বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

বন্যার এক সপ্তাহ পরও নিখোঁজ, প্রিয়জনের সন্ধানে স্বজনেরা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| ফটো কার্ড

বন্যার এক সপ্তাহ পরও নিখোঁজ, প্রিয়জনের সন্ধানে স্বজনেরা
ন্যার এক সপ্তাহ পরও নিখোঁজ, প্রিয়জনের সন্ধানে স্বজনেরা

এক সপ্তাহ পরও নিখোঁজ বিদেশীদের স্বজনেরা আশা ছাড়ছেন না ভয়াবহ বন্যায় নেপালের হিমালয়সংলগ্ন সীমান্ত অঞ্চল বিপর্যস্ত হওয়ায়। হাসপাতাল ও মর্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা নিখোঁজদের কোনো সন্ধান পাওয়ার আশায়। 

কাঠমান্ডুর পর্যটন পুলিশ সদর দফতরের বাইরে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন সঞ্জীব রাই।

রাই বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমি যেদিন এখানে পৌঁছাই, সেদিনই বলেছিলাম, চলুন একটি হেলিকপ্টার খুঁজে বের করি। আমি তাকে খুঁজতে যাব।’

৫৩ বছর বয়সী এই আমেরিকান নাগরিক তার স্ত্রী জীবন জ্যোতির নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে নেপালে ছুটে আসেন। পবিত্র কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রা শেষে ফেরার পথে তার স্ত্রী নিখোঁজ হন। হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে কৈলাস একটি পবিত্র পর্বত।

তবে দুর্যোগের সময় জ্যোতি রাসুয়া জেলার তিমুরে গ্রামে ছিলেন। গ্রামটি এখনো দুর্গম ও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি খুবই হতাশ। এতগুলো দিন পার হয়ে গেছে।’

ইন্টেলে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত জ্যোতি আধ্যাত্মিক সাধনা ও অভিযানের অংশ হিসেবে এই যাত্রায় গিয়েছিলেন। তার ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে তিনি এই ভ্রমণে বের হয়েছিলেন।

এখন রাই জীবিত অবস্থায় স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আর জীবিতদের ফিরে পাওয়ার আশা করছি না। শুধু আশা করছি, ডিএনএ নমুনা মিলে যাবে। আমি যেন তার জন্য শোক করতে পারি, সেটাই চাই।’

২৬ আগস্টের বন্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিমালয়ের এই দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্যোগগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

প্রচণ্ড স্রোতে ভেসে আসা বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষের আঘাতে নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে এক হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন চার হাজার ৭৫০ জনের বেশি। এতে শহর, সড়ক, সেতু এবং একাধিক পানিবিদ্যুৎ বাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৯৪ জন বিদেশীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বেশিভাগই চীন ও ভারতের নাগরিক।

তবে ৫৮৩ জন বিদেশীর এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের অনেকেই কৈলাস পর্বতের চারপাশে কঠিন তীর্থযাত্রার জন্য কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

নিখোঁজদের মধ্যে আধ্যাত্মিক গুরু সদগুরুর ইশা ফাউন্ডেশনের ৭৭ জন তীর্থযাত্রী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকও রয়েছেন।

তাদের কয়েকজন স্বজন কাঠমান্ডুতে এসেছেন। ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকেরাও তাদের সহায়তা করছেন।

‘কেউ সরে যেতে পারেনি’অরুণ মেহতা বলেন, ‘যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে তথ্য পেতে আমরা প্রতিদিন নেপাল পুলিশের কাছে যাই। পুলিশ প্রকাশিত ছবিগুলোও আমরা পরীক্ষা করি।’

অন্যরা দিনের বেশিভাগ সময় হাসপাতালে গিয়ে কাটাচ্ছেন। তবে তিন নেপালি গাইডসহ দলটির সবাই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে মেহতা জানান।

তিনি বলেন, ‘তারা কৈলাস পর্বতের চারপাশে তীর্থযাত্রা শেষ করেছিলেন। এরপর চীনের সাথে সীমান্তের গিয়িরং সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রে অভিবাসনসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছিলেন। তখনই দুর্যোগ আঘাত হানে।’

ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ নিখোঁজদের শনাক্ত করার বিভিন্ন তথ্য কর্তৃপক্ষকে দিয়েছে। এর মধ্যে অনেক তীর্থযাত্রীর পরা সাপের আকৃতির বিশেষ আংটি ও লকেটের তথ্যও রয়েছে।

নেপাল পুলিশ চলতি সপ্তাহে নিখোঁজদের স্বজনদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছে। লাশ শনাক্ত করতে এসব নমুনা দিয়ে একটি তথ্যভান্ডার তৈরি করা হবে। বিদেশে থাকা স্বজনেরা নিজ নিজ দেশ থেকেও নমুনা জমা দিতে পারবেন।

নেপাল থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলেও কয়েকজন স্বজন নেপালে গিয়ে অনুসন্ধানে যোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ইয়াকুতস্ক থেকে নিখোঁজ সংগীতশিল্পী কিরিল ত্রেতিয়াকভের ভাই জানিয়েছেন, তিনি কয়েক দিনের মধ্যেই নেপালে যাবেন।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে কিরিলের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমরা আশা করছি, তার দলটি বেঁচে আছে। তবে তাদের সাথে যোগাযোগের কোনো ব্যবস্থা নেই।’

ত্রেতিয়াকভ তাশি দেলেক নামের একটি ভ্রমণ সংস্থার আয়োজনে রাশিয়া ও ইউক্রেনের তীর্থযাত্রীদের একটি দলের সাথে ভ্রমণ করছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা হাসপাতালগুলো থেকে খোঁজ শুরু করব। যত সময়ই লাগুক, আমরা তাকে খুঁজতে থাকব।’

ট্রেকিং আয়োজক প্রতিষ্ঠান ফিশটেইল জানিয়েছে, তারা ২০ জন তীর্থযাত্রীর একটি দলের সাথে যোগাযোগ হারিয়েছে। তাদের বেশিভাগই মালয়েশিয়ার নাগরিক। তাদের সাথে গাইড ও গাড়িচালকরাও ছিলেন।

বিক্রয় প্রতিনিধি নিমসাং গুরুং বলেন, ‘ঘটনাটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে কেউ সড়ে যেতে পারেনি।’

অব্যাহত থাকলেও কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এই দুর্যোগে দেশটির পর্যটন খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। পর্যটন নেপালের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।

নেপালের ন্যাশনাল ট্যুরিজম অ্যাজেন্সির সুনীল শর্মা বলেন, ‘এই দুর্যোগে পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘মাত্র চারটি জেলা’ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্র : বাসস

বিষয় : নেপাল নিখোঁজ বন্যা বিদেশী পর্যটন

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বন্যার এক সপ্তাহ পরও নিখোঁজ, প্রিয়জনের সন্ধানে স্বজনেরা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

এক সপ্তাহ পরও নিখোঁজ বিদেশীদের স্বজনেরা আশা ছাড়ছেন না ভয়াবহ বন্যায় নেপালের হিমালয়সংলগ্ন সীমান্ত অঞ্চল বিপর্যস্ত হওয়ায়। হাসপাতাল ও মর্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা নিখোঁজদের কোনো সন্ধান পাওয়ার আশায়। 

কাঠমান্ডুর পর্যটন পুলিশ সদর দফতরের বাইরে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন সঞ্জীব রাই।

রাই বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমি যেদিন এখানে পৌঁছাই, সেদিনই বলেছিলাম, চলুন একটি হেলিকপ্টার খুঁজে বের করি। আমি তাকে খুঁজতে যাব।’

৫৩ বছর বয়সী এই আমেরিকান নাগরিক তার স্ত্রী জীবন জ্যোতির নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে নেপালে ছুটে আসেন। পবিত্র কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রা শেষে ফেরার পথে তার স্ত্রী নিখোঁজ হন। হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে কৈলাস একটি পবিত্র পর্বত।

তবে দুর্যোগের সময় জ্যোতি রাসুয়া জেলার তিমুরে গ্রামে ছিলেন। গ্রামটি এখনো দুর্গম ও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি খুবই হতাশ। এতগুলো দিন পার হয়ে গেছে।’

ইন্টেলে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত জ্যোতি আধ্যাত্মিক সাধনা ও অভিযানের অংশ হিসেবে এই যাত্রায় গিয়েছিলেন। তার ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে তিনি এই ভ্রমণে বের হয়েছিলেন।

এখন রাই জীবিত অবস্থায় স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আর জীবিতদের ফিরে পাওয়ার আশা করছি না। শুধু আশা করছি, ডিএনএ নমুনা মিলে যাবে। আমি যেন তার জন্য শোক করতে পারি, সেটাই চাই।’

২৬ আগস্টের বন্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিমালয়ের এই দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্যোগগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

প্রচণ্ড স্রোতে ভেসে আসা বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষের আঘাতে নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে এক হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন চার হাজার ৭৫০ জনের বেশি। এতে শহর, সড়ক, সেতু এবং একাধিক পানিবিদ্যুৎ বাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৯৪ জন বিদেশীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বেশিভাগই চীন ও ভারতের নাগরিক।

তবে ৫৮৩ জন বিদেশীর এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের অনেকেই কৈলাস পর্বতের চারপাশে কঠিন তীর্থযাত্রার জন্য কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

নিখোঁজদের মধ্যে আধ্যাত্মিক গুরু সদগুরুর ইশা ফাউন্ডেশনের ৭৭ জন তীর্থযাত্রী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকও রয়েছেন।

তাদের কয়েকজন স্বজন কাঠমান্ডুতে এসেছেন। ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকেরাও তাদের সহায়তা করছেন।

‘কেউ সরে যেতে পারেনি’অরুণ মেহতা বলেন, ‘যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে তথ্য পেতে আমরা প্রতিদিন নেপাল পুলিশের কাছে যাই। পুলিশ প্রকাশিত ছবিগুলোও আমরা পরীক্ষা করি।’

অন্যরা দিনের বেশিভাগ সময় হাসপাতালে গিয়ে কাটাচ্ছেন। তবে তিন নেপালি গাইডসহ দলটির সবাই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে মেহতা জানান।

তিনি বলেন, ‘তারা কৈলাস পর্বতের চারপাশে তীর্থযাত্রা শেষ করেছিলেন। এরপর চীনের সাথে সীমান্তের গিয়িরং সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রে অভিবাসনসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছিলেন। তখনই দুর্যোগ আঘাত হানে।’

ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ নিখোঁজদের শনাক্ত করার বিভিন্ন তথ্য কর্তৃপক্ষকে দিয়েছে। এর মধ্যে অনেক তীর্থযাত্রীর পরা সাপের আকৃতির বিশেষ আংটি ও লকেটের তথ্যও রয়েছে।

নেপাল পুলিশ চলতি সপ্তাহে নিখোঁজদের স্বজনদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছে। লাশ শনাক্ত করতে এসব নমুনা দিয়ে একটি তথ্যভান্ডার তৈরি করা হবে। বিদেশে থাকা স্বজনেরা নিজ নিজ দেশ থেকেও নমুনা জমা দিতে পারবেন।

নেপাল থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলেও কয়েকজন স্বজন নেপালে গিয়ে অনুসন্ধানে যোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ইয়াকুতস্ক থেকে নিখোঁজ সংগীতশিল্পী কিরিল ত্রেতিয়াকভের ভাই জানিয়েছেন, তিনি কয়েক দিনের মধ্যেই নেপালে যাবেন।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে কিরিলের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমরা আশা করছি, তার দলটি বেঁচে আছে। তবে তাদের সাথে যোগাযোগের কোনো ব্যবস্থা নেই।’

ত্রেতিয়াকভ তাশি দেলেক নামের একটি ভ্রমণ সংস্থার আয়োজনে রাশিয়া ও ইউক্রেনের তীর্থযাত্রীদের একটি দলের সাথে ভ্রমণ করছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা হাসপাতালগুলো থেকে খোঁজ শুরু করব। যত সময়ই লাগুক, আমরা তাকে খুঁজতে থাকব।’

ট্রেকিং আয়োজক প্রতিষ্ঠান ফিশটেইল জানিয়েছে, তারা ২০ জন তীর্থযাত্রীর একটি দলের সাথে যোগাযোগ হারিয়েছে। তাদের বেশিভাগই মালয়েশিয়ার নাগরিক। তাদের সাথে গাইড ও গাড়িচালকরাও ছিলেন।

বিক্রয় প্রতিনিধি নিমসাং গুরুং বলেন, ‘ঘটনাটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে কেউ সড়ে যেতে পারেনি।’

অব্যাহত থাকলেও কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এই দুর্যোগে দেশটির পর্যটন খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। পর্যটন নেপালের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।

নেপালের ন্যাশনাল ট্যুরিজম অ্যাজেন্সির সুনীল শর্মা বলেন, ‘এই দুর্যোগে পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘মাত্র চারটি জেলা’ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্র : বাসস


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream