শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
নিজেদের নীতিতেই বিশ্বে একা হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজেদের নীতিতেই বিশ্বে একা হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের নীতির কারণেই বিশ্বে অনেকটা একা হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং চীনের ক্রমবর্ধমান শক্তি বিশ্ব রাজনীতির চিত্র বদলে দিচ্ছে।৬২তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা, উন্নয়নশীল ও মধ্যম শক্তির দেশগুলোর নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন নতুন অংশীদারত্ব তৈরির প্রবণতার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে।তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এর পাশাপাশি চীনের উত্থানও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। এই পুনর্বিন্যাসকে একটি ইচ্ছাকৃত অবস্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজের ইচ্ছাতেই নিঃসঙ্গ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দ্বিতীয় প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে চীনের উত্থানকে চিহ্নিত করে জয়শঙ্কর দেশটির অর্থনৈতিক ক্ষমতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্ব প্রস্তুতকারক খাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিচালনা করছে চীন, যা তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে সহায়তা করছে। বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন তীব্র প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের এই প্রতিযোগিতা কেবল এই দুটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং কোনও দেশের হাতে থাকা যেকোনও প্রভাবকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের দিকে ঠেলে দিয়েছে। পাশাপাশি বিকাশমান ও মাঝারি শক্তির দেশগুলোর আত্মসচেতনতা বাড়ার কথা উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, তারা এখন অধিকতর স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছে। ভারতের ‘আত্মনির্ভর’ ধারণার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এই দেশগুলো এখন সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করছে এবং নিজেদের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার বাইরে গিয়ে অংশীদারত্বের বৈচিত্র্যায়ন ও ঝুঁকি কমানোর নীতি গ্রহণ করছে। জয়শঙ্কর জোর দিয়ে বলেন, একসঙ্গে কাজ করার জন্য প্রতিটি বিষয়ে দেশগুলোর মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্যের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, যে দিনগুলোতে সব বিষয়ে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বা স্বার্থের শক্তিশালী মিল থাকতে হতো, সেই দিনগুলোর মাপকাঠি আজকের দিনে অনেক বেশি উঁচু। পর্যাপ্ত সাধারণ ভিত্তি বা লক্ষ্য থাকলেই দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করার জন্য তা যথেষ্ট। উদীয়মান শক্তিগুলোর বিভিন্ন সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে তিনি কোয়াড, ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোর, ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোর এবং ব্রিকস-এর কথা উল্লেখ করেন। ব্রিকস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্রিকস এমন এক পক্ষগুলোর একত্রিত হওয়ার উদাহরণ, যারা মনে করে তাদের ব্যক্তিগত কণ্ঠস্বরের চেয়ে যৌথ কণ্ঠস্বর অনেক বেশি শক্তিশালী। এসব নমনীয় অংশীদারত্বের মাধ্যমেই আজকের পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে উঠছে বলে জানান তিনি। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই পশ্চিমবঙ্গে বাজারে গরুর মাংসের সংকট

ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে কঠোর কড়াকড়ি ও সরবরাহ সংকটের কারণে বাজার থেকে গোরুর মাংস প্রায় দেখায় যাচ্ছে না। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জানানো হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি রাজ্য সরকার গঠন করার পরই এই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১৯৫০ সালের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে মেনে চলার আদেশ জারি করে। এই নীতি অনুযায়ী ১৪ বছরের বেশি বয়সী, প্রজনন বা কাজের অনুপযোগী অথবা গুরুতরভাবে পঙ্গু পশু ছাড়া গোরু বা মহিষ জবাইয়ের জন্য ফিটনেস সনদ প্রদান নিষিদ্ধ করা হয় এবং কেবল নির্ধারিত কসাইখানায় জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া হয়। কলকাতার ট্যাংরায় অবস্থিত শহরের একমাত্র পৌর কসাইখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং কসাইদের ব্যবসার লাইসেন্স নবায়ন স্থগিত থাকায় সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। মেয়র ফরহাদ হাকিমের পদত্যাগের পর পৌরসভা ভেঙে দেওয়া এবং আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচনের দিন ধার্য থাকায় লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া পুরোপুরি থমকে গেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় কলকাতায় গোরুর মাংসের দাম কেজিতে ২০০-২৫০ রুপি থেকে বেড়ে ৩৫০-৫০০ রুপিতে পৌঁছেছে, অন্যদিকে এক প্লেট ভুনা মাংসের দাম ১০০ থেকে বেড়ে ১২০ রুপি হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ব্যবসা ৫০ শতাংশের বেশি কমে গেছে এবং নিরাপত্তার ভয়ে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে এই মাংস খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। আইনের কঠোর প্রয়োগের কারণে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁ অলি পাব ও জাম জামসহ বহু প্রতিষ্ঠান তাদের খাদ্য তালিকা থেকে গোরুর মাংসের পদ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। এমনকি অনেক মাংস ব্যবসায়ী ও খামারি লোকসান সামলাতে কম দামে গবাদিপশু বিক্রি করে ছাগলের ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর কিংবা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালদার মতো জেলাগুলোতে কড়াকড়ির কারণে এখন রাতে গোপনে ও গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গোরুর মাংস সরবরাহ করা হচ্ছে।  সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের ১০ দশমিক ৪ শতাংশ গ্রামীণ এবং ৭ দশমিক ৯ শতাংশ শহুরে পরিবার গোরুর মাংস গ্রহণ করত, যার মধ্যে মুসলিমদের দুই-তৃতীয়াংশের পাশাপাশি খ্রিস্টান, দলিত ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত ছিল। ট্যাংরা কসাইখানা ও লাইসেন্স নবায়নের বিষয়ে কলকাতা পৌরসংস্থার কমিশনার স্মিতা পান্ডে জানান, বিষয়টি প্রাণী সম্পদ বিকাশ বিভাগের আওতাধীন। তবে প্রাণী সম্পদ বিভাগের পরিচালক নিখিল কুমার শেঠ কসাইখানা পরিচালনা ও ফিটনেস সনদ প্রদানের যাবতীয় দায়িত্ব পৌরসংস্থার ওপর ন্যস্ত করেছেন। সূত্র: আল জাজিরা

বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই পশ্চিমবঙ্গে বাজারে গরুর মাংসের সংকট

‘নিজ দেশে ফিরুন’—যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টার ঘিরে তীব্র বিতর্ক

‘নিজেদের দেশে ফিরে যান নতুবা পরিণতির জন্য তৈরি থাকুন’ যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন প্রচারণামূলক পোস্টারে অভিবাসীদের শীর্ষক বার্তা দেওয়া নিয়ে অনলাইনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জনপ্রিয় চলচ্চিত্র সিরিজ ‘ট্রান্সফর্মার্স’-এর শৈলী অনুসরণে তৈরি এই পোস্টারে ‘মি. সিং’ নামটি ব্যবহার করে ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয়দের নিশানা করার অভিযোগ উঠেছে। পোস্টারটিতে সরাসরি বলা হয়েছে, ‘আমাদের রাস্তা থেকে সরে যান। মি. সিং, আপনি কীভাবে গাড়ি চালাতে হয় তা জানেন না।’ ঘটনাটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন দমন নীতির সময়ে সামনে এসেছে, যা নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজস্ব অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে বিতর্কিত পোস্টারটির সমর্থনে বার্তা দিয়ে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ স্পষ্ট করেছে, দেশে শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব নিয়ে প্রবেশকারীদের প্রতিহত করা হবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞাপনে অবৈধ অভিবাসীদের তথ্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত একটি হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন বিষয়টিকে অন্যায্য জাতিগত প্রোফাইলিং হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং এফবিআই কর্তৃক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা ফ্রাঞ্চাইজিটির পরিবেশক প্যারামাউন্ট পিকচার্সকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে। বিষয়টির নিন্দা জানিয়ে ফক্স সেভেন নিউজের সংবাদ পাঠাক অ্যালেক নোলাও এটিকে সিং পদবিধারী মানুষদের জন্য অপমানজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি তার দাদা ও প্রপিতামহের যুক্তরাষ্ট্রের কর্মজীবনের ঐতিহাসিক কথা উল্লেখ করে সরকারের এ ধরনের পোস্টারকে বর্ণবাদী ও নিচু মানসিকতার পরিচয় বলে অভিহিত করেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এই উদ্যোগটি মূলত তাদের ‘সিবিপি হোম’ কর্মসূচির প্রচারণার অংশ, যার অধীনে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে ইচ্ছুক অবৈধ অভিবাসীদের যাত্রা খরচ এবং অতিরিক্ত দুই হাজার ছয়শত ডলার দেওয়া হচ্ছে। সূত্র: টাইমস নাউ

‘নিজ দেশে ফিরুন’—যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টার ঘিরে তীব্র বিতর্ক

এশিয়া কাপে বাংলাদেশের মেয়েদের উড়ন্ত সূচনা

বাংলাদেশের মেয়েরা  দুর্দান্ত জয়ে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়া কাপ হকি শুরু করেছে। চীনের মকিতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচে চাইনিজ তাইপেকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। পুরো ম্যাচ জুড়েই ছিল বাংলাদেশি মেয়েদের একচেটিয়া আধিপত্য। বাংলাদেশ ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হকি খেলে। কনা আক্তার দলের হয়ে প্রথম গোল করেন। কনার পর প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে পরাস্ত করেন ইমা এবং আইরিন আক্তার রিয়া। তারা দুজনেই ম্যাচে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে জোড়া গোল করেন। চতুর্থ কোয়ার্টারে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় বাংলাদেশ। এ সময় দলের পক্ষে হাল ধরেন অধিনায়ক সারিকা রিমন। তিনি চমৎকার দক্ষতায় পরপর আরও দুটি গোল করেন। অধিনায়কের এই জোড়া গোলে বাংলাদেশের বড় জয় নিশ্চিত হয়। কনার প্রথম গোল, এরপর ইমা ও রিয়ার জোড়া গোল এবং শেষ কোয়ার্টারে অধিনায়ক সারিকা রিমনের জোড়া গোলের ওপর ভর করে ৭-০ ব্যবধানের এই বিশাল জয় পায় বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই এমন দাপুটে জয় বাংলাদেশের মেয়েদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ম্যাচসেরা হয়েছেন আইরিন আক্তার রিয়া।  এ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে রোববার পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। হংকং চায়নার বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে শুরু করেছে পাকিস্তান।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশের মেয়েদের উড়ন্ত সূচনা

বাংলাদেশে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ

সাধারণত বর্ষা মৌসুমই নেপালের জন্য প্রাচুর্যপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়। দেশটির নদীগুলো ভারী বৃষ্টিতে ফুলেফেঁপে ওঠে। এসব নদীর পানিতে পরিচালিত ‘রান অব দ্য রিভার’ অর্থাৎ নদীর পানি দিয়ে চালিত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে তখন উৎপাদন বাড়ে। ফলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেপাল তার প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে বিক্রি করতে পারে। কিন্তু এ বছর সেই নদীগুলোই হয়ে উঠেছে বিপর্যয়ের উৎস। ভোতে কোশি নদীতে গত ২৬ আগস্ট আকস্মিক বন্যায় বন্ধ হয়ে গেছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো। যার ফলে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে সম্প্রতি নেপাল থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া শুরু করা বাংলাদেশ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটিতে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে নেপাল গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করত। এখন তা কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। শুষ্ক শীত মৌসুমে, বিশেষ করে বছরের পর বছর বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভরশীল থাকার পর নেপাল যখন নিজেকে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, তখন এই বিঘ্ন দেখা দিল। ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ হতো। গত সপ্তাহ থেকে দুটি প্রকল্পের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। চিলিমে প্রকল্প থেকে ভারতে ২১ দশমিক ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমোদন ছিল। অন্যদিকে ত্রিশূলী প্রকল্পের অনুমোদন ছিল ১৮ দশমিক ৬ মেগাওয়াট। ভারত হয়ে বাংলাদেশেও বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন পেয়েছিল প্রকল্প দুটি। বাংলাদেশে বিক্রি করা বিদ্যুতের মূল্য নেপাল মার্কিন ডলারে পায়। নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ বলেন, ‘বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা দুটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো প্রকল্পের বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমতি দিতে আমরা ভারতকে অনুরোধ করেছি। বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্য।’ ক্ষয়ক্ষতি শুধু এই দুটি প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ নেই। বন্যার পর থেকে ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সানজেন, আপার সানজেন ও সালাসুঙ্গি প্রকল্পকে ‘আইসোলেটেড মোডে’ রেখেছে নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এর অর্থ, প্রকল্পগুলো জাতীয় গ্রিডের বাইরে থেকে পরিচালিত হচ্ছে এবং শুধু আশপাশের এলাকার চাহিদা মেটাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। তবে বিদ্যুৎ রপ্তানিতে বিঘ্ন শুধু বন্যার কারণে হয়নি। যে সময়ে নেপাল সাধারণত ভারতে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বিদ্যুৎ রপ্তানি করে, সেই সময়েও ভারত তিনটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের রপ্তানি অনুমোদন নবায়ন না করায় দেশটি ওই প্রকল্পগুলো থেকে ৭৩ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে পারছে না। ৩৮ দশমিক ৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার আপার চামেলিয়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের রপ্তানি অনুমোদনের মেয়াদ ৩১ জুন শেষ হয়েছে। তবে তা এখনো নবায়ন করা হয়নি। ২৪ দশমিক ২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সেতি রিভার এবং ১০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আপার তাদি খোলা প্রকল্পের অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩১ জুলাই। অনুমোদনগুলো নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ প্রকল্প তিনটির সম্মিলিত ৭৩ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারতে বিক্রি করতে পারবে না। এসব অনুমোদন প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ আমদানি ও রপ্তানির অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানি করার আগে নেপালকে ওই সংস্থার অনুমোদন নিতে বা বিদ্যমান অনুমোদন নবায়ন করতে হয়। নেপাল বিদ্যুৎ বাণিজ্য সম্প্রসারণের চেষ্টা করলেও এই সমস্যাটি দেশটির সামনে থাকা সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরে। এ পর্যন্ত নেপাল ৩৭টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য ভারতের অনুমোদন পেয়েছে। এসব প্রকল্পের সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। চিলিমে ও ত্রিশূলীও এসব প্রকল্পের মধ্যে ছিল। নেপাল ইন্ডিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জের ডে-অ্যাহেড ও রিয়েল-টাইম বাজারের মাধ্যমে ভারতে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে। এ ছাড়া ভারতের হরিয়ানা ও বিহার রাজ্যের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় মধ্যমেয়াদি বিদ্যুৎ বিক্রয় চুক্তির আওতায়ও বিদ্যুৎ বিক্রি করে দেশটি। ৪০০ কিলোভোল্ট ক্ষমতার ঢালকেবর–মুজাফফরপুর সঞ্চালন লাইন এবং ১৩২ কিলোভোল্ট ক্ষমতার তানকপুর–মহেন্দ্রনগর, কাটাইয়া–কুশাহা, রাকসৌল–পরওয়ানীপুর, গান্ধক–রামনগর ও মাইনাহিয়া–সম্পতিয়া সঞ্চালন লাইনসহ বেশ কয়েকটি সংযোগের মাধ্যমে দুই দেশ বিদ্যুৎ বাণিজ্য করে। বাংলাদেশের বাজার এই ব্যবস্থায় আরও একটি জটিলতার মাত্রা যোগ করেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকায় নেপাল ও বাংলাদেশের জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি আরও ২০ মেগাওয়াট বাড়াতে দুই দেশ সম্মত হয়েছিল। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করতেও তারা সম্মত হয়। তবে পরে ভারত জানায়, সঞ্চালন সক্ষমতার ঘাটতির কারণে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করা সম্ভব নয়। জুনে নেপাল-ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে নেপাল আবারও অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন দিতে ভারতের কাছে অনুরোধ জানায়। ৪৫৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার আপার তামাকোশী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ অন্যান্য প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদনও চেয়েছে নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। তবে চীনা বিনিয়োগ, চীনা ঠিকাদার অথবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে চীনা সরঞ্জাম যুক্ত প্রকল্পগুলোর জন্য ভারতের অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে না। আপার তামা কোশি এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। প্রকল্পটির হাইড্রোমেকানিক্যাল, ইলেকট্রোমেকানিক্যাল ও সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজের চুক্তি ভারতীয় কোম্পানিগুলো পেলেও বেসামরিক নির্মাণকাজ করেছে একটি চীনা কোম্পানি। এ প্রকল্পের বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন এখনো দেয়নি ভারত। দ্বিপক্ষীয় জ্বালানি বৈঠকগুলোতে নেপাল বারবার বিষয়টি উত্থাপন করেছে। আনুষ্ঠানিক বিধিনিষেধটি এমন প্রকল্পের বিদ্যুতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত রয়েছে কিন্তু ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ খাত সহযোগিতাবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নেই—এমন তৃতীয় কোনো দেশের বিনিয়োগ রয়েছে। তবে নেপালি কর্মকর্তা ও জ্বালানি খাতের অংশীজনেরা বলছেন, চীনা ঠিকাদার বা চীনা সরঞ্জাম যুক্ত প্রকল্প থেকেও বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন দিতে ভারত অনিচ্ছুক। এমনকি প্রকল্পগুলোতে চীনা বিনিয়োগ না থাকলেও এমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তাঁদের যুক্তি, নেপাল যদি বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়াতে চায়, তাহলে কূটনৈতিক তৎপরতা প্রয়োজন হবে। সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী কুলমান ঘিসিং বলেন, ‘বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন নবায়ন বা নতুন অনুমোদন পেতে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করতে হয়। কখনো কর্মকর্তাদের সঙ্গে, কখনো নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে, আবার কখনো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের মাধ্যমে আলোচনা করতে হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাদের আলোচনা করতে হবে এবং বিদ্যুৎ বাণিজ্যের অনুমোদন পাওয়া ও নবায়নের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে হবে।’ ঘিসিং বলেন, তিনি প্রতি ইউনিট ৫ দশমিক ৪৫ ভারতীয় রুপিতে ভারতে ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু এরপর থেকে নেপাল ওই পরিমাণ বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়াতে পারেনি। ২০২১ সালে নেপাল বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করার পর এই নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। এর মাধ্যমে এমন একটি দেশের জন্য বড় পরিবর্তন এসেছিল, যে দেশটি আগে ব্যাপকভাবে বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নেপাল ভারত ও বাংলাদেশে ২ হাজার ৯৩২ কোটি রুপি মূল্যের বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে। একই সময়ে শুষ্ক মৌসুমে ভারত থেকে ১ হাজার ২৩ কোটি রুপি মূল্যের বিদ্যুৎ আমদানি করেছে দেশটি। ফলে বিদ্যুৎ বাণিজ্যে নেপালের নিট উদ্বৃত্ত ছিল ১ হাজার ৯০৯ কোটি রুপি। এই মডেলটি নেপালের মৌসুমি নদীগুলোর ওপর নির্ভরশীল। বর্ষা মৌসুমে পানির প্রাচুর্যে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, যা রপ্তানি করা হয়। শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ কমে গেলে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেশি থাকলে নেপাল ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে। ভোটেকোশীর বন্যা এমন এক সময়ে এই মডেলকে ব্যাহত করেছে, যখন নেপালের সাধারণত বিদ্যুৎ রপ্তানি থেকে সর্বোচ্চ আয় করার কথা। এখন নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে চালু থাকা অন্য প্রকল্পগুলো থেকে বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমোদন পেতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করছে।

বাংলাদেশে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ

কৃষক-শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা বিজয় সরকারের

ভারতের তামিলনাড়ুর বিগত সরকারের আমলে শান্তিপূণ আন্দোলন করা কৃষক ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে টিভিকে সরকার। টাইমস নাউ প্রকাশিত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০২১ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ও কৃষকেরা বিধানসভায় পেশ করা এই সিদ্ধান্তের ফলে আইনি স্বস্তি পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় বিধানসভার ১১০ ধারা অনুযায়ী জানান, জীবিকা, অধিকার ও কল্যাণমূলক দাবিতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের এই পদক্ষেপ বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করবে। তিরুভান্নামালাইয়ের প্রস্তাবিত সিপকট শিল্প এস্টেট এবং পরানদুর বিমানবন্দর প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত কৃষকদের বিরুদ্ধে গুন্ডা আইনে করা মামলাগুলোও প্রত্যাহার করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তামিলনাড়ু বিধানসভায় বিরোধী দলের তোপের মুখে পড়ে সরকার। ডিএমকে হুইপ ইভি ভেলু এবং সাবেক মন্ত্রী এমআরকে পান্নীরসেলভম এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বর্তমান সরকারের ১০০ দিনে ফসল ঋণের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। বিরোধীদের আপত্তির জবাবে স্পিকার জেসিডি প্রভাকর জানান, মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভার নিয়ম মেনেই এই ঘোষণা দিয়েছেন। এর জবাবে বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্টালিন পূর্ববর্তী ডিএমকে সরকারের আমলে হাইড্রোকার্বন, কুডানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, নাগরিকত্ব সংশোধন আইন এবং কৃষি আইনের বিরুদ্ধে হওয়া পাঁচ হাজারের বেশি মামলা প্রত্যাহারের কথা উল্লেখ করেন। পূর্তমন্ত্রী আধব অর্জুনের একটি দাবির জবাবে উদয়নিধি স্টালিন জানান, কুডানকুলাম আন্দোলনের সময় মামলা হওয়া বর্তমান মন্ত্রী ভ্যানিয়ারাসুই ডিএমকে সরকারের মামলা প্রত্যাহারের জলন্ত প্রমাণ। সূত্র: টাইমস নাউ

কৃষক-শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা বিজয় সরকারের

ভারতে কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১১

ভারতের উত্তর প্রদেশের কৌশাম্বী জেলায় একটি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৫ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন এবং ১১ জন নিহত। সোমবার (৩১ আগস্ট) হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের প্রচণ্ডতায় পাশের দিল্লি-হাওড়া রেলপথের ট্রেন চলাচল প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়। অমিত পাল কৌশাম্বীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান, এই বিস্ফোরণ পিপরী থানা এলাকার মনোড়ী গ্রামের একটি বাজি কারখানায় ঘটে। প্রয়াগরাজের এসআরএন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ জন মারা যান এবং একই হাসপাতালে অন্য গুরুতর আহত পাঁচজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কর্মকর্তারা জানান, নিহতেরা সকলেই কারখানার নিকটবর্তী এলাকার বাসিন্দা। মৃতদের মধ্যে রয়েছে প্রিয়াঞ্জলী (৫), প্রবীণ সিং (১৩), জাহ্নবী (১২), আদিত্য (১২), আদিত্য (৮), রবি (৮), অঞ্জু (৩২), জ্ঞান সিং (৪০), বিক্রম সরোজ (৩৫), অংশ (৬) এবং নানা (৪)। এই ঘটনায় ১৮ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মনোড়ী পাওয়ার হাউসের কাছে ঘটে যাওয়া এই বিস্ফোরণে কারখানার পাশাপাশি আশপাশের ৫-৬টি বাড়ি ধসে পড়ে। তীব্রতার কারণে আজমের-শিয়ালদহ এক্সপ্রেসকে মনোড়ী স্টেশনে ফেরত পাঠানো হয় এবং বন্দে ভারত এক্সপ্রেসকে সাইয়াদ সারওয়ান স্টেশনে থামিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং বিমান বাহিনীর অর্ধশতাধিক সদস্য উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরাতে ১০টি বুলডোজার ও খনন যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। বিস্ফোরণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা মেরামতের কাজ চলছে। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

ভারতে কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১১

‘স্বনির্ভর ভারত’ গড়তে জনগণের প্রতি মোদির আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনগণকে স্বনির্ভর ভারত গড়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক বার্তায় জনগণকে স্বদেশী পণ্য ও সেবা ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেন। ভারতের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত ৭.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে সোমবারে প্রকাশিত উপাত্ত অনুযায়ী এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে। ইরান যুদ্ধ এবং বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার মধ্যেও ভারতের এই অর্থনৈতিক ধারা বজায় রয়েছে। নরেন্দ্র মোদি বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলার কথা উল্লেখ করে বলেন, পরিস্থিতি প্রতিকূল হওয়া সত্ত্বেও ভারতের এই উন্নতি সর্বস্তরের মানুষের যৌথ প্রচেষ্টার প্রতিফলন। যুদ্ধ সংক্রান্ত অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের বিদেশে ভ্রমণ না করা, অনাবশ্যক স্বর্ণ ক্রয় এড়িয়ে চলা এবং বিদেশে ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের বদলে ‘ওয়েড ইন ইন্ডিয়া’ নীতি অনুসরণের তাগিদ দেন। স্বদেশী ভাবধারা জোরদার করলে স্বাধীনতার শতবর্ষে যুবসমাজের হাতে একটি উন্নত ভারত তুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এর আগে গত মে মাসে আন্তর্জাতিক দূর্যোগ ও বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তা এড়াতে তিনি গণপরিবহন ব্যবহার, বৈদ্যুতিক যানবাহন গ্রহণ, ঘরে বসে কাজ করা এবং জ্বালানি তেল ও সোনা কেনা সীমিত রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সূত্র: এনডিটিভি

‘স্বনির্ভর ভারত’ গড়তে জনগণের প্রতি মোদির আহ্বান

ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল, নিখোঁজ অন্তত ৩০০ ভারতীয়

নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ হওয়া হাজার হাজার মানুষের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক অন্তত ৩০০ জন রয়েছেন। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিখোঁজ এই ভারতীয়দের বেশিরভাগই মানসরোবর যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত ‘এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড অন্বেষা সামিট’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় জানান, রসুয়া অঞ্চলে ঘটে যাওয়া এই দুর্যোগে এ পর্যন্ত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একের পর এক শহর ধুয়েমুছে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শিশির খানাল জানান, ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া অঞ্চলটি মানসরোবর যাত্রার পথ হওয়ায় সেখানে ভারতীয়সহ অনেক বিদেশি নাগরিক অবস্থান করছিলেন। নিখোঁজ ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বিদেশি নাগরিকদের সুরক্ষায় বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। হিমালয়কন্যা নেপালে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ এই দুর্যোগে তাৎক্ষণিক ত্রাণ পাঠানোয় ভারত সরকারের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নেপালি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে উদ্ধার এবং জরুরি ত্রাণ সরবরাহের ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি

ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল, নিখোঁজ অন্তত ৩০০ ভারতীয়

তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ নেপাল

তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে নেপালে বিক্ষোভ চলছে। মানবাধিকারকর্মী ও রাজনীতিকেরা এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে আইন সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। গত সপ্তাহে দেশটির মাধেশ প্রদেশে নিখোঁজ হয় শিশুটি। এর তিন দিন পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দেশটিতে এরপর থেকে ধারাবাহিক বিক্ষোভ চলছে। এখন পর্যন্ত নয়জনকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন স্থানীয় পুলিশের একজন মুখপাত্র। বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, এই অপরাধকে কেন্দ্র করে আইন সংস্কারের দাবি উঠেছে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে। পুলিশি হেফাজতে থাকা এক কিশোর সন্দেহভাজনের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দেয়। সিমারা শহরে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ চলার পর নিহত শিশুটির পরিবারের সদস্যের সঙ্গে মন্ত্রীদের বৈঠক হয়। পরে একটি লিখিত সমঝোতা হয়। বৈঠকে সরকার গুরুতর অপরাধসংক্রান্ত আইন পর্যালোচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি নিহত শিশুটির স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কথাও বলা হয়েছে। এ ঘটনা নেপালে কিশোর অপরাধীদের সঙ্গে আইনি ব্যবস্থায় কীভাবে আচরণ করা হয়, তা নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। কিছু অধিকারকর্মী ধর্ষণ বা হত্যার মতো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আরও কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন। প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী গৌরী প্রধান এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনায় জড়িত সবাইকে শাস্তির আওতায় আনা উচিত। এ ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কারের জন্যও গুরুতর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তবে মৃত্যুদণ্ড চালুর দাবির বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আটক এক কিশোরের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পুলিশি হেফাজতে থাকা ওই ব্যক্তির ভিডিও কীভাবে বাইরে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বারা জেলার প্রধান জেলা কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র বিবিসিকে বলেন, ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশের একজন সদস্যের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আরও কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি রয়েছে। নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ২৫ হাজার ৫০০টির বেশি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে ৩ হাজার ২শর বেশি নারী ভুক্তভোগীর বয়স ছিল ১০ বছরের কম বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ নেপাল
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream