রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে ‘না’ বলছে নিউজিল্যান্ড

১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে ‘না’ বলছে নিউজিল্যান্ড

১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিউজিল্যান্ডে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন জানিয়েছেন, তাঁর দল এই বিষয়ে সংসদে একটি বিল উত্থাপন করবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে আইন অমান্য করলে তাদের বৈশ্বিক আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে প্রস্তাবিত বিলে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ে ‘যৌক্তিক পদক্ষেপ’ নিতে হবে। এ জন্য বিদ্যমান অ্যাকাউন্টের তথ্য, মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল পরিচয়পত্র ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এক বিবৃতিতে সোমবার (২৪ আগস্ট) লাক্সন বলেন, নিউজিল্যান্ডের একটি প্রজন্মের শিশুদের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি মত দেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের ক্ষতিকর কনটেন্ট, আসক্তি তৈরি করা প্রযুক্তি এবং এমন নানা চাপের মুখে ফেলছে, যা সামাল দেওয়ার মতো প্রস্তুতি তাদের নেই। এর প্রভাব তাদের পারিবারিক জীবন, মানসিক স্বাস্থ্য, ঘুম ও শিক্ষার ওপর পড়ছে। তবে বিলটি সংসদে পাস হওয়ার মতো পর্যাপ্ত সমর্থন পাবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। লাক্সনের জোটসঙ্গী নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট পার্টি ইতিমধ্যে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে। দলের নেতা ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স বলেছেন, এই ধরনের আইন দেশকে ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে। শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখার দায়িত্ব মূলত অভিভাবকদের বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করে। তবে লাক্সন স্বীকার করেছেন, সব শিশুকে পুরোপুরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখা সম্ভব নাও হতে পারে। তারপরও বিষয়টি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে এ উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

গরমের তীব্রতায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা

গরমের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ২২ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকছে দ্বিগুণেরও বেশি শিশু। এতে তৈরি হয়েছে তীব্র শয্যাসঙ্কট; ফলে বাধ্য হয়ে অনেক শিশুর চিকিৎসা চলছে হাসপাতালের মেঝেতেই। হাসপাতাল থেকে জানা যায়, গত ১৭ থেকে ২৩ আগস্ট—এই সাত দিনে হাসপাতালটির শিশু ওয়ার্ডে মোট ৩৪২ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। দৈনিক গড়ে প্রায় ৪৯ জন শিশু ভর্তি হলেও ২২ শয্যার ওয়ার্ডটিতে অনেক দিন রোগীর সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে স্বজনরা শিশুদের মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা করাচ্ছেন। আক্রান্ত শিশুদের সিংহভাগই নিউমোনিয়া, জন্ডিস, তীব্র জ্বর ও ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যায় ভুগছে। তীব্র গরম এবং পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন হাসপাতাল কর্মী ও রোগীরা। হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ড. ফারহানা ওয়াহিদ তানি জানান, প্রচণ্ড গরমে শিশুরা ঘেমে নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। রোগীর চাপের তুলনায় জনবল অনেক কম থাকায় তাদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে।  সিনিয়র স্টাফ নার্স নাজমা খাতুন জানান, বর্তমানে জন্ডিস ও নিউমোনিয়ার প্রভাবই সবচেয়ে বেশি। মাত্র দুজন নিয়মিত নার্স ও চারজন ইন্টার্ন নার্স দিয়ে এত বিশাল সংখ্যক শিশুর চিকিৎসা ও দেখাশোনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগী স্বজনরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা শিশু আলিফের মা জানান, কয়েক দিন টানা জ্বর না কমায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালে এনেছেন, কিন্তু বেড না পেয়ে মেঝেতেই থাকতে হচ্ছে। অপরদিকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু মিমের নানী আফরোজা বেগম জানান, প্রায় সাত দিন ভর্তি থাকার পর চিকিৎসায় তার নাতনি এখন কিছুটা সুস্থ, তবে পুরো ওয়ার্ডজুড়ে রোগীর প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের মতে, শিশু ওয়ার্ডে রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে দ্রুত শয্যাসংখ্যা ও প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো জরুরি। চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা দ্রুত বাড়ানো সম্ভব হলে সেবার মান আরো উন্নত করা সম্ভব হবে।

গরমের তীব্রতায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা

ইউক্রেনে ফের রুশ হামলা, শিশুসহ নিহত ৩

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চলে আবার হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এসব হামলায় শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। শনিবার রাজধানী কিয়েভজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার ভোরে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠার পর রাজধানীর দুটি স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মধ্য কিয়েভের বাসিন্দারা জানান, বিকট বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, শনিবার কিয়েভের কাছে বোরিসপিল এলাকার তিনটি স্থানে হামলা চালানো হয়। এতে তিনজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও তিনজন আহত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষে আবাসিক ভবন ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া অন্য একটি ভবনে আগুনও ধরে যায়। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, একটি ভবন ও একটি জ্বালানি ট্যাংকে লাগা আগুন নেভাতে জরুরি সেবার কর্মীরা কাজ করছেন। কিয়েভের গ্যারেজ, একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি ভবনে আগুন লাগার ছবি প্রকাশ করেছে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা ডিএসএনএস। সংস্থাটি জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা হচ্ছে। ইউক্রেনের দুর্বল হয়ে পড়া আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে ক্রমেই হিমশিম খাচ্ছে। এর মধ্যেই সর্বশেষ এই হামলা চালানো হলো। এতে রাশিয়ার ইউক্রেনীয় শহরগুলোতে হামলা চালানোর সক্ষমতা এবং কিয়েভের সেই হামলা ঠেকানোর সক্ষমতার মধ্যে ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি গতিতে ছুটে যায় এবং অত্যন্ত খাড়া পথে লক্ষ্যবস্তুর দিকে নেমে আসে। ফলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেগুলো প্রতিহত করার জন্য অনেক সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় পায়। যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাই ইউক্রেনের হাতে থাকা একমাত্র অস্ত্র, যা এসব ক্ষেপণাস্ত্র নির্ভরযোগ্যভাবে প্রতিহত করতে পারে। তবে কিয়েভের কর্মকর্তারা বলেছেন, নিজেদের শহরগুলো যথাযথভাবে সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী ইন্টারসেপ্টর তাদের কাছে নেই। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউক্রেন মাত্র এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে। তিনি এর জন্য ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে দায়ী করেন। ওই যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে গেছে বলে জানান তিনি। ইউক্রেন সরকারের উপদেষ্টাদের ধারণা, রাশিয়া এখন মাসে প্রায় ১০০টি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে সক্ষম। আর শীত শুরু হলে মস্কো তাদের আক্রমণ আরও জোরালো করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। সর্বশেষ রুশ হামলার সময় ইউক্রেনও রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে থাকা বিভিন্ন স্থাপনায় ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে আসছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার দুটি তেল শোধনাগারও ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এ ছাড়া ইউক্রেন ইয়েকাতেরিনবুর্গ শহরে অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামেও দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা ওয়াইল্ডবেরিজের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলাকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করে এমন লজিস্টিকস বা সরবরাহকেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এদিকে শুক্রবার রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ার গভর্নর জানিয়েছেন, ইউক্রেনের একটি ড্রোন একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানলে দুজন নিহত হন।

ইউক্রেনে ফের রুশ হামলা, শিশুসহ নিহত ৩

গাজায় যুদ্ধবিরতির ৩০০ দিনেও নিহত অন্তত ৩০০ শিশু: ইউনিসেফ

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ৩০০ দিনে অন্তত ৩০০ শিশু নিহত হয়েছে। অর্থাৎ, গড়ে প্রতিদিন একজন করে শিশু প্রাণ হারিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।শনিবার (৮ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক এদুয়ার বেইগবেদার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যে যুদ্ধবিরতিতে প্রতিদিন গড়ে একজন শিশু মারা যায়, সেটি শিশুদের জন্য ব্যর্থ।’তিনি আরও বলেন, শত শত শিশু আহত হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থা গুরুতর। গাজার শিশুরা এখনও সেই সহিংসতার অবসানের অপেক্ষায় রয়েছে, যার শেষ হওয়ার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছিল।ইউনিসেফ জানিয়েছে, গাজার বিভিন্ন এলাকায় শিশুরা এখনও তীব্র অপুষ্টি, নানা রোগ, অনিরাপদ পানি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

 গাজায় যুদ্ধবিরতির ৩০০ দিনেও নিহত অন্তত ৩০০ শিশু: ইউনিসেফ
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream