সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

গরমের তীব্রতায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

গরমের তীব্রতায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা
ছবি: সংগৃহীত

গরমের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ২২ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকছে দ্বিগুণেরও বেশি শিশু। এতে তৈরি হয়েছে তীব্র শয্যাসঙ্কট; ফলে বাধ্য হয়ে অনেক শিশুর চিকিৎসা চলছে হাসপাতালের মেঝেতেই।

হাসপাতাল থেকে জানা যায়, গত ১৭ থেকে ২৩ আগস্ট—এই সাত দিনে হাসপাতালটির শিশু ওয়ার্ডে মোট ৩৪২ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। দৈনিক গড়ে প্রায় ৪৯ জন শিশু ভর্তি হলেও ২২ শয্যার ওয়ার্ডটিতে অনেক দিন রোগীর সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে স্বজনরা শিশুদের মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা করাচ্ছেন। আক্রান্ত শিশুদের সিংহভাগই নিউমোনিয়া, জন্ডিস, তীব্র জ্বর ও ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যায় ভুগছে।

তীব্র গরম এবং পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন হাসপাতাল কর্মী ও রোগীরা। হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ড. ফারহানা ওয়াহিদ তানি জানান, প্রচণ্ড গরমে শিশুরা ঘেমে নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। রোগীর চাপের তুলনায় জনবল অনেক কম থাকায় তাদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে।

 সিনিয়র স্টাফ নার্স নাজমা খাতুন জানান, বর্তমানে জন্ডিস ও নিউমোনিয়ার প্রভাবই সবচেয়ে বেশি। মাত্র দুজন নিয়মিত নার্স ও চারজন ইন্টার্ন নার্স দিয়ে এত বিশাল সংখ্যক শিশুর চিকিৎসা ও দেখাশোনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগী স্বজনরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা শিশু আলিফের মা জানান, কয়েক দিন টানা জ্বর না কমায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালে এনেছেন, কিন্তু বেড না পেয়ে মেঝেতেই থাকতে হচ্ছে। অপরদিকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু মিমের নানী আফরোজা বেগম জানান, প্রায় সাত দিন ভর্তি থাকার পর চিকিৎসায় তার নাতনি এখন কিছুটা সুস্থ, তবে পুরো ওয়ার্ডজুড়ে রোগীর প্রচণ্ড চাপ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের মতে, শিশু ওয়ার্ডে রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে দ্রুত শয্যাসংখ্যা ও প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো জরুরি। চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা দ্রুত বাড়ানো সম্ভব হলে সেবার মান আরো উন্নত করা সম্ভব হবে।

বিষয় : শিশু হাসপাতাল

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


গরমের তীব্রতায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গরমের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ২২ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকছে দ্বিগুণেরও বেশি শিশু। এতে তৈরি হয়েছে তীব্র শয্যাসঙ্কট; ফলে বাধ্য হয়ে অনেক শিশুর চিকিৎসা চলছে হাসপাতালের মেঝেতেই।

হাসপাতাল থেকে জানা যায়, গত ১৭ থেকে ২৩ আগস্ট—এই সাত দিনে হাসপাতালটির শিশু ওয়ার্ডে মোট ৩৪২ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। দৈনিক গড়ে প্রায় ৪৯ জন শিশু ভর্তি হলেও ২২ শয্যার ওয়ার্ডটিতে অনেক দিন রোগীর সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে স্বজনরা শিশুদের মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা করাচ্ছেন। আক্রান্ত শিশুদের সিংহভাগই নিউমোনিয়া, জন্ডিস, তীব্র জ্বর ও ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যায় ভুগছে।

তীব্র গরম এবং পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন হাসপাতাল কর্মী ও রোগীরা। হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ড. ফারহানা ওয়াহিদ তানি জানান, প্রচণ্ড গরমে শিশুরা ঘেমে নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। রোগীর চাপের তুলনায় জনবল অনেক কম থাকায় তাদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে।

 সিনিয়র স্টাফ নার্স নাজমা খাতুন জানান, বর্তমানে জন্ডিস ও নিউমোনিয়ার প্রভাবই সবচেয়ে বেশি। মাত্র দুজন নিয়মিত নার্স ও চারজন ইন্টার্ন নার্স দিয়ে এত বিশাল সংখ্যক শিশুর চিকিৎসা ও দেখাশোনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগী স্বজনরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা শিশু আলিফের মা জানান, কয়েক দিন টানা জ্বর না কমায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালে এনেছেন, কিন্তু বেড না পেয়ে মেঝেতেই থাকতে হচ্ছে। অপরদিকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু মিমের নানী আফরোজা বেগম জানান, প্রায় সাত দিন ভর্তি থাকার পর চিকিৎসায় তার নাতনি এখন কিছুটা সুস্থ, তবে পুরো ওয়ার্ডজুড়ে রোগীর প্রচণ্ড চাপ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের মতে, শিশু ওয়ার্ডে রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে দ্রুত শয্যাসংখ্যা ও প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো জরুরি। চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা দ্রুত বাড়ানো সম্ভব হলে সেবার মান আরো উন্নত করা সম্ভব হবে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream