নীলফামারীতে ব্যাংকের কর্মকর্তা সেজে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার (২৪ আগস্ট) নীলফামারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী নীলফামারী শহরের বাটার মোড়স্থ 'রাজা টেলিকম'-এর স্বত্বাধিকারী মো: জান্নাত হোসেন (৪১)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১২ টার সময় জান্নাত হোসেনের দোকানে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি আসেন। তিনি নিজেকে 'মার্চেন্টাইল ব্যাংক'-এর কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তিনি বিকাশ ও নগদ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠানোর প্রস্তাব দেন এবং ব্যাংকে গিয়ে আইডি কার্ড জমা ও ক্যাশ ডাউন করে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেন।
পরে ওই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ব্যবসায়ী জান্নাত হোসেনকে নীলফামারী শহরের মার্চেন্টাইল ব্যাংক শাখায় নিয়ে যান এবং ম্যানেজার ক্যাফেতে বসিয়ে আপ্যায়ন করান। সেখানে অবস্থানকালে তিনি ব্যবসায়ীর মোবাইল থেকে মোট ৮টি নগদ ও বিকাশ নম্বরে সর্বমোট ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন। ব্যবসায়ী টাকা পাঠানোর পর ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে টাকা আনতে যাওয়ার কথা বলে ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি ম্যানেজারের কক্ষ থেকে বের হয়ে সটকে পড়েন।
দীর্ঘসময় অপেক্ষা করার পরও প্রতারকের সন্ধান না পেয়ে নীলফামারী মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সেকেন্ড ম্যানেজারের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানান। এরপর সেকেন্ড ম্যানেজার কোনো সহায়তা না করে উল্টো ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে তাকে ব্যাংক থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো: জান্নাত হোসেন। এ ঘটনায় তিনি নীলফামারী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জন্য জিল্লুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। আশা করি দ্রুতই প্রতারককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো। তবে এধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে অর্থ লেনদেনর ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। মূলত: প্রতারকরা লোভ দেখিয়েই এমন করে থাকে। তাই লোভ সংবরণ করো দরকার।
মতামত