সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার আমুড়া ইউনিয়নের ধারাবহর গ্রামে পূর্বশত্রুতা ও পাহাড় কাটায় বাধা দেওয়ার জের ধরে একটি প্রবাসীর বসতবাড়িতে পেট্রোল এবং গান পাউডার দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে ভস্মীভূত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ ভোরে সংঘটিত এই হামলায় সৌদি প্রবাসী মুক্তা আহমদ ও তার ভাই শ্রমিকদল নেতা মান্না আহমদের যৌথ বসতবাড়িটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও সর্বস্ব হারিয়ে এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছে পরিবারের ৭ সদস্য।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী ‘লেকভিউ হাউজিং’ নামের একটি প্রকল্পের জন্য পাহাড় কাটা ও পরিবেশ বিনাশের বিরুদ্ধে প্রবাসী মুক্তা আহমদ সরব ছিলেন। এছাড়া টিলা কাটার দায়ে স্থানীয় প্রশাসন প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে প্রভাবশালী চক্রটি। ওই ঘটনার জেরে গত ১৭ আগস্ট ভোর সাড় ৫টার দিকে লেকভিউ হাউজিংয়ের মালিক শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বে ১৫ জনের এক সশস্ত্র দল ধারাবহর গ্রামে মান্না আহমদের বাড়িতে হামলা চালায়।
মান্না আহমদের লিখিত এজাহার সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীরা দুটি নোহা গাড়িতে এসে রামদা, শাবলসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঘরের চারপাশে পেট্রোল ঢেলে দেয় এবং গান পাউডার ছিটিয়ে গ্যাস লাইট দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে টিনশেড আধাপাকা ঘরটির ৬টি রুম, রান্নাঘর ও বাথরুম পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে নগদ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, দেড় ভরি সোনা, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, জমির দলিল, জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধনসহ আনুমানিক ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ঘটনার পর পরই সিলেট-৬ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সংসদ সদস্য দ্রুত আইনি ব্যবস্থার কঠোর নির্দেশ দিলেও অভিযোগ উঠেছ—ঘটনার আট দিন পার হয়ে গেলেও গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ এজাহারটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করেনি।
ভুক্তভোগী মান্না আহমদ বলেন, "পাহাড় কাটায় প্রশাসনের জরিমানা করার রাগ আমাদের ওপর ঝাড়া হয়েছে। আগুনে আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে, আমরা এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে আছি। মামলা করলে আমাদের প্রাণনাশ ও লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবেদ আলী জানান, এজাহারে প্রদত্ত তথ্যের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই ও অনুসন্ধান চলছে। এদিকে, এজাহার গ্রহণে পুলিশের এমন গড়িমসি ও কালক্ষেপণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ। ভুক্তভোগী পরিবারটি অনতিবিলম্বে আসামীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
মতামত