জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রায়কালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেনের বাড়ি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে একই ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবুর বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের পর তাঁকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপি।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রকাশ করা হয়। আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল, সাধারণ সম্পাদক আরিফ ইফতেখার আহম্মেদ রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক সামিউল হাসান ইমন ও ইউএম মোশারফ হোসেন স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশের একটি কপি রোববার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই বহিষ্কারের খবরটি এলাকায় মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়া হয়৷
বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবুর বিরুদ্ধে অন্যের বাড়ি দখলসহ সংগঠনবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ জুলাই তাঁকে বাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য সাত দিনের সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি বাড়িটি ছেড়ে দেননি। দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় বিএনপির সব সদস্যপদসহ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, রায়কালী গ্রামের প্রায় চার শতক জমির ওপর বেলাল হোসেনের দোতলা পাকা বাড়ি রয়েছে। কয়েক বছর আগে বাড়িটি অগ্রণী ব্যাংকের জিয়ানগর শাখায় বন্ধক রেখে ১২ লাখ টাকা ঋণ নেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বেলাল হোসেন বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরে তাঁর স্ত্রীও বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এ সুযোগে মিজানুর রহমান বাবু বাড়িটি দখলে নেন বলে অভিযোগ।
এ ঘটনায় বেলাল হোসেনের স্ত্রী শাহনাজ বেগম আক্কেলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেছে।
তবে বাড়ি জবরদখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিজানুর রহমান বাবু। তাঁর দাবি, বাড়িটি যে জমির ওপর নির্মিত, সেটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি। বেলাল হোসেন তাঁদের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। এখন তাঁরা নিজেদের জায়গা ফেরত নিয়েছেন।
আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ ইফতেখার আহম্মেদ রানা মিজানুর রহমানের বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপকর্মে জড়িত হলে তাঁকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
রায়কালী ইউনিয়নের বাসিন্দা আকরাম হোসেন বলেন, এটি একটি ভালো বার্তা। দলের কেউ অপকর্মে জড়ালে ছাড় পাবেন না। দলের এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্তের জন্য থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বজলুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এসআই বজলুর রহমান বলেন, আমি এলাকায় গিয়ে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেছি। বাড়িটির জায়গাটি তাঁর দাদার বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে থানায় বসার কথা থাকলেও মিজানুর রহমান বাবু বসেননি।
মতামত