মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ নেপাল


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| ফটো কার্ড

তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ নেপাল
জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি আইন সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী ও রাজনীতিকেরা। ছবি: নূর ফটো

তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে নেপালে বিক্ষোভ চলছে। মানবাধিকারকর্মী ও রাজনীতিকেরা এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে আইন সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

গত সপ্তাহে দেশটির মাধেশ প্রদেশে নিখোঁজ হয় শিশুটি। এর তিন দিন পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দেশটিতে এরপর থেকে ধারাবাহিক বিক্ষোভ চলছে। এখন পর্যন্ত নয়জনকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন স্থানীয় পুলিশের একজন মুখপাত্র।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, এই অপরাধকে কেন্দ্র করে আইন সংস্কারের দাবি উঠেছে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে। পুলিশি হেফাজতে থাকা এক কিশোর সন্দেহভাজনের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দেয়।

সিমারা শহরে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ চলার পর নিহত শিশুটির পরিবারের সদস্যের সঙ্গে মন্ত্রীদের বৈঠক হয়। পরে একটি লিখিত সমঝোতা হয়। বৈঠকে সরকার গুরুতর অপরাধসংক্রান্ত আইন পর্যালোচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি নিহত শিশুটির স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কথাও বলা হয়েছে।

এ ঘটনা নেপালে কিশোর অপরাধীদের সঙ্গে আইনি ব্যবস্থায় কীভাবে আচরণ করা হয়, তা নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। কিছু অধিকারকর্মী ধর্ষণ বা হত্যার মতো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আরও কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন।

প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী গৌরী প্রধান এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনায় জড়িত সবাইকে শাস্তির আওতায় আনা উচিত। এ ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কারের জন্যও গুরুতর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তবে মৃত্যুদণ্ড চালুর দাবির বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আটক এক কিশোরের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পুলিশি হেফাজতে থাকা ওই ব্যক্তির ভিডিও কীভাবে বাইরে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বারা জেলার প্রধান জেলা কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র বিবিসিকে বলেন, ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশের একজন সদস্যের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আরও কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি রয়েছে।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ২৫ হাজার ৫০০টির বেশি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে ৩ হাজার ২শর বেশি নারী ভুক্তভোগীর বয়স ছিল ১০ বছরের কম বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিষয় : ধর্ষণ এশিয়া শিশু নির্যাতন নেপাল

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬


তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ নেপাল

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে নেপালে বিক্ষোভ চলছে। মানবাধিকারকর্মী ও রাজনীতিকেরা এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে আইন সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

গত সপ্তাহে দেশটির মাধেশ প্রদেশে নিখোঁজ হয় শিশুটি। এর তিন দিন পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দেশটিতে এরপর থেকে ধারাবাহিক বিক্ষোভ চলছে। এখন পর্যন্ত নয়জনকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন স্থানীয় পুলিশের একজন মুখপাত্র।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, এই অপরাধকে কেন্দ্র করে আইন সংস্কারের দাবি উঠেছে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে। পুলিশি হেফাজতে থাকা এক কিশোর সন্দেহভাজনের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দেয়।

সিমারা শহরে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ চলার পর নিহত শিশুটির পরিবারের সদস্যের সঙ্গে মন্ত্রীদের বৈঠক হয়। পরে একটি লিখিত সমঝোতা হয়। বৈঠকে সরকার গুরুতর অপরাধসংক্রান্ত আইন পর্যালোচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি নিহত শিশুটির স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কথাও বলা হয়েছে।

এ ঘটনা নেপালে কিশোর অপরাধীদের সঙ্গে আইনি ব্যবস্থায় কীভাবে আচরণ করা হয়, তা নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। কিছু অধিকারকর্মী ধর্ষণ বা হত্যার মতো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আরও কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন।

প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী গৌরী প্রধান এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনায় জড়িত সবাইকে শাস্তির আওতায় আনা উচিত। এ ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কারের জন্যও গুরুতর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তবে মৃত্যুদণ্ড চালুর দাবির বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আটক এক কিশোরের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পুলিশি হেফাজতে থাকা ওই ব্যক্তির ভিডিও কীভাবে বাইরে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বারা জেলার প্রধান জেলা কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র বিবিসিকে বলেন, ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশের একজন সদস্যের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আরও কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি রয়েছে।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ২৫ হাজার ৫০০টির বেশি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে ৩ হাজার ২শর বেশি নারী ভুক্তভোগীর বয়স ছিল ১০ বছরের কম বলে জানিয়েছে পুলিশ।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream