আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী ভোতে কোশি নদীতে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪০০ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকসহ ১০৫ জন অন্তত ২৯১ জন বিদেশি ও ৯৩ জন নেপালি নাগরিক রয়েছেন।
আজ বুধবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরাঞ্চলীয় রসুয়া জেলায় ভোরের দিকে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নেপাল পর্যটন বোর্ড জানায়, এলাকায় ভ্রমণরত পর্যটক ও স্থানীয়দের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
পর্যটন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, নিখোঁজ ২৯১ জন বিদেশি নাগরিকদের তালিকায় রয়েছেন—১০৫ জন ভারতীয়, ৩৭ জন প্রবাসী ভারতীয় (এনআরআই), ১৭ জন মালয়েশিয়ান, ১২ জন ব্রিটিশ, ৪ জন দক্ষিণ আফ্রিকান, ৩ জন আমেরিকান, ১ জন অস্ট্রেলিয়ান, ১ জন ডাচ নাগরিক এবং আরও ১১১ জন অন্যান্য দেশের নাগরিক, যাঁদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ওই এলাকায় একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। পরবর্তীতে ভূকম্পনের ফলে সৃষ্ট হিমবাহ ধস থেকেই এই ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এই ঘটনায় নেপালের পাশাপাশি সংলগ্ন চীন অংশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং উভয় দেশ যৌথভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে নেপালের ২৬ জন পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের একাধিক কর্মকর্তাও নিখোঁজ রয়েছেন।
পাহাড়ি ঢলে রসুয়া ও নুয়াকোট জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংস হয়ে গেছে অবকাঠামো, সড়ক যোগাযোগ, সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা। উদ্ধার অভিযান ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
মতামত