মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
এক ঢলে নিখোঁজ প্রায় ৪০০, শোকে স্তব্ধ নেপালের রসুয়া

এক ঢলে নিখোঁজ প্রায় ৪০০, শোকে স্তব্ধ নেপালের রসুয়া

আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী ভোতে কোশি নদীতে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪০০ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকসহ ১০৫ জন অন্তত ২৯১ জন বিদেশি ও ৯৩ জন নেপালি নাগরিক রয়েছেন। আজ বুধবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরাঞ্চলীয় রসুয়া জেলায় ভোরের দিকে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নেপাল পর্যটন বোর্ড জানায়, এলাকায় ভ্রমণরত পর্যটক ও স্থানীয়দের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। পর্যটন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, নিখোঁজ ২৯১ জন বিদেশি নাগরিকদের তালিকায় রয়েছেন—১০৫ জন ভারতীয়, ৩৭ জন প্রবাসী ভারতীয় (এনআরআই), ১৭ জন মালয়েশিয়ান, ১২ জন ব্রিটিশ, ৪ জন দক্ষিণ আফ্রিকান, ৩ জন আমেরিকান, ১ জন অস্ট্রেলিয়ান, ১ জন ডাচ নাগরিক এবং আরও ১১১ জন অন্যান্য দেশের নাগরিক, যাঁদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ওই এলাকায় একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। পরবর্তীতে ভূকম্পনের ফলে সৃষ্ট হিমবাহ ধস থেকেই এই ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এই ঘটনায় নেপালের পাশাপাশি সংলগ্ন চীন অংশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং উভয় দেশ যৌথভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে নেপালের ২৬ জন পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের একাধিক কর্মকর্তাও নিখোঁজ রয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে রসুয়া ও নুয়াকোট জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংস হয়ে গেছে অবকাঠামো, সড়ক যোগাযোগ, সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা। উদ্ধার অভিযান ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ভূমিকম্পের ৪ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে বৃদ্ধাকে অলৌকিকভাবে উদ্ধার

৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানার তিন দিন পর ৮৪ বছর বয়সি এক বৃদ্ধাকে ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। গত শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে দেশটির ফ্লোরেস দ্বীপে আঘাত হানা এই ভয়াবহ দুর্যোগে অন্তত ৭৩ জন নিহত, ৯০০ জনেরও বেশি আহত এবং প্রায় ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে নিতুংলিয়া গ্রামের রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেলে সেখানেই পলিনা পোবি নামের ওই বৃদ্ধা বাঁশের তৈরি ধসে পড়া ঘরের নিচে আটকা পড়েন। তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ায় নড়াচড়া বা কথা বলতে পারছিলেন না। ফলে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঘটনার চতুর্থ দিনে স্বজনরা অবশেষে তাকে খুঁজে পান। খাবার ও পানি ছাড়া আটকে থাকার কারণে তিনি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন, তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো তার শরীরে কোনো গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল না। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টিকে অলৌকিক উল্লেখ করে জানান, তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। দ্বীপজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হলেও নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো তৎপরতা চালাচ্ছেন কর্মীরা। ইতোমধ্যে দুর্গম এলাকায় দ্রুত খাদ্য, তাঁবু ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দিতে সামরিক বিমান ও জাহাজ ব্যবহার করে প্রায় ৩৯৮ টন ত্রাণ সরবরাহ করা হয়েছে। তবে শনিবারের পর থেকে এ পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি অনুকম্পন বা আফটারশক রেকর্ড করা হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাস্তুচ্যুত এই মানুষগুলো কেবল শারীরিকভাবেই নয়, মানসিকভাবেও চরম বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ থাকা ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই এমন ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয় বাসিন্দাদের। 

ভূমিকম্পের ৪ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে বৃদ্ধাকে অলৌকিকভাবে উদ্ধার

স্পেনের গ্রানাদায় ৫ মাত্রার ভূমিকম্প

স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর গ্রানাদায় মধ্যরাতে ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি বাড়ি ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।স্থানীয় সময় শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ১টার কিছু পর গ্রানাদার মহানগর এলাকার আলহেন্দিনে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পর শহরের বিভিন্ন স্থানে ভবনের ধ্বংসাবশেষ রাস্তায় ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্দালুসিয়ার জরুরি সেবাদানকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করেছে। ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ। আন্দালুসিয়া আঞ্চলিক সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও সানজ কাবেয়ো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় গ্রানাদার বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেন, যাদের বাড়িতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তারা যেন শান্ত থাকেন এবং অপ্রয়োজনে ভবনে প্রবেশ বা বের হওয়া এড়িয়ে চলেন।তিনি রাস্তায় থাকা মানুষদের ভবনের সম্মুখভাগ, কার্নিশ, বারান্দা, দেয়ালসহ ধসে পড়তে পারে এমন স্থাপনা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড 

স্পেনের গ্রানাদায় ৫ মাত্রার ভূমিকম্প

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৬৫

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৪৯৪ জন এবং এখনও ৪৯৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। গতকাল বুধবার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়া এই তথ্য জানিয়েছেন। এদিকে, ভূমিকম্পের পর প্রায় চাঁর দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর উদ্ধার অভিযান চলছে।। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটির পর বুধবার উদ্ধার অভিযান ৭২ ঘণ্টার গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমার কাছাকাছি পৌঁছায়। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের উদ্ধারের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ওই সময়সীমা পেরিয়েও জীবিতদের উদ্ধারের নজির রয়েছে। কালির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের গতকাল বুধবার বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করছি। এর অর্থ এই নয় যে এরপর আর কোনো জীবিত মানুষকে পাওয়া যাবে না, তবে তখন তা আরও কঠিন হয়ে যাবে।’ ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি চলতি শতাব্দীতে কলম্বিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে ৯ হাজার ৫৫০ টির বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। কফি উৎপাদন অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পেরেইরা শহরে ৮৩ জন এবং দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। পেরেইরায় উদ্ধারকারীরা একটি ধসে পড়া বেকারির ধ্বংসস্তূপে অভিযান চালাচ্ছেন। সেখানে সোমবারের ভূমিকম্পের পর আটকে পড়া এক রাস্তার বিক্রেতা এখনও জীবিত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কম্পন শনাক্ত করতে সক্ষম বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে সম্ভাব্য প্রাণের সংকেত পেয়েছেন। এতে আটকে থাকা পাবলো লোয়াইজার স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁর ১৬ বছর বয়সী ভাতিজি সারা লোয়াইজা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘তারা আমাদের বলছে, এটা হয়তো তিনিই। আমার হৃদয় যেন বুকের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে।’ স্বজনেরা জানান, উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা ব্যক্তিকে দুবার, এরপর তিনবার শব্দ করার অনুরোধ করলে তিনি সাড়া দিয়েছেন বলে মনে হয়েছে। কালিতে উদ্ধারকারীরা তৃতীয় রাতেও ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবনের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তারা খালি হাত, ক্রেন ও প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করছেন। শব্দ শনাক্ত করার জন্য নিয়মিত কাজ থামিয়ে পুরো এলাকা নীরবও করা হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকর্মী জোহানা সানচেজ এএফপিকে বলেন, ‘প্রতি আধা ঘণ্টায় আমরা সবাইকে চুপ থাকতে বলি, যাতে জীবিত মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় কি না, তা শোনা যায়। এখন পর্যন্ত তিনজনকে জীবিত এবং তিনজনকে মৃত অবস্থায় বের করে আনা হয়েছে।’ কালির দক্ষিণাঞ্চলের তোরেস দেল লিমোনার আবাসিক কমপ্লেক্সে বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপ সরাতে হাতে হাতে মালামাল পৌঁছে দেওয়ার মানবশৃঙ্খল তৈরি করেছেন। সৈন্য, মেয়রের কার্যালয়ের কর্মী ও অন্যরা ধ্বংসস্তূপের স্তূপ থেকে একে অপরের হাতে তা তুলে দিচ্ছেন।

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৬৫
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream