মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শনের পাশাপাশি টিকা থেকে বাদপড়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকাদান নিশ্চিত করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বর্ণালী দাশের নির্দেশনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মো. মামুন মিয়ার নেতৃত্বে একটি পরিদর্শন দল টেংরা ইউনিয়নের তিনটি নিয়মিত ইপিআই টিকাদান কেন্দ্র ও দুটি বাগান স্কুল পরিদর্শন করে।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যকর্মীরা সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা থেকে বাদপড়া শিশুদের অনুসন্ধান করেন। এ সময় শনাক্ত হওয়া বাদপড়া শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা হয়। শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের আওতায় আনতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
রাজনগর চা বাগানের বাসিন্দা মুন্নী পাশি বলেন,“আমার ছেলে রুদ্র পাশির বয়স পাঁচ বছর। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়িতে এসে শিশুর টিকার বিষয়ে খোঁজ নেওয়ায় আমরা উপকৃত হয়েছি। শিশুদের সময়মতো সব টিকা দেওয়া খুবই জরুরি। স্বাস্থ্য বিভাগের এ উদ্যোগে অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়বে।”
রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বর্ণালী দাশ বলেন,“কোনো শিশু যেন টিকা থেকে বাদ না পড়ে,সে বিষয়ে আমরা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শনের পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদপড়া শিশু শনাক্ত ও তাদের টিকাদান নিশ্চিত করা হচ্ছে। শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদেরও সময়মতো টিকা দেওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।”
পরিদর্শন দলের নেতৃত্বদানকারী মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মো. মামুন মিয়া বলেন,“টেংরা ইউনিয়নের টিকাদান কেন্দ্র ও বাগান স্কুল পরিদর্শনের পাশাপাশি আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের টিকার অবস্থা যাচাই করেছি। যেসব শিশু কোনো টিকা থেকে বাদ পড়েছে,তাদের শনাক্ত করে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে।”
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, শিশুদের বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে সময়মতো টিকা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো শিশু যাতে টিকাদান কর্মসূচির বাইরে না থাকে,সে জন্য অভিভাবকদের নিজ নিজ শিশুর টিকা গ্রহণের তথ্য ও সময়সূচির প্রতি নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মতামত