নীলফামারীর জলঢাকা ও কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশিত নিয়োগ তালিকা বাতিল করে পুনরায় যাচাই-বাছাই এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছভাবে নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে পৃথক মানববন্ধন করেছেন সচেতন নাগরিক ও সাধারণ পরীক্ষার্থীরা।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে জলঢাকা পৌর শহরের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ‘সচেতন জলঢাকাবাসী’র ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন মনিরুজ্জামান মিঠু। এ সময় হাবিবুর রহমান, নুর ইসলাম, বাবুল হোসেন, মোশফেকুর রহমান, খলিলুর রহমান ও আব্দুল লতিফ লালসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কর্মসূচি। এ কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে কোনো পক্ষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানান তারা।
মানববন্ধনে হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, নিয়োগে দলীয়করণের প্রতিবাদেই তাদের এই কর্মসূচি। তিনি বিতর্কিত নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমার কথা উল্লেখ করেন। দাবি পূরণ না হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
মানববন্ধন শেষে একটি প্রতিবাদ র্যালি বের করা হয়। ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কর্মসূচি শেষ করেন।
অন্যদিকে, একই দিন দুপুরে কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে একই অভিযোগে মানববন্ধন করেন সাধারণ পরীক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা। ‘সচেতন নাগরিক মহল’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পরীক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে পরীক্ষার্থী আলামিন ইসলাম, আতাউর রহমান ও আরিফ হোসেন অভিযোগ করেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পর দুই ধাপে পরীক্ষা নেওয়া হলেও ফল প্রকাশে দীর্ঘ সময় নেওয়া হয়েছে। গত ২০ আগস্ট ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত, রিজার্ভ ও অপেক্ষমাণ তালিকা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানান তারা।
তাদের আরও অভিযোগ, প্রকাশিত তালিকায় একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, তাদের স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনের নাম বেশি রয়েছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া কিছু ওয়ার্ডে তুলনামূলক বেশি নিয়োগ দেওয়া হলেও অন্য ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী না রাখার অভিযোগও করেন তারা।
মানববন্ধন থেকে প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়, স্বজনপ্রীতি বা অন্য কোনো প্রভাবের ভিত্তিতে নিয়োগ হলে সরকারি কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাই অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তারা।
দুই উপজেলার আন্দোলনকারীরা দাবি বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
তবে নিয়োগে অনিয়ম, দলীয়করণ ও পক্ষপাতিত্বের এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মতামত