টাঙ্গাইলের সখিপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গড়গোবিন্দপুর উখারিয়াচালায় বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় এক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে সন্দেহ করার প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষক আরমান আলী খান। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে সখিপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি জানান আরমান আলী খান।
তিনি বলেন, গত শুক্রবার গভীর রাতে উখারিয়াচালার বাসিন্দা লাল মিয়া ওরফে নালুর বসতঘরে আগুন লাগার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের এ ঘটনায় সন্দেহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরমান আলী খান বলেন, তিনি একজন শিক্ষক এবং উখারিয়াচালা সমাজের সভাপতি। অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনায় তাকে সন্দেহ করায় তিনি সামাজিকভাবে অপমানিত ও মর্মাহত হয়েছেন। কোনো প্রমাণ ছাড়া তাকে হয়রানি বা মামলায় জড়ানো না হয়—এমন দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে আরমান বলেন, ১৯৮৩ সালে জবেদ আলী ওরফে মিলন মিয়ার কাছ থেকে তার দাদারা ৩০০ শতাংশ জমির বিনিময়ে ১১৫ শতাংশ জমি রেওয়াজ দলিলের মাধ্যমে গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সেখানে তারা ঘরবাড়ি ও মসজিদ নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। তবে দলিল অনুযায়ী ১১৫ শতাংশ জমি থাকলেও বাস্তবে তারা আনুমানিক ৯০ শতাংশ জমি বুঝে পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তার দাবি, দীর্ঘদিন পর মিলন মিয়ার সন্তানেরা ওই জমি নিয়ে দাবি তুলে তাদের বিরুদ্ধে পরপর পাঁচটি মামলা করেন। এর মধ্যে দুটি মামলায় ইতোমধ্যে তাদের পক্ষে রায় হয়েছে। এ অবস্থায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাদের সন্দেহ করা অযৌক্তিক বলেও দাবি করেন তিনি।
আরমান আলী খান আরও অভিযোগ করেন, এর আগে ওই পরিবারের এক নারী সিএনজি দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ছড়ানো হয়েছিল। পরে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ পাওয়ায় ওই ঘটনায় মামলা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি পরিকল্পিত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, আগুন কীভাবে লেগেছে এবং ঘটনাস্থলে কোনো আলামত রয়েছে কি না—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ‘‘অপরাধী যে-ই হোক, আমরা তার বিচার চাই। তবে কোনো প্রমাণ ছাড়াই আমাদের হয়রানি করা হোক, সেটি আমরা চাই না।’’
ভবিষ্যতে তাদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে আরও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রশাসনের কাছে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে শিক্ষক আরমান আলী খান বলেন, জমিজমার বিষয়ে আদালত বা বৈধ কাগজপত্রের মাধ্যমে যার অধিকার প্রমাণিত হবে, তা তারা মেনে নেবেন। তবে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মামলা, হয়রানি ও সামাজিকভাবে মানহানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে এর প্রতিকার দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রশাসনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তদন্তে যে ব্যক্তি বা পক্ষই দায়ী প্রমাণিত হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শিক্ষক আরমান আলী খান বা অন্য কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য,গত শনিবার (২২ আগস্ট) গভীর রাতে সখিপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গড়গোবিন্দপুর উখারিয়াচালায় মো. লাল মিয়ার বসতঘরে আগুন লাগে। এ সময় ঘরের ভেতরে লাল মিয়া ও তার স্ত্রী অবস্থান করছিলেন এবং দরজা বাইরে থেকে শিকল দিয়ে আটকানো ছিল বলে জানা যায়।
মতামত