নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত পাইপ ও মেশিন ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হরিশচন্দ্রপাঠ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি র্যাব ও পুলিশের সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বোমা মেশিন ও ড্রেজার ব্যবহার করে অনুমোদন ছাড়াই বালু উত্তোলনের অভিযোগ ছিল। স্থানীয়দের দাবি, এ কার্যক্রমের সঙ্গে হাবিবুর মেম্বারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযানে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেন। পরে উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত পাইপ ও মেশিন ভেঙে দেওয়া হয়। অভিযান শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জলঢাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোল্লা ইফতেখার আহমেদ। এ সময় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মো. তানজীর ইসলাম ও মো. আসাদুজ্জামান, র্যাবের এএসপি তৌহিদসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যন্ত্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশের কৃষিজমি, বসতভিটা ও পরিবেশ ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষ করে কৃষিজমির কাছাকাছি থেকে বালু তোলায় জমির মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তারা জানান, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বালু উত্তোলন। প্রশাসনের অভিযানে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু একটি অভিযানেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে জলঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মতামত