শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

মিষ্টি আর অতিরিক্ত ভাতেই কি লিভারে চর্বি জমছে?


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

মিষ্টি আর অতিরিক্ত ভাতেই কি লিভারে চর্বি জমছে?
সংগৃহীত ছবি

আমাদের ​শরীরের ভেতরের বড় ও ব্যস্ততম অঙ্গটি হলো লিভার। পরিপাক, রক্ত পরিশোধন ও শক্তি সঞ্চয়ের মতো অন্তত ৫০০-এর বেশি বৈচিত্র্যময় কাজ একা সামলায় এই অঙ্গ। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় অলসতা ও ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে আমাদের অজান্তেই লিভারে জমছে অতিরিক্ত মেদ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার। প্রাথমিক অবস্থায় দৃশ্যমান কোনো লক্ষণ না থাকলেও দীর্ঘ মেয়াদে এটি লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে

​শুধু তেল-চর্বি নয়, মূল অপরাধী অতিরিক্ত শর্করা। ​অনেকের ধারণা, শুধু তেল-চর্বিজাতীয় খাবার খেলে লিভারে মেদ জমে। তবে পুষ্টিবিজ্ঞানের তথ্য কিন্তু ভিন্ন। আমাদের প্রাত্যহিক খাদ্যাভ্যাসে থাকা অতিরিক্ত মিষ্টি, কোল্ড ড্রিংকস, প্যাকেটজাত জুস, সাদা ময়দা এবং পরিমাণের চেয়ে বেশি ভাত-রুটি; যেগুলো রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট হিসেবে পরিচিত, রক্তে দ্রুত গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। শরীর যখন এই অতিরিক্ত চিনি প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না, তখন লিভার সেই শর্করাকে ট্রাইগ্লিসারাইডে রূপান্তর করে নিজের কোষেই চর্বি হিসেবে জমাতে শুরু করে।

​কোনো কঠোর ক্র্যাশ ডায়েট বা না খেয়ে থেকে ফ্যাটি লিভার কমানো যায় না। বরং সঠিক খাদ্য নির্বাচনেই মেলে সমাধান। নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্ত থাকতে যা করতে হবে—

 লাল চালের ভাত, ওটস, ইসবগুলের ভুসি ও রঙিন শাকসবজিতে থাকা দ্রবণীয় আঁশ রক্তের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ও শর্করা শুষে নেয়। ফলে লিভারে চর্বি জমার সুযোগ কমে।

সবুজ চা বা গ্রিন টি, কাঁচা হলুদ, রসুন এবং লেবু বা আমলকীর মতো সাইট্রাস জাতীয় ফল লিভারের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে এবং লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

​ রান্নায় কেমিক্যালযুক্ত প্রক্রিয়াজাত রিফাইন্ড তেলের বদলে পরিমিত খাঁটি সরিষার তেল এবং খাদ্যতালিকায় সামুদ্রিক মাছ, তিল, তিসি বা বাদাম থেকে পাওয়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রাখুন।

শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিতে এবং লিভারের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে দিনে আড়াই থেকে ৩ লিটার পানি পান করুন।

প্যাকেটজাত জুস, বেকারির খাবার, কোমল পানীয় এবং কৃত্রিম মিষ্টিজাতীয় খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন।

​ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে নিয়ম মেনে চলা মোটেও কঠিন কিছু নয়। প্রতিদিনের পাতে সচেতন পুষ্টি নির্বাচন, প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ দেওয়া এবং দিনে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাসই পারে আপনার লিভার দীর্ঘ মেয়াদে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে।

বিষয় : স্বাস্থ্য ছাপা সংস্করণ জীবনধারা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মিষ্টি আর অতিরিক্ত ভাতেই কি লিভারে চর্বি জমছে?

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

আমাদের ​শরীরের ভেতরের বড় ও ব্যস্ততম অঙ্গটি হলো লিভার। পরিপাক, রক্ত পরিশোধন ও শক্তি সঞ্চয়ের মতো অন্তত ৫০০-এর বেশি বৈচিত্র্যময় কাজ একা সামলায় এই অঙ্গ। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় অলসতা ও ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে আমাদের অজান্তেই লিভারে জমছে অতিরিক্ত মেদ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার। প্রাথমিক অবস্থায় দৃশ্যমান কোনো লক্ষণ না থাকলেও দীর্ঘ মেয়াদে এটি লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে

​শুধু তেল-চর্বি নয়, মূল অপরাধী অতিরিক্ত শর্করা। ​অনেকের ধারণা, শুধু তেল-চর্বিজাতীয় খাবার খেলে লিভারে মেদ জমে। তবে পুষ্টিবিজ্ঞানের তথ্য কিন্তু ভিন্ন। আমাদের প্রাত্যহিক খাদ্যাভ্যাসে থাকা অতিরিক্ত মিষ্টি, কোল্ড ড্রিংকস, প্যাকেটজাত জুস, সাদা ময়দা এবং পরিমাণের চেয়ে বেশি ভাত-রুটি; যেগুলো রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট হিসেবে পরিচিত, রক্তে দ্রুত গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। শরীর যখন এই অতিরিক্ত চিনি প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না, তখন লিভার সেই শর্করাকে ট্রাইগ্লিসারাইডে রূপান্তর করে নিজের কোষেই চর্বি হিসেবে জমাতে শুরু করে।

​কোনো কঠোর ক্র্যাশ ডায়েট বা না খেয়ে থেকে ফ্যাটি লিভার কমানো যায় না। বরং সঠিক খাদ্য নির্বাচনেই মেলে সমাধান। নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্ত থাকতে যা করতে হবে—

 লাল চালের ভাত, ওটস, ইসবগুলের ভুসি ও রঙিন শাকসবজিতে থাকা দ্রবণীয় আঁশ রক্তের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ও শর্করা শুষে নেয়। ফলে লিভারে চর্বি জমার সুযোগ কমে।

সবুজ চা বা গ্রিন টি, কাঁচা হলুদ, রসুন এবং লেবু বা আমলকীর মতো সাইট্রাস জাতীয় ফল লিভারের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে এবং লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

​ রান্নায় কেমিক্যালযুক্ত প্রক্রিয়াজাত রিফাইন্ড তেলের বদলে পরিমিত খাঁটি সরিষার তেল এবং খাদ্যতালিকায় সামুদ্রিক মাছ, তিল, তিসি বা বাদাম থেকে পাওয়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রাখুন।

শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিতে এবং লিভারের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে দিনে আড়াই থেকে ৩ লিটার পানি পান করুন।

প্যাকেটজাত জুস, বেকারির খাবার, কোমল পানীয় এবং কৃত্রিম মিষ্টিজাতীয় খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন।

​ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে নিয়ম মেনে চলা মোটেও কঠিন কিছু নয়। প্রতিদিনের পাতে সচেতন পুষ্টি নির্বাচন, প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ দেওয়া এবং দিনে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাসই পারে আপনার লিভার দীর্ঘ মেয়াদে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream