শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1

বাংলাদেশে আসছে চীনের নৌবাহিনীর এসকর্ট টাস্ক গ্রুপ

দেশে ফেরার পথে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) নৌবাহিনীর ৪৮তম এসকর্ট টাস্ক গ্রুপ বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়া সফর করবে। এ তথ্য জানিয়েছেন চীনের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র। চীনের রাষ্ট্র পরিচালিত বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিয়াং বিন স্থানীয় সময় সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, টাস্ক গ্রুপটি সম্প্রতি এডেন উপসাগরে তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে। এরপর তারা চীনের উদ্দেশে ফিরতি যাত্রা শুরু করেছে। তিনি জানান, আসন্ন সফরগুলোতে পেশাগত মতবিনিময় এবং জাহাজ পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত দিবসের আয়োজন করা হবে। তিনি আরও জানান, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে চীন ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও কৌশলগত পারস্পরিক আস্থা আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে অভিন্ন ভবিষ্যৎসমৃদ্ধ একটি সম্প্রদায় গড়ে তুলতেও এসব কার্যক্রম ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, ৪৮ তম এসকর্ট টাস্ক গ্রুপে রয়েছে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার তাংশান, গাইডেড-মিসাইল ফ্রিগেট দাচিং এবং সমন্বিত সরবরাহকারী জাহাজ তাইহু। টাস্ক গ্রুপটি ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর এডেন উপসাগর এবং সোমালিয়ার উপকূলীয় জলসীমায় এসকর্ট মিশনের জন্য যাত্রা শুরু করেছিল। চীনের পিএলএ নৌবাহিনী ২০০৮ সালের ডিসেম্বর থেকে এডেন উপসাগর এবং সোমালিয়ার উপকূলীয় জলসীমায় এসকর্ট মিশন পরিচালনা করে আসছে।

বাংলাদেশে আসছে চীনের নৌবাহিনীর এসকর্ট টাস্ক গ্রুপ

চীনের সামরিক তৎপরতা বাড়ছে অরুণাচলে

চীনের সামরিক তৎপরতা ও অবকাঠামো নির্মাণ ভারত-চীন সীমান্তের বিতর্কিত অরুণাচল প্রদেশ এলাকায় দ্রুত বেড়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট। ঠিক এই সময়েই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লি সফরে গেছেন। ভান্টর স্যাটেলাইট সংস্থার সরবরাহ করা ছবি বিশ্লেষণ করে দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, অরুণাচলের আপার সুবনসিরি উপত্যকা সংলগ্ন একাধিক স্থানে নতুন ভবন, পাকা সড়ক ও একাধিক হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে। তিব্বতের লুনজে কাউন্টির উত্তরে ঝারি শহরের কাছাকাছি দুটি এলাকায় সবচেয়ে বেশি নির্মাণকাজ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে ওপেন সোর্স গোয়েন্দা সংস্থা জেনস। তারা আরও জানায়, দুই দেশের দাবি করা সীমান্তরেখা মিলিয়ে দেখলে এসব স্থাপনার একাংশ বিতর্কিত এলাকার ভেতরেই পড়ে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝারি শহরের দক্ষিণে ২০১৯ সালে শুরু হওয়া একটি নির্মাণকাজ এখনও চলছে, যেখানে জমি সমতলীকরণ, প্রকৌশল যন্ত্রপাতি ও কংক্রিট মিশ্রণ প্ল্যান্ট দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এটির সামরিক ব্যবহারও হতে পারে। এছাড়া লুনজের দক্ষিণে দুটি ছোট হেলিপ্যাডের জায়গায় একটি বড় হেলিপ্যাড এবং আরও দক্ষিণে নতুন আরেকটি হেলিপ্যাড তৈরি হয়েছে। আগস্ট ২০২৬-এর সর্বশেষ ছবিতে অন্তত একটি ভবনের ছাদ নির্মাণ সম্পন্ন দেখা গেছে, যা থেকে বোঝা যায় নির্মাণকাজ পূর্ণ গতিতে এগোচ্ছে। সীমান্ত থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের গ্রাম গেলেমোর একজন বাসিন্দা দ্য ইনডিপেনডেন্টকে জানান, চীনা বাহিনী তাদের পূর্বপুরুষের জমি দখল করে নিচ্ছে এবং কত দূর পর্যন্ত তারা ঢুকে পড়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়, তবে অনেকটা এলাকা তাদের দখলে চলে গেছে। অল তাগিন স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সভাপতি তাদক পাকবার নেতৃত্বে আটজনের একটি প্রতিনিধিদল গত ১১-১৩ আগস্ট গেলেমো ও তাকসিং এলাকায় সরেজমিন তদন্ত চালায়। পাকবা জানান, চীনা অনুপ্রবেশের বর্তমান গতি "নজিরবিহীন", আর ভারতীয় বাহিনী পিছু হটছে অথচ চীনা বাহিনী এগিয়ে যাচ্ছে। তার দলের প্রতিবেদনে বলা হয়, জুন মাস থেকে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়েছে এবং গ্রামবাসীদের চিরাচরিত শিকার ও পশুচারণ এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের সংগঠন নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি অভিযোগ করে, যে চীনা সেনাবাহিনী চারণভূমি ও বনভূমিতে সড়ক, সেতু ও সেনাশিবির তৈরি করেছে। ক্ষমতাসীন বিজেপির জোটসঙ্গী পিপলস পার্টি অব অরুণাচলের একটি পৃথক প্রতিনিধিদলও তাকসিং, গেলেমো ও মাজা এলাকা ঘুরে দেখে। দলের সদস্য ও সাবেক রাজ্য মন্ত্রী কাপা বেংগিয়া জানান, চীনা সেনারা ইতিমধ্যে এগিয়ে এসেছে এবং ভারতীয় টহল দলকে নিজেদের এলাকাতেও যেতে দেওয়া হচ্ছে না। ভারতীয় সেনাবাহিনী এসব অনুপ্রবেশের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে এগুলোকে "ভুল ও ভিত্তিহীন" বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, সীমান্ত পরিস্থিতির ওপরই দুই দেশের সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও চিয়াকুন জানিয়েছেন, চীন-ভারত সীমান্ত পরিস্থিতি সার্বিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর জানান, সিংহ বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সহায়তা দেওয়া হবে। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের চীন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শ্রীকান্ত কোন্ডাপল্লির মতে, এটি চীনের পরিচিত "সালামি স্লাইসিং" কৌশলের অংশ — ধীরে ধীরে ছোট ছোট এলাকা দখল করে সংহত করা, একবারে বড় আক্রমণের বদলে। তিনি বলেন, প্রথমে কিছু ইয়াক সীমান্ত পার করে ছেড়ে দিয়ে ভারতীয় বাহিনীর প্রতিক্রিয়া যাচাই করা হয়; মাসের পর মাস বাধা না পেলে একটি ছোট কুঁড়েঘর তৈরি হয়, পরে তা স্থায়ী কাঠামোয় রূপ নেয়, শেষে পুরোদস্তুর সেনাশিবির গড়ে ওঠে। ভারতের নিয়ন্ত্রণরেখা পর্যন্ত নিয়মিত পৌঁছাতে না পারার কারণেই চীন এই সুযোগ পাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকা সংঘর্ষের পর এটিই শি জিনপিংয়ের প্রথম দিল্লি সফর, যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছিলেন। প্রায় ৪০০ কর্মকর্তার বিশাল প্রতিনিধিদল নিয়ে তিনি দিল্লি পৌঁছান, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সবচেয়ে বড় প্রতিনিধিদল। দুই দেশই সীমান্তে কোনো সক্রিয় উত্তেজনা নেই বলে বিষয়টি খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছে।

