রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

নিজেদের নীতিতেই বিশ্বে একা হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী



নিজেদের নীতিতেই বিশ্বে একা হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী
নিজেদের নীতিতেই বিশ্বে একা হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের নীতির কারণেই বিশ্বে অনেকটা একা হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং চীনের ক্রমবর্ধমান শক্তি বিশ্ব রাজনীতির চিত্র বদলে দিচ্ছে।

৬২তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা, উন্নয়নশীল ও মধ্যম শক্তির দেশগুলোর নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন নতুন অংশীদারত্ব তৈরির প্রবণতার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এর পাশাপাশি চীনের উত্থানও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।

এই পুনর্বিন্যাসকে একটি ইচ্ছাকৃত অবস্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজের ইচ্ছাতেই নিঃসঙ্গ শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দ্বিতীয় প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে চীনের উত্থানকে চিহ্নিত করে জয়শঙ্কর দেশটির অর্থনৈতিক ক্ষমতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্ব প্রস্তুতকারক খাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিচালনা করছে চীন, যা তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে সহায়তা করছে।

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন তীব্র প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের এই প্রতিযোগিতা কেবল এই দুটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং কোনও দেশের হাতে থাকা যেকোনও প্রভাবকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

পাশাপাশি বিকাশমান ও মাঝারি শক্তির দেশগুলোর আত্মসচেতনতা বাড়ার কথা উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, তারা এখন অধিকতর স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছে। ভারতের ‘আত্মনির্ভর’ ধারণার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এই দেশগুলো এখন সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করছে এবং নিজেদের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার বাইরে গিয়ে অংশীদারত্বের বৈচিত্র্যায়ন ও ঝুঁকি কমানোর নীতি গ্রহণ করছে।

জয়শঙ্কর জোর দিয়ে বলেন, একসঙ্গে কাজ করার জন্য প্রতিটি বিষয়ে দেশগুলোর মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্যের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, যে দিনগুলোতে সব বিষয়ে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বা স্বার্থের শক্তিশালী মিল থাকতে হতো, সেই দিনগুলোর মাপকাঠি আজকের দিনে অনেক বেশি উঁচু। পর্যাপ্ত সাধারণ ভিত্তি বা লক্ষ্য থাকলেই দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করার জন্য তা যথেষ্ট।

উদীয়মান শক্তিগুলোর বিভিন্ন সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে তিনি কোয়াড, ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোর, ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোর এবং ব্রিকস-এর কথা উল্লেখ করেন।

ব্রিকস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্রিকস এমন এক পক্ষগুলোর একত্রিত হওয়ার উদাহরণ, যারা মনে করে তাদের ব্যক্তিগত কণ্ঠস্বরের চেয়ে যৌথ কণ্ঠস্বর অনেক বেশি শক্তিশালী।

এসব নমনীয় অংশীদারত্বের মাধ্যমেই আজকের পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে উঠছে বলে জানান তিনি।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

বিষয় : ভারত বিশ্ব সংবাদ যুক্তরাষ্ট্র চীন এশিয়া

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


নিজেদের নীতিতেই বিশ্বে একা হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের নীতির কারণেই বিশ্বে অনেকটা একা হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং চীনের ক্রমবর্ধমান শক্তি বিশ্ব রাজনীতির চিত্র বদলে দিচ্ছে।

৬২তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা, উন্নয়নশীল ও মধ্যম শক্তির দেশগুলোর নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন নতুন অংশীদারত্ব তৈরির প্রবণতার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এর পাশাপাশি চীনের উত্থানও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।

এই পুনর্বিন্যাসকে একটি ইচ্ছাকৃত অবস্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজের ইচ্ছাতেই নিঃসঙ্গ শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দ্বিতীয় প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে চীনের উত্থানকে চিহ্নিত করে জয়শঙ্কর দেশটির অর্থনৈতিক ক্ষমতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্ব প্রস্তুতকারক খাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিচালনা করছে চীন, যা তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে সহায়তা করছে।

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন তীব্র প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের এই প্রতিযোগিতা কেবল এই দুটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং কোনও দেশের হাতে থাকা যেকোনও প্রভাবকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

পাশাপাশি বিকাশমান ও মাঝারি শক্তির দেশগুলোর আত্মসচেতনতা বাড়ার কথা উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, তারা এখন অধিকতর স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছে। ভারতের ‘আত্মনির্ভর’ ধারণার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এই দেশগুলো এখন সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করছে এবং নিজেদের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার বাইরে গিয়ে অংশীদারত্বের বৈচিত্র্যায়ন ও ঝুঁকি কমানোর নীতি গ্রহণ করছে।

জয়শঙ্কর জোর দিয়ে বলেন, একসঙ্গে কাজ করার জন্য প্রতিটি বিষয়ে দেশগুলোর মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্যের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, যে দিনগুলোতে সব বিষয়ে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বা স্বার্থের শক্তিশালী মিল থাকতে হতো, সেই দিনগুলোর মাপকাঠি আজকের দিনে অনেক বেশি উঁচু। পর্যাপ্ত সাধারণ ভিত্তি বা লক্ষ্য থাকলেই দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করার জন্য তা যথেষ্ট।

উদীয়মান শক্তিগুলোর বিভিন্ন সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে তিনি কোয়াড, ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোর, ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোর এবং ব্রিকস-এর কথা উল্লেখ করেন।

ব্রিকস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্রিকস এমন এক পক্ষগুলোর একত্রিত হওয়ার উদাহরণ, যারা মনে করে তাদের ব্যক্তিগত কণ্ঠস্বরের চেয়ে যৌথ কণ্ঠস্বর অনেক বেশি শক্তিশালী।

এসব নমনীয় অংশীদারত্বের মাধ্যমেই আজকের পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে উঠছে বলে জানান তিনি।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream