মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
২৫০ শয্যার মাগুরা হাসপাতালে রোগী ছাড়িয়েছে ৭০০, মেঝেতেও ঠাঁই নেই

২৫০ শয্যার মাগুরা হাসপাতালে রোগী ছাড়িয়েছে ৭০০, মেঝেতেও ঠাঁই নেই

মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন গুণে। নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ হওয়ায় বিভিন্ন ওয়ার্ডের মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। এর সঙ্গে ঘন ঘন লোডশেডিং যুক্ত হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঠান্ডা, জ্বর, কাশি, ডেঙ্গু, হাম, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক রোগী ভর্তি হচ্ছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৫০ জন শিশু এবং ৩০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। নির্ধারিত শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। মেঝেতেও জায়গার সংকট তৈরি হওয়ায় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অসুস্থ শিশুদের কান্না, স্বজনদের উদ্বেগ এবং অতিরিক্ত মানুষের ভিড়ে হাসপাতালজুড়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে ওয়ার্ডগুলোতে গরমের তীব্রতা বেড়ে যায়। এতে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের কষ্ট বাড়ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা জানান, শয্যা না পেয়ে বাধ্য হয়ে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। কোনো কোনো রোগীকে একাধিক তলায় ঘুরে মেঝেতে জায়গা খুঁজতে হচ্ছে। চিকিৎসাসেবা পেলেও শয্যাসংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তাঁদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রোগীর স্বজন তানিয়া খাতুন বলেন, 'এত গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ থাকে না। শিশুদের নিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে। অসুস্থ বাচ্চাকে নিয়ে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। তারপরও কিছু করার নেই। বাচ্চাকে সুস্থ করতে হলে এই কষ্ট মেনে নিয়েই থাকতে হচ্ছে।' মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মহোসিন উদ্দীন ফকির বলেন, হাসপাতালে অনুমোদিত শয্যা রয়েছে ২৫০টি। কিন্তু বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছেন ৭০০ জনেরও বেশি। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় প্রায় তিন গুণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এরপরও রোগীদের শতভাগ সেবা দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিডি প্রতিদিন/এনআরএইচ

গরমের তীব্রতায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা

গরমের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ২২ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকছে দ্বিগুণেরও বেশি শিশু। এতে তৈরি হয়েছে তীব্র শয্যাসঙ্কট; ফলে বাধ্য হয়ে অনেক শিশুর চিকিৎসা চলছে হাসপাতালের মেঝেতেই। হাসপাতাল থেকে জানা যায়, গত ১৭ থেকে ২৩ আগস্ট—এই সাত দিনে হাসপাতালটির শিশু ওয়ার্ডে মোট ৩৪২ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। দৈনিক গড়ে প্রায় ৪৯ জন শিশু ভর্তি হলেও ২২ শয্যার ওয়ার্ডটিতে অনেক দিন রোগীর সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে স্বজনরা শিশুদের মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা করাচ্ছেন। আক্রান্ত শিশুদের সিংহভাগই নিউমোনিয়া, জন্ডিস, তীব্র জ্বর ও ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যায় ভুগছে। তীব্র গরম এবং পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন হাসপাতাল কর্মী ও রোগীরা। হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ড. ফারহানা ওয়াহিদ তানি জানান, প্রচণ্ড গরমে শিশুরা ঘেমে নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। রোগীর চাপের তুলনায় জনবল অনেক কম থাকায় তাদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে।  সিনিয়র স্টাফ নার্স নাজমা খাতুন জানান, বর্তমানে জন্ডিস ও নিউমোনিয়ার প্রভাবই সবচেয়ে বেশি। মাত্র দুজন নিয়মিত নার্স ও চারজন ইন্টার্ন নার্স দিয়ে এত বিশাল সংখ্যক শিশুর চিকিৎসা ও দেখাশোনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগী স্বজনরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা শিশু আলিফের মা জানান, কয়েক দিন টানা জ্বর না কমায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালে এনেছেন, কিন্তু বেড না পেয়ে মেঝেতেই থাকতে হচ্ছে। অপরদিকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু মিমের নানী আফরোজা বেগম জানান, প্রায় সাত দিন ভর্তি থাকার পর চিকিৎসায় তার নাতনি এখন কিছুটা সুস্থ, তবে পুরো ওয়ার্ডজুড়ে রোগীর প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের মতে, শিশু ওয়ার্ডে রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে দ্রুত শয্যাসংখ্যা ও প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো জরুরি। চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা দ্রুত বাড়ানো সম্ভব হলে সেবার মান আরো উন্নত করা সম্ভব হবে।

গরমের তীব্রতায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream