মাদক সেবনের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে নীলফামারীতে দৈনিক ‘বাংলাদেশ সময়’-এর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক লিটন সরকারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে নীলফামারী আদালত চত্বরের সম্রাট হোসেন বাবুর হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর একজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি মাদক সেবনের অভিযোগ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সাংবাদিক লিটন সরকার। এর পর থেকেই সংশ্লিষ্ট কয়েকজন তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং তাকে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সোমবার দুপুরে আদালত চত্বরের ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন লিটন সরকার। এ সময় অ্যাডভোকেট বিপ্লবের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল সেখানে গিয়ে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি মারধরের শিকার হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এ সময় হামলা ঠেকাতে এগিয়ে আসেন নীলফামারী আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) আবু মো. সোয়েম ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আসাদুজ্জামান খান রিনো। তারাও ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পর আদালত চত্বরে উত্তেজনা দেখা দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে সেখান থেকে একজনকে আটক করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আটক ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি।
সাংবাদিক লিটন সরকার বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সোমবার হঠাৎ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রতিবাদ কিংবা আইনগত প্রতিকার চাইতে পারেন। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের কারণে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা বা ভয়ভীতি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, আটক ব্যক্তির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকরা নিন্দা জানিয়েছেন। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, হামলার অভিযোগ ওঠা অ্যাডভোকেট বিপ্লবের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আহত জিপি আবু মো. সোয়েম ও পিপি মো. আসাদুজ্জামান খান রিনোর বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
মতামত