চীনের সামরিক তৎপরতা বাড়ছে অরুণাচলে

গণিতের জটিলতা শেষে ‘ইউরি’ লিখবেন দেং ইউ

যদি একদিন গণিতের সব জটিল সমস্যার সমাধান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) করে ফেলে, তাহলে গণিতবিদ হিসেবে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিকল্প পরিকল্পনাও ভেবে রেখেছেন ৩৭ বছর বয়সী চীনা গণিতবিদ দেং ইউ। ২০২৬ সালের ফিল্ডস মেডেলজয়ী এই গণিতবিদ জানিয়েছেন, এআই তাকে বেকার করে দিলে তিনি বাড়ি ফিরে ‘ইউরি’ উপন্যাস লিখবেন। দেং ইউ রসিকতা করে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, ‘এআই যদি গণিতের সব সমস্যার সমাধান করেই দেয়, তাহলে আমি বাড়ি গিয়ে আমার “ইউরি” উপন্যাস লিখব।’ জাপানি উপন্যাস ও কমিকসের একটি বিশেষ ধারা ‘ইউরি’। এতে নারীদের মধ্যকার অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়। দেং ইউ এই ধারার বড় ভক্ত হিসেবে পরিচিত। পরে চীনের আরেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার পোস্টটি শেয়ার করা হয়। সেখানে এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতিতে গণিতবিদদের মধ্যে তৈরি হওয়া অস্থিরতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। দেং ইউ লেখেন, গণিতবিদদের মহলে এআই একধরনের ‘অস্থিরতা ও অধৈর্যতার পরিবেশ’ তৈরি করেছে। তবে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এই ধাক্কা সামলে উঠলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, গণিতও স্বাভাবিক নিয়মে ধীরগতিতে এআইয়ের সঙ্গে মানিয়ে নেবে এবং এর পাশাপাশি নতুন একটি ইকোসিস্টেমও গড়ে উঠছে। বুধবার সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে দেং ইউ বলেন, তিনি বর্তমানে কোনো ইউরি উপন্যাস লিখছেন না। পুরো বিষয়টিই ছিল রসিকতা। তিনি বলেন, ‘আমি এখন কোনো ইউরি উপন্যাস লিখছি না। ওই কথাটি একেবারেই রসিকতা করে বলেছিলাম।’ এআই যে গণিতের সব সমস্যার সমাধান করে ফেলবে, এমন সম্ভাবনাও দেখছেন না এই গণিতবিদ। তার ভাষ্য, ‘আমার মনে হয় না এআই এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যে গণিতের সব সমস্যার সমাধান করে ফেলবে; অন্তত আমার পোস্টে আমি যেগুলোর কথা উল্লেখ করেছি, সেগুলো তো নয়ই।’ তবে এআইয়ের সক্ষমতা নিয়ে গণিতবিদদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এরই মধ্যে অমীমাংসিত গণিত সমস্যার সমাধানে এআইয়ের ব্যবহারের বড় উদাহরণ সামনে এসেছে। ৮ সেপ্টেম্বর ওপেনএআই জানায়, তাদের একটি মডেল ব্যবহার করে নেভিয়ার স্টোকস মিলেনিয়াম প্রাইজ প্রবলেমের সমাধান করা হয়েছে। আধুনিক গণিতের সবচেয়ে জটিল অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর একটি এটি। ২০০০ সালের ২৪ মে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্লে ম্যাথমেটিক্স ইনস্টিটিউট গণিতের সাতটি বড় চ্যালেঞ্জকে ‘মিলেনিয়াম প্রাইজ প্রবলেম’ হিসেবে ঘোষণা করে। প্রতিটি সমস্যার সমাধানের জন্য ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে। ২০০৩ সালে রুশ গণিতবিদ গ্রিগরি পেরেলমান এর মধ্যে পয়েনকেয়ার কনজেকচার নামের একটি সমস্যার সমাধান করেন। তবে তিনি এই আর্থিক পুরস্কার এবং পরবর্তীতে পাওয়া ফিল্ডস মেডেলও প্রত্যাখ্যান করেন। এখন দ্বিতীয় একটি মিলেনিয়াম প্রাইজ প্রবলেমও সমাধান হয়ে থাকতে পারে। তবে এবার সমাধানটি কোনো একক মানুষের হাতে নয়, এআইয়ের সহায়তায় হয়েছে বলে দাবি করছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্যমতে, সমাধানটি তৈরি করা হয়েছে তাদের এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না পাওয়া পরবর্তী প্রজন্মের একটি মডেল ব্যবহার করে। মডেলটি টানা ৮৮ ঘণ্টা কাজ করেছে এবং এতে প্রায় ১৩০ বিলিয়ন আউটপুট টোকেন ব্যবহার হয়েছে। এর আনুমানিক ব্যয় কয়েক মিলিয়ন ডলার। তবে একই সমস্যা নিয়ে কাজ করা এক গণিতবিদ দাবি করেছেন, তার গবেষণার অগ্রগতি জানার পরই ওপেনএআই এ বিষয়ে নিজেদের প্রচেষ্টা শুরু করে। ৮ সেপ্টেম্বর সায়েন্টিফিক আমেরিকানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওপেনএআই তাদের প্রমাণের ঘোষণা দেওয়ার আগের রাতে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গণিতের অধ্যাপক ট্রিস্টান বাকমাস্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি ও অ্যানথ্রোপিকের গবেষক লেভেন্ট আলপোগে অয়লার সমীকরণ প্রমাণ করেছেন। নেভিয়ার স্টোকস সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে অয়লার সমীকরণকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করেন গণিতবিদরা। বাকমাস্টারের দাবি, অয়লার সমীকরণ সমাধানে তিনি ও তার সহযোগী এআইয়ের বেশ কয়েকটি মডেল ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে ওপেনএআইয়ের একটি মডেলও ছিল। সোমবার এক বিবৃতিতে বাকমাস্টার বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ওপেনএআই তাদের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে পারে। এরপর পুরো সমস্যাটি সমাধানে তারা ওই গণিতবিদদের ব্যবহৃত পদ্ধতিই অনুসরণ করে। তবে ওপেনএআই পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করে, তারা অয়লার সমীকরণগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে প্রমাণ করেছে। একই সঙ্গে অন্য গণিতবিদদের ধারণা থেকে কোনো ধরনের রসদ পাওয়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি অস্বীকার করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ওপেনএআইয়ের ভাষ্য, তাদের পণ্য ব্যবহারের সময় গণিতবিদদের নাম পরিচয়হীন ডেটা সম্ভবত তাদের মডেলগুলোর মান উন্নত করতে সহায়তা করেছে। এদিকে আমেরিকান ম্যাথমেটিকাল সোসাইটি মঙ্গলবার জানিয়েছে, আলপোগে ও বাকমাস্টার নতুন প্রযুক্তির সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করলেও চূড়ান্ত প্রমাণটি ওপেনএআইয়ের গণিতবিদরাই সম্পন্ন করেছেন। ফলে গণিতের মতো সৃজনশীল ও উচ্চস্তরের গবেষণার ক্ষেত্রেও এআইয়ের সক্ষমতা কতদূর যাবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আর সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই ফিল্ডস মেডালজয়ী দেং ইউর ‘ইউরি উপন্যাস’ লেখার রসিকতা আলোচনায় এনেছে গণিতবিদদের ভবিষ্যৎ নিয়েও মজার এক প্রশ্ন।

গণিতের জটিলতা শেষে ‘ইউরি’ লিখবেন দেং ইউ

মোদির নৈশভোজে যে কারণে ছিলেন না সি চিন পিং

গতকাল শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আয়োজিত রাতের নৈশভোজে ব্রিকস জোটের কয়েকজন নেতা অংশ নেননি। তাঁদের মধ্যে ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নয়াদিল্লিতে পৌঁছান। এরপর তিনি ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেন। নেতাদের জন্য দিনটি ছিল দীর্ঘ। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডেও দিনটি ছিল বেশ ব্যস্ত। বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত ব্যক্তিরা বলেছেন, সময়ের পার্থক্যের কারণে ক্লান্ত ও অবসন্ন থাকায় সি নৈশভোজে অংশ নেননি। দীর্ঘ বিমানযাত্রার পরও চীনের প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন বলে তারা জানান। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ ব্রিকস জোটের অন্য নেতারা নৈশভোজে অংশ নেন। নৈশভোজে কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী এবং কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন—অমিত শাহ, নির্মলা সীতারামন, পীযূষ গোয়েল, অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং শিবরাজ সিং চৌহান। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও নৈশভোজে অংশ নেন। কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীরা সংসদ ভবন থেকে দুটি বাসে করে নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকার ভারত মণ্ডপমে নৈশভোজের জন্য যান। দুই দিনের ব্রিকস সম্মেলন আজ শেষ হবে। সম্মেলনে ১১ সদস্য দেশের নেতা এবং ১০টি অংশীদার দেশের নেতা ছাড়াও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। আজ নরেন্দ্র মোদির সাতটি দেশের নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী মোদি ও সি চিনপিং ভারত-চীন সম্পর্কের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় করেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই নেতা জোর দিয়ে বলেছেন, ‘পার্থক্য যেন বিরোধে পরিণত না হয়।’ একই সঙ্গে তারা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা উচিত। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘২০২৫ সালের আগস্টে তিয়ানজিনে তাঁদের সর্বশেষ বৈঠকের পর ভারত-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে ধারাবাহিক অগ্রগতি হয়েছে, দুই নেতা তা স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, উভয় দেশের উচিত নিজেদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা। পার্থক্য যেন বিরোধে পরিণত না হয়। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, উভয় পক্ষকে তিনটি পারস্পরিক বিষয় দিয়ে পরিচালিত হতে হবে। এগুলো হলো পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক সংবেদনশীলতা এবং পারস্পরিক স্বার্থ।’

মোদির নৈশভোজে যে কারণে ছিলেন না সি চিন পিং

চীনে নোঙর করে থাকা জাহাজে আগুন, নিহত অন্তত ২৫

চীনের পূর্বাঞ্চলীয় কিংদাও বন্দরে মেরামতের জন্য নোঙর করে থাকা লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজে আগুন লেগে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। জাহাজটিতে ৪২ জন মানুষ ছিলেন। চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌবন্দর কিংদাওয়ের বেইহাই শিপবিল্ডিং কোম্পানিতে জাহাজটির মেরামতের কাজ চলছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া প্রকাশিত একটি ছবিতে জাহাজটিকে ‘ওশান মেলোডি’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ভেসেলফাইন্ডারের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি লাইবেরিয়ার পতাকার অধীনে চলাচল করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার কিছু পর জাহাজটিতে আগুন লাগে। দুপুর আড়াইটার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। জাহাজটি থেকে ১২ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, জাহাজে থাকা কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। গত ৩১ আগস্ট জাহাজটি মেরামতের জন্য কিংদাও বন্দরে পৌঁছায়। এর আগে এটি জিয়াংসু প্রদেশ থেকে উত্তরের দিকে যাত্রা করেছিল। আগামী রোববার জাহাজটির কিংদাও ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং জাহাজে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে জরুরি ভিত্তিতে অভিযান চালানোর জন্য বিরল এক ‘গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা’ দিয়েছেন। তিনি ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা পুরোপুরি বাস্তবায়ন’ এবং ‘বড় ও ভয়াবহ দুর্ঘটনা দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ’ করার ওপরও জোর দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চীনের নেতৃত্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলোকে ‘আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে এবং আহতদের চিকিৎসায়’ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ‘দ্বিতীয় পর্যায়ের বিপর্যয়’ ঠেকানোর নির্দেশও দিয়েছেন। তিনি চীনের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষকে কর্মক্ষেত্রে থাকা ঝুঁকিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চিহ্নিত করার এবং এ ধরনের আরও দুর্ঘটনা ঠেকাতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বেইহাই শিপবিল্ডিং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন চায়না স্টেট শিপবিল্ডিং করপোরেশনের অংশ। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। বেইহাই শিপবিল্ডিংয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ব্যবসার মধ্যে জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ মেরামত রয়েছে। এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে চীনের কোনো জাহাজ নির্মাণ কারখানায় এটি দ্বিতীয় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এর আগে গত ১৩ আগস্ট দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশের একটি জাহাজ নির্মাণ কারখানায় বিস্ফোরণে একজন দমকলকর্মী নিহত হন। তাইওয়ান প্রণালির অপর পারে অবস্থিত ফুজিয়ান প্রদেশটি গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত তাইওয়ানের বিপরীতে অবস্থিত। প্রদেশটি চীনের জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ মেরামত শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

চীনে নোঙর করে থাকা জাহাজে আগুন, নিহত অন্তত ২৫

এশিয়া কাপে বাংলাদেশের মেয়েদের উড়ন্ত সূচনা

বাংলাদেশের মেয়েরা  দুর্দান্ত জয়ে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়া কাপ হকি শুরু করেছে। চীনের মকিতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচে চাইনিজ তাইপেকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। পুরো ম্যাচ জুড়েই ছিল বাংলাদেশি মেয়েদের একচেটিয়া আধিপত্য। বাংলাদেশ ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হকি খেলে। কনা আক্তার দলের হয়ে প্রথম গোল করেন। কনার পর প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে পরাস্ত করেন ইমা এবং আইরিন আক্তার রিয়া। তারা দুজনেই ম্যাচে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে জোড়া গোল করেন। চতুর্থ কোয়ার্টারে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় বাংলাদেশ। এ সময় দলের পক্ষে হাল ধরেন অধিনায়ক সারিকা রিমন। তিনি চমৎকার দক্ষতায় পরপর আরও দুটি গোল করেন। অধিনায়কের এই জোড়া গোলে বাংলাদেশের বড় জয় নিশ্চিত হয়। কনার প্রথম গোল, এরপর ইমা ও রিয়ার জোড়া গোল এবং শেষ কোয়ার্টারে অধিনায়ক সারিকা রিমনের জোড়া গোলের ওপর ভর করে ৭-০ ব্যবধানের এই বিশাল জয় পায় বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই এমন দাপুটে জয় বাংলাদেশের মেয়েদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ম্যাচসেরা হয়েছেন আইরিন আক্তার রিয়া।  এ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে রোববার পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। হংকং চায়নার বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে শুরু করেছে পাকিস্তান।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশের মেয়েদের উড়ন্ত সূচনা

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে সংসদে নতুন তথ্য

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি আগের বছরের তুলনায় আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এখন প্রায় পৌনে ১৩ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যের পরিমাণ। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতে ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। বাকি অংশ ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে। জামায়াতের সংসদ সদস্য আবদুল বাতেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভারতের পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। তবে সরকার কোনো একটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি আলাদাভাবে না দেখে সামগ্রিক বাণিজ্য পরিস্থিতির দিকে নজর দিতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের যেদিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করার দরকার, সেটি হচ্ছে আমাদের ওভারঅল এক্সপোর্টের অ্যাবিলিটি বাড়ানো দরকার।’ রপ্তানি বাড়াতে সরকার চামড়া, পাট, জাহাজ নির্মাণ, হালকা প্রকৌশল ও সেমিকন্ডাক্টরসহ কয়েকটি খাত চিহ্নিত করেছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। এসব খাতের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে নীতি সহায়তা দেওয়া এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। যেসব খাত এখনও রপ্তানির উপযোগী পর্যায়ে পৌঁছায়নি, সেগুলোকেও সেই পর্যায়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারতের দিক থেকে কিছু বাধা থাকার পাশাপাশি গত দুই বছরে বাংলাদেশের দিক থেকেও কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান। সম্প্রতি ভারতের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের কথাও সংসদে তুলে ধরেন মুক্তাদির। তিনি বলেন, ওই প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিলে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। সরকার এ প্রস্তাবে আগ্রহ দেখিয়েছে। তিনি বলেন, এভাবে সমন্বিতভাবে আমরা বিভিন্ন চেষ্টা করছি, যাতে আগামী দিনে আমাদের রপ্তানি অধিকতর বৃদ্ধি করা যায় ভারতের ক্ষেত্রে। ভারত থেকে বেশি আমদানির কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, আমদানির বড় অংশ সরকার নয়, বেসরকারি খাত করে। ব্যবসায়ীরা যে উৎস থেকে প্রতিযোগিতামূলক কম দামে পণ্য পান, সেখান থেকেই আমদানি করেন। তিনি বলেন, সুতরাং উৎস হিসেবে যদিও এখানে ভারত একটি দেশের ক্ষেত্রেই ব্যবধানটা এত বেশি, কিন্তু যারা আমদানি করেন, তারা তাদের সুবিধা বিবেচনায় নিয়েই সেখান থেকে আমদানি করেন। বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফর রহমানের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির তথ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭ হাজার ৩১৩ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার ৬৯৮ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭ হাজার ৭১৬ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৪৩০ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনবিশিষ্ট থ্রি-হুইলার যানবাহন (টেম্পু, অটোরিকশা ইত্যাদি) (এইচএস হেডিং ৮৭.০৩-এর সংশ্লিষ্ট সব এইচএস কোড) আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯ অনুযায়ী আমদানিনিষিদ্ধ। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার উৎপাদন শিল্পকে সহায়তার জন্য যন্ত্রাংশ আমদানি করা হচ্ছে। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান মোল্যার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এআরটি চুক্তি করার ফলে বাংলাদেশ তার প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় দেশটির বাজারে রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে সংসদে নতুন তথ্য

চীন-ভারত-যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলল নেপাল

নেপাল ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পর জলবায়ু ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। গত সপ্তাহের ভয়াবহ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নিখোঁজ  বহু মানুষ। এই পরিস্থিতিতে কাঠমান্ডু আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন দাবি সামনে আনছে। দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশগুলোর মধ্যে চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করে বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দায়িত্ব বড় নির্গমনকারী দেশগুলোর রয়েছে।  বাগমতী প্রদেশের কয়েকটি জেলায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি করা ভোতেকোশি নদীর বন্যায় অন্তত ১ হাজার ১২৭ জন নিহত এবং প্রায় ৩ হাজার ৯০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে বিশাল পাথর ও বরফ ধসের কারণে এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিপূরণের দাবি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালোভাবে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র ‘বালেন’ শাহকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে নেপাল। দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাহের নিউইয়র্ক সফরের প্রস্তাবটি বর্তমানে আলোচনা করা হচ্ছে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, এই দুর্যোগের জন্য নেপাল দায়ী নয়। অথচ বিশ্ব উষ্ণায়নের ভয়াবহ প্রভাব সবচেয়ে বেশি ভোগ করতে হচ্ছে তাদের মতো দেশকেই। তার অভিযোগ, নেপাল থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন অত্যন্ত কম। তবুও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দ্রুত হিমবাহ গলছে। বাড়ছে পাহাড়ি বিপর্যয়ের ঝুঁকি। তাই বড় নির্গমনকারী দেশগুলোর দায়িত্ব তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া।  কান্তিপুর টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের কূটনৈতিক কাঠামোকে সহায়তা থেকে ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দিকে পরিবর্তন করছি।’ খানাল বলেন, রাসুয়ার এই দুর্যোগকে শুধু মানবিক সংকট হিসেবে দেখলে হবে না, যার জন্য দান বা সহায়তা প্রয়োজন। বড় শিল্পোন্নত অর্থনীতিগুলোর গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের কারণে যে ক্ষতি হচ্ছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়াকে তিনি দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। কান্তিপুর টিভিকে তিনি বলেন, ‘এটি দাতব্যের বিষয় নয়; এটি আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়।’ খানাল চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতকে বর্তমানে বিশ্বের তিন বৃহত্তম গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং নেপালের মতো দেশকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দায়িত্ব তাদের রয়েছে বলে দাবি করেন। ইন্ডিয়া ‍টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়,মোট নির্গমনের পরিমাণে ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় নির্গমনকারী হলেও দেশটির মাথাপিছু ও ঐতিহাসিক কার্বন নির্গমন উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। ইউরোপীয় কমিশনের ২০২৪ সালের EDGAR হিসাব অনুযায়ী, মোট নির্গমনের হিসাবে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত বিশ্বের তিন বৃহত্তম গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ। মাথাপিছু হিসাবে ভারত প্রায় ৩ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)-সমতুল্য নির্গমন করে। চীনের ক্ষেত্রে তা প্রায় ১১ টন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ টনের বেশি।ভারত দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, জলবায়ু সংক্রান্ত দায়িত্ব নির্ধারণের সময় ঐতিহাসিক নির্গমন, মাথাপিছু নির্গমন, উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা এবং আগে শিল্পায়িত হয়ে এর সুবিধা পাওয়া দেশগুলোর বেশি দায়িত্ব বিবেচনা করা উচিত। ২৬ আগস্ট ভোতেকোশি নদীর অববাহিকায় ভয়াবহ বন্যা আঘাত হানে। এতে নেপালের রাসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত রয়েছেন। নেপাল এই দুর্যোগকে ‘হিমালয়ান সুনামি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। নেপাল পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নেপাল-চীন সীমান্তের কাছের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল থেকে বন্যার সূত্রপাত হয়েছে। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এর সম্পর্ক কতটা, তা নিশ্চিত করতে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন। প্রাথমিক মূল্যায়নে পাথর ও বরফের ধস, অস্থিতিশীল হিমবাহ এবং হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তনকে বন্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ভূমিকম্পপ্রবণ উচ্চ ঝুঁকির এই এলাকায় বন্যার ঘটনা ভঙ্গুর হিমালয় অঞ্চলে চীনের নির্মিত অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে গত সপ্তাহে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, বন্যায় ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে নেপালের ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এই অর্থ দেশটির অর্থনীতির প্রায় ১০ শতাংশের সমান। জরুরি আর্থিক সহায়তার জন্য নেপাল জাতিসংঘ-সমর্থিত ‘ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজ’-এর কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে। সূত্র: ইন্ডিয়া‍ টুডে, হিন্দুস্থান টাইমস

চীন-ভারত-যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলল নেপাল

তিব্বতে ভূমিধস-বন্যায় ৩ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৫৫৮

তিব্বতে তিনজন নিহত হয়েছেন হিমালয় অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায়। ৫৫৮ জন নিখোঁজ। এমন তথ্য জানিয়েছে বৃহস্পতিবার চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া। অপরদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেপালে নিখোঁজ হয়েছেন তাদের ১০০ নাগরিক।‘শিজাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল’ নামে চীনে তিব্বত পরিচিত। সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানকার একটি বন্দরে ভূমিধসের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তিনজন নিহতের তথ্য জানা গেছে। নিখোঁজ ৫৫৮ জনের মধ্যে দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা স্থানীয় একটি গ্রামের বাসিন্দা।এএফপি জানিয়েছে, বুধবারের ওই বন্যায় তিব্বতের বাণিজ্যকেন্দ্র গিরংয়ে কাদা ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত ভবনগুলোর ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ২৬০ জন বিদেশিসহ ৫৫৮ জন নিখোঁজ হন।চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সাংবাদিকদের বলেন, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে পর্যটক ও তীর্থযাত্রী আছেন। উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলছে। নিখোঁজের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।এ সময় লিন আরও জানান, দুর্যোগকবলিত নেপালের অংশে নিখোঁজ চীনা নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ১০০ জন। কাঠমান্ডুর কর্তৃপক্ষের কাছে আরও যাচাইকৃত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

তিব্বতে ভূমিধস-বন্যায় ৩ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৫৫৮

এক ঢলে নিখোঁজ প্রায় ৪০০, শোকে স্তব্ধ নেপালের রসুয়া

আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী ভোতে কোশি নদীতে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪০০ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকসহ ১০৫ জন অন্তত ২৯১ জন বিদেশি ও ৯৩ জন নেপালি নাগরিক রয়েছেন। আজ বুধবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরাঞ্চলীয় রসুয়া জেলায় ভোরের দিকে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নেপাল পর্যটন বোর্ড জানায়, এলাকায় ভ্রমণরত পর্যটক ও স্থানীয়দের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। পর্যটন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, নিখোঁজ ২৯১ জন বিদেশি নাগরিকদের তালিকায় রয়েছেন—১০৫ জন ভারতীয়, ৩৭ জন প্রবাসী ভারতীয় (এনআরআই), ১৭ জন মালয়েশিয়ান, ১২ জন ব্রিটিশ, ৪ জন দক্ষিণ আফ্রিকান, ৩ জন আমেরিকান, ১ জন অস্ট্রেলিয়ান, ১ জন ডাচ নাগরিক এবং আরও ১১১ জন অন্যান্য দেশের নাগরিক, যাঁদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ওই এলাকায় একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। পরবর্তীতে ভূকম্পনের ফলে সৃষ্ট হিমবাহ ধস থেকেই এই ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এই ঘটনায় নেপালের পাশাপাশি সংলগ্ন চীন অংশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং উভয় দেশ যৌথভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে নেপালের ২৬ জন পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের একাধিক কর্মকর্তাও নিখোঁজ রয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে রসুয়া ও নুয়াকোট জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংস হয়ে গেছে অবকাঠামো, সড়ক যোগাযোগ, সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা। উদ্ধার অভিযান ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এক ঢলে নিখোঁজ প্রায় ৪০০, শোকে স্তব্ধ নেপালের রসুয়া

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে শিক্ষাই হোক সেতুবন্ধন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষাকেই অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন। চীন সরকারের আমন্ত্রণে বুধবার সফররত মাহদী আমিন বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘চীন-বাংলাদেশ এডুকেশন কো-অপারেশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। মাহদী আমিন বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও গভীর বন্ধুত্বের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে এ সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় ও নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। বর্তমান সরকারও চীনের সাথে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’ তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকারের মূল অঙ্গীকার হলো নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা। সে লক্ষ্যে সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি তরুণদের আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে এগিয়ে রাখতে মান্দারিন (চীনা ভাষা) সহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। শিক্ষাকে সার্বজনীন ও সম্পূর্ণ কর্মমুখী করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, চীনের শীর্ষস্থানীয় পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ বৃদ্ধি, যৌথ গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ এবং আধুনিক ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ। চীনের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহবান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘উভয় দেশের মধ্যে নিয়মিত শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় বাড়াতে হবে। একইসাথে চীনে বর্তমানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে নিবিড় সহযোগিতা প্রয়োজন।’ অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ দাউদ মিয়াসহ চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় যৌথ আন্তর্জাতিক সেবা কেন্দ্র ‘চীন-বাংলাদেশ শিল্প ও শিক্ষা একীকরণ আন্তর্জাতিক সেবা কেন্দ্র’-এর আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা করা হয়। সূত্র : বাসস

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে শিক্ষাই হোক সেতুবন্ধন

চীন সফরে গেলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা নিয়ে চীন সরকারের আমন্ত্রণে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আয়োজন ও আলোচনায় অংশ নিতে তিন দিনের সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। চায়না সাউদার্নের একটি ফ্লাইটে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি চীনের উদ্দেশে রওনা হন। সফরকালে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজন ও আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। ঢাকা ছাড়ার সময় বিমানবন্দরে মাহদী আমিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় ও শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ দাউদ মিয়া। এ ছাড়া চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং এবং কালচারাল সেকশনের থার্ড সেক্রেটারি শিয়া দাওজিংও উপস্থিত ছিলেন।

 চীন সফরে গেলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন

ইরান-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যে অর্থনৈতিক ডি-ডে’ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সোমবার (২৪ আগস্ট) তেহরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও দেশগুলোর বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক সংবাদ সম্মেলনে এ পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশকে ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করতে এটাই শেষ সতর্কবার্তা। না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে। বেসেন্ট বলেন, বিশ্বজুড়ে আমরা ইরানের আর্থিক যোগাযোগের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক হামলা শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য হলো এই শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা প্রতিটি অর্থনৈতিক পথ বন্ধ করে দেওয়া, যাতে তেহরান একা হয়ে পড়ে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এবং তেল পাচারে ইরান যেসব নেটওয়ার্ক ও আর্থিক মাধ্যম ব্যবহার করে, সেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। ইরানের অবৈধ আয়ের সব উৎস বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ইরান তার অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহন এই পাঁচটি খাত ব্যবহার করছে। এসব খাতের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। চীন কয়েক বছর ধরে ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। চীনে ইরানি তেল কেনা-বেচা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র চাপ বাড়িয়েছে। তবে এ বাণিজ্যে জড়িত থাকতে পারে, এমন বড় চীনা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে এখনো সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় ছয় মাস হতে চলেছে। বড় ধরনের লড়াই কমলেও যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা এগোয়নি। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন এখনো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম চড়া রয়েছে। যুদ্ধ ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রভাব ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ওপরও পড়েছে। সর্বশেষ রয়টার্স/ইপসোস জরিপে মাত্র ৩৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তার কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে এই অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে ইরানের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে। এসব নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের তেল বিক্রির আয় কমানো এবং বিমান চলাচল, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ সীমিত করা। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যবসার অর্থের প্রবাহও বন্ধ করার চেষ্টা করেছে ওয়াশিংটন। নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য মার্কিন ডলারনির্ভর আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহার করার সুযোগ থাকে না। তবে ইরান বহু আগে থেকেই ভুয়া কোম্পানি, নতুন প্রতিষ্ঠান ও জাহাজ নিবন্ধনের মাধ্যমে এসব নিষেধাজ্ঞা দ্রুত পাশ কাটানোর কৌশল বজায় রেখে আসছে।

ইরান-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যে অর্থনৈতিক ডি-ডে’ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

চীনা পণ্যে নতুন শুল্ক বসাতে চান ট্রাম্প

চীন কম দামে পণ্য সরবরাহ করে বিশ্ববাজার সয়লাব করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির ওপর এ কারণে নতুন শুল্ক আরোপের কথা বিবেচনা করছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) এ তথ্য জানিয়েছেন। শুল্ক আরোপের বিষয়টি অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর্যায়ে আছে। এটি এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় কর্মকর্তারা রাজি হননি নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে। দুজন জানান, ৭ দশমিক ৫ নতুন এই শুল্কের হার নির্ধারণ করা হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই হার ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের এক বছরের বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিতে প্রভাব ফেলবে না। আগামী মাসের শেষ দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা আছে। এই সফরের ওপরও নতুন শুল্ক প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত হলে, তা হোয়াইট হাউসের ‘হিসাবি প্রচেষ্টা’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। কারণ, কম পরিমাণে শুল্ক হার নির্ধারণ করে সর্বোচ্চ আদালতের একটি রায়কে পাশ কাটানো সম্ভব। চলতি বছরের শুরুতে ওই রায়ের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। আদালতের রায়টির পর গত মার্চ মাসে বিভিন্ন দেশের অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা এবং জোরপূর্বক শ্রমের বিধিবিধান নিয়ে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয় প্রশাসন। এর মধ্যে চীনও আছে। বেইজিংয়ের ওপর শুল্ক নির্ধারণ সংক্রান্ত আলোচনার তথ্য জানা গেলেও অন্য দেশ ঘিরে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট নয়। অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার অভিযোগে যেসব দেশ ও অঞ্চলের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে আছে- ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বাংলাদেশ, ভারত, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মেক্সিকো ও জাপান। শুল্ক নিয়ে চলমান আলোচনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এপি। তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বিষয়টি নিয়ে সোমবার ব্লুমবার্গ নিউজেও প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

চীনা পণ্যে নতুন শুল্ক বসাতে চান ট্রাম্প

টাইফুন ‘ডলফিনের’ প্রভাবে বিপর্যস্ত বিমান চলাচল, চীনে বাতিল অনেক ফ্লাইট

চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে এগিয়ে আসা শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’ ঘিরে প্রস্তুতি নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঝড়ের প্রভাবে ইতোমধ্যে সাংহাই ও ঝেজিয়াংয়ের বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে ১ হাজার ৬০০টির বেশি ফ্লাইট। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা।রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (৯ আগস্ট) সাংহাইয়ের দুটি প্রধান যাত্রীবাহী বিমানবন্দরে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এ ছাড়া পাশের ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংঝু বিমানবন্দরেও ২৭০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।গত কয়েকদিন ধরে জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস বয়ে আনার পর টাইফুন ‘ডলফিন’ রোববার গভীর রাত অথবা সোমবারের প্রথম দিকে ঝেজিয়াং কিংবা পাশের ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।ওকিনাওয়ার স্থানীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, টাইফুনের প্রভাবে সেখানে সাতজন সামান্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শতবর্ষী এক বৃদ্ধও রয়েছেন। প্রবল বাতাসে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান তিনি।রোববার বিকেল পর্যন্ত ওকিনাওয়ার প্রায় ৫ হাজার ২৯০টি বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।এদিকে, টাইফুনের প্রভাবে তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও শক্তিশালী বাতাস শুরু হয়েছে। সেখানে কয়েক ডজন ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়েছে এবং ১৮০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।রোববার সকালে চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনএমসি) টাইফুন নিয়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে।  কেন্দ্রটি জানিয়েছে, মধ্য ও পূর্ব ঝেজিয়াংয়ের কিছু এলাকায় অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। সোমবার বিকেল পর্যন্ত সাংহাই ছাড়াও ফুজিয়ান, আনহুই ও জিয়াংসু প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।চীনে আঘাত হানার পর টাইফুন ‘ডলফিন’ উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।টাইফুনটি আঘাত হানার আগেই শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যা পর্যন্ত ফুজিয়ান প্রদেশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ৯৯ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছেবলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া। ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ানে ২০০টির বেশি ফেরি রুটের চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্পের কাজও স্থগিত করা হয়েছে।শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৪৭৪টি নির্মাণ ও কাজের জাহাজকে বন্দরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রোববার কিছু ট্রেন চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে।তথ্যসূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

টাইফুন ‘ডলফিনের’ প্রভাবে বিপর্যস্ত বিমান চলাচল, চীনে বাতিল অনেক ফ্লাইট
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream