বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
দুর্গাপূজার ছুটিতে ফাঁকা রাজধানী

দুর্গাপূজার ছুটিতে ফাঁকা রাজধানী

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ছুটি কাটাতে রাজধানী ঢাকা ছেড়েছে মানুষ। এতে মহানগরীর রাস্তাঘাট একদমই ফাঁকা। নেই যানজট, স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করছেন নগরবাসী। নেই কর্মজীবী মানুষের চিরচেনা ব্যস্ততাও। চিরচেনা রাজধানী এখন অনেকটাই শান্ত ও ভিন্ন আমেজে রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, ফার্মগেট, হাতিরঝিল এলাকা, রামপুরা, বাড্ডা, বনানী, কুড়িল বিশ্বরোড়, খিলক্ষেতসহ বিভিন্ন সড়ক সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকার অধিকাংশ সড়কই ফাঁকা। বাসস্ট্যান্ডগুলোতে নেই যাত্রীদের দীর্ঘলাইন। ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, মিরপুর রোড ও সংসদ ভবন রোডের মতো ব্যস্ত সড়কেও নির্বিঘ্নে চলাচল করছে সব ধরনের যানবাহন। এসব সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে যেখানে স্বাভাবিক সময়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগতো, সেখানে এখন গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগছে অর্ধেকেরও কম। সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক, বিমা ও কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন নগরবাসী। ছুটিতে থাকা বেসরকারি চাকরিজীবী মেহেরুল সুজন বলেন, ‘ছুটির কারণে ঢাকা ফাঁকা হয়ে গেছে। ফাঁকা ঢাকায় পরিবারের সঙ্গে একটু ঘোরাঘুরি করার জন্য বের হয়েছি। দুপুরে একটি ভালো রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া সেরে কয়েকটি বিনোদনকেন্দ্র ঘুরে বাসায় ফিরব। কারণ, স্বাভাবিক সময়ে এমন ফাঁকা ঢাকা পাওয়া যায় না।’ বিজয়নগর এলাকার বাসিন্দা কালাম আজাদ জানান, এমন পরিস্থিতিতে কয়েক দিন ঢাকায় নির্বিঘ্নে চলাচল করা যাবে। ছুটি শেষ হলে আবারও চিরচেনা রূপে ফিরবে এই শহর। তবু সাময়িক এই স্বস্তি উপভোগ করছেন বলেও জানান তিনি। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত

রাজশাহীতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে একটি সামরিক বিমানে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে রওনা দিয়ে ২টা ৫৫ মিনিটে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহসভাপতি ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপির সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ অন্যরা। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার ফয়জুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদ।  আরও পড়ুনআরও পড়ুনইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন জারি বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন। এরপর রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপে যাবেন। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। এর আগে সকাল ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। সৈয়দপুর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে দুটি পথসভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

রাজশাহীতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

রাষ্ট্রে সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান অধিকারের কথা তুলে ধরে একসঙ্গে দেশ গড়ার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রংপুর ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে মন্দিরে শারদীয়া শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ বার্তা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি সেই গণঅভ্যুত্থানের রাজপথের দৃশ্য দেখি, তাহলে দেখব সেই দৃশ্যের মধ্যে আমরা এই বাংলাদেশে বসবাসকারী সকল ধর্মের মানুষের সম্মেলন সেখানে হয়েছিল। সকল মানুষের কে আমরা দেখেছিলাম দলমত বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি ধর্মের মানুষ প্রতিটি পেশার মানুষ সেই রাজপথে সেদিন নেমে এসেছিল তাদের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। এই কথাগুলো আমার বলার মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য হচ্ছে যে দেখুন এই দেশটি হাজার বছর ধরে সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে এগিয়ে চলছে। শান্তিতে আমরা সকলে মিলে বসবাস করছি। আমরা চাই বিগত হাজার বছর ধরে যেমন আমরা প্রত্যেকটি ধর্মের মানুষ এই দেশে শান্তিতে একসাথে বসবাস করেছি। আগামী বছর হাজার বছরেও যাতে আমরা একসাথে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। আমরা যেমন সকলে মিলে সকল ধর্মের মানুষ মিলে এদেশকে স্বাধীন করেছিলাম জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সকল ধর্মের মানুষ একসাথে আমরা এদেশে মানুষের রাজনৈতিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম। আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই তাহলে আমাদের সকল ধর্ম মতের মানুষকে একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করে আমাদের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশকে আমাদের গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটি আমাদের সকলের। এই দেশকে গড়ে তুলতে হলে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে, দেশটিকে গড়ে তুলতে হলে আমাদেরকে সকল বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা অতীতে আমরা যে রাজনীতি দেখেছি তার পরিবর্তন আমরা করতে চাই উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, কিন্তু এই পরিবর্তন সরকার চেষ্টা করছে করার জন্য। কিন্তু এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে জনগণ। এই জনগণকে আমরা বর্তমান সরকার অতীতের মতন বর্তমানে পাশে পেতে চায়।

সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে: ভারতীয় হাইকমিশনার

বাংলাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।  সোমবার সকালে বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, উৎসবমুখর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বর্ণিল পরিবেশে এবার বাংলাদেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন হচ্ছে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এই উদ্‌যাপনে এসে নিজের দেশের সাথে সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির মিল খুঁজে পান তিনি। সম্প্রীতি গড়তে হলে সবার মধ্যে সহাবস্থান জরুরি উল্লেখ করেন ত্রিবেদী। এসময় তিন বলেন, পূজায় হাইকমিশনার হিসেবে আসিনি, এসেছি পরিবারের সদস্য হিসেবে পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করতে। দেশ ও দশের শান্তি ও মঙ্গল প্রার্থনা করে অঞ্জলি দেন তিনি। উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে বলেও প্রত্যাশা করেন দীনেশ ত্রিবেদী।

বাংলাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে: ভারতীয় হাইকমিশনার

কুমারীরূপে পূজিত হবেন দেবী

কয়েক দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমী আজ। অষ্টমী তিথির অন্যতম আকর্ষণ কুমারীপূজা। ঐতিহ্য অনুযায়ী রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের পূজামণ্ডপে আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় কুমারীপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল রোববার মহাসপ্তমীতে সকাল থেকেই মন্দিরে মন্দিরে ভক্ত-দর্শনার্থীর ভিড় ছিল। সন্ধ্যার পর মণ্ডপগুলোতে তাঁদের উপস্থিতি আরও বাড়ে। গতকাল শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাজধানীর রমনা কালীমন্দির ও রামকৃষ্ণ মিশন পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুপুরে রামকৃষ্ণ মিশনে এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা সেই বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে আমরা শান্তিতে থাকব, সুখে থাকব। যে বাংলাদেশে আমাদের ধর্মে ধর্মে কোনো বিভেদ থাকবে না। সকলে তাদের ধর্ম নিশ্চিন্তে পালন করবে।’ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদেরই কিছু মানুষ বিভিন্ন সময়ে কখনো রাজনৈতিক স্বার্থে, কখনো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে, আবার কখনো অসৎ অভিপ্রায়ে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে ফাটল ধরিয়ে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে। এ ধরনের বিভেদ ও বিভাজন কোনোভাবেই কাম্য নয়; বরং তা আমাদের ঐতিহ্য, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির পরিপন্থী।’ রামকৃষ্ণ মিশন সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোর সাড়ে ৫টায় মহাষ্টমীর পূজা শুরু হবে। এরপর সকাল ৯টায় পুষ্পাঞ্জলি ও ৯টা ৩০ মিনিটে কুমারীপূজার আয়োজন করা হবে। আর মধ্যাহ্ন প্রসাদ বিতরণ করা হবে দুপুর ১২টায়। শাস্ত্রমতে, কুমারীপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় ১৬টি উপকরণ দিয়ে। এরপর অগ্নি, জল, বস্ত্র, পুষ্প ও বাতাস—এই পাঁচ উপকরণে কুমারীকে দেবীরূপে পূজা করা হয়। শাস্ত্রমতে, মানববন্দনা, নারীর সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং ঈশ্বরের আরাধনাই কুমারীপূজার মূল শিক্ষা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, যে ত্রিশক্তির মাধ্যমে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়ের চক্রে আবর্তিত হচ্ছে, সেই শক্তি কুমারীর মধ্যে বীজরূপে বিরাজমান। এ বিশ্বাস থেকেই মহাষ্টমীতে কুমারীকে দেবী দুর্গারূপে আরাধনা করা হয়। জানা যায়, ১৯০১ সালে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব স্বামী বিবেকানন্দ কলকাতার বেলুড় মঠে কুমারীপূজার প্রচলন করেন। এর পর থেকে প্রতিবছর দুর্গাপূজার অষ্টমী তিথিতে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দেবীপুরাণে কুমারীপূজার উল্লেখ রয়েছে। শাস্ত্রমতে, ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী সুলক্ষণা কন্যাকে কুমারী হিসেবে পূজা করার বিধান রয়েছে। ব্রাহ্মণ অবিবাহিত কন্যার পাশাপাশি অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও পূজা করার বিধান রয়েছে। হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতি শরতে হিমালয়ের কৈলাস পর্বত ছেড়ে কন্যারূপে পৃথিবীতে নেমে আসেন দেবী দুর্গা। সন্তানদের নিয়ে কয়েকটি দিন মর্ত্যে কাটিয়ে তিনি আবার কৈলাসে ফিরে যান। তাঁর আগমন ও প্রস্থানের মধ্যবর্তী সময়ে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত পাঁচ দিন দুর্গোৎসব উদ্‌যাপিত হয়। তবে এবার মহাসপ্তমী তিথি শনি ও রোববার দুই দিন বিস্তৃত হওয়ায় এবারের এই আনন্দোৎসব চলবে ছয় দিন। আগামী বুধবার দশমীর সন্ধ্যায় বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে এ বছরের দুর্গাপূজার। পঞ্জিকামতে, এবার দেবীর আগমন ঘোটকে বা ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের তথ্যমতে, এবার সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে মণ্ডপের সংখ্যা ২৫৮টি।

কুমারীরূপে পূজিত হবেন দেবী

কুড়িগ্রামে নিরাপত্তা জোরদার, যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার না করার আহ্বান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৩। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণেরও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে কুড়িগ্রাম শহরের সার্বজনীন কালীবাড়ী কেন্দ্রীয় মন্দিরসহ কয়েকটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন এসআরবি-১৩, রংপুরের উপ-অধিনায়ক মেজর সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রামে ৫৬৬টি মন্দির-মন্ডপে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসআরবি-১৩-এর পক্ষ থেকে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত এসআরবি সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সব সময় সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। মেজর সাইফুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো উসকানিমূলক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেখা গেলে তা যাচাই না করে শেয়ার না করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে, যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করা সম্ভব হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি দুলাল চন্দ্র রায়, কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সফি খানসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা। প্রেস ব্রিফিং শেষে তারা জেলার বিভিন্ন উপজেলার পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বের হন। বিডি-প্রতিদিন/এমই

কুড়িগ্রামে নিরাপত্তা জোরদার, যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার না করার আহ্বান

নোয়াখালীতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি বিতরণ

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নোয়াখালীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে।  রবিবার নোয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে প্রাথমিকভাবে কয়েকটি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে শাড়ি তুলে দেন নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোমায়রা ইসলাম, জেলা বিএনপির নেতা আবু নাছের, সলিমুল্লাহ বাহার হিরণ, ভিপি জসিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাবের আহমেদ এবং মাইজদী দেবালয়ের সাধারণ সম্পাদক রাজুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

নোয়াখালীতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি বিতরণ

দুর্গাপূজায় গুজব ঠেকাতে ২৪ ঘণ্টা সাইবার নজরদারি টিম সক্রিয় রয়েছে: এসআরবি

শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে এসআরবি। গুজব প্রতিরোধে সংস্থাটির সাইবার মনিটরিং টিম ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর কলাবাগান থানাধীন ধানমন্ডি সর্বজনীন পূজামণ্ডপ ও কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে নিরাপত্তাবিষয়ক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান এসআরবি-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান। ব্রিফিংয়ে ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেন, পূজামণ্ডপ এলাকায় ইউনিফর্মধারী সদস্যদের টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পূজা উপলক্ষে এসআরবি-২-এর কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে। যেকোনো প্রয়োজনে বা গুজব-সংক্রান্ত তথ্য জানাতে ০১৭৭৭৭১০২৯৯ নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা উসকানিমূলক প্রচারণা ছড়ানো হলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। এ ছাড়া বিসর্জনের দিন হেলিকপ্টার ও ড্রোনের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেন, বৈচিত্র্য বাংলাদেশের শক্তি। শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতিরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এসআরবি-২-এর সদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব। এ সময় ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে এলাকাবাসীকে নির্ভয়ে উৎসব উদ্‌যাপনের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি কোনো গুজবে কান না দিয়ে সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়।

দুর্গাপূজায় গুজব ঠেকাতে ২৪ ঘণ্টা সাইবার নজরদারি টিম সক্রিয় রয়েছে: এসআরবি

এবার পূজাকে ঘিরে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি: গয়েশ্বর

শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে সারা দেশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে সরকার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকার কেরানীগঞ্জে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে সারা দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। এবার পূজাকে ঘিরে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা পূজামণ্ডপগুলোতে পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করছেন। এ কারণে কোনও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি। এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা বহন করছে। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, এবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি অন্য ধর্মের সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ উৎসবে অংশ নিচ্ছেন।

এবার পূজাকে ঘিরে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি: গয়েশ্বর

দুর্গাপূজার ছুটিতেও আমদানি-রফতানি সীমিত পরিসরে চলবে

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটির মধ্যেও দেশের কাস্টমস হাউস ও স্টেশনগুলোতে সীমিত পরিসরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটির দিনগুলোতে এ কার্যক্রম চালু রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি। এনবিআরের কাস্টমস নীতি বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস নীতি) রেজাউল করিম। নির্দেশনায় বলা হয়, দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য নিরবচ্ছিন্ন রাখার স্বার্থে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি ছুটির দিনগুলোতে সীমিত পরিসরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চালু রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম, বেনাপোল, মোংলা, ভোমরাসহ বিভিন্ন কাস্টমস হাউস ও স্টেশনের কমিশনারদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে এনবিআর। ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই, ফরেন চেম্বার অব কমার্স, ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার, চট্টগ্রাম চেম্বার এবং তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএকেও এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। এনবিআরের এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সরকারি ছুটির কারণে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে বিঘ্ন কমানো এবং দেশের বাণিজ্য সচল রাখা। তবে নির্দেশনায় ছুটির দিনগুলোতে কোন কোন সেবা কী সময়সূচিতে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। বিডি প্রতিদিন/এআরএ

দুর্গাপূজার ছুটিতেও আমদানি-রফতানি সীমিত পরিসরে চলবে

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সীমান্তে ২০ প্লাটুন বিজিবি, ড্রোনে নজরদারি

শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পূজামণ্ডপে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন করা হচ্ছে ২০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য। এর মধ্যে কুষ্টিয়া বিজিবি ৮ প্লাটুন ও চুয়াডাঙ্গা বিজিবি ৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়ন করবে। নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমেও পর্যবেক্ষণ করা হবে। বৃহস্পতিবার রাতে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সীমান্তবর্তী ২৪টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে দুটি এবং সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে ২২টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। অন্যদিকে, কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রাশেদ কামাল রনি জানান, কুষ্টিয়া জেলা ও মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন আরও আট প্লাটুন বিজিবি সদস্য। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী মণ্ডপে পাঁচ প্লাটুন এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের আশপাশে তিন প্লাটুন সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। বিজিবি গুজবে কান না দেওয়া এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যকলাপ নজরে এলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত ও সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে। বিডি-প্রতিদিন/এআইডি

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সীমান্তে ২০ প্লাটুন বিজিবি, ড্রোনে নজরদারি

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা: ২ লাখ ১২ হাজার আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন

শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারাদেশে ২ লাখ ১২ হাজার ৮১৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আজ ১৫ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত আট দিন তাঁরা পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১০৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিমের ৬২৪ জন সদস্যকে। আজ বৃহস্পতিবার এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। রাজধানীর খিলগাঁওয়ে আনসার-ভিডিপি সদর দপ্তরে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে মহাপরিচালক বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে তাঁরা প্রত্যাশা করেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থান বজায় রাখতে আনসার-ভিডিপির সদস্যরা নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে আনসার-ভিডিপি সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় মোতায়েন করা সদস্যদের মধ্যে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৮৮ জন পুরুষ এবং ৬৬ হাজার ৩৩০ জন নারী। পূজামণ্ডপের গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় তিন শ্রেণিতে নিরাপত্তা জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৬ হাজার ৯১৪টি মণ্ডপে প্রতিটিতে আটজন করে এবং গুরুত্বপূর্ণ ১১ হাজার ৭৮১টি ও সাধারণ ১৪ হাজার ৪৭০টি মণ্ডপে প্রতিটিতে ছয়জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। দুর্গাপূজার নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকি ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হচ্ছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অ্যাপটির তিনটি অংশ—এন্ড-ইউজার, রেসপন্ডার ও ওভারসাইট প্যানেল। পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনকারী ভিডিপি সদস্যরা তথ্য সরবরাহ করবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বিত ব্যবস্থা নেবে। আর ওভারসাইট প্যানেলের মাধ্যমে সার্বিক কার্যক্রম তদারকি, ঘটনা ও দুর্ঘটনা মোকাবিলা এবং গুজব প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা: ২ লাখ ১২ হাজার আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন

পূজার আগে শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল

আসন্ন দুর্গাপূজার ছুটি সামনে রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। পূজার ছুটি টানা পাঁচ দিন নিশ্চিত করতে আগামী ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত অফিস করতে হবে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রিসভা বৈঠকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) এক দিনের অতিরিক্ত সরকারি ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর ফলে পূর্বনির্ধারিত ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন। সরকারের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমীতে সরকারি ছুটি রয়েছে। এর পরদিন ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত ছুটি দেওয়া হয়েছে। এরপর ২৩ অক্টোবর শুক্রবার ও ২৪ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন সরকারি ছুটি ভোগ করবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে টানা এই ছুটি নিশ্চিত করতে ১৭ অক্টোবর শনিবারকে কর্মদিবস হিসেবে রাখা হয়েছে। ওই দিন সরকারি অফিস-আদালত নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এদিকে, চলতি বছর ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী পালিত হবে। অতিরিক্ত এক দিনের ছুটির ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এবারের দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পূজার আগে শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল

দুর্গাপূজায় ২০ থেকে ২২ অক্টোবর ছুটি

নিজস্ব প্রতিবেদক:আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটির তারিখ পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজার ছুটি থাকবে এবং এর পরিবর্তে আগামী ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস খোলা থাকবে। এছাড়া প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’-এ সাধারণ ছুটি থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২২ অক্টোবর ছুটি ঘোষণার ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি ভোগ করতে পারবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এর মধ্যে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর দুর্গাপূজার ছুটি এবং ২৩ ও ২৪ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে।পাশাপাশি, আগামী ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন সংক্রান্ত পরিপত্রে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে এটি পালন করা হবে।

দুর্গাপূজায় ২০ থেকে ২২ অক্টোবর ছুটি

চেনা চিত্র বদলে ভারত থেকে আসছে ইলিশ

এবার উল্টে গেছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ইলিশ বাণিজ্যের চেনা চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে ভারত বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের সবচেয়ে বড় বিদেশি বাজার ছিল। বিশেষ করে দুর্গাপূজার মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে ভারতে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা হতো। কিন্তু এবার বাংলাদেশে ইলিশ পাঠানো হচ্ছে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে উল্টো ভারত থেকেই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে—দেশটির মৎস্য ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে। বাংলাদেশে চলতি বছর ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বর্তমানে ১ কেজি বা তার বেশি ওজনের পদ্মার ইলিশ বাংলাদেশে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই সংকটের কারণে কিছু বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রচলিত বাণিজ্যপথের বাইরে গিয়ে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছেন। ভারত থেকে আসা ইলিশের বড় অংশ গুজরাট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ভরুচ বন্দর দিয়ে পাঠানো হয়েছে। কিছু চালান পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া পাইকারি মাছবাজার হয়েও গেছে। হাওড়া হোলসেল ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, বাংলাদেশ এবার প্রথমবারের মতো ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছে। সাধারণত পশ্চিমবঙ্গ থেকে বোয়াল, রুই, পারসে ও ট্যাংরা মাছ বাংলাদেশে পাঠানো হয়। গুজরাটের ইলিশে প্রচুর ডিম বা রো থাকায় ভারতের বাজারে এর চাহিদা তুলনামূলক কম। কিন্তু বাংলাদেশে বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেটে ডিমভরা ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে গুজরাটের ইলিশ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। মাকসুদ বলেন, এসব ইলিশের ডিম আলাদাভাবেও বিক্রি করা হচ্ছে। পরে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে অন্য দেশেও পুনরায় রপ্তানি করা হচ্ছে। তবে শুধু গুজরাট নয়, পশ্চিমবঙ্গের ডায়মন্ড হারবার ও কোলাঘাট থেকেও মাঝারি আকারের ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। কিছু চালান এসেছে গুজরাট ও মুম্বাই থেকে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত দুই মাসে অন্তত ৪৫০ টন ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। রোববারও প্রায় ১০ টন ইলিশ নিয়ে দুটি চালান এই স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা শুরুতে এসব চালানের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করতে অনিচ্ছুক ছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ পাঠানোর খবর প্রকাশ হলে বাংলাদেশে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিছু রপ্তানিকারক প্রথমে দাবি করেছিলেন, ইলিশ রপ্তানির কোডের অধীনে পাঠানো চালানে সামুদ্রিক মাছ থাকতে পারে। পরে পেট্রাপোলের ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কাস্টমসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে সত্যিই ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। মৎস্য আমদানিকারক সমিতির সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মৎস্য ব্যবসায়ীদের মতে, সীমান্তের দুই পাশেই ইলিশের সংকট এই অস্বাভাবিক বাণিজ্যের অন্যতম কারণ। অনিয়মিত বাতাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে মাছ ধরায় ব্যাঘাত ঘটেছে। এতে ইলিশের আহরণ কমার পাশাপাশি জেলেদের লোকসানও হয়েছে। এক ভারতীয় রপ্তানিকারক বলেন, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা আরব সাগর ও নর্মদা নদীর মোহনা থেকে পাওয়া ইলিশ সংগ্রহ করছেন। এসব মাছ দেখতে ভালো হলেও মিঠাপানির ইলিশের মতো সুস্বাদু নয়। তবে পদ্মার ইলিশের তুলনায় দাম কম হওয়ায় এবং বাজারে ব্যাপক সংকট থাকায় ব্যবসায়ীরা এগুলো আমদানি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ রপ্তানির এই পরিবর্তন এবার দুর্গাপূজাকে ঘিরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হবে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। গত বছর বাংলাদেশ ভারতকে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতে পৌঁছায় মাত্র ১৪৩ দশমিক ৮০ টন। এর আগের দুই বছরেও ভারতে ইলিশ আমদানি ৬০০ টনের নিচে ছিল। মূলত বেশি দামের কারণে আমদানিকারকেরা অনেক চালান নিতে অনিচ্ছুক ছিলেন। এবার কলকাতার মাছ আমদানিকারকেরা বাংলাদেশকে আবার ইলিশ রপ্তানি শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। শহরভিত্তিক একটি সংগঠন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছে। বাংলাদেশি মাছ ব্যবসায়ীরাও একই ধরনের অনুরোধ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে তারেক রহমানের সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইলিশ উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ। সেই দেশের বাজারে ইলিশের ঘাটতি মেটাতে এবার প্রতিবেশী ভারত থেকেই ইলিশ আসছে। বিষয়টিকে তাই শুধু বাণিজ্যের উল্টো স্রোত নয়, দুই দেশের দীর্ঘদিনের ইলিশ-সম্পর্কেরও এক অস্বাভাবিক অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, ‘ভারত এখন বাংলাদেশে ইলিশ রপ্তানি করছে, এটি অবশ্যই গর্বের বিষয়। তবে আমার ইচ্ছা, ইলিশ যেন চিরকাল দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের প্রতীক হয়ে থাকে।’

চেনা চিত্র বদলে ভারত থেকে আসছে ইলিশ

পূজার সাজে ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধন

দুর্গাপূজা আসছে। পূজা মানেই অনেক অনেক কেনাকাটা। নিজের জন্য, বাড়ির সব নারীরই যেন শাড়ি কেনার ধুম পড়ে। ডিজাইনাররাও এ উপলক্ষে নতুন নতুন থিমভিত্তিক শাড়ির নকশা করতে বসেন। সেই শাড়িগুলো কিন্তু আসতে শুরু করেছে বাজার এবং অনলাইন পেজগুলোতে। সামনে আরও আসবে। ষষ্ঠী থেকে দশমী, বিশেষ করে তুলতে পূজার প্রতিটি দিন বেছে নেওয়া চাই জুতসই উৎসবের শাড়ি। অনলাইন ও অফলাইনভিত্তিক ফ্যাশন উদ্যোগ সরলা দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিয়ে এসেছে শাড়ির বিশেষ সংগ্রহ। সরলার স্বত্বাধিকারী মানসুরা ইয়াসমিন স্পৃহা বলেন, ‘উৎসভিত্তিক কাজের নকশা করার সময় একটি বা দুটি পরিধেয় থাকে, যা একেবারে থিমভিত্তিক। এবার পূজা উপলক্ষে এমন অনেক কাজ করা হয়েছে। আমি সব সময় চেষ্টা করি স্টোরিটেলিং ধরনের কাজ করার। মোটকথা, শাড়িতে একটা গল্প থাকবে। শাড়িটা একটা গল্প বলবে!’ এর আগে তিনি শাড়িতে ঢাকার গল্প এঁকেছেন। বাংলাদেশের গল্পচিত্র তুলে ধরেছেন। সরলায় ঢাকার গল্প ১ ও ২ এমন সিরিজ আকারে শাড়ি তৈরি হয়েছে। কোনোটা উত্তরা থেকে মতিঝিলের, কোনোটা আবার মতিঝিল থেকে সদরঘাট পর্যন্ত গল্প বলেছে। স্পৃহা এই প্রথম হাজির হয়েছেন শাড়িতে দুর্গাপূজার গল্প নিয়ে। মূলত ঢাকা শহরের পূজার গল্প সাজিয়ে তুলেছেন উজ্জ্বল রঙের শাড়িতে। স্পৃহা জানান, শাড়িতে সরাসরি দেবী প্রতিমা রাখা না হলেও পূজামণ্ডপ, মণ্ডপের গেট, জনসমাগম, পূজার মেলা ও পূজার আনন্দ তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। কমলা, লাল ও অন্যান্য উজ্জ্বল রঙের এই শাড়ি দুর্গাপূজায় আনা সরলার মূল থিমেটিক শাড়ি। এ ছাড়া পূজার জন্য বিশেষভাবে লাল-সাদা থিমে দুটি শাড়ির নকশা করেছেন তিনি। যাঁরা শৈল্পিক শাড়ি ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য ফোক আর্ট ও মডার্ন আর্ট—এ দুটি ধরন মিলিয়ে কাজ করতে ভালোবাসেন স্পৃহা। পূজার জন্য কেউ চাইলে ওয়ার্লি আর্টের শাড়ি নিতে পারেন, আবার যাঁরা অবয়ব বা প্রাণীর মোটিফ পছন্দ করেন না, তাঁরা ফ্লোরাল মোটিফ ও প্যাটার্নওয়ার্কের শাড়িও নিতে পারবেন। এখন কলমকারি খুব পছন্দ করেন নারীরা। সরলায় রয়েছে কলমকারি ইন্সপায়ার শাড়িও। পূজার বিশেষ শাড়ি সম্পর্কে স্পৃহা বলেন, ‘দেবী ও নারীকে আমি রানির মতোই অপরূপ ও শক্তিশালী হিসেবে উপলব্ধি করি। পূজায় তাই একটা রানির থিমে শাড়ির নকশা করেছি, যেখানে তাসের রানি ও দেবী মিলেমিশে একটা চমৎকার অবয়ব তৈরির প্রয়াস ছিল। পপ কালার ব্যবহার করে নকশা করা শাড়িটি যে কেউ চাইলে অষ্টমীতে পরতে পারবেন।’ এ ছাড়া ধূসর ও লাল রঙের কনট্রাস্ট করে এবং কালো-লালের কম্বিনেশনেও শাড়ি এসেছে সরলায়; যেগুলো অঞ্জলি ও রাতের দাওয়াতে পরে যাওয়ার জন্য একেবারেই আদর্শ। এসব শাড়ির দাম ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু। তবে দুর্গাপূজা উপলক্ষে রয়েছে ২০ শতাংশ ছাড়। সরলায় বেশির ভাগ কাজ যেহেতু ডিজিটাল মাধ্য়মে হয়, তাই শাড়ির জন্য মিক্সড ফ্যাব্রিকস বেছে নেন স্পৃহা। বেশির ভাগ সুতি ও সিল্কের মিশ্রণে নিজেদের তাঁতিকে দিয়ে তৈরি করা এই কাপড়ের নাম দিয়েছেন মুন সিল্ক। এসব কাপড় আরামদায়ক। বাড়িতে এবং বাইরেও অনায়াসে পরে থাকা যায় বলে জানান তিনি। সরলাকে নারীরা চিনতে শুরু করেছে মূলত সুন্দর ফিটিংয়ের ব্লাউজের কারণে। স্পৃহা বলেন, ‘আমাদের ব্লাউজের চাহিদা থাকে সারা বছর। পূজার জন্য সরলা থেকেও ব্লাউজ নেওয়া যাবে। আবার চাইলে নিজের পছন্দের কাপড় দিয়ে এখান থেকে কাস্টমাইজ করে ব্লাউজ তৈরি করা যায়।’ কাপড়, নকশা ও ধরনভেদে এসব ব্লাউজের দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে পূজার জন্য ব্লাউজের ওপরও ছাড় থাকছে। সরলা ছাড়া হরিতকী, জায়া, খাঁচা, রঙ বাংলাদেশ, বিশ্বরঙ, নহলী, আরাত্রিকাসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ও ফেসবুক অনলাইন পেজে দুর্গাপূজার জন্য বিশেষ আয়োজন রয়েছে।

পূজার সাজে ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধন
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream