শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
বাংলাদেশের বাণিজ্যে ভারতের জায়গা নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের বাণিজ্যে ভারতের জায়গা নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য হ্রাস এবং মার্কিন পণ্যের আমদানি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারে পরিণত হয়েছে। ফার্স্টপোস্টে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক তথ্যের বরাতে ফার্স্টপোস্ট জানায়, গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬৭ কোটি ডলারে। অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭২ কোটি ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে প্রায় ১৯৫ কোটি ডলার কম। যদিও সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে চীন, তবে এই নতুন পরিবর্তনটি ভারতের জন্য অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। মূলত দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই এই পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ তুলনামূলক অনেক বেশি পণ্য ক্রয় করায় এই বাণিজ্য ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি ২৪৯ কোটি ডলার থেকে ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। বিপরীতে ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি কমেছে প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ভারতে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সংক্রান্ত নীতি ও আলোচনার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন থেকে ক্রয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয় ঢাকা, যার ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে এই উল্লেখযোগ্য গতি এসেছে। তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রেও ভারতের অবস্থান পিছিয়ে পড়ার চিত্র স্পষ্ট দেখা গেছে। সূত্র: ফার্স্টপোস্ট

কৃষ্ণসাগরে হামলা, গম সরবরাহে বিকল্প পথে আমদানিকারকেরা

কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে আসা গমের চালান জাহাজ ও শস্য রপ্তানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে এশিয়ার গম আমদানিকারকেরা বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনা থেকে অন্তত ৫ লাখ মেট্রিক টন গম কেনার চুক্তি করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনটি বাণিজ্যিক সূত্র। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম আমদানিকারক ইন্দোনেশিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আমদানিকারকেরা বিকল্প উৎস থেকে গম কিনতে আগের তুলনায় অনেক বেশি দাম দিচ্ছেন। কারণ, এসব দেশের কয়েকটি তাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে গম আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের এশিয়াভিত্তিক এক ব্যবসায়ী—যার প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলের ময়দা ও আটা উৎপাদনকারীদের গম সরবরাহ করে—বলেন, গত এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে জরুরি চাহিদা পূরণে অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনার গম কেনার বেশ কিছু বড় আকারের চুক্তি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে যেসব চালান এখনো পৌঁছায়নি, সেগুলোর পরিবর্তে আমদানিকারকরা বিকল্প চালান নেওয়ার চেষ্টা করছেন।’ রাশিয়া ও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বন্দর ও জাহাজে হামলার কারণে শস্য টার্মিনালগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে গম আমদানিকারকরা সরবরাহ সংকটের মুখে পড়েছেন। রপ্তানি মৌসুমের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়ে এসে এই পরিস্থিতিতে কয়েক ডজন গমের চালান পাঠানো বিলম্বিত হয়েছে বা বাতিল করতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কৃষিপণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এডিএম গত বুধবার জানায়, ৩১ আগস্ট একটি ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর ওদেসায় তাদের ইউইপি শস্য টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়াম হোয়াইট গমের জন্য ক্রেতারা প্রতি টনে প্রায় ৩১৫ থেকে ৩৩০ ডলার দাম দিয়েছেন। এই দামের মধ্যে পণ্য ও পরিবহন খরচ, অর্থাৎ কস্ট অ্যান্ড ফ্রেইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার গমের চুক্তি হয়েছে প্রতি টনে প্রায় ৩১০ থেকে ৩১৫ ডলারে। এই দাম আগস্ট-সেপ্টেম্বর সময়ে পৌঁছানোর কথা থাকা বেশিরভাগ কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের গমের চালানের দামের তুলনায় অনেক বেশি। ওই চালানগুলো সাধারণত প্রতি টনে প্রায় ২৬০ থেকে ২৮০ ডলারে বুক করা হয়েছিল। শিকাগো বোর্ড অব ট্রেড বা সিবিওটি-তে গমের বেঞ্চমার্ক ফিউচার জুনের শেষ দিক থেকে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। এর প্রধান কারণ কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে গম সরবরাহে ঘাটতি। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী রপ্তানিকারক দেশগুলোর গমের নগদ বাজারের দামও বেড়েছে। গত মঙ্গলবার সিবিওটির গমের দাম সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এর পেছনে ছিল মস্কো কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে হামলা বন্ধে একটি সাময়িক স্থগিতাদেশ বা মোরাটোরিয়াম প্রত্যাখ্যান করেছে এমন খবর এবং রাতভর ইউক্রেনের বন্দর অবকাঠামোয় হামলা চালানোর ঘটনা। এশিয়ার শস্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরবরাহের জন্য প্রায় ২০ লাখ থেকে ২৫ লাখ টন কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের গম বুক করেছে। এই পরিমাণ এশিয়ার মোট আমদানি চাহিদার প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। তবে ক্রমবর্ধমান জাহাজ চলাচলের বিলম্বের কারণে উদ্বেগ বাড়ছে যে, বুক করা গমের একটি অংশ হয়তো শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাবে না। ইন্দোনেশিয়া ছাড়াও বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে গম আমদানি করে। এদিকে, ক্রেতারা অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনা থেকে বড় পরিমাণে গম নিশ্চিত করলেও তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে কেউ কেউ কনটেইনারে করে গম আনার পথও বেছে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এশিয়াভিত্তিক দ্বিতীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘কিছু ময়দা উৎপাদনকারী কনটেইনারে গম আনা পছন্দ করছেন। কারণ তারা সরবরাহকারীদের সঙ্গে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের চালান আরও কিছুদিন দেরিতে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা বেশি দামের গমের প্রতি অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে চান না। তাই তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে তারা কনটেইনারে করে গম আনছেন।’

কৃষ্ণসাগরে হামলা, গম সরবরাহে বিকল্প পথে আমদানিকারকেরা

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে সংসদে নতুন তথ্য

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি আগের বছরের তুলনায় আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এখন প্রায় পৌনে ১৩ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যের পরিমাণ। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতে ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। বাকি অংশ ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে। জামায়াতের সংসদ সদস্য আবদুল বাতেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভারতের পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। তবে সরকার কোনো একটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি আলাদাভাবে না দেখে সামগ্রিক বাণিজ্য পরিস্থিতির দিকে নজর দিতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের যেদিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করার দরকার, সেটি হচ্ছে আমাদের ওভারঅল এক্সপোর্টের অ্যাবিলিটি বাড়ানো দরকার।’ রপ্তানি বাড়াতে সরকার চামড়া, পাট, জাহাজ নির্মাণ, হালকা প্রকৌশল ও সেমিকন্ডাক্টরসহ কয়েকটি খাত চিহ্নিত করেছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। এসব খাতের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে নীতি সহায়তা দেওয়া এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। যেসব খাত এখনও রপ্তানির উপযোগী পর্যায়ে পৌঁছায়নি, সেগুলোকেও সেই পর্যায়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারতের দিক থেকে কিছু বাধা থাকার পাশাপাশি গত দুই বছরে বাংলাদেশের দিক থেকেও কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান। সম্প্রতি ভারতের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের কথাও সংসদে তুলে ধরেন মুক্তাদির। তিনি বলেন, ওই প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিলে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। সরকার এ প্রস্তাবে আগ্রহ দেখিয়েছে। তিনি বলেন, এভাবে সমন্বিতভাবে আমরা বিভিন্ন চেষ্টা করছি, যাতে আগামী দিনে আমাদের রপ্তানি অধিকতর বৃদ্ধি করা যায় ভারতের ক্ষেত্রে। ভারত থেকে বেশি আমদানির কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, আমদানির বড় অংশ সরকার নয়, বেসরকারি খাত করে। ব্যবসায়ীরা যে উৎস থেকে প্রতিযোগিতামূলক কম দামে পণ্য পান, সেখান থেকেই আমদানি করেন। তিনি বলেন, সুতরাং উৎস হিসেবে যদিও এখানে ভারত একটি দেশের ক্ষেত্রেই ব্যবধানটা এত বেশি, কিন্তু যারা আমদানি করেন, তারা তাদের সুবিধা বিবেচনায় নিয়েই সেখান থেকে আমদানি করেন। বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফর রহমানের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির তথ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭ হাজার ৩১৩ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার ৬৯৮ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭ হাজার ৭১৬ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৪৩০ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনবিশিষ্ট থ্রি-হুইলার যানবাহন (টেম্পু, অটোরিকশা ইত্যাদি) (এইচএস হেডিং ৮৭.০৩-এর সংশ্লিষ্ট সব এইচএস কোড) আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯ অনুযায়ী আমদানিনিষিদ্ধ। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার উৎপাদন শিল্পকে সহায়তার জন্য যন্ত্রাংশ আমদানি করা হচ্ছে। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান মোল্যার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এআরটি চুক্তি করার ফলে বাংলাদেশ তার প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় দেশটির বাজারে রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে সংসদে নতুন তথ্য

‘ডলার-ফর-ডলার’ পাল্টা জবাব দিল কানাডা

আরও তীব্র হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের জবাবে কানাডা মার্কিন পণ্যে ২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার (১৯ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৭ শতাধিক পণ্যের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার কানাডার সরকার জানিয়েছে, কানাডাও নতুন মার্কিন শুল্কের সমপরিমাণ অর্থাৎ ‘ডলার-ফর-ডলার’ অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত এক ডলার শুল্কের বিপরীতে সমানহারে শুল্ক আরোপ করবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাগুলোকে সহায়তা দিতে নতুন আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। কানাডা সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, নতুন পাল্টা শুল্ক ৭০০ টিরও বেশি পণ্যের ওপর কার্যকর হবে। এর আওতায় থাকবে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, কৃষি সরঞ্জাম, পাল্প ও কাগজ, প্লাস্টিক এবং ইলেকট্রনিকস খাত। এসব পণ্যে শুল্কের হার হবে ১৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে। এ ছাড়া কানাডা ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে নতুন শুল্কের কারণে তৈরি আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা করতে ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের বা ৫ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল ঘোষণা করেছে। কানাডার নতুন পাল্টা শুল্কের ঘোষণা এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর। ওই শুল্কের আওতায় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্য পড়েছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগেই দুই দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছিল। গত সোমবার ট্রাম্প কানাডার গাড়ির ওপরও নতুন শুল্ক ঘোষণা করেন। এর ফলে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে বিদ্যমান শুল্ক দ্বিগুণ হয়ে ৫০ শতাংশ হবে। এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প কানাডাকে নিয়ে একাধিক কটূক্তিও করেছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, অন্টারিও প্রদেশের সীমানায় অবস্থিত উত্তর আমেরিকার বৃহৎ হ্রদগুলোর পূর্বতম হ্রদ লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন। ট্রাম্প কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে ‘গভর্নর কার্নি’ বলেও উল্লেখ করেছেন। এর মাধ্যমে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১ তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে যুক্ত করার দীর্ঘদিনের মন্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি করেছেন তিনি। মঙ্গলবার ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, গত এক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর কানাডার কাছে ৬০ বিলিয়ন ডলার করে হারিয়েছে। তবে কানাডার সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার ৯ দশমিক ৯ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বা ৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। ট্রাম্পের দাবির বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আল জাজিরা। তবে হোয়াইট হাউস কোনো জবাব দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের প্রভাব দেশটির ব্যবসা ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শনিবার আরোপ করা শুল্ক থেকে গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ বাদ রাখা হয়েছিল। তবে এই খাতই ওয়াশিংটন ও অটোয়ার মধ্যে বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি গাড়ির সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ফলে কানাডার চাহিদা কমে গেলে কানাডার বাজারের ওপর নির্ভরশীল মার্কিন গাড়ি নির্মাতারা চাপের মুখে পড়তে পারেন। অন্যদিকে ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্কের কারণে কানাডা থেকে আমদানি করা ৫৫০ ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম মার্কিন পরিবারগুলোর জন্য বেড়ে যেতে পারে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে আইস স্কেট, টয়লেট পেপার, কিছু অ্যালকোহলজাত পানীয় এবং রং। জার্মানির কিয়েল ইনস্টিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শুল্কের প্রভাব মার্কিন নাগরিকদের ওপর উল্লেখযোগ্য হতে পারে। অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, শুল্কের মোট বোঝার ৯৬ শতাংশ শেষ পর্যন্ত মার্কিন আমদানিকারক ও ভোক্তারাই বহন করেন। এদিকে, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত সোনার দাম মঙ্গলবার দিনের শুরুতে প্রায় ১ শতাংশ কমে যাওয়ার পর আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। তবে দিন শেষে এর দাম প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। প্রতি আউন্স সোনার দাম ০ দশমিক ০৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৯৬ ডলারে দাঁড়ায়। মার্কিন ডলারের অবস্থানও মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। মঙ্গলবার ডলার সূচক ০ দশমিক ০৪ শতাংশ কমে ৯৮ দশমিক ৯৬-এ নেমেছে। বিপরীতে কানাডিয়ান ডলার সূচক ০ দশমিক ০৪ শতাংশ বেড়ে ৭২ দশমিক ২৭-এ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে নাসডাক ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ছিল প্রায় অপরিবর্তিত। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বেড়েছে ০ দশমিক ২ শতাংশ। কানাডার টরন্টোতে এসঅ্যান্ডপি/টিএসএক্স কম্পোজিট সূচক বেড়েছে ০ দশমিক ৬ শতাংশ। কানাডার পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অর্থনীতি গভীরভাবে পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই বাণিজ্যযুদ্ধের চাপ শুধু দুই দেশের ব্যবসা নয়, শেষ পর্যন্ত ভোক্তা, গাড়ি শিল্প, কৃষি ও বিভিন্ন শিল্পপণ্যের বাজারেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

‘ডলার-ফর-ডলার’ পাল্টা জবাব দিল কানাডা

চীনা পণ্যে নতুন শুল্ক বসাতে চান ট্রাম্প

চীন কম দামে পণ্য সরবরাহ করে বিশ্ববাজার সয়লাব করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির ওপর এ কারণে নতুন শুল্ক আরোপের কথা বিবেচনা করছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) এ তথ্য জানিয়েছেন। শুল্ক আরোপের বিষয়টি অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর্যায়ে আছে। এটি এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় কর্মকর্তারা রাজি হননি নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে। দুজন জানান, ৭ দশমিক ৫ নতুন এই শুল্কের হার নির্ধারণ করা হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই হার ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের এক বছরের বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিতে প্রভাব ফেলবে না। আগামী মাসের শেষ দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা আছে। এই সফরের ওপরও নতুন শুল্ক প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত হলে, তা হোয়াইট হাউসের ‘হিসাবি প্রচেষ্টা’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। কারণ, কম পরিমাণে শুল্ক হার নির্ধারণ করে সর্বোচ্চ আদালতের একটি রায়কে পাশ কাটানো সম্ভব। চলতি বছরের শুরুতে ওই রায়ের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। আদালতের রায়টির পর গত মার্চ মাসে বিভিন্ন দেশের অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা এবং জোরপূর্বক শ্রমের বিধিবিধান নিয়ে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয় প্রশাসন। এর মধ্যে চীনও আছে। বেইজিংয়ের ওপর শুল্ক নির্ধারণ সংক্রান্ত আলোচনার তথ্য জানা গেলেও অন্য দেশ ঘিরে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট নয়। অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার অভিযোগে যেসব দেশ ও অঞ্চলের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে আছে- ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বাংলাদেশ, ভারত, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মেক্সিকো ও জাপান। শুল্ক নিয়ে চলমান আলোচনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এপি। তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বিষয়টি নিয়ে সোমবার ব্লুমবার্গ নিউজেও প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

চীনা পণ্যে নতুন শুল্ক বসাতে চান ট্রাম্প
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream