চীন কম দামে পণ্য সরবরাহ করে বিশ্ববাজার সয়লাব করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির ওপর এ কারণে নতুন শুল্ক আরোপের কথা বিবেচনা করছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) এ তথ্য জানিয়েছেন।
শুল্ক আরোপের বিষয়টি অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর্যায়ে আছে। এটি এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় কর্মকর্তারা রাজি হননি নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে। দুজন জানান, ৭ দশমিক ৫ নতুন এই শুল্কের হার নির্ধারণ করা হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই হার ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের এক বছরের বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিতে প্রভাব ফেলবে না।
আগামী মাসের শেষ দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা আছে। এই সফরের ওপরও নতুন শুল্ক প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত হলে, তা হোয়াইট হাউসের ‘হিসাবি প্রচেষ্টা’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। কারণ, কম পরিমাণে শুল্ক হার নির্ধারণ করে সর্বোচ্চ আদালতের একটি রায়কে পাশ কাটানো সম্ভব। চলতি বছরের শুরুতে ওই রায়ের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়।
আদালতের রায়টির পর গত মার্চ মাসে বিভিন্ন দেশের অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা এবং জোরপূর্বক শ্রমের বিধিবিধান নিয়ে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয় প্রশাসন। এর মধ্যে চীনও আছে। বেইজিংয়ের ওপর শুল্ক নির্ধারণ সংক্রান্ত আলোচনার তথ্য জানা গেলেও অন্য দেশ ঘিরে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট নয়।
অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার অভিযোগে যেসব দেশ ও অঞ্চলের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে আছে- ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বাংলাদেশ, ভারত, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মেক্সিকো ও জাপান।
শুল্ক নিয়ে চলমান আলোচনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এপি। তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বিষয়টি নিয়ে সোমবার ব্লুমবার্গ নিউজেও প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।
মতামত