রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
বন্যার এক সপ্তাহ পরও নিখোঁজ, প্রিয়জনের সন্ধানে স্বজনেরা

বন্যার এক সপ্তাহ পরও নিখোঁজ, প্রিয়জনের সন্ধানে স্বজনেরা

এক সপ্তাহ পরও নিখোঁজ বিদেশীদের স্বজনেরা আশা ছাড়ছেন না ভয়াবহ বন্যায় নেপালের হিমালয়সংলগ্ন সীমান্ত অঞ্চল বিপর্যস্ত হওয়ায়। হাসপাতাল ও মর্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা নিখোঁজদের কোনো সন্ধান পাওয়ার আশায়। কাঠমান্ডুর পর্যটন পুলিশ সদর দফতরের বাইরে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন সঞ্জীব রাই।রাই বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমি যেদিন এখানে পৌঁছাই, সেদিনই বলেছিলাম, চলুন একটি হেলিকপ্টার খুঁজে বের করি। আমি তাকে খুঁজতে যাব।’৫৩ বছর বয়সী এই আমেরিকান নাগরিক তার স্ত্রী জীবন জ্যোতির নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে নেপালে ছুটে আসেন। পবিত্র কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রা শেষে ফেরার পথে তার স্ত্রী নিখোঁজ হন। হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে কৈলাস একটি পবিত্র পর্বত। তবে দুর্যোগের সময় জ্যোতি রাসুয়া জেলার তিমুরে গ্রামে ছিলেন। গ্রামটি এখনো দুর্গম ও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি খুবই হতাশ। এতগুলো দিন পার হয়ে গেছে।’ ইন্টেলে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত জ্যোতি আধ্যাত্মিক সাধনা ও অভিযানের অংশ হিসেবে এই যাত্রায় গিয়েছিলেন। তার ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে তিনি এই ভ্রমণে বের হয়েছিলেন। এখন রাই জীবিত অবস্থায় স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আর জীবিতদের ফিরে পাওয়ার আশা করছি না। শুধু আশা করছি, ডিএনএ নমুনা মিলে যাবে। আমি যেন তার জন্য শোক করতে পারি, সেটাই চাই।’ ২৬ আগস্টের বন্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিমালয়ের এই দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্যোগগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। প্রচণ্ড স্রোতে ভেসে আসা বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষের আঘাতে নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে এক হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন চার হাজার ৭৫০ জনের বেশি। এতে শহর, সড়ক, সেতু এবং একাধিক পানিবিদ্যুৎ বাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে। নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৯৪ জন বিদেশীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বেশিভাগই চীন ও ভারতের নাগরিক। তবে ৫৮৩ জন বিদেশীর এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের অনেকেই কৈলাস পর্বতের চারপাশে কঠিন তীর্থযাত্রার জন্য কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। নিখোঁজদের মধ্যে আধ্যাত্মিক গুরু সদগুরুর ইশা ফাউন্ডেশনের ৭৭ জন তীর্থযাত্রী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকও রয়েছেন। তাদের কয়েকজন স্বজন কাঠমান্ডুতে এসেছেন। ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকেরাও তাদের সহায়তা করছেন। ‘কেউ সরে যেতে পারেনি’অরুণ মেহতা বলেন, ‘যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে তথ্য পেতে আমরা প্রতিদিন নেপাল পুলিশের কাছে যাই। পুলিশ প্রকাশিত ছবিগুলোও আমরা পরীক্ষা করি।’ অন্যরা দিনের বেশিভাগ সময় হাসপাতালে গিয়ে কাটাচ্ছেন। তবে তিন নেপালি গাইডসহ দলটির সবাই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে মেহতা জানান। তিনি বলেন, ‘তারা কৈলাস পর্বতের চারপাশে তীর্থযাত্রা শেষ করেছিলেন। এরপর চীনের সাথে সীমান্তের গিয়িরং সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রে অভিবাসনসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছিলেন। তখনই দুর্যোগ আঘাত হানে।’ ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ নিখোঁজদের শনাক্ত করার বিভিন্ন তথ্য কর্তৃপক্ষকে দিয়েছে। এর মধ্যে অনেক তীর্থযাত্রীর পরা সাপের আকৃতির বিশেষ আংটি ও লকেটের তথ্যও রয়েছে। নেপাল পুলিশ চলতি সপ্তাহে নিখোঁজদের স্বজনদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছে। লাশ শনাক্ত করতে এসব নমুনা দিয়ে একটি তথ্যভান্ডার তৈরি করা হবে। বিদেশে থাকা স্বজনেরা নিজ নিজ দেশ থেকেও নমুনা জমা দিতে পারবেন। নেপাল থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলেও কয়েকজন স্বজন নেপালে গিয়ে অনুসন্ধানে যোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইয়াকুতস্ক থেকে নিখোঁজ সংগীতশিল্পী কিরিল ত্রেতিয়াকভের ভাই জানিয়েছেন, তিনি কয়েক দিনের মধ্যেই নেপালে যাবেন। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে কিরিলের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমরা আশা করছি, তার দলটি বেঁচে আছে। তবে তাদের সাথে যোগাযোগের কোনো ব্যবস্থা নেই।’ ত্রেতিয়াকভ তাশি দেলেক নামের একটি ভ্রমণ সংস্থার আয়োজনে রাশিয়া ও ইউক্রেনের তীর্থযাত্রীদের একটি দলের সাথে ভ্রমণ করছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা হাসপাতালগুলো থেকে খোঁজ শুরু করব। যত সময়ই লাগুক, আমরা তাকে খুঁজতে থাকব।’ ট্রেকিং আয়োজক প্রতিষ্ঠান ফিশটেইল জানিয়েছে, তারা ২০ জন তীর্থযাত্রীর একটি দলের সাথে যোগাযোগ হারিয়েছে। তাদের বেশিভাগই মালয়েশিয়ার নাগরিক। তাদের সাথে গাইড ও গাড়িচালকরাও ছিলেন। বিক্রয় প্রতিনিধি নিমসাং গুরুং বলেন, ‘ঘটনাটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে কেউ সড়ে যেতে পারেনি।’ অব্যাহত থাকলেও কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এই দুর্যোগে দেশটির পর্যটন খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। পর্যটন নেপালের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। নেপালের ন্যাশনাল ট্যুরিজম অ্যাজেন্সির সুনীল শর্মা বলেন, ‘এই দুর্যোগে পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘মাত্র চারটি জেলা’ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র : বাসস

ক্ষুধা-ক্লান্তি পেরিয়ে ছেলের খোঁজে ৫০ পেরোনো বাবা

পঞ্চাশোর্ধ্ব তালকা সদা নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ একমাত্র ছেলেকে খুঁজতে ২০০০ নেপালি রুপি (১৬০০ টাকার সমপরিমাণ) ধার করে দিনের পর দিন দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিচ্ছেন। ক্ষুধা, ক্লান্তি, পায়ের ব্যথা আর হতাশা তাঁকে ঘিরে ধরলেও ছেলেকে খুঁজে পাওয়ার আশায় এখনো হাল ছাড়েননি তিনি। তালকা সদা নেপালের তেরাই অঞ্চলের সপ্তরি জেলার বাসিন্দা। ভোতেকোশি নদীর ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় গত ২৬ আগস্ট উত্তর নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ধসে পড়ে ঘরবাড়ি, সেতু, স্কুল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র। সদার একমাত্র ছেলে ১৯ বছর বয়সী বিনোদ ওই বন্যার পর থেকেই নিখোঁজ। আল-জাজিরা বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জানায়, শেষবার বন্যার এক দিন আগে ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছিল সদার। এর প্রায় এক মাস আগে কাজের সন্ধানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া জেলায় গিয়েছিলেন বিনোদ। সেখানে একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। সিমেন্ট মেশানোসহ বিভিন্ন ধরনের শ্রমিকের কাজ করতেন বিনোদ। সেখানে তাঁর সঙ্গে কাজ করা আরও চার তরুণ বন্যার পর থেকে নিখোঁজ। চোখ মুছতে মুছতে সদা বলেন, ‘আমার স্ত্রী কীভাবে কাঁদছে, তা বলে বোঝাতে পারব না। আমিও গভীর কষ্টে আছি। কী করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।’ ছেলেকে খুঁজতে ভাইকে সঙ্গে নিয়ে বের হয়েছেন সদা। বিবর্ণ সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট আর বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে শরীরে জড়ানো কমলা রঙের পলিথিন—এই নিয়েই চলছে তাঁর দীর্ঘ যাত্রা। কাঁধে একটি ধূসর ব্যাগ। পকেটে থাকা নোংরা রুমালে গুঁজে রাখা ২ হাজার নেপালি রুপিরও কম অর্থই এখন তাঁদের সম্বল। এই সামান্য অর্থও ধার করা। প্রতি ১০০ রুপি ধার নেওয়ার বিপরীতে ২০ রুপি সুদ দিতে হবে সদাকে। সেই অর্থের কিছুটা খরচ হয়েছে সপ্তরি থেকে কাঠমান্ডু যাওয়ার বাসভাড়ায়। প্রায় ২৯২ কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে সময় লাগে প্রায় ৯ ঘণ্টা। কাঠমান্ডু পৌঁছে তাঁরা একের পর এক হাসপাতালে ছেলেকে খুঁজেছেন। বন্যাকবলিত উত্তরাঞ্চল থেকে উদ্ধার করা আহত ও মৃতদের অনেককেই রাজধানীতে নেওয়া হয়েছিল। মর্গের বাইরে থাকা মৃতদের ছবিগুলোও দেখেছেন তাঁরা। কিন্তু বিনোদের কোনো সন্ধান মেলেনি। এরপর কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের নুয়াকোটের দিকে হাঁটা শুরু করেন দুই ভাই। ছেলের কর্মস্থলের কাছাকাছি পৌঁছানোর আশায় ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে তারা ত্রিশুলি শহরে পৌঁছান। বন্যার ধ্বংসাবশেষ, কাদা ও পলিতে শহরের বাজারও প্রায় ঢেকে গেছে। সদা জানান, আগের রাতে একটি লজে থাকার জন্য ১ হাজার ৫০০ নেপালি রুপি দিতে হয়েছে। বিনিময়ে পেয়েছেন সামান্য ভাত, যা তাদের ক্ষুধাও মেটাতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘আর এক রাত থাকতে হলে আমার বাকি সব টাকা শেষ হয়ে যাবে। তখন বাড়ি ফেরার মতোও কিছু থাকবে না।’ সদার অভিযোগ, মরদেহ রাখা মর্গ কিংবা উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে যেতে চাইলেও তাঁদের বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, তেরাই অঞ্চলের মাধেশি এবং প্রান্তিক মুসাহার সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়ায় তাঁরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। সদা বলেন, ‘আমরা গরিব। তারা আমাদের মাধেশি ও বিহারি হিসেবে দেখে। আমরা নেপালি ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারি না। তাই আমাদের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পাঠিয়ে দিচ্ছে।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে আরও বলেন, ‘ছেলের যদি মৃতও হয়, তবু তাকে দেখার অধিকার আমাদের আছে।’ নেপালি কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, ভয়াবহ এই দুর্যোগের ব্যাপকতার মধ্যেও উদ্ধার ও সহায়তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। বন্যায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। এদিকে কিছুক্ষণ পরপরই নিখোঁজ ছেলের ফোন নম্বরে কল করছেন সদা। কিন্তু এটি বারবার বন্ধই শোনাচ্ছে। কখনো অলৌকিক আশার কথা ভাবছেন তিনি—তরুণ ছেলে হয়তো কোথাও হেঁটে বা দৌড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছে। আবার পরক্ষণেই ভেঙে পড়ছেন। তিনি বলেন, ‘সে যদি বেঁচে থাকত, কোথাও থেকে হলেও ফোন করত।’ তবু থামছেন না সদা। ছেলের কর্মস্থল জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে আবারও যাত্রা শুরু করেছেন তিনি ও তাঁর ভাই। শেষ পর্যন্ত সাহায্য না পেলে ক্ষোভে পুলিশ স্টেশন পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।

ক্ষুধা-ক্লান্তি পেরিয়ে ছেলের খোঁজে ৫০ পেরোনো বাবা

তিব্বতে ভূমিধস-বন্যায় ৩ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৫৫৮

তিব্বতে তিনজন নিহত হয়েছেন হিমালয় অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায়। ৫৫৮ জন নিখোঁজ। এমন তথ্য জানিয়েছে বৃহস্পতিবার চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া। অপরদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেপালে নিখোঁজ হয়েছেন তাদের ১০০ নাগরিক।‘শিজাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল’ নামে চীনে তিব্বত পরিচিত। সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানকার একটি বন্দরে ভূমিধসের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তিনজন নিহতের তথ্য জানা গেছে। নিখোঁজ ৫৫৮ জনের মধ্যে দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা স্থানীয় একটি গ্রামের বাসিন্দা।এএফপি জানিয়েছে, বুধবারের ওই বন্যায় তিব্বতের বাণিজ্যকেন্দ্র গিরংয়ে কাদা ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত ভবনগুলোর ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ২৬০ জন বিদেশিসহ ৫৫৮ জন নিখোঁজ হন।চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সাংবাদিকদের বলেন, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে পর্যটক ও তীর্থযাত্রী আছেন। উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলছে। নিখোঁজের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।এ সময় লিন আরও জানান, দুর্যোগকবলিত নেপালের অংশে নিখোঁজ চীনা নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ১০০ জন। কাঠমান্ডুর কর্তৃপক্ষের কাছে আরও যাচাইকৃত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

তিব্বতে ভূমিধস-বন্যায় ৩ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৫৫৮

এক ঢলে নিখোঁজ প্রায় ৪০০, শোকে স্তব্ধ নেপালের রসুয়া

আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী ভোতে কোশি নদীতে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪০০ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকসহ ১০৫ জন অন্তত ২৯১ জন বিদেশি ও ৯৩ জন নেপালি নাগরিক রয়েছেন। আজ বুধবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরাঞ্চলীয় রসুয়া জেলায় ভোরের দিকে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নেপাল পর্যটন বোর্ড জানায়, এলাকায় ভ্রমণরত পর্যটক ও স্থানীয়দের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। পর্যটন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, নিখোঁজ ২৯১ জন বিদেশি নাগরিকদের তালিকায় রয়েছেন—১০৫ জন ভারতীয়, ৩৭ জন প্রবাসী ভারতীয় (এনআরআই), ১৭ জন মালয়েশিয়ান, ১২ জন ব্রিটিশ, ৪ জন দক্ষিণ আফ্রিকান, ৩ জন আমেরিকান, ১ জন অস্ট্রেলিয়ান, ১ জন ডাচ নাগরিক এবং আরও ১১১ জন অন্যান্য দেশের নাগরিক, যাঁদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ওই এলাকায় একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। পরবর্তীতে ভূকম্পনের ফলে সৃষ্ট হিমবাহ ধস থেকেই এই ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এই ঘটনায় নেপালের পাশাপাশি সংলগ্ন চীন অংশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং উভয় দেশ যৌথভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে নেপালের ২৬ জন পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের একাধিক কর্মকর্তাও নিখোঁজ রয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে রসুয়া ও নুয়াকোট জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংস হয়ে গেছে অবকাঠামো, সড়ক যোগাযোগ, সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা। উদ্ধার অভিযান ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এক ঢলে নিখোঁজ প্রায় ৪০০, শোকে স্তব্ধ নেপালের রসুয়া
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream