জামালপুরে আলোচিত ইশরাত জাহান মিমি হত্যা মামলার প্রধান আসামী কাউসার আহমেদ খানকে গ্রেপ্তার করেছে। পিবিআই এর একটি টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। ২৫ আগষ্ট মঙ্গলবার দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুর পিবিআই এর পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত পিপিএম।
জামালপুর শহরের বাগের হাট এলাকা থেকে ২৪ আগষ্ট(সোমবার) মামলার প্রধান আসামী কাউছার আহমেদ(৪২)কে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
পিবিআই এর প্রেস বিজ্ঞপ্তি জানা যায়, ২০১৪ সালে শাওন মিয়া নামে এক ব্যাক্তির সাথে ইশরাত জাহান মিমির বিবাহ হয়। দাম্পত্য জীবনে শাওনের সংসারে ২ সন্তান জন্ম গ্রহন করে। ২০২১ সালে ইশরাত জাহান মিমির স্বামী শাওন মিয়া মারা যায়। স্বামীর মৃত্যুর পর নিজ দোকানে কেনাকাটার সময় কাওসার আহমেদ কানের পরিচয় হয় বিধবা ইশরাত জাহান মিমির মিমির।
পরিচয়ের ঘনিষ্টতা থেকেই কাওসার আহমেদ খানের দোকান থেকে নানা জিনিসপত্র বাকীতে কেনাকাটা করত ইশরাত জাহান মিমি। বাকি টাকা পরিশোধের কথা বলে এক দিন আশরাত জাহান মিমি পরিকল্পিতভাবে কাওসার আহমেদ খানকে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। বাসায় যাওয়ার পর মিমি কান্নাকাটি করে কাওসার আহমেদকে জানায় তার স্বামী শাওন মিয়া কিছু দিন আগে মারা গিয়েছে। সে দিনই কাওসার আহমেদ ও ইশরাত জাহান মিমির বাসায় দুই জনের মধ্যে দৈহিক সর্ম্পক হয়।
ইশরাত জাহান মিমি দৈহিক সর্ম্পকের বিষয়টি গোপনে ভিডিও করে রাখেন। এর পর থেকেই সেই ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নানা সুবিধা আদায় করতে থাকে। এক পর্যায়ে চাপের মুখে কাওসার আহমেদ খান বাধ্য হয়েই ইশরাত জাহান মিমিকে বিয়ে করেন।
বিয়ের পর থেকেই আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে ইশরাত জাহান মিমি। তিনি প্রায়ই বিভিন্ন লোকজনকে ব্লেকমেইল করে বাসায় নিয়ে মাদকের আসর বসিয়ে নানা অপকর্ম করতে থাকে।
স্বামী কাওসার আহমেদ খান বাধা দিলে প্রায়ই দুই জনের মধ্যে ঝগড়া বিবাধ হত। গত ২৩ আগস্ট রাতেও জগড়া হয়। এক পর্যায়ে কাওসার আহমেদ খান ক্ষুব্ধ হয়ে তার স্ত্রী ইশরাত জাহান মিমকে গলা টিপে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে ইশরাত জাহাম মিমির মা মুক্তা বেগম বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৫২/৫৮৫। ধারা ৩০২/৩৪। মামলা দায়েরের পর মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে জামালপুর পিবিআই। পিবিআই নানা তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইশরাত জাহান মিমির ঘাতক স্বামী কাওসার আহমেদ খানকে জামালপুর সদর থেকে গ্রেপ্তার করে।
এ ব্যাপারে জামালপুর পিবিআই এর পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত পিপিএম জানান, মামলার প্রধান আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার আরজির সাথে আসামীর জবানবুন্দির গড় মিল রয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে।
মতামত