মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
চীনা পণ্যে নতুন শুল্ক বসাতে চান ট্রাম্প

চীনা পণ্যে নতুন শুল্ক বসাতে চান ট্রাম্প

চীন কম দামে পণ্য সরবরাহ করে বিশ্ববাজার সয়লাব করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির ওপর এ কারণে নতুন শুল্ক আরোপের কথা বিবেচনা করছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) এ তথ্য জানিয়েছেন। শুল্ক আরোপের বিষয়টি অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর্যায়ে আছে। এটি এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় কর্মকর্তারা রাজি হননি নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে। দুজন জানান, ৭ দশমিক ৫ নতুন এই শুল্কের হার নির্ধারণ করা হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই হার ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের এক বছরের বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিতে প্রভাব ফেলবে না। আগামী মাসের শেষ দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা আছে। এই সফরের ওপরও নতুন শুল্ক প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত হলে, তা হোয়াইট হাউসের ‘হিসাবি প্রচেষ্টা’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। কারণ, কম পরিমাণে শুল্ক হার নির্ধারণ করে সর্বোচ্চ আদালতের একটি রায়কে পাশ কাটানো সম্ভব। চলতি বছরের শুরুতে ওই রায়ের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। আদালতের রায়টির পর গত মার্চ মাসে বিভিন্ন দেশের অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা এবং জোরপূর্বক শ্রমের বিধিবিধান নিয়ে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয় প্রশাসন। এর মধ্যে চীনও আছে। বেইজিংয়ের ওপর শুল্ক নির্ধারণ সংক্রান্ত আলোচনার তথ্য জানা গেলেও অন্য দেশ ঘিরে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট নয়। অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার অভিযোগে যেসব দেশ ও অঞ্চলের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে আছে- ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বাংলাদেশ, ভারত, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মেক্সিকো ও জাপান। শুল্ক নিয়ে চলমান আলোচনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এপি। তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বিষয়টি নিয়ে সোমবার ব্লুমবার্গ নিউজেও প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক নিয়ে উত্তেজনা, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি কানাডার

বাণিজ্য যুদ্ধ কানাডার সঙ্গে আরও বাড়াতে থাকলে, যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধান ডগ ফোর্ড। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এর জবাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। সম্প্রতি ট্রাম্প কানাডার গাড়ি, ট্রাক, অটো যন্ত্রাংশ ও ইস্পাতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার ঘোষণা দেন। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা। এছাড়া, গত শনিবার প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর পৃথক ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ফোর্ড সোমবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি দেন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) ডগ ফোর্ড বলেন, ‘সবকিছুই বিবেচনার মধ্যে আছে। যা করা দরকার, আমি তাই করব।’ তিনি আরও বলেন, অন্টারিও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পারে, এমনকি রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে। ফোর্ড জানান, তারা প্রায় ১৫ লাখ বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেন। তাই কানাডার উৎপাদন খাত ধ্বংসের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে চাইলে ট্রাম্পের উচিত ব্যাটারি সঙ্গে রাখা। যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বিদেশি দেশগুলোর মধ্যে কানাডাই সবচেয়ে বড়। তবে পুরো দেশে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা তুলনামূলকভাবে কম।  মার্কিন ‘এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের’ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কানাডা থেকে প্রায় ২৪ দশমিক ৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কানাডায় প্রায় ১৬ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে।  নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধানকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে ‘কানাডার নেতাদের লাইনে আসার’ জন্য সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, কেউ দয়া করে এই ‘ভাঁগগুলোকে লাইনে আসতে’ বলুন। তা না হলে কানাডার পরিণতি আরও ভয়াবহ হবে। পোস্টে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে আবারও ‘গভর্নর’ হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অনেক বড়, ধনী ও শক্তিশালী। তাদেরকে ছাড়া কানাডা টিকে থাকতে পারবে না।

যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক নিয়ে উত্তেজনা, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি কানাডার
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream