি দিয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন। তালের ঘন রস ১ কাপ, ১ লিটার ঘন দুধ জ্বাল দিয়ে আধা লিটার করে নেওয়া, চিনি আধা কাপ, আইসক্রিম তৈরির হেভি ক্রিম ১ কাপ, এলাচির গুঁড়া ১ চা-চামচের ৪ ভাগের ১ ভাগ, যেকোনো বাদামকুচি সাজানোর জন্য, আধা কাপ গরম পানিতে গুলিয়ে নেওয়া জেলাটিন ১ টেবিল চামচ। এক লিটার তরল দুধ চুলায় দিয়ে ফুটিয়ে অর্ধেক করে নিন। ঘন দুধের সঙ্গে তালের রস এবং চিনি বা কনডেন্সড মিল্ক মিশিয়ে দিন। মিশ্রণটি চুলায় বসিয়ে মাঝারি আঁচে ৫ থেকে ৭ মিনিট অনবরত নাড়ুন, যাতে নিচে লেগে না যায়। মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে নামিয়ে এলাচির গুঁড়া মেশান এবং সম্পূর্ণ ঠান্ডা হতে দিন। এবার একটি পাত্রে আইসক্রিম তৈরির হেভি ক্রিম বিট করে নিয়ে ঠান্ডা তালের মিশ্রণের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এটি কুলফিকে ক্রিমি করবে। এরপর ২ টেবিল চামচ জেলাটিন মেশানো পানি দিন। এবার মিশ্রণটি কুলফি বা আইসক্রিমের মোল্ডে ঢালুন। ওপর থেকে বাদামকুচি ছড়িয়ে দিন। মোল্ডের মুখ বন্ধ করে ডিপ ফ্রিজে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বা সারা রাত রেখে দিন। ফ্রিজ থেকে বের করে পরিবেশন করুন।

গরমে প্রাণজুড়ানো তালের দুই রেসিপি
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